সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে মামুনের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল: সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডে দক্ষিন পাড়া(বয়েল পাড়ে) উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন এর পক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাবেক পৌর কমিশনার আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জিবিজি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামছুল আলম মনি, কাউন্সিলর মাজাহারুল ইসলাম, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক স য় চক্রবর্ত্তী (বেনু) আওয়ামীলীগ নেতা এস এম রকিবুল হাসান মানিক, ডাঃ রাজু আহমেদ,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্মসাধারন সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম, যুবলীগ নেতা সেলিম হোসেন,উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আবু হানিফ।

এবং পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অপু চন্দ্র ঘোষ, সাধারন সম্পাদক হায়দার আলী,পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শিহাব, ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক নুপুর, সাবেক ইউপি মেম্বার দেলোয়ার হোসেনসহ ৭ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও এলাকার বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার বই মেলায় ক্যান্সার সচেতনতা ক্যাম্পেইন

ঢাকার অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় ক্যান্সার সচেতনতা ক্যাম্পেইন করেছে টাংগাইলের ঘাটাইলস্থ ‘বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনা গণগ্রন্থাগার’। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্রন্থর মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাংগাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অমিকন গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান, আলোক হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ লোকমান হোসেন প্রমুখ।

‘বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনা গণগ্রন্থাগার’ এর প্রতিষ্ঠাতা রাসেল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আতাউর রহমান খান বলেন, ‘মরণব্যাধি ক্যান্সার রোধে আমাদের আরো সচেতনতা প্রয়োজন।আমাদের ফাস্টফুড এরিয়ে চলতে হবে, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামও করতে হবে।একমাত্র গণসচেতনতাই পারে ক্যান্সার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।’

এ সময় ক্যান্সার সচেতনতায় এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন আতাউর রহমান।

ক্যাম্পেইনে ঢাকাস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ প্রকাশে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাচ্ছেন ঘাটাইলের ময়ূরী বেগম

জাতীয় দৈনিক সমকালসহ কয়েকটি অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর বয়স্ক ভাতার কার্ড পাচ্ছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের সেই শতবর্ষী বয়োজ্যেষ্ঠ নারী ময়ূরী বেগম (১১০)।

গতকাল সোমবার বিভিন্ন পত্রিকায় ‘বয়সের ভারে ন্যুব্জ ঘাটাইলের ময়ূরী বেগম আর কবে পাবেন বয়স্কভাতা?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটি নজরে আসে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানার। তিনি প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, খবরটি পড়ার পর পরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। আজ সকালেই অফিসের লোক পাঠিয়েছি ময়ূরী বেগমের বাড়িতে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে আসার জন্য। অবশ্যই তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হবে। ঐ এলাকার কেউ মারা গিয়ে থাকলে সে স্থানে তার নাম স্থাপন করা হবে। তা না হলে নতুন করে যে তালিকা করা হচ্ছে সে স্থানে তার নাম যুক্ত করা হবে।

ঘাটাইলে প্রশ্নফাঁস: পরীক্ষার্থী প্রতি প্যাকেজ ছিল ২৫ হাজার টাকার!

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: প্রশ্নফাঁস করে দেব। হলের ভেতর বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর বলে দেব। তিনি একজন শিক্ষক হয়ে এমন মধুর আশ্বাস বাণী শুনাতেন পরীক্ষার্থীদের। এসব শুধু কথায় নয় কাজেও প্রমাণ দিতেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাগরদিঘী এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব হুমায়ুন খালিদ। আর এ কাজে সব বিষয়ে প্রশ্নফাঁসের জন্য প্যাকেজ ধরা হয়েছিলো পরীক্ষার্থী প্রতি ২৫ হাজার টাকা।  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ বছর কেন্দ্রটিতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের তিন বিভাগে মোট সাতশ ২০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন,  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে। যার কারণে আমি নিজেই নজর রাখতে থাকি। এসএসসি পরীক্ষার শুরু থেকেই তারা এ কাজ করে আসছিলো। জানতে পারি সব বিষয়ে প্রশ্নফাঁসে প্রতি পরীক্ষার্থী বাবদ ২৫ হাজার টাকার প্যাকেজ ছিল। এ কাজের সাথে শুধু কেন্দ্র সচিব নয় কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মকর্তারাও জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় সচিব গত ৯ তারিখের গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই ফাঁস করেন’।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই শ্যামল চন্দ্র সাহার শ্যামল কোচিং সেন্টার। আর এ কোচিংয়ের অর্ধেক শেয়ারে আছেন প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ। একদিকে নিজ কোচিংয়ের পরীক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানো অন্যদিকে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকার লোভ সামলাতে না পেরে পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই দপ্তরির হাত হয়ে গণিত প্রশ্ন চলে যায় শ্যামল চন্দ্র সাহার হাতে। বিষয়টি গোপনে পুলিশ জানতে পেরে কোচিংয়ের শিক্ষক শ্যামল ও দপ্তরি আব্দুর রহমানকে প্রশ্নসহ হাতে-নাতে আটক করে।

কথা হয় স্কুলের দপ্তরি আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ আমার হাতে প্রশ্নপত্র দিয়ে কেন্দ্রের বাহিরে রাকিব লাইব্রেরিতে নিয়ে যেতে বলেন। আমি তার কথামতো দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা কোচিং মাস্টার শ্যামল বাবুর কাছে প্রশ্নপত্রটি দেই। আমি তার অধীনে চাকরি করি। তিনি যা বলবেন আমার তো তাই করতে হয়। আমার কোনো দোষ ছিলো না।

এ ঘটনায় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আল মামুন কোচিং শিক্ষক শ্যামল ও কেন্দ্র সচিব হুমায়ুন খালিদকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৪ ধারা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস বা বিতরণ করার অপরাধে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে।

গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ পরীক্ষার হলে বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন, সচিবের পদ থেকে হুমায়ুন খালিদকে বহিষ্কার এবং সাগরদিঘী কেন্দ্রটি বাতিল করার জন্য শিক্ষা বোর্ডকে সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে বোর্ডে তদবির করে হুমায়ুন খালিদ কেন্দ্রটি বহাল রাখেন।

জানা যায়, উপজেলা সদর কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ কি.মি. দূরে হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বোর্ড ২০১০ সালে কেন্দ্রটির অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে হঠাৎ করেই চলমান এসএসসি পরীক্ষার উচ্চতর গণিতের প্রশ্ন স্থানীয় জনতা ব্যাংকের লকার থেকে উধাও হয়ে যায়। যা পরবর্তীতে আধাঘন্টা পর প্রশ্ন ফটোকপির মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হয়।

আরও জানা যায়, একই কেন্দ্রে গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় নকল সরবরাহ করেন মুরাইদ গরোবাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু ইছহাক। এ কাজের জন্য হাতেনাতে তাকে ধরে প্রশাসন এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে শিক্ষক সমিতির মধ্যস্থতায় দশ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তিনি মুক্তি পান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক বলেন, নিজ কেন্দ্রে ভালো ফল দেখাতে হবে এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতাই প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারণ।

ঘাটাইলে নিকাহ রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল: বাতিল হওয়া পদ ফিরে পেতে জাল কাগজ পত্র দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিষ্টার (কাজী) শামছুল হকের (৫৭) বিরুদ্ধে।

অভিযোগে জানাগেছে, ঘাটাইলের রহমতপুর আইজি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার শামছুল হক। তিনি মধুপুর পৌর সভার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কাগজ পত্র দাখিল করে বিগত ২০০২ সালে নিকাহ রেজিস্টার(কাজী) পদে নিয়োগ পান।এ নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়।

তদন্তে তিনি মধুপুর পৌরসভা থেকে ৩৮ কি.মি.দুরে ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বলে প্রমান হয়।পরে আইন মন্ত্রনালয়ের বিচার শাখার  সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহমুদুল করিম স্বাক্ষরিত (স্মারক-৮৭৪)এক চিঠিতে তার লাইসেন্সটি বাতিল করে পদটি শূন্য ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে ওই শূন্য পদে মধুপুর পৌরসভার ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের নিকা রেজিস্টার মো. ফজলুল হককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন জেলা রেজিস্ট্রার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামছুল হক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমার বাড়ি ঘাটাইল উপজেলায়। আমার বাড়ি থেকে মধুপুর দুরে থাকায় আমার লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়। আমি উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি, পদটি ফিরে পেলে আমি ঘাটাইলের সাগরদিঘী ইউনিয়নে আসব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ধলাপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড দিয়ে তিনি সাগরদিঘী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমানের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। তবে এ নিয়ে কোন কিছু বলতে রাজি হননি শামছুল হক।

জানতে চাইলে ঘাটাইলের সাবরেজিষ্টার একেএম রফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি শুনেছি তিনি ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র কার্ড জমা  দিয়েছে।