আর মাত্র কয়েক দিন বাকী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের জোর প্রচারণাও। দিন-আর রাত নির্ঘুম প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে তারা। তবে সভা-সমাবেশ এর পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে চোখে পড়ছে বেশি উঠান বৈঠক। চলছে ভোটারদের মন জয় করতে নানান সুরে গান আর আকর্ষনীয় কথা মালার প্রচার। সব মিলিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মরিয়া নেতা-কর্মীরা।
দশ বছর পর সকল দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনে উৎসবের মাত্রা বেড়ে গেছে অনেকাংশে। ভোটাররাও নানা জল্পনা-কল্পনায় সময় পার করছেন। সকলের মুখে একই কথা ভোট আর ভোটের হিসাব। সাড়া দেশের মতই টাঙ্গাইলের আটটি আসন নিয়ে বেশী উৎসাহ ও উদ্দীপনাই বেশী লক্ষ করা যাচ্ছে।
এখানে নতুন ও পরাতন মুখ নিয়ে যেন বিশ্লেষনের শেষ নেই। নিজ পছন্দ ও দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার কথা বলে বেড়াচ্ছে সর্বত্র।
এতো কিছুর পরও টাঙ্গাইলে ক্ষমতাসীন দলের নৌকা ও দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি’র ধানের শীষের মধ্যেই হবে প্রতিদদ্ধিতা। প্রার্থীগণ নিজের বিজয় নিশ্চিত বললেও তা যে অত সহজ নয় সেটাও ভাবছেন তারা।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী)
এ আসনে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (ধানের শীষ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আবু মিল্লাত হোসেন (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আশরাফ আলী (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী সালামত হোসাইন খান (গোলাপ ফুল)।
তবে এ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত ড. আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা) ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (ধানের শীষ) এর মধ্যেই বিজয়ীর লড়াইল হবে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর)
এ আসনে ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (ধানের শীষ), বিকল্প ধারার প্রার্থী মুনিরুল ইসলাম (কুলা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী এসএম শামছুর রহমান (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী এনায়েত হক মঞ্জু (গোলাপ ফুল), কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জাহিদ হোসেন খান (কাস্তে)।
এ আসনে দুই নবীণ প্রার্থী আ আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (ধানের শীষ) এ প্রতিদন্দিতা হবে।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)
এ আসনে ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতাউর রহমান খান (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ (ধানের শীষ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী এসএম চাঁন মিয়া (আম), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আবু হানিফ (ফুলের মালা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী রেজাউল করিম (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান (গোলাপ ফুল), বিএনএফ এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন)।
এ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতাউর রহমান খান (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ (ধানের শীষ) এ প্রতিদন্দিতা হবে।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী)
এ আসনে ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী (নৌকা), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রার্থী লিয়াকত আলী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (ট্রাক), জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী সাদের সিদ্দিকী (বাই সাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মির্জা আবু সাঈদ (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী মোন্তাজ আলী (গোলাপ ফুল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মুশতাক হোসেন (লাঙ্গল)।
এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে জানা গেছে।মুল প্রতিদন্দি হবে- আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী (নৌকা), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রার্থী লিয়াকত আলী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (ট্রাক) এর মধ্যে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর)
এ আসনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী (মাথাল), আবুল কাশেম (সিংহ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আবু তাহের (আম), বিএনএফ প্রার্থী শামীম আল মামুন (টেলিভিশন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী খন্দকার ছানোয়ার হোসেন (হাত পাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সফিউল্লাহ আল মুনির (লাঙ্গল), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (বটগাছ)।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী (মাথাল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সফিউল্লাহ আল মুনির (লাঙ্গল) প্রতীকের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হবার সম্ভবনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার)
এ আসনে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহসানুল ইসলাম টিটু (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম (ট্রাক), আবুল কাশেম (সিংহ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মামুনুর রহমান (আম), বিএনএফ প্রার্থী সুলতান মাহমুদ (টেলিভিশন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আখিনুর মিয়া (হাত পাখা), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (ফুলের মালা)।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহসানুল ইসলাম টিটু (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তী (ধানের শীষ) এ মধেই প্রতিদন্দিতা হবে।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর)
এ আসনে ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী একাব্বর হোসেন (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম (হাত পাখা), খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সৈয়দ মজিবর রহমান (দেয়াল ঘড়ি), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী (বাঘ)।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী একাব্বর হোসেন (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (ধানের শীষ)এর মাধ্যেই জয়-পরাজয় সীমাবদ্ধ থাকবে।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর)
এ আসনে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের (নৌকা), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী কুঁড়ি সিদ্দিকী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আব্দুল লতিফ মিয়া (হাত পাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী শফি সরকার (আম)।
এ আসনে দুই জোটের দুই নতুন মুখ নির্বাচন করছেন। এদের প্রচারণায় উৎসব মুখর পরিবেশ লক্ষকরা গেছে। একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের (নৌকা), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী কুঁড়ি সিদ্দিকী (ধানের শীষ) মধ্যে প্রতিদন্ধিতা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে পৌরসভা রয়েছে ১১টি, ইউনিয়ন ১১৮টি। মোট ভেট কেন্দ্র রয়েছে ১০০১টি। জেলায় আটটি আসনে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১৩৭৮৯১১জন এবং মহিলা ভোটার ১৪০৪৪৮৭ জনসহ মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২৭৮৩৩৯৮ জন।