বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।প্রতারনার শিকার গার্মেন্টস কর্মী গতকাল বুধবার নিজে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছে। 
পুলিশ ও ধর্ষিতার মা জানায়, ধর্ষিতা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মজুমদার পাড়া গ্রামে আঃ  রাশিদ মিয়ার মেয়ে। মেয়েটি সাভারের এক গার্মেন্টে চাকরি করত। ২ বছর আগে মোবাইল ফোনে শাহীন মিয়ার (৩০) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে মেয়েটির। শাহিনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা গ্রামে। তার বাবার নাম রহীম বাদশা। প্রেমের সূত্র ধরেই শাহিন তার প্রেমিককে মোবাইল ফোনে ঘাটাইল আসতে বলে। তার কথায় বিশ্বাস করে গত সোমবার রাতে বাস যোগে সাভার থেকে ঘাটাইলের গুনগ্রাম আসে সে।  বাস থেকে নেমেই প্রেমিক শাহীনের সাথে দেখা মেয়েটির। সেখান থেকে প্রতারক শাহীন তাকে হরিপুরের গৌরদ্বীপ অটো বয়েল মিলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মেয়েটিকে সারা রাত ধর্ষণ করে। পরে বয়েল মিলে রেখে কৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক প্রেমিক শাহীন। পরে এঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে ধর্ষক প্রতারক প্রেমিক শাহীন কে আসামী করে  ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  ধর্ষককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক  শাহীন মিয়া বলেন, ধর্ষক প্রেমিক শাহীনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।প্রতারনার শিকার গার্মেন্টস কর্মী গতকাল বুধবার নিজে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছে। 
পুলিশ ও ধর্ষিতার মা জানায়, ধর্ষিতা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মজুমদার পাড়া গ্রামে আঃ  রাশিদ মিয়ার মেয়ে। মেয়েটি সাভারের এক গার্মেন্টে চাকরি করত। ২ বছর আগে মোবাইল ফোনে শাহীন মিয়ার (৩০) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে মেয়েটির। শাহিনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা গ্রামে। তার বাবার নাম রহীম বাদশা। প্রেমের সূত্র ধরেই শাহিন তার প্রেমিককে মোবাইল ফোনে ঘাটাইল আসতে বলে। তার কথায় বিশ্বাস করে গত সোমবার রাতে বাস যোগে সাভার থেকে ঘাটাইলের গুনগ্রাম আসে সে।  বাস থেকে নেমেই প্রেমিক শাহীনের সাথে দেখা মেয়েটির। সেখান থেকে প্রতারক শাহীন তাকে হরিপুরের গৌরদ্বীপ অটো বয়েল মিলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মেয়েটিকে সারা রাত ধর্ষণ করে। পরে বয়েল মিলে রেখে কৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক প্রেমিক শাহীন। পরে এঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে ধর্ষক প্রতারক প্রেমিক শাহীন কে আসামী করে  ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  ধর্ষককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক  শাহীন মিয়া বলেন, ধর্ষক প্রেমিক শাহীনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঘাটাইলে ঘাতক বাস কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
দাড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের সামনে মূহুর্তের মধ্যে একটি ঘাতক বাস গতকাল বুধবার আঃ ছামাদ (৮৫ ) নামে এক বৃদ্ধের প্রাণ কেড়ে নিল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে বিকালে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তরবঙ্গ ছেড়ে থেকে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-০১৩৭) গতকাল বিকাল তিনটার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এসময় তার মাথা থেতলে যায় এতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে। পুলিশ চালক সহ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। 

ঘাটাইলে ঘাতক বাস কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
দাড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের সামনে মূহুর্তের মধ্যে একটি ঘাতক বাস গতকাল বুধবার আঃ ছামাদ (৮৫ ) নামে এক বৃদ্ধের প্রাণ কেড়ে নিল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে বিকালে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তরবঙ্গ ছেড়ে থেকে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-০১৩৭) গতকাল বিকাল তিনটার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এসময় তার মাথা থেতলে যায় এতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে। পুলিশ চালক সহ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। 

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছে চিহ্নিত রাজাকাররা

মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর তিন মুক্তিযোদ্ধার দিকে
খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে
ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত এর সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি এ উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পৌনে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’র বেশি নয়। অথচ ঘাটাইলে বর্তমানে ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১১শ’ সাত জন। অপরদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জনের বেশি নয় বলে দাবি করা হয়। সেক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করছেন ৩২ জন। আর শহীদ পরিবারের সুবিধা নিচ্ছেন ৩৮ জন। সব মিলে ১১শ ৭৭ জন ভাতা উত্তোলন করছেন। এর মধ্যে ১৫/২০ জন চিহ্নিত রাজাকারও রয়েছেন। যুদ্ধকালীন কমান্ডার মকবুল হোসেন (গেজেট নং- ৫১২১) জানান, অনেক রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্যরা ভাতাসহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এদের তালিকা তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ নং সন্ধানপুর ইউনিয়নের বোয়ালী হাটবাড়ী গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে তোরাপ আলী, একই গ্রামের মৃত আঃ বাছেদের ছেলে মফিজ, আজগর আলীর ছেলে আঃ আজিজ, কুশারিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মীর ছামাদ ও তার ভাই মীর কাশেম, দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানী গ্রামের মোবারক আলী, আব্দুল আজিজ ও রাজাকার মোতাহারের অর্থ জোগান দাতা আবদুল মালেক মিয়া, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের দয়কান্দি গ্রামের পিস কমিটির সদস্য আবদুস ছাত্তার খান এরা সবাই চিহ্নিত রাজাকার। এরা বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও গেজেট ভুক্ত হয়েছে ৫ শতাধিক । এরা বেশির ভাগই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে সনদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে বেংরোয়া গ্রামের ফালু খানের ছেলে ফজলুর রহমান খান, ঘাটাইলের আবদুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন , ঘাটাইল দক্ষিণ পাড়া আঃ ছাত্তার, পশ্চিম পাড়া এম এ মজিদ, কামার চালা গ্রামের আবদুস ছালাম মির্জাসহ আরো অনেকে। আর এ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে একটি চক্রকাজ করেছে। এ চক্রের সঙ্গে সরাসরি ৩ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কারিগর হলেন- সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাছিত করিম, সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ ওরফে কাদের, সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক। এরা স্বাধীনতা পরবর্তীতে ঘাটাইল ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪টি তালিকা প্রণীত হয়েছে। এর সবই অসম্পূর্ণ ও ভুলে ভরা । অনেক ভুয়া ব্যক্তির নাম এসব তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার কারও নাম বাদও পড়েছে । বাদ পড়ার মধ্যে একজন আনছারুল আলম। তার বাড়ি উত্তর লক্ষীন্দর। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত একটি সনদও রয়েছে তার কাছে। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। অথচ এ পর্যন্ত ৪ বার তালিকা হয়েছে । ১৯৮০-৮৬ সালের মধ্যে এরশাদ সরকার একটি জাতীয় তালিকা করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৬৯০ জন। ১৯৮৮-৮৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক একটি তালিকা প্রণয়ন করে। এতে ৩৯০ জন বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮০ জনে উন্নীত হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে বিএনপি সরকার তৃতীয় দফায় একটি তালিকা তৈরি করে । এ তালিকায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১০১ জন। ১৯৯৬-৯৯ সালে চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিবার্তায় ১১০৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এভাবেই ঘাটাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা বানানো কারিগরদের মধ্যে বাছিত করিম বয়সে ছিলেন একেবারে কিশোর। তিনি ১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট রাতে স্থানীয় নগরবাড়ী ব্রিজের ওপর গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন। পরে মির্জাপুর হাসপাতালে ৯ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায় । জানতে চাওয়া হলে বাছিত করিম বলেন, যদি কোনো ভুয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এসে থাকে তার জন্য কেন্দ ীয়, জেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমান্ড সবাই দায়ী। তবে উল্লিœখিত কতিপয় ব্যক্তি রাজাকার বলে স্বীকার করে বলেন এরা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এদিকে তার (বাছেদ করিম) সম্পর্কে স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধের সময় তার বয়স ছিল অল্প। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ১ বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে স্কুলে রেজিঃ সময় বয়স কমিয়ে ১০/০৬/১৯৬০ করেন । তার প্রকৃত বয়স ১০-০৬-১৯৫৬ বলে দাবি করেন। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিন্ম বয়স যদি ১৩ বছর ধরা হয় তাহলে সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স দাঁড়ায় ১১ বছর। অপরদিকে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন অবৈধ কাজগুলো করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাছিত করিম ও কমান্ডার হাবিবুর রহমান। ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন- বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই ভুয়া ব্যক্তিসহ চিহ্নিত রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এদেরকে বাদ দেয়া হবে বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে ফজলুল হক বীরপ্রতীক বলেন, ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত তা সঠিক করে বলা যায় না।

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছে চিহ্নিত রাজাকাররা

মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর তিন মুক্তিযোদ্ধার দিকে
খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে
ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত এর সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি এ উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পৌনে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’র বেশি নয়। অথচ ঘাটাইলে বর্তমানে ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১১শ’ সাত জন। অপরদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জনের বেশি নয় বলে দাবি করা হয়। সেক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করছেন ৩২ জন। আর শহীদ পরিবারের সুবিধা নিচ্ছেন ৩৮ জন। সব মিলে ১১শ ৭৭ জন ভাতা উত্তোলন করছেন। এর মধ্যে ১৫/২০ জন চিহ্নিত রাজাকারও রয়েছেন। যুদ্ধকালীন কমান্ডার মকবুল হোসেন (গেজেট নং- ৫১২১) জানান, অনেক রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্যরা ভাতাসহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এদের তালিকা তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ নং সন্ধানপুর ইউনিয়নের বোয়ালী হাটবাড়ী গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে তোরাপ আলী, একই গ্রামের মৃত আঃ বাছেদের ছেলে মফিজ, আজগর আলীর ছেলে আঃ আজিজ, কুশারিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মীর ছামাদ ও তার ভাই মীর কাশেম, দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানী গ্রামের মোবারক আলী, আব্দুল আজিজ ও রাজাকার মোতাহারের অর্থ জোগান দাতা আবদুল মালেক মিয়া, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের দয়কান্দি গ্রামের পিস কমিটির সদস্য আবদুস ছাত্তার খান এরা সবাই চিহ্নিত রাজাকার। এরা বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও গেজেট ভুক্ত হয়েছে ৫ শতাধিক । এরা বেশির ভাগই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে সনদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে বেংরোয়া গ্রামের ফালু খানের ছেলে ফজলুর রহমান খান, ঘাটাইলের আবদুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন , ঘাটাইল দক্ষিণ পাড়া আঃ ছাত্তার, পশ্চিম পাড়া এম এ মজিদ, কামার চালা গ্রামের আবদুস ছালাম মির্জাসহ আরো অনেকে। আর এ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে একটি চক্রকাজ করেছে। এ চক্রের সঙ্গে সরাসরি ৩ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কারিগর হলেন- সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাছিত করিম, সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ ওরফে কাদের, সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক। এরা স্বাধীনতা পরবর্তীতে ঘাটাইল ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪টি তালিকা প্রণীত হয়েছে। এর সবই অসম্পূর্ণ ও ভুলে ভরা । অনেক ভুয়া ব্যক্তির নাম এসব তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার কারও নাম বাদও পড়েছে । বাদ পড়ার মধ্যে একজন আনছারুল আলম। তার বাড়ি উত্তর লক্ষীন্দর। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত একটি সনদও রয়েছে তার কাছে। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। অথচ এ পর্যন্ত ৪ বার তালিকা হয়েছে । ১৯৮০-৮৬ সালের মধ্যে এরশাদ সরকার একটি জাতীয় তালিকা করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৬৯০ জন। ১৯৮৮-৮৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক একটি তালিকা প্রণয়ন করে। এতে ৩৯০ জন বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮০ জনে উন্নীত হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে বিএনপি সরকার তৃতীয় দফায় একটি তালিকা তৈরি করে । এ তালিকায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১০১ জন। ১৯৯৬-৯৯ সালে চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিবার্তায় ১১০৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এভাবেই ঘাটাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা বানানো কারিগরদের মধ্যে বাছিত করিম বয়সে ছিলেন একেবারে কিশোর। তিনি ১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট রাতে স্থানীয় নগরবাড়ী ব্রিজের ওপর গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন। পরে মির্জাপুর হাসপাতালে ৯ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায় । জানতে চাওয়া হলে বাছিত করিম বলেন, যদি কোনো ভুয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এসে থাকে তার জন্য কেন্দ ীয়, জেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমান্ড সবাই দায়ী। তবে উল্লিœখিত কতিপয় ব্যক্তি রাজাকার বলে স্বীকার করে বলেন এরা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এদিকে তার (বাছেদ করিম) সম্পর্কে স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধের সময় তার বয়স ছিল অল্প। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ১ বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে স্কুলে রেজিঃ সময় বয়স কমিয়ে ১০/০৬/১৯৬০ করেন । তার প্রকৃত বয়স ১০-০৬-১৯৫৬ বলে দাবি করেন। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিন্ম বয়স যদি ১৩ বছর ধরা হয় তাহলে সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স দাঁড়ায় ১১ বছর। অপরদিকে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন অবৈধ কাজগুলো করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাছিত করিম ও কমান্ডার হাবিবুর রহমান। ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন- বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই ভুয়া ব্যক্তিসহ চিহ্নিত রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এদেরকে বাদ দেয়া হবে বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে ফজলুল হক বীরপ্রতীক বলেন, ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত তা সঠিক করে বলা যায় না।