বুধবার, মার্চ ০৬, ২০১৯

ঘাটাইলে ওবায়দুল কাদেরের রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

বুধবার (৬ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগ্রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলালীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

উপজেলার সংগ্রামপুর কমিউনিনিটি ক্লিনিক মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক নুরুল ইসলাম খান এর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক রকিবুল ইসলাম খান, আব্দুল মান্নান, মাহফিজুর রহমান খান মজনু, সংগ্রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন বাবু, মনিরুজ্জামান ফজলু, সদস্য মোতাহের আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি রেহেনা খানম আয়না সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ধনবাড়ীতে পোকা দমনে কীটনাশক নয়, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এ বছর বোরো ধান ক্ষেতে পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এ উপজেলার কৃষকরা তাদের বোরো ফসলের ক্ষেতে বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে এবং ধইঞ্চা রোপন করে দিচ্ছেন। এসব বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, বাঁশের মাচান বা আড় এবং ধইঞ্চার ডালে বিভিন্ন ধরনের পোকা খাদক পাখি বসে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলছে এবং ওইসব পাখি পার্চিংয়ে বসে ক্ষণিক সময়ের বিশ্রামও নিচ্ছে।

এভাবে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধান গাছ রক্ষা পাচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি বিভাগ। মাটি, ফসল ও মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহারে কৃষকরা বেশি সচেতন এখন।

পার্চিং পদ্ধতি হচ্ছে পাখির মাধ্যমে ফসলের পোকা দমন ব্যবস্থা। উপজেলা কৃষি অফিস উপজেলার সব এলাকায় কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাচির্ং উৎসবের আয়োজন করেছে। এর ফলে কৃষকরা একদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে পরিশ্রমও কমে যাচ্ছে।

পার্চিং সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ডেড পার্চিং ও লাইফ পার্চিং পদ্ধতি। ফসলের জমিতে পাখি বসার উপযোগী বাঁশের আগা, বাঁশের কঞ্চি, বাঁশের মাচান বা আড় এবং গাছের ডাল পুঁতে যে পার্চিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় তাকে ডেড বা মৃত পার্চিং বলে এবং ধইঞ্চা রোপন করে ফসলের জমিতে পাখি বসার উপযোগী করাকে লাইফ পার্চিং বলে। লাইফ পার্চিং ফসলের ক্ষেতে দুই ধরনের উপকারে আসে। যেমন- পোকা খাদক পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খায় এবং ধইঞ্চার শিকরে এক ধরনের গুটির জন্ম হয়। এই গুটি থেকে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয়। যা ইউরিয়া সারের কাজ করে। তবে ধনবাড়ী উপজেলায় যে সব পার্চিং ব্যবহার হচ্ছে তার সিংহভাগই হলো ডেড বা মৃত পার্চিং।

উপজেলার কয়ড়া গ্রামের কৃষক মো. কবির হোসন ও মো. হাবিবুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগেও আমাদের মাঠের সব জমির ধানেই পোকায় আক্রমণ করত। অনেক সময় টাকার অভাবে বিষ দিতে পারিনা বা দিলেও কাজ হয় না। তাই ৩-৪ বছর ধইরা (যাবৎ) ধান ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কঞ্চির আগা, বা গাছের ডালপালা গাইড়া (পুঁতে) দেই। এহন (এখন) আর পোকা আহে (আসে) না। আমরা টাকা খরচ ছাড়াই একটু খাটাখাটি করলেই ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলবার পাইতাছি।

ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবুর রহমান জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এর উপাকারিতা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সুষম সার, ধান ক্ষেতের পোকা দমনের জন্য পার্চিং ব্যবহার পদ্ধতি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণত ধান গাছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, খাটসুর ঘাস ফড়িং ও পাতা ফড়িং আক্রমণ করে।

পোকা খাদক পাখি জমিতে পুঁতে রাখা পার্চিংয়ে বসে এসব ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। ফলে এর মাধ্যমে অতি সহজেই ক্ষতিকর পোকা দমন করা সম্ভব হয় এবং নিরাপদ হয় ফসল। তিনি আরো জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১০ হাজার ১‘শত ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ উপজেলায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপকহারে সাড়া ফেলেছে।

মির্জাপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আসছেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সফর সঙ্গি হিসেবে সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহেনাসহ মন্ত্রী পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।



উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার আর্ত মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল এবং নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শনে প্রথম বারের মত আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে লেগেছে উৎসবের আমেজ। নানা সাজে সজ্জিত করাসহ নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে কুমুদিনীতে। ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।



মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত স্মারকের সূত্রে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।



এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল এন্ড বিএসসি নার্সিং কলেজসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সেবাধর্মী বিভিন্ন ইউনিট নানা সাজে সজ্জিত করা হচ্ছে। কুমুদিনী হাসপাতালের মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার মুড়ালসহ বিভিন্ন স্থাপনা।



এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হবে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

ধনবাড়ীতে আটককৃত ৩ ভূয়া ডিবি পুলিশকে আদালতে প্রেরণ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক বাসায় প্রবেশ করে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলার পর আদালতের মাধ্যমে ধনবাড়ী থানা পুলিশ আজ বুধবার তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছে। জেল হাজতে পাঠানো আসামীরা হলেন- ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের পেরিআটা গ্রামের  লিটু মিয়া(২৬), সুনামুই বাদুরিয়া গ্রামের রাজীব আহমেদ (৩০) ও ধনবাড়ী পৌর এলাকার চালাষের হযরত আলী (২৮)।

ধনবাড়ী থানার ওসি মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক তিন জনের বিরুদ্ধেই দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (০৫ মার্চ)  দুপুরে ধনবাড়ী পৌর শহরের পুরাতন থানাপাড়া এলাকার তৌফিক আহমেদ সিদ্দিকির ২য় তলা বাসায় ভাড়াটিয়াদের জিম্মি করে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৫/৬ জন ব্যক্তি অভিযান চালানোর নাম করে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে। বাসার ভিতরে প্রবেশ করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই বাসার সকল সদস্যকেই বেঁধে ফেলে মুখে কসটেপ লাগিয়ে দেয়। তারপর তারা ভিতরের আসবাবপত্র তল্লাশির নামে ডাকাতির চেষ্টা করে।

এমতাবস্থায় বাসার জনৈক ব্যক্তি গোপনে থানায় ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের পেরিআটা গ্রামের মো. লিটু মিয়া (২৬), সুনামুই বাদুরিয়া গ্রামের রাজিব আহমেদ (৩০) ও পৌর শহরের চালাষ গ্রামের হযরত আলী (২৮)।

সরকারের দুই মাসের পোস্টমর্টেম

আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের দুই মাস পূর্ণ হলো। একটা মন্ত্রিসভার জন্য দুইমাস যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু দুইমাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রমে ভালোমন্দের একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যেখান থেকে একটা পথনির্দেশনা পাওয়া যাবে যে, মন্ত্রিরা কতদূর কি করবেন। তাঁরা দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবেন বা দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন কিনা বা সাহসী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছেন কিনা বা কোন মন্ত্রীর অবস্থান কি রকম, কোন মন্ত্রীর সাফল্য কতটুকু ব্যার্থতাই বা কি?

৭ই জানুয়ারি যে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে তাতে ছিল একটি চমক। অনেক সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। যেখানে আনকোরা নতুনরা স্থান পেয়েছিলেন। কেমন করছে মন্ত্রিসভা?

প্রথম সাফল্য হলো, আমরা যদি গত দুই মাস সরকারের পারফরম্যান্স দেখি তাহলে দেখব যে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স হলো নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অবৈধ নদী দখল পুনরুদ্ধার করা। এই অবৈধ নদী দখল উদ্ধারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের বিচারে গত দুই মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এটি। দীর্ঘদিন ধরে এই নদী দখল উচ্ছেদের জন্য নানারকম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল যার সবই ছিল কথার কথা। বাস্তবে কিছুই হয়নি। এবার সত্যিকার অর্থে দৃশ্যমানভাবে এই পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে। এটাকে গত দুইমাসে সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে আমরা বিবেচনা করতে পারি।

দ্বিতীয়, গত আমলে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এই মেয়াদের সরকারের ইতিবাচক দিক হচ্ছে কক্সবাজারে যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাঁদেরকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছে। শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে যেটাকে সাধারণ মানুষ সরকারের ইতিবাচক দিক হিসেবে মনে করেন।

তৃতীয়, এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। প্রশ্নফাঁস সরকারের জন্য একটি বিব্রতকত পরিস্থিতি ছিল। গত মেয়াদে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কথা বললেও সরকার দায়িত্বশীল কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। এইবার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটা এই সরকারের অনেক বড় একটা সাফল্য বলে অনেকেই মনে করেন। ।

চতুর্থ, এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একটা ধর্মীয় সমস্যা দেখা দিয়েছিল যে, বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল কিন্তু ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। সরকার সবকিছু সুন্দরভাবে একটি সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছে। এটাও সরকারের একটা বড় সাফল্য বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। ধর্ম নিয়ে জনমনে যে একটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল সেখান থেকে দেশকে সরকার মুক্তি দিয়েছে। কাজেই এটাকে সরকারের একটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলা যেতে পারে।

পঞ্চম, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূণ্য সহিষ্ণুতা ঘোষণা করেছেন। যার ফলে সরকারের এই মেয়াদের প্রথম থেকেই দুর্নীতির ব্যাপারে একটা কঠোর মনোভাব সরকারের মধ্যে দৃশ্যমান। এটা সরকারের জন্য একটা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং সাধারণ মানুষ এই  বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে।

গত দুই মাসে সরকারের এই ৫ টি সাফল্যই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়। এই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অবশ্যই এই সাফল্যের অংশীদার। সাফল্যর সঙ্গে ব্যার্থতাও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিগত দুই মাসে সরকারের বেশ ব্যর্থতাও রয়ে গেছে। যেমন:

প্রথম ব্যার্থতা, সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা মনে করা হচ্ছে, চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। এই সরকারের প্রথম মেয়াদেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং সরকার তখন যেসমস্ত অঙ্গিকার দিয়েছিল, তার কোনটাই প্রতিফলিত হয়নি এবং যার ফলে এই দুর্ঘটনা একটা অমার্জনীয় হিসেব দেখা হচ্ছে। যদিও এই দুর্ঘটনার পর সরকার থেকে বলা হয়েছে, এখন রাসায়নিক দ্রব্যগুলো উচ্ছেদ করা হবে এবং সেরকম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে এই উচ্চেদ নিয়ে সরকার আরেকটা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।

দ্বিতীয়, একটি দুবাইগামী বাংলাদেশি বিমানের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ এবং কথিত বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা। এটা সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করেছে। শুধু সাধারন মানুষ নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং এটার পরে বিমানের যে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মহল যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেই ব্যাখ্যাটাও সাধারন মানুষের কাছে ধোয়াশা, অস্পষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে। কাজেই, এই ঘটনাকেও মনে করা হয় সরকারের একটি নেতিবাচক দিক।

তৃতীয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ সড়কের জণ্য অনেকগুলো পদক্ষেপ, নীতিনির্দেশনা ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত সড়কে নিরাপত্তা ফিরে আসেনি এবং সড়কে যে নিয়মনীতি শৃঙ্খলা, সেটা ফিরে আসেনি। বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরী হয়েছে।

চতুর্থ, সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই বলেছিল, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আর নতুন ঋণ খেলাপি হতে দেওয়া হবে না। ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো কথা, বক্তৃতা, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঋণ খেলাপির পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। যদিও মনে করা হয়, ঋণ খেলাপি বন্ধ করার জন্য দুই মাস যথেষ্ঠ সময় নয়। তারপরও দুই মাসে কোন দৃশ্যমান কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

পঞ্চম, সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বলা হয়েছিল যে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। ভূমি মন্ত্রী নিজে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, একমাসের মধ্যে প্রত্যেকটা ভূমি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসেব তার কাছে জমা দিতে হবে। এটা তার আদেশ, কিন্তু তা প্রতিপালনের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনি। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ বা কার্যক্রম আমরা পরিলক্ষণ করিনি।

সাফল্য- ব্যার্থতা নিয়ে একটি সরকার। কাজেই, এই সরকারের গত দুই মাসে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টি দেখা যাচ্ছে, সেটা হচ্ছে সরকারের মধ্যে মন্ত্রীরা কাজ শিখতে চাচ্ছেন এবং মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে বাইরে খুব কম কথা বলছেন। প্রথম দিকে মন্ত্রীরা অনেক কথাবার্তা বললেও আস্তে আস্তে মন্ত্রীরা কথাবার্তা কমিয়ে দিয়েছেন। এটা ইতিবাচক দিক এবং তারা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের কাজের দিকেই মনোনিবেশ করছেন। দুই মাসের এই চিত্রটা আরও স্পষ্ট হবে আগামী দিনে তারা কিভাবে দায়িত্ব পালন করে সেটার উপর।

-- বাংলা ইনসাইডার

ঘাটাইলে নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘সবাই মিলে ভাবো নতুন কিছু কর, নারী পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ মানবন্ধনের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. নূর নাহার বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন প্রমুখ।

মানবন্ধনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

জামিন পেলেন সাবেক এমপি রানা

যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আমানুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মোঃ বশির উল্লাহ।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৮ মে আমানুর রহমান খান রানাকে দুইদিনের রিমান্ড শেষে ফের কারাগারে পাঠান আদালত। এ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন রানা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলে শহরে এসে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ একই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুরের দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেন। আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলারও আসামি।