শুক্রবার, মে ৩১, ২০১৯

কে এই ‘গলিবয়’ রানা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে বেড়ানো আর দশটা পথশিশুর মতো রানাও একজন। থাকে কামরাঙ্গীর চর এলাকায়। তবে ক্যাম্পাস এলাকাতেই সারাদিন ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। ছোট্ট এই শিশুটি দারুন র‌্যাপ গান গায়। ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে গান শোনানোর বিনিমেয়ে ২-৫ টাকা চেয়ে নেয় মানুষের কাছ থেকে।

সেই পথ শিশু রানা হঠাৎ করেই ফেসবুকে ‘গলিবয়’ রানা হিসেবে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রানার গাওয়া র‌্যাপগান ঢাকাইয়া গালিবয় ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। কয়েক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে রানার গানটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়ে। এরপর মুহূর্তেই রানার প্রতিভার প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই রানার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তার সন্ধান করতে শুরু করেছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন ‘কোথায় পাওয়া যাবে গালিবয় রানাকে?’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে গানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নুজহাত ঐশি ফেসবুকে ছাড়েন। এর পরপরই গানটি ছড়িয়ে পরতে থাকে বিভিন্ন পেইজে গ্রুপে এবং ওয়ালে ওয়ালে। তখনো গালিবয় খ্যাত রানার পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি তার নামই যে ‘রানা’ তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি তখনো।

ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ভেতরই বেড়িয়ে আসে এই ঢাকাইয়া গালিবয়ের পরিচয়। তার নাম রানা। থাকে কামরাঙ্গীর চরের একটি বস্তিতে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই ঘুরে বেড়ায় রানা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে এখানেই পাওয়া যায়। ঢাকাইয়া গালিবয় গানটি তার জীবনের কথা দিয়েই বানানো। পথ শিশু হিসেবে পরিচিত রানার ‘গালিবয়’ খ্যাত রানা হয়ে ওঠার পেছনে ছিলেন আরেকজন- মাহমুদ হাসান তবীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীই রানার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার জীবন নিয়েই লিখেন- ‘ঢাকাইয়্যা গালিবয়’ খ্যাত গানটি।

তারপর রানাকে দিয়ে গানটি অনুশীলন করিয়ে এর ভিডিও চিত্রও ধারন করেন। তৈরি করে ফেলেন একটি মিউজিক ভিডিও। সেখানে রানার সাথে মাহমুদ হাসান তবীব নিজেও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন। গানের পাশাপাশি এর মিউজিক ভিডিওটিও পরিচালনা করেন তবীব।

মাহমুদ হাসান তবীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ভালো লাগা ভালোবাসা থেকে তিনি গান করেন। তবীব বলেন, ‘গত সাত আটদিন আগে প্রথম রানার সাথে আমার দেখা হয়। ওর গান শুনে আমি মুগ্ধ। ছেলেটির ভেতর টেলেন্ট আছে। আমি ওর গান শুনে ওর জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি। দরিদ্র রানার জীবন সংগ্রামের গল্প শুনে সেই রাতেই ওকে নিয়ে গানটি লিখি। এরপর রানাকে অল্প সময়ের যতটুকু সম্ভব গানটি অনুশীলন করিয়ে আমার এক বন্ধুর হোম স্টুডিওতে রের্কড করি। ও খুব অল্প সময়েই সব কিছু নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিতে পারে। রেকর্ডিং এবং ভিডিও ধারণ শেষে গতকাল রাতে (বৃহস্পতিবার) কাজটি শেষ হয়। এরপর আমি ফেসবুকে ছাড়ি।’


ঘাটাইলে পেশা বদলাচ্ছে বেত শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : বাব দাদার কাছে শিখে ছিলাম তাই ছাড়তে পারি নাই আগের মত আর ব্যাবসা নাই।আমার সন্তানদের এ কাজে আসতে দেইনি তারা অন্য অন্যপেশায় নিয়োজিত কাজের ফাকে দির্ঘস্বাস ছেড়ে কথাগুলো বললেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া বট তলা গ্রামের রাম লাল চন্দ্র দাসের ছেলে চৈতন্য চন্দ্র দাস।

তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রায় ৩৫ বৎসর যাবৎ আমি বেত দিয়ে তৈরী কুটির শিল্পের বিভিন্ন জিনিষ তেরী কওে দেন। ফুল হারা গ্রামে কাজের ফাকে কথা হয় তার সাথে।তিনি বেতের তৈরী দাড়ি পাল্লা, কুলা, কাটা সহ বিভিন্ন জিনিষ তৈরী করে হাটে বাজারে বিক্রি করেন। প্রায় ২০ বৎসর আগে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বেতের গাছ চাষ করা হতো তখন জিনিষ পত্র বিক্রি করে অনেক লাভ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট, চট্রগাম থেকে বেত আমদানী করা হয় ফলে পরিবহন খরচবেশী পড়ে যাওয়ার কারনে যার দরুন আগের মত আর লাভ দেখা যায় ।চৈতন্য চন্দ্র দাস জানয় আগে কয়েক গ্রাম ঘুরে ও বেতের কাজ করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করাযেতো কিন্তু বর্তমানে ৫০০ টাকা রোজগার করতে হিম শিম খেতে হয়।

একটি সময় মানুষ বেতে দিয়ে জিনিস তৈরী করে জিবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমানে কাঠ বাশের তৈরী জিনিষ বাজারে আসাতে এখন মানুষ তেমন বেতের তৈরী জিনিষ কিনতে চায় না।তাইতো আমার ৩ ছেলে খুশি চন্দ্র দাস ফার্নিচারের কাজ করে সুশিল চন্দ্র দাস নর সুন্দরের কাজ শান্ত চন্দ্র দাস টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনষ্টিউট পড়া শোনা করছে। তাদেও আমার পেশায় আসতে দেইনি কারন এ পেশায় থাকলে কোন লাভ নেই। সরকারকারী সহযোগিতা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চৈতন্য দাস জানায় আমি কোন সহযোগিতা পাই না তবে আপনার যদি(সাংবাদিক কে) কোন সংস্থার বিষয়ে জানা থাকলে জানাবেন যদি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়।

ফরেন রেমিটেন্সে জনতা ব্যাংকের হামিদপুর শাখার রেকর্ড

ফরেন রেমিটেন্সে রেকর্ড করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুরের জনতা ব্যাংকের শাখাটি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র রমজান সামনে রেখে মে মাসে জনতা ব্যাংকের সারাদেশে "ফরেন রেমিটেন্স সেবা মাস-২০১৯" ঘোষণা করা হয়। যার অংশ হিসেবে ব্যাংকের টাঙ্গাইল এরিয়াধীন হামিদপুর শাখাতেও আন্তরিকতার সাথে এই মাসটি পরিপালিত হয় বলে জানিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি জানান, এ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী ভাই-বোনেরা তাদের নিজ নিজ স্বজনদের অনুকূলে অর্থ প্রেরণ করেন। এবারের সেবা মাসে সর্বমোট ৯২৮ জন উপকারভোগীর মাঝে চার কোটি বিশ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যা এ যাবৎকালে হামিদপুর শাখার একটি রেকর্ড।

ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক ও সময়োচিত দিকনির্দেশনা এবং শাখার তরুণ, মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বদৌলতে এ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলেও শাখা ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন। 

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, হামিদপুর শাখার ফরেন রেমিটেন্স উপকারভোগীদের নব্বই শতাংশের ওপরে নারী গ্রাহক। জনতা ব্যাংক লিমিটেড হামিদপুর শাখার উপর অব্যাহত আস্থা রাখায় শাখার পক্ষ থেকে রেমিটার ও উপকারভোগীসহ স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।

ঘাটাইল বিএনপি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল

আতিক সরকার, ঘাটাইল: শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (৩০ মে) বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্দ্যোগে উপজেলা অডিটরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মোঃ রফিকুল ইসলাম বুলবুল ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা সাবেক এম পি ও মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম, দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, সহ বিএনপির অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় লুৎফর রহমান খান বলেন আজ আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বাস করছি যে রাষ্ট্রটি চোখেও দেখেনা কথা বলতে পারেনা। দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন বলতে কিছু নেই। এটা বর্তমানে যাদুঘরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশে যদি গণতন্ত্র থাকতো তাহলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধানের স্ত্রীর আশ্রয় জেলখানায় হতো না, দেশে গণতন্ত্র থাকলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রি, একজন ৭৮ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ, স্বামী সন্তান হারা অসহায় নারীকে জেলাখানার ভেতরে খাওয়া, দাওয়া ও নিন্দ্রাহীন চোখে থাকতে হতো না।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন নেই বলেই তিন বৎসরের শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষি বৃদ্ধা নারী ও শিশুরা ধর্ষন ও মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। একদিকে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে পত্রিকায় বেরিয়েছে এবার ঈদে ৬ লক্ষের বেশি মানুষ ঈদ করতে বিদেশ যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন বিদেশে ঈদ করতে যাচ্ছে এই লোকগুলো কারা? এরাই সেই ব্যক্তি যাহারা এ দেশের কৃষকের রক্ত সকাল/সন্ধ্যা চুষে খাচ্ছে-আর হারাম টাকার পাহাড় বানিয়ে দেশের বাহিরে গিয়ে ঈদ উদ্যাপন করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ভাবতে অবাক লাগে, দুঃখ হয় আজ বাংলাদেশের মানুষের বুকে যে জগদ্দল পাথর চেপে বসে আছে, সেই অবৈধ পাথর আমাদের দেশের সহজ সরল, গরীব অসহায় মানুষগুলোকে বাঁচতে দিচ্ছে না।

আপনারা পেপার পত্রিকায় পড়বেন ও টেলিভিশন খুল্লেই দেখতে পাবেন বাবা তার অভাবের কারনে প্রিয় দুই সন্তানকে ঈদের পোষাক কিনে না দিতে পেরে নিজ হাতে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করছে, মা সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে পরে নিজেই আত্মহত্যা করছে। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রির কোন দায়িত্ব নেই, প্রশাসনের কোন গুরুত্ব নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এ দেশের জনগণ সরকারের কাছে বোঝা হয়ে গেছে। সরকার আমাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে আর আমরা তা হজম করছি। মানুষ এ সব থেকে মুক্তি চায়, মানুষ স্বাধীনতা চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। সর্বোপরি এই অবৈধ সরকারের পতন চায়।

বক্তৃতায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তার সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আদর্শে জীবন গড়ার জন্য নেতা কর্মিদের পরামর্শ দেন।

এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সহ প্রিন্টি ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আগে দেশে ও দেশের মানুষের কল্যান কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের ঈমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ জোবায়ের মাহমুদ।

সন্তান জন্ম দিল প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা প্রেমিকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামে গর্ভে সন্তান নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা সেই স্কুলছাত্রী (১৫) সন্তান প্রসব করেছে। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে সে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ফাতেমা। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে।

এদিকে সন্তানের পিতৃ পরিচয় ও নিজের স্ত্রীর মর্যাদার দাবি জানিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। তবে তার প্রেমিক লুৎফর তালুকদার ওই ছাত্রীর বাড়িতে অবস্থানের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। লুৎফরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় শিশুটির ক্ষতি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার।



জানা যায়, পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের বিবাহিত ছেলে লুৎফর তালুকদার (২৫) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে। এতে করে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারে আলোচনা করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পেরে গত ১৭ মে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সেখানে ১০দিন অবস্থান নেয়ার পর ২৭ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশুতোষ বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের অভিনয় করে আসছিল ওই গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে লুৎফর তালুকদার (২৫)। লুৎফর তালুকদার বছর খানেক আগে ওই গ্রামের পাশের একটি মেয়েকে বিয়ে করে। বিয়ের পরও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে। এতে করে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

মামলার বাদী বলেন, দিনমজুরি করে চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কোনোরকম সংসার চলে আমার। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় টাকার জন্য মেয়েটিকে করিম জুট মিলে কাজ করতে পাঠাই। সেখানে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে লুৎফর আমার মেয়ের এই সর্বনাশ করেছে। আমি আমার মেয়ের জন্ম দেয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই।

ওই স্কুলছাত্রী জানায়, লুৎফর আমার জীবন নিয়ে খেলেছে। আমি ও আমার মেয়ে মর্যাদা নিয়ে সমাজে বাঁচতে চাই। সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকেই শঙ্কায় রয়েছি, লুৎফরের পরিবার প্রভাবশালী তাই আমার সন্তানের ক্ষতি করে বসতে পারে।

ভাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি কাজী সাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা রেকর্ডের পর থেকে আমরা লুৎফরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯

লোকেরপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভবন নির্মাণের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোছাঃ ‍নুর নাহার বেগম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব শাহিনা সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব এনামুল হক প্রমুখ।

মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০১৯

ঘাটাইলে এইচএসসিতে ভর্তির জন্য ৫০ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

গুডনেইবারস বাংলাদেশ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সিডিপির উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ শিক্ষার্থীদের এইচএসসিতে ভর্তির জন্য ৫০ জন শিক্ষার্থীদের ১৩ শত টাকা করে মোট ৬৫ হাজার টাকা বিরতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপি প্রাঙ্গণে ঘাটাইল সিডিপির ম্যানাজার মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ১নং দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও আনন্দ টিভির ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ, মেডিকেল অফিসার ডা. শুভ বসাক, হেলথ অফিসার মো. শাহীন আলম প্রমুখ।

ঘাটাইলে খাবার হোটেলসহ চারটি দোকানে জরিমানা

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে খাবার হোটেলসহ চারটি দোকানে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। আজ সোমবার (২৭ মে) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুর নাহার বেগম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় আদালত দুটি মুদির দোকান ও দুটি হোটেলে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘাটাইল বাজারের জালাল উদ্দিন ও হাশেম খানের দোকানে এক হাজার টাকা করে এবং বাজার রোডের দই মিষ্টির দোকানের মালিক জীবন ঘোষকে দুই হাজার টাকা ও কলেজ মোড়ের তিন তারা হোটেলের মালিক লিয়াকতকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রমজান মাস উপলক্ষে বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় এসব জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুর নাহার বেগম বলেন, দোকানে মূল্য তালিকা না থাকা ও হোটেল গুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না থাকায় তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে।

১০৪০ টাকা মন দরে খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে ঘাটাইলের কৃষকরা

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল খাদ্যগুদামে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে সরকারীভাবে ধান কেনা শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা কৃষি কার্ড প্রদর্শন করে গুদামে ১০৪০ টাকা মন দরে ধান দিচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।

গুদামে ধান দিতে আসা উপজেলার শেখশিমুল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, বাজারে ধানের মূল্য কম। এ সময় ২৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পেরে অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি।

জানতে চাইলে ঘাটাইলের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জাহাঙ্গির আলম বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। যে সরকার কৃষকদের জন্য ভাবেন, কৃষকরা যেহেতু বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না সে জন্য প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের যে উদ্যোগ নিয়েছেন এটা আসলেই প্রশংসনিয়।

তিনি জানান, ধান সংগ্রহের আগে আমরা বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকদের সাথে মত বিনিময় করেছি। তাদেরকে সচেতন করে এসেছি। কিভাবে ধান দিতে হবে তার নিয়ম গুলো অবহিত করেছি।

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮মে) ঘাটাইল উপজেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথী ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ আতাউর রহমান খান।

মুক্তিযোদ্ধা এমদাদুল হক খান হুমায়ুনের পরিচালনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) এনামুল হক, ঘাটাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়া, সাবেক কমান্ডার হবিবুর রহমান, মুক্তিয়োদ্ধা আব্দুর ছাত্তার মিয়া প্রমূখ।

সোমবার, মে ২৭, ২০১৯

ঘাটাইলে ১ কি.মি. সড়ক পার হতে লাগে দেড় ঘণ্টা

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় থেকে বীরঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। 

এ সড়কে ঈদ সামনে রেখে মানুষের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোদে, ধুলা-বৃষ্টিতে, কাদা ও প্রাত্যহিক যানজটে নাকাল এখানকার জনজীবন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কের এক পাশ যান চলাচলের উপযোগী না করে অপরিকল্পিতভাবে অন্য পাশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গাড়ির যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান নিয়েও। 

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঢালাই করা কাজের বেশ কিছু অংশ এখনি ফেটে গেছে। ঢালাই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে জমাটবাঁধা সিমেন্ট। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জাহান কলি জানান, জমে যাওয়া সিমেন্ট দিয়ে চলছে রাস্তার কাজ। মানুষ অবাক হয়ে সেই সিমেন্ট দেখে আক্ষেপের স্বরে বলে- 'আহা উন্নয়ন, পূজা করতে মন চাচ্ছে।' মমিন নামে একজন জানান, সওজের নির্মাণাধীন রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ একদম নিচু মানের সামগ্রী দিয়ে চলছে, চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি; দেখার যেন কেউ নেই।

মহাসড়ক ঘেঁষা ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদার সৃষ্টি হয়। ফলে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা পারাপার হতে পারে না। ধীরগতির এ কাজে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান বলেন, এ রাস্তার কাজে জনবল একেবারেই কম। ঈদে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। প্রতিনিয়ত সড়কে জানজট লেগেই থাকে। 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বলেন, সড়ক উন্নয়ন কাজ চলছে, সাময়িক একটু অসুবিধা হবেই। ঈদে মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেজন্য রাস্তা এসবিবিকরণের কাজ চলছে।

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯

ঘাটাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার উপজেলা পরিষদ হল রুমে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও ইফতার মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. এস. আকবর আলী, সাবেক মেয়র মোঃ হাসান আলী, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহীদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ঘাটাইল সরকারী জি বি জি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, অনলাআইন নিউজ পোর্টাল ঘাটাইল ডট কমের নির্বাহী সম্পাদক মোঃ সারোয়ার জাহান প্রমুখ।

এ সময় আরু উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাদের বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সাহসী সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বক্তারা দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে সহযোগীতার পাশাপাশি একটি সুখী সমৃদ্ধ সুন্দর দারিদ্র মুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি খান ফজলুর রহমান, নির্বাহী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দপ্তর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মাসুম মিয়া, মনোয়ার হোসেন সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য-মাসুদ রানা, আনোয়ার হোসেন বকুল, রেজাউল করিম খান রাজু, বিষ্ণু প্রিয় দে, খাদেমুল মামুন সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দেশ ও জাতীর শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ জোবায়ের মাহমুদ।

শনিবার, মে ২৫, ২০১৯

ঘাটাইলে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিপুল পরিমাণের ইয়াবা সহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফর রহমানকে আটক করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি (উত্তর)। গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) উপজেলার হামিদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত লুৎফর রহমান (৩৫) উপজেলার চৌরাশা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর বাজারস্থ তোফাজ্জাল হোসেনের মালিকানাধীন ভাই ভাই খাবার হোটেলের ভিতর থেকে এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফর রহমানকে ১০০০ পিস ইয়াবা সহ (আনুমানিক মূল্য তিন লাখ টাকা) আটক করা হয়।

আটককৃতর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।

মধুুপুরে রান্নাঘরে খদ্দেরসহ ধরা পড়ল দেহ ব্যবসায়ী লাবনী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে খদ্দেরসহ এক দেহ ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (২১ মে) রাতে একটি পরিত্যাক্ত রান্না ঘর থেকে তাদের গ্রেফতার করে মধুপুর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত দেহ ব্যবসায়ীর নাম লাবনী (২৭) এবং খদ্দের পিরোজপুর গ্রামের মোশারফের ছেলে শামীম (৪২)।

জানা যায়, মধুপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শহিদুলের পরিত্যাক্ত রান্না ঘর থেকে দেহ ব্যবসায়ী লাবনীকে খদ্দের শামীমের সাথে হাতেনাতে গ্রেফতার করে মধুপুর থানা পুলিশ।

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুর থানার এস আই আসাদুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শহিদুলের পরিত্যাক্ত রান্না ঘর থেকে লাবনী নামের এক দেহব্যবসায়ী ও পিরোজপুর গ্রামের মোশারফের ছেলে শামীমকে গ্রেফতার করে।

ওসি আরও জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯০/৭৪ ধারায় মামলা রুজু করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘাটাইলে দোকান গুলোতে ঈদ উপলক্ষে উপচে পড়া ভিড়

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : দিন যতই যাচ্ছে রমজান শেষ হয়ে আসছে আর আনন্দেে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

তাইতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়  চলছে ঈদের কেনা কাটার   । দিন যতই যাচ্ছে দোকান ও বিপনী বিতান গুলোতে চলছে ঈদের কেনা কাটার ধুম। ঘাটাইলের মেইন রোডে অবস্থিত  পারুল প্লাজা ,বাজার রোডে, জাহানারা সপিং কমপ্লেক্স ,ফালু হোসেন খান মার্কেট,দিলারা সপিং কমপ্লেক্স,জনতা মার্কেপ,এস.এস মার্কেট সহ বিভিন্ন দোকানে চলছে ঈদের কেনা কাটার সমারোহ।তিল ধারনের মত স্থান নেই বিপনি বিতান গুলোতে।বিভিন্ন বয়সের লোকজান তাদের পছন্দ সই কাপড় কেনার জন্য ঘুরে ঘুরে দেখছ্ ে।

টাঙ্গাইেেলর তাতের শাড়ী,সুতী, জামদানী , সহ মহিলাদের পছন্দের কাপড় নিয়ে বসে আছে ব্যাবসায়ীরা ।এবার ঈদে কোন বিশেষ নামে ড্রেস কোন দোকানে পাওয়া যায়নি।টাঙ্গালের জেলার বিভিন্ন উপজেলার থেকে ঘাটাইল উপজেলা গুরুত্ব পুর্ন হওয়াতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সবাই আসে কেনা কাটা করার জান্য।শুধু কাপড়ের দোকানে নয় গার্মেমেন্টস দোকান গুলো ছোট  ছেলে মেয়েদের বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন রকমের পোষাক ।

বাদল ক্লথ ষ্টোরের সজল জানায় এবার ঈদে কোন নামে পোষাক আসেনি তবে বেচা কেনা ভালই হচ্ছে।ঈদ সামনে থাকাতে মানুষ কিছুটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তাহলে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে জিনিষ পত্র ।

শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯

ঘাটাইলে ‘তরুণ ছাত্র সংঘ’ এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ‘তরুণ ছাত্র সংঘ’ এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ মে) উপজেলার সাইটশৈলা হাই স্কুল মাঠে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মোঃ শাহজাহান, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম, আনেহলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আরিফ হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, তরুণ সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার প্রমুখ।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি বিপ্লব তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আসলাম মণ্ডল সহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ঘাটাইল ডটকমের সম্পাদক এস আকবর খানের মায়ের ইন্তেকাল

টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক  এডভোকেট এস আকবর খানের মাতা আমিনা খানম (৮০) গতকাল বৃহস্প্রতিবার রাত সাড়ে এগারটায় তার নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেছে ( ইন্নালিল্লাহি-------রাজেউন) ।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যান্সারে ভোগছিলেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় জনাযা নামাজ শেষে ঘাটাইল সদর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে চার মেয়েসহ আত্বীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা করেছেন



মধুপুরে ১৩০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, ১৪ বছরের কিশোর গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ১৩০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ধর্ষণে জড়িত সোহেল (১৪) নামের এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর রাতেই অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সোহেল উপজেলার বনাঞ্চলের ফুলবাগচালা ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামের তোতা খাঁর ছেলে।


ওই বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, সোহেলকে বার বার বলেছিলাম আমাকে ছেড়ে দাও। আমি রোজা রেখেছি। এই বয়সে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না।

মধুপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল বলেন, পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এ ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর রাতে ধর্ষক সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় বৃদ্ধার বয়স ১৩০ বছর উল্লে­খ করা হয়েছে। আসামিকে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯

রুপপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি!

আমার নাম এখন দেশের বিদেশের প্রায় সব বাঙ্গালিই জেনে গেছেন। জি, হ্যাঁ আমি সেই নির্বাহী প্রকৌশলী রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাসুদুল আলম। যাকে এখন ব্যঙ্গ করে আপনারা ‘বালিশ মাসুদুল আলম’ বলে সম্বোধন করেন। আমি আমার সমস্ত দোষ স্বীকার করে নিয়ে আপনাদের কাছে কিছু কথা বলতে চাই।

শৈশবে আমার কেরানি বাবা আমার জন্য ৪/৫টা গৃহ শিক্ষক রেখে লেখা পড়া শিখিয়েছিলেন। আমাকে তিনি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চেয়েছিলেন, আমি অবশেষে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছি। আসলে আমার কোন শৈশব ছিল না।

আমি কারো সাথে মিশিনি, কারো বন্ধু ছিলাম না, এমন কী ক্লাসে ফার্স্ট হবার জন্য বাবা-মায়ের কথামত ক্লাসের বন্ধুদেরও কখনো লেখা পড়ায় কোন সাহায্য করিনি এই জন্যে যে, তারা যদি আমার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করে ফেলে! তাই আমার মধ্যে কোন মানবিক গুনাবলীর উন্নয়ন ঘটেনি শুধু ভালো ছাত্র হওয়া ছাড়া।

আমি যখন যা চেয়েছি, কেরানি বাবা তার চেয়ে আমাকে অনেক বেশি দিয়েছেন। বলেছে তোমার সব চাহিদা আমি পূরণ করবো, তুমি শুধু আমার একটা চাহিদা পূরণ করবে, সেটা হল ভালো রেজাল্ট করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে, আর অনেক টাকা আয় করবে। তাই আমার ধ্যান জ্ঞান সবই ছিল লেখা পড়াই ভালো করা।

আমি যখন ছোট তখন দেখেছি, প্রায় প্রতিদিন বাবা অফিস থেকে ফিরে মাকে অনেক টাকা দিতেন। আমি ভাবতাম চাকরি করলে মনে হয় প্রতিদিন টাকা পাওয়া যায়। একটু বড় হবার পরে দেখি বাবা প্রায় বিভিন্ন লোকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতেন।

মাঝে মাঝে বলতেন তিনি এখনি বাইরে যাচ্ছেন, ২/৩ দিন বাসায় আসবেন না। তার পরেও দেখতাম তিনি বাসায়। আবার কেউ নিজে এলে কাজের লোক দিয়ে বলতেন, ‘বল আমি ঢাকার বাইরে’। বাসায় বসেই এমন মিথ্যা বলতেন তিনি। কিন্তু কেন?

পরে জেনেছি তিনি কিছু লুকানোর জন্য বা কাউকে এড়িয়ে চলার জন্য মিথ্যা বলতেন। আমি একদিন মাকে বললাম যে, ‘তোমরা সব সময় আমাকে সত্য কথা বলতে বল, কিন্তু বাবা তো মাঝে মাঝে বাসায় থেকেও বলে তিনি বাসায় থাকবেন না, বাইরে আছেন, ইত্যাদি।

এটা কি মিথ্যা কথা না’! মা বলতেন, ‘মাঝে মাঝে এমন ২/১টা মিথ্যা কথা বলার দরকার হয়, বড় হলে বুঝবি’। আমি কনফিউজড হয়ে যেতাম তখন, কিন্তু এখন সব বুঝি।

যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম তখন জানলাম আমার বাবা যে বেতন পান তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আমরা প্রতি মাসেই খরচ করি। এমনকি আমার বাবার বেতনের টাকায় আমার পড়ার খরচ ও ঠিক মত হবার কথা না।

বন্ধুরাও আড়ালে আবডালে আমার বাবার আয় নিয়ে টিটকারি মারতো। আমি বুঝতাম, কিন্তু আমার কিছুই করার ছিল না। আমার বন্ধুদের অনেকেই দেখতাম আমার মত পরিবার থেকে এসেছে।

তাদের সাথে আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব করে নিলাম, আর প্রতিজ্ঞা করলাম যে, অনেক টাকা আয় করে টাকা দিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করবো। কারণ আমরা চাকরি পাবার আগেই পত্র পত্রিকায় সমাজের বিভিন্ন ঘটনায় দেখেছি, টাকা দিয়ে অনেক অন্যায় কাজকে ধামা চাপা দেওয়া যায়। তাই টাকাটাই আমাদের কয়েকজনের কাছে মুখ্য হয়ে গেল।

বাবা বলতেন নীতি ধুয়ে কী পানি খাবি! আমিও তাই বাবার মত করে ভাবতাম। নিতি-নৈতিকতা নিয়ে কখনই কিছু ভাবিনি আমি। দেখি যে, টাকা দিয়ে বড় দল থেকে যেমন এমপি হবার মনোনয়ন কেনা যায়, টাকা খরচ করে এমপি মন্ত্রী হওয়া যায়, চাকরি পাওয়া যায়, বড় বড় অপরাধ করেও ছাড়া পাওয়া যায়, ইত্যাদি কী না করা যায়। মানে আমাদের সমাজে বলতে গেলে টাকা দিয়ে সব কিছুই করা যায়। তাই আমিও টাকার পিছনে ছুটেছি। মান সম্মানের কথা, ইজ্জতের কথা ভাবিনি।

ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে তাদের কাজ দিয়েছি। কপি করা জিনিসে ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে কম দামের জিনিস বেশি দামে কিনেছি কমিশন নিয়ে। চালু আইটেমের দাম কম দেখিয়ে অপ্রচলিত আইটেমের দাম বেশি দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিয়েছি।

কখনো কখনো ঠিকাদারী কাজের প্রথম ফেজে ভালো করে পরের ফেজে আইটেম চেঞ্জ করে কাজের টেণ্ডার ভ্যালুর চেয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছি কয়েকগুণ। তাতে ঠিকাদার আর আমি দুজনেই লাভবান হয়েছি। ম্যনেজ করেছি উপরের মানুষদের।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় আচার আচরণে এমন ভাব করেছি যে আমি জিয়ার ক্রিতদাস। আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই তাড়াতাড়ি চরম বঙ্গবন্ধু প্রেমিক হয়ে গেছি আমরা সবাই দল বেঁধে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে গোপনে এতো টাকার আয়োজন করে দিয়েছি যে আওয়ামী লীগ নেতারা ভাবতে শুরু করেছেন যে আমরা তাদেরই লোক। গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ইত্যাদি সব কমিটিতে নিজেদের আত্মীয় স্বজন ঢুকিয়ে এমন অবস্থা করেছি যে, সবাই ভাবেন আমরা খাটি বঙ্গবন্ধু প্রেমিক।

নতুন কমিটি করতে নির্বাচন করুক আর যাই করুক আমার লোক ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা কমিটিতে থাকবেই, থাকবে। এটা শিখেছি বিএনপি সরকারের আমলে। সে সময়েও এমন করেছিলাম খাঁটি জিয়া প্রেমিক সাঁজতে। ইদানিং আমাদের সাথীদের সরকারী অফিসে গিয়ে আপনাদের মনে হতে পারে যে এটা আওয়ামী লীগের একটা বড় নেতার অফিস, আমরা কিন্তু আসলে তা না।

বিএনপি আমলে র‍্যাব যেমন বহু জাতীয়তাবাদী নেতাকে ক্রসফায়ারে মেরেছে, ইদানিং শেখ হাসিনার সরকার দুদুক আর ক্রসফায়ার সমানে চালাচ্ছে। আমরা দল বেঁধে মানবাধিকার সংগঠনকে গোপনে টাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে ক্রসফায়ারের হাত থেকে বেঁচেছি কিন্তু দুদুক পিছু ছাড়ে না।

সরকারকে চাপ দিয়ে নিজেদের অনুকূলে আইন করেছি অনেক কিন্তু তাও কাজ হয় না। তাই বউ আর বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে ৩/৪টা গার্ল ফ্রেন্ড বানিয়েছি। অবৈধ আয়ের টাকা এখন আর পরিবারের লোকদের একাউন্টে রাখি না, রাখি গার্ল ফ্রেন্ডদের একাউন্টে, যাতে ধরা না পড়ি।

এতে আমাদের লাভ ২টা এক-টাকাটা নিরাপদে থাকে আর গার্ল ফ্রেন্ডদের সাথে একটু মাস্তি করলেও বউ কিছু বলে না। বড় অংক হলে সরাসরি বিদেশে পাঠিয়ে দিই হুন্ডি কিংবা অন্যভাবে।

আমরা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া কন্ট্রোল করি বা করতাম বড় বড় ঠিকাদারকে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া আর নিউজ পোর্টাল আমাদের সর্বনাশ করে ফেলেছে। এখন আর সব দোষ সরকারের ঘাড়ে চাপাতে পারছি না।

কিন্তু কয়েকদিন ধরে নিউজ পোর্টাল আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে সাম্প্রতিক যা হচ্ছে তাতে আমার অতীত বর্তমান সব চলে আসছে। আমাদের প্রায় ন্যাংটো করে ফেলেছে। ছেলে মেয়েদের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না।

এতে আমার ভিতরের মানুষটাও যেন জেগে উঠেছে, তাই আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি আমার এই কৃতকর্মের জন্য। আমাকে ক্ষমা করুণ, আমাকে ভালো হবার সুযোগ দিন আপনারা সবাই।

ঘাটাইলে স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষনিক স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথী ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ আতাউর রহমান খান। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথী ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঢাকা বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ব্রজ গোপাল ভৌমিক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ সার্ভিসের লাইন ডাইরেক্টর ডাঃ মোহাম্মদ শরীফ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিরিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোঃ হানিফুর রহমান, টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরীফ নজরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর টাঙগাইলের উপ-পরিচালক মোঃ লুৎফুল কিবরিয়া, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, সহকারী কমিশনার (ভূসি) মোছাঃ নুর নাহার বেগম। কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপনা করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ বি এম সামছুদ্দিন আহম্মেদ । কর্মশালাটি পরিচালনা করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম। সভায় বক্তারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষনিক স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণে লক্ষ্য উদ্দেশ্য বর্ননা করেন বাধাসমূহ দুরীকরনসহ স্বাভাবিক প্রসব সেবা সুফল বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। কর্মশালায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঘাটাইলের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মহিলা মেম্বার, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেয়। 

মধুপুরে শতবর্ষী অন্ধ নারীকে ধর্ষণ!

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন শত বছরের এক অন্ধ বৃদ্ধা। তার বাড়ি উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের আংগারিয়া গ্রামে। সে বয়সের ভারে অন্ধ হয়ে গেছে। চলাফেরাও ঠিকভাবে করতে পারে না। মঙ্গলবার (২১ মে) সন্ধ্যার পর বখাটে সোহেল মিয়া (১৪) ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে মুখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষক সোহেল একই গ্রামের তোতা খা‘র ছেলে।

বৃদ্ধার ছেলে বাড়ি ফিরলে তার কাছে রোমহর্ষক সেই ঘটনার বর্ণনা যখন দিচ্ছিলেন তখনও বৃদ্ধা মা খুব করে কাঁদছিলেন। ঠিক মত কথাও বলতে পারছিলেন না। এ ঘটনায় ধর্ষিতার ছেলে দুদু মিয়া (৭৫) বাদী হয়ে বুধবার বিকালে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশ ধর্ষক সোহেল কে রাতে গ্রেপ্তার করেছে। জানা যায়, বয়সের ভারে ন্যুজ্ অন্ধ ওই বৃদ্ধা চলাফেরা করতে পারেন না। এ লোম হর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধা খুব কাঁদছিলেন। ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। বখাটে সোহেলকে বারবার বলছিলেন আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আল্লাহ্ নবীর রোজা রাখছি। এই বয়সে যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় মরার মতোই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এখনো মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছেন। সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগি পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নেয়নি।

এ নিয়ে মঙ্গলবার ( ২১ মে) ফেইসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলকাবাসী। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একিট দল বুধবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়।

ওসি বলেন, ধর্ষিতা ওই বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেছেন। বুধবার রাতে ধর্ষক সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় বৃদ্ধার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ১৩০ বছর।

বুধবার, মে ২২, ২০১৯

শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা, কে বসবেন দিল্লির মসনদে!

২৪ ঘন্টারও কম সময় হাতে। এরপরই স্পষ্ট হতে শুরু করবে দিল্লির মসনদের অধিকর্তা কে! এক মাসের ভোটযুদ্ধ শেষে এখন আমলনামা জঁপছেন ভারতের সব রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীরা। যেন এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। চারদিকে চাপা উত্তেজনাÑ কি ঘটছে ভারতে। কে গঠন করবে পরবর্তী সরকার! এসব প্রশ্নে এখন চায়ের কাপে ঝড়। বুথফেরত জরিপকে উড়িয়ে দিয়ে বিরোধী দলগুলো দৃশ্যত ‘মোদি থামাও’ অবস্থানে।

ভোট গ্রহণের সময়ে যা না হয়েছে, ফল ঘোষণার পর বা আগে তার চেয়ে বেশি সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ভারতের কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে স্ট্রং রুমগুলোতে। এসব রুমে রাখা হয়েছে ইভিএম। ওদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন থামাতে সক্রিয় বিরোধী দলগুলো। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দবাবু নাইডু। তিনি সারাদেশের বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন। উদ্দেশ্য বিজেপি বিরোধী একটি শক্তিশালী ফ্রন্ট তৈরি করা। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলুগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু মঙ্গলবার এ নিয়ে সাক্ষাত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জনতা দল (সেক্যুলার) প্রধান এইচডি দেবে গৌড়ার সঙ্গে। ওই বৈঠক স্থায়ী হয় দেড় ঘন্টারও বেশি। এ ছাড়া তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনা হয়েছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের অনেক নেতা বিরোধীদেরকে তাদের পরিণতি মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইভিএম’কে ব্যবহার করে বিতর্ক সৃষ্টি না করতে অনুরোধ করা হয়েছে তাদের প্রতি। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। 

আজ বুধবার ২২টি বিরোধী দলের নেতাদের উদ্বেগ শুনতে এবং তা নিয়ে আলোচনা করতে নয়া দিল্লিতে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। বিরোধী ২২ দলের ওই নেতারা মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের প্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তারা এ সময় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর বিষয়ে এবং ভিভিপ্যাট ব্যবহারের বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। 
সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান মঙ্গলবার বলেছেন, তার নির্বাচনী আসন রামপুর। সেখানে তিনি যদি কমপক্ষে ৩ লাখের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী না হন তাহলে ধরে নিতে হবে যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় নি ভারতের কোথাও। 

পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটা অন্য রকম। ভোট গণনার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের রাজধানীতে ৪০০০ নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হবে। ভোট গণনা কেন্দ্রে এরই মধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় দুই শতাধিক কোম্পানি। যৌথ বাহিনী সেখানে যেকোনো রকম সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকবে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভোট গণনা কেন্দ্রের প্রধান ফটকের বাইরে সিটি পুলিশের পাশাপাশি কলকাতা আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতায় ১৩টি স্থানে ভোট গণনা করা হবে। 
পাঞ্জাবে অমৃতসর আসনে ‘পোলিং বুথ নম্বর ১২৩’-এ ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশন সোমবার এখানে নুতন করে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এখানে আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। 

ওদিকে আজ ২২ মে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক আহ্বান করেছেন ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। এতে ভোটপরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। জোটের সব সিনিয়র নেতা,  সাধারণ সম্পাদক, পার্টির ‘ইনচার্জ’দেরও আহ্বান করা হয়েছে এ বৈঠকে। আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা আগামীকাল ২৩ মে। সূত্রমতে, চারজন নেতাকে নিয়ে একটি টিম গঠন করা হবে। তারা এনডিএ পার্টি বিরোধী একটি একীভূত ফ্রন্ট গড়ে তুলবেন। 
ওদিকে ইভিএম নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে মঙ্গলবার সমালোচনা করেছেন ভারতের আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ। বলেছেন, বিরোধীদের পরাজয় মেনে নিতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি আরো একবার ম্যান্ডেট পেয়ে যান তাহলে তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। 

সরকারি যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহে ঘাটাইলে সেমিনার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকারি যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (২১ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঘাটাইল উপজেলার সাধারন মানুষকে তাদের যাকাতের অর্থ সরকারি ফান্ডে জমা দানে উদ্বুদ্ধ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঘাটাইল উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জনাব মোঃ গোলাম ফারুক।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন, রাজনিতিক, ব্যবসায়িক নেত্রীবৃন্দ সহ নানা শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, মে ১৯, ২০১৯

ঘাটাইলের কৃতি সন্তান আমজাদ কবির চৌধুরী আর নেই

টাঙ্গাইল তথা ঘাটাইলের কৃতি সন্তান মোঃ আমজাদ কবির চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১৯ মে) সকাল দশটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা, বহু আত্মীয় স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ কবির চৌধুরীর ছোট ভাই আমজাদ কবির চৌধুরী জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নির্মাতা ছিলেন। তিনিও কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন। আমজাদ কবির বহু গুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি লেখক, সাংবাদিকতা ও টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন।

ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কোলাহা গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর ছোট সন্তান আমজাদ কবির চৌধুরী। মৃত্যুর পুর্ব সময় পর্যন্ত তিনি এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান নির্মাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আজ রোববার মাগরিবের নামাজের পর তার গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে ঘাটাইল এবং দেশের সংস্কৃতি ও মিডিয়া অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ঘাটাইলে সরকার নির্ধারিত বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকার নির্ধারিত এক হাজার চল্লিশ টাকা মন দরে বোরো ধান ও নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি মূল্যে চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৯ মে) বিকালে উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান খান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ কামাল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক ঘাটাইল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়াও আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী, চাল কল মালিক ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে উইজডম ভ্যালিতে কাব স্কাউট ব্রতচারী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ঘাটাইলের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালিতে দুই দিন ব্যাপী কাব স্কাউট ব্রতচারী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। 
রবিবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। 

 প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন উইজডম ভ্যালির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাজী রেজাউল হক সিজার, প্রধান অতিথী ছিলেন ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, উপাধক্ষ্য মেহেরুন্নাহার বাবলী, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপিত নজরুল ইসলাম, কাব শিক্ষক আব্দুর রউফ প্রমূখ। 
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন বিদুৎ সাহা। উইজডম ভ্যালির কাব স্কাউট সদস্য এ প্রশিক্ষণে অশ নিচ্ছেন।

কাজে ফিরেই কাদেরের হুংকার

সিঙ্গাপুরে ২ মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দফতরে অফিস করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার সকাল ১০টার কিছু সময় পর তিনি সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে আসেন। প্রথমদিনের অফিসে গিয়েই হুংকার ছেড়েছেন তিনি। আর মাত্র এক-দেড়মাস পরেই মাঠে ঘাটে বেরিয়ে অভিযান পরিচালনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী।

অফিসে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের বলেন, ‘তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। স্বাভাবিক সব কাজই করতে পারবেন তিনি। প্রতিদিনই তিনি অফিস করবেন। তবে আপাতত ভারি কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এজন্য এক থেকে দেড়মাস সময় নেবেন তিনি। এরপরই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে তিনি সবসময় যেভাবে সড়ক-সেতুসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতেন সেই কাজে লেগে যাবেন।’

এর আগে মন্ত্রণালয়ে আসার পর সচিবসহ কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এরপর তিনি কিছু ফাইলে সই করেন। পরে তিনি সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

এর আগে নিজ দপ্তরে এসে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো মরেই যেতাম। বেঁচে আছি। প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশা আল্লাহ এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করব। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা উড়াল সড়ক, ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এবং দলের নেতা-কর্মী বন্ধুরা আমার জন্য দোয়া করেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার মাঝে ফিরে এসে অনেক ভাল লাগছে। আজ থেকে আমি আবারও আগের মত আপনাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে যাবো।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘এবার ঈদ যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। আগামী ২৫ মে গাজীপুর কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায় দুটি উড়ালসড়ক ও চারটি আন্ডারপাস উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতু উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তা উদ্বোধন করবেন। আশা করা যায়, এবারের ঈদে আর যানজট হবে না।’

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাউন্সিল যথাসময়ে হবে। দলের একটি টিম সেভাবেই কাজ করছে।’ আগামীকাল তিনি দলীয় কার্যালয়ে যাবেন এবং সেতু ভবনে অফিস করবেন বলে জানালেন।

অসুস্থতা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন সুস্থ আছি। তবে শারীরিক দুর্বলতাও আছে। এক দেড় মাস আগের মতো ছোটাছুটি করা যাবে না। দুই মাস পরপর আবার চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ করাতে সিঙ্গাপুর যেতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ ভোরে ঢাকার নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এরপর ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর পরামর্শে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। পরে সুস্থ হওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে ছাড়পত্র পান ওবায়দুল কাদের। গত বুধবার তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শনিবার, মে ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে দা'র কোপে মৃত্যু শয্যায় শিশু ফাহাদ; বিচার চেয়ে সড়ক অবরোধ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পূর্ব শত্রুতার জের নিয়ে প্রতিপক্ষের দা'র কোপে ১০ বছরের শিশু ফাহাদ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধায় উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু ফাহাদ লক্ষিন্দর সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। এ হামলার প্রতিবাদে আজ (১৮মে) শনিবার দুপুরে সানবান্ধা বাজারে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী বিচারের দাবিতে সাগরদিঘী-মধুপুর সড়ক প্রায় ২ঘন্টা অবরোধ করে রাখে।

সরেজমিনে গিয়ে যানাযায়, সানবান্ধা গ্রামের হাসান মাস্টারের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে ফাহাদ ও মেয়ে হাসি চাচাতো ভাই-ভাবিদের সাথে ফসলি জমিতে ছাগল যাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি করার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ রুশো,রুশোর স্ত্রী মর্জিনা,আলামিন ও সোনালি লাঠি দিয়ে এলোপাথারী আঘাত করতে থাকে।

এসময় ফাহাদের বাবা বাড়িতে না থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেনি। ফাহাদ ও হাসি ঘটনাস্থলে গেলে একপর্যায়ে রুশো দা হাতে নিয়ে ফাহাদকে কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলেই ফাহাদ ও হাসি জ্ঞান হারায়। প্রথমে ময়মনসিংহ ও পরে ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এখন ফাহাদ মৃত্যু শয্যায় কাতরাচ্ছে। এব্যাপারে রুশোর সাথে কথা বলতে চাইলে রুশোর স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন, 'ওনি এলাকায় নেই। যা বলার আমাকে বলুন'। ঘটনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'রাগের মাথায় কখন কি হয়েছে বলতে পারবোনা'।

ফাহাদের বাবা হাসান আলী মাস্টারে সাথে কথা বললে তিনি জানান, ফাহাদের রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। তবে এখনো জ্ঞান ফিরেনি। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তৃতীয় শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করে বলেন, 'আমাদের সহপাঠি ফাহাদের উপর এ হামলার বিচার চাই'। এছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী মাসুম,রাজু,একরামুলসহ­ অনেকে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানতে পেরেছি। আহতদের চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। থানায় অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল :  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ‘শিল্প বাঁচাও, শ্রমিক বাঁচাও’- এই শ্লোগান নিয়ে ৭ দফা দাবি ও বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে আঞ্চলিক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। শনিবাবর (১৮ মে) সকালে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।


এ সময় বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বেল্লাল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক এবং শ্রমিক ফেডারেশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।


এসময় বক্তরা বিড়িশিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষনা, আরোপিত শুল্ককর প্রত্যাহারের, বিড়ি ভোক্তার উপর থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ বন্ধ, পক্ষপাতিত্ব মুলক শুল্কনীতি বন্ধকরাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান।


শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯

ঘাটাইলে প্রতিপক্ষের দা’র কোপে মৃত্যু শয্যায় শিশু ফাহাদ

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পূর্ব শত্রুতার জের নিয়ে প্রতিপক্ষের দা’র কোপে ১০ বছরের শিশু ফাহাদ হাসপাতালে মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধায়  উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্ধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার জানায়, গ্রামের হাসান মাস্টারের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ছেলে ফাহাদ ও মেয়ে হাসি চাচাতো ভাই-ভাবিদের সাথে ছাগল নিয়ে কথা কাটাকাটি করার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ রুশো, রুশোর স্ত্রী মর্জিনা এবং সোনালি লাঠি দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। এসময় শিশু ফাহাদ ও হাসির বাবা হাসান মাস্টার বাড়িতে না থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায়ে রুশো দা হাতে নিয়ে ফাহাদকে কুপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলেই ফাহাদ ও হাসি জ্ঞান হারায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই জনকেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে রুশোর সাথে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে রুশোর স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘ওনি এলাকায় নেই, যা বলার আমাকে বলুন।’ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাগের মাথায় কখন কী হয়েছে বলতে পারবো না।’

লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য বাহাদুর মিয়া জানান, হামলার ঘটনায় শিশু ফাহাদ এখন হাসপাতালে রয়েছে। তবে ছোট বাচ্চার সাথে এমন  সন্ত্রাসী ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। 

মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আহত ফাহাদের বাবা হাসান মাস্টারের সাথে কোন যোগাযোগ করা যায়নি। ফাহাদের চাচা হাসেম জানান, ‘ময়মনসিংহ থেকে ফাহাদকে রেফার্ড করে এখন ঢাকা পাঠাচ্ছে। ফাহাদের অবস্থা ভালো না। জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ছিল ওদের সাথে। আমরা এই সন্ত্রাসী ঘটনার বিচার চাই।’

সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনাটি জানতে পেরেছি। আহতদের চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। থানায় অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯

ঘাটাইলে বজ্রপাতে নিহত গৃহবধূর পরিবারকে দশ হাজার টাকা অনুদান

সোমবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে বজ্রপাতে নিহত আখি বেগমের পরিবারকে দশ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার সকালে নিহতের বাড়িতে গিয়ে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু অনুদানের দশ হাজার টাকা নিহতের পরিবারের হাতে তোলে দেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর নাহার বেগম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম প্রমূখ।

উল্লেখ্য গতকাল (১৩.০৫.১৯) সোমবার বিকালে বৃষ্টির  সময় সংগ্রামপুর গ্রামের হামিদ আলীর স্ত্রী আখি বেগম (৩০) পাশের বাড়ি থেকে দুধ ক্রয় করে বাড়ি ফেরার পথে  বজ্রপাতে নিহত হন।

ঘাটাইলে মালিকবিহীন একটি গরু উদ্ধার

রেজাউল করিম রাজু, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মালিকবিহীন একটি গরু উদ্ধার করেছে স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী। গত দুই মাস পূর্বে উপজেলার হামিদপুর বাজারে খান অটো রাইচ মিল থেকে গরুটি স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করেন ঐ মিল মালিক আনিছ খান। তবে কীভাবে ঐ রাইচ মিলে গরুটি এসেছে তা সে নিশ্চিত করতে পারেননি।

গরুটির আনুমানিক বাজার মূল্য ৮০,০০০ টাকার কাছাকাছি হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

গরুটি হেফাজতে রাখা সালেংকা গ্রামের আনিছ খান বলেন, প্রায় দুইমাস পূর্বে সকাল বেলায় তার রাইচ মিলে একটি গরু ছুটোছুটি করতে দেখতে পান তিনি। তবে আশে পাশে কাউকে না দেখে সন্দেহ হলে গরুটি স্থানীয়দের সহযোগীতায় হেফাজতে নেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে গরুটি তার হেফাজতে দিয়ে যায়।

তাদের ধারণা, সংঘবদ্ধ চোরের দল গরুটি চুরি করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের আনাগোনা দেখে তারা গরুটি ফেলে পালিয়ে গেছে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদুল আলম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গরুটি উদ্ধার করে সালেংকা গ্রামের আনিছ খানের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে গরুর প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়নি। গরুটি কীভাবে ওই এলাকায় এসেছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ঘাটাইলে ৫ মিনিটের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি

জাহাঙ্গীর হোসেন, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি এলাকায়  সোমবার (১৩ মে) বিকেল চারটার দিকে পাঁচ মিনিটের আচমকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার সাগরদীঘি এলাকায় আজ বিকেলে পাঁচ মিনিট স্থায়ী ঝড় হঠাৎ করে আঘাত হানে। এতে করে সাগরদিঘী ও তার আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সাগরদিঘী বনবিভাগের অফিসের সামনে বাদুড়ের আবাসস্থল নামে পরিচিত সংরক্ষিত বন এলাকায় ১৫টি বিশাল আকৃতির সেগুন গাছ ঝড়ের আঘাতে উল্টে যায়। সেগুন গাছের চাপায় একটি সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায় ও আরেকটি সিএনজি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এদিকে সেগুন গাছগুলো ভেঙ্গে ভুপাতিত হওয়ায় অসংখ্য বাদুড় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে এবং অনেক বাদুড় ঘটনাস্থলে মরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সাগরদিঘী বাজারের গারোবাজার রোডে চৌরাস্তা সংলগ্ন রিপন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানের টিনের চালা ঝড়ে উড়ে গিয়ে শতাধিক বস্তা চাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘাটাইলে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ মে) বিকেল চারটায় উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম আঁখি আক্তার (৩০)। নিহতের স্বামীর নাম আবদুল হামিদ। এই দম্পতির একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

জানা যায়, গৃহবধূ আঁখি আক্তার নিজ বাড়ী থেকে গরুর দুধ সংগ্রহের জন্য পার্শ্ববর্তী বাড়ীতে গিয়েছিলেন। দুধ নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রবিবার, মে ১২, ২০১৯

ঘাটাইলের সেই প্রধান শিক্ষক বহিষ্কার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন খালিদকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৪ মে ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সহ. প্রধান শিক্ষক রহমতউল্লাহকে।

সাময়িক বহিষ্কার আদেশের কপি থেকে জানা যায়, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বাবদ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ বিষয়ে শিক্ষক হুমায়ুন খালিদ বলেন, প্রতিহিংসার কারণে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই তারা এ কাজ করেছে। যে সভায় আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে সে সভায় মাত্র চারজন সদস্য উপস্থিত ছিল, যা সভার কোরাম হয়নি। প্রশ্নফাঁসে স্কুলের সভাপতি ও অন্যান্য শিক্ষকরাও জড়িত ছিল।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস্কান্দার হক বলেন, আমার মুখ নাকি প্রধান শিক্ষক দেখবেন না। তাই সে বিদ্যালয়ে আসে না। তাছাড়া প্রশ্নফাঁস করে সে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি বিদ্যালয়ের অর্থও আত্মসাৎ করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শামসুল হক বলেন, বহিষ্কার আদেশের কপি এখনো আমি পাইনি। তবে বিদ্যালয়ের সভাপতি ফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি পরীক্ষার গণিত প্রশ্নফাঁসের সময় উপজেলার সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন এই শিক্ষক।

সে সময় তদন্ত কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাকে জানিয়েছিলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগেই দপ্তরির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক প্রশ্নফাঁস করত। প্রশ্নফাঁসে প্রতি পরীক্ষার্থী বাবদ ২৫ হাজার টাকার প্যাকেজ ছিল। এ কাজের সাথে শুধু সে একা নয় কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মকর্তারাও জড়িত।

এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক, সাগরদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়টির ঝাড়ুদারকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আল মামুন। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণিত পরীক্ষার দিনে উপজেলার সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের সঞ্জিত সাহার ছেলে কোচিং মাষ্টার শ্যামল বাবু (৪৫), সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ূন খালিদ ভূইয়া ও বিদ্যালয়টির ঝাড়ুদার আব্দুর রহমান (৫৫)।

শনিবার, মে ১১, ২০১৯

টাঙ্গাইলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা লাগে

‘সাংবাদিক কি হয় তোমার? সাংবাদিক কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিবে না আমি দিব, তুমি আমার পেছনে ঘুরবা, সাংবাদিকের পেছনে ঘুর কেন। সাংবাদিক কি তোমার টাকা দিয়ে দিবে?

তোমাকে আসতে বলছি তুমি আসনা কেন। দেখা কর, স্যার, আমি তো এত টাকা দিতে পারবো না। কম হবে না? তাহলে তোমার লাইসেন্স লাগবে না। থাক তাহলে থাক।’

এটা কোনো গল্প না, এটা এক পুলিশ সদস্য এবং গাড়িচালকের কথোপকথন।

মৃদুল মিয়া একজন গাড়িচালক। সে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য টাঙ্গাইল বিআরটিএতে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় কৃতকার্যও হয়েছেন। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার আগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিআরটিএ থেকে পুলিশের টাঙ্গাইল জেলা বিশেষ শাখার মাধ্যমে মৃদুলের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়।

গত দুই সপ্তাহ আগে মির্জাপুর থানায় কর্মরত পুলিশের টাঙ্গাইল জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম মৃদুলকে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন। মৃদুল মির্জাপুরে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম মৃদুলের কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। মৃদুল দরিদ্র পরিবারের সন্তান- এত টাকা দিতে পারবে না বলে জানান।

সাইফুল ইসলাম টাকা ছাড়া ক্লিয়ারেন্স হবে না জানালে মৃদুল প্রথমে ৫ শ টাকা দিতে রাজি হয়। ৫ শ টাকায় তিনি রাজি না হওয়ায় তার কাছে থাকা সব মিলিয়ে ৭ শ টাকা দিলেও সাইফুল নেননি। এ সময় পাকুল্যা এলাকার এক ব্যক্তির কাছে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে জানতে বলেন তার ক্লিয়ারেন্স বাবদ কত টাকা দিয়েছে। মুঠোফোনে মৃদুলকে ১৫ শ টাকার কথা জানান ওই ব্যক্তি। সাইফুলও সর্বশেষ মৃদুলকে জানান ১৫ শ টাকা পেলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হবে।

মৃদুল ১৫ শ টাকা ব্যবস্থা করতে না পেরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দিয়ে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার জন্য সাইফুল ইসলামকে সুপারিশ করান। এতে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে মৃদুলকে মুঠোফোনে ফোন দিয়ে বলেন, সাংবাদিক কি হয় তোমার? সাংবাদিক কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিবে না আমি দিব, তুমি আমার পেছনে ঘুরবা, সাংবাদিকের পেছনে ঘুর কেন? সাংবাদিক কি তোমার টাকা দিয়ে দিবে? তোমাকে আসতে বলছি তুমি আস না কেন। দেখা কর, স্যার, আমি তো এত টাকা দিতে পারবো না। কম হবে না? তাহলে তোমার লাইসেন্স লাগবে না। থাক তাহলে থাক এই বলে লাইন কেটে দেন সাইফুল।

মির্জাপুরে কর্তব্যরত কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ক্লিয়ারেন্স পেতে টাকা লাগে। কোথায় লাগে বলবেন কি? হ্যাঁ, টাঙ্গাইলে লাগে, টাঙ্গাইল যেয়ে দেখেন- এই বলে ফোন কেটে দেন।

টাঙ্গাইলের ডিআইওওয়ান (পরিদর্শক) হারেজ আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে টাঙ্গাইলে কোনো টাকা লাগে না। এ বিষয়টি মিথ্যে কথা। আমি সাইফুলকে এ বিষয়ে ডেকে আনব।

ঘাটাইলে ধীরগতিতে সড়ক উন্নয়ন কাজে নাকাল পৌরবাসী

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। এ কারণে ঘাটাইল পৌরবাসী রোদে ধুলা, বৃষ্টিতে কাদা ও প্রাত্যহিক যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় থেকে বীরঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। এ কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে।

পাশাপাশি রোদে ও ধুলার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি। সড়কের এক পাশ যান চলাচলের উপযোগী না করে অপরিকল্পিতভাবে অন্য অংশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মহাসড়ক ঘেঁষে আমাদের বিদ্যালয়টি। তাই ধুলাবালি, কাদা ও যানজট মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।’ কাজটি দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।

ঘাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কাজের ধীরগতির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় রয়েছে। ধুলা-কাদার মধ্যে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছে না তারা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাজের গতি বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি।

ঘাটাইলে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ‘শিল্প বাঁচাও, শ্রমিক বাঁচাও’- এই শ্লোগান নিয়ে সাত দফা দাবি ও বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আঞ্চলিক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।

শনিবার (১১ মে) সকালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আলহাজ্ব আতাউর রহমান খানের বাসার সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাসুম, রুবেল, জাহিদ, শাওন, নাজমুল প্রমুখ।

সে সময় বক্তারা বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষনা, আরোপিত শুল্ককর প্রত্যাহারের, বিড়ি ভোক্তার উপর থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ বন্ধ, পক্ষপাতিত্বমুলক শুষ্কনীতি বন্ধকরাসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে বিড়ি শ্রমিকরা স্থানীয় এমপি বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এমপির বাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. বাবু মিয়া।