মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৫

ভারতে বাংলাদেশি ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অধ্যাপক বরখাস্ত

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) অধ্যয়নরত বাংলাদেশি এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশটির অন্যতম গুরুত্বরপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বহু ছেলেমেয়ে দিল্লির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়াশোনা ও গবেষণা করছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষক এবং ছাত্রী কারও পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি বাংলার।
বাংলাদেশি ওই ছাত্রী বরখাস্ত হওয়া অধ্যাপকের অধীনে গবেষণা করছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তদন্তের পর অধ্যাপক দোষী প্রমাণিত হলে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার জানাচ্ছে, দেশটির যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আসে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই।
গত বছর দিল্লির ষোলোটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একশ’র বেশি যৌন হয়রানির অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে পঞ্চাশের বেশি অভিযোগ এসেছে শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
দেশটিতে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষককে বরখাস্ত করার ঘটনা বেশ বিরল।

ছাত্রলীগ কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক ও ইসলামের ইতিহাস (আওয়ামীপন্থী) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এটিএম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে তারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি বরাবর যে স্মারকলিপি প্রদান করেন, তাতে উল্লেখ করা হয়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের র‌্যালি শেষ করে আমার হলে ফিরতে দেরি হলে রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক এ.টি.এম রফিকুল ইসলাম স্যার আমাকে প্রধ্যক্ষের রুমে দেখা করতে বলেন।
আমি রুমে গিয়ে দেখি স্যার একা বসে আছেন এবং প্রথমেই তিনি আমাকে বললেন, “শুধু ছাত্রলীগ করলেই কি হলে সিট হবে? হলের সিটের জন্য আমাদের কাছে আসতে হবে।” এসময় তার কথা বার্তায় এবং শারীরিক প্রকাশ ভঙ্গি ছিল অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশোভনীয়। এমতাবস্থায় আমি স্যারের নিষেধ স্বত্ত্বেও প্রধ্যক্ষের রুম থেকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে চলে আসি।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এর আগেও গত ২৩ নভেম্বর হলের একটি সিটের জন্য প্রধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে হল অফিসে যাই। এসময় আমার পরিচয় দেয়ার পরে রফিক স্যার প্রাধ্যক্ষ ম্যাডামের সামনে ছাত্রলীগকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ছাত্রী ছাত্রলীগকর্মী পরিচয়ে হলে সিট দাবি করে। আমরা তাৎক্ষনিক সিট না দিয়ে প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে বলেছিলাম। এরপরে ওই মেয়ের সাথে আমার আর কোন কথা হয়নি।
তবে কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষার্থী জন্য আমার কাছে ফোন করে এক শয্যা বিশিষ্ট কক্ষ চেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা। কিন্তু এটি নিয়মবর্হিভূত হওয়ায় আমি অস্বীকৃতি জানাই।
আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক ও বানোয়াট।’ এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ওই হলের আবাসিক ছাত্রী ইসরাত জাহান নিপা বলেন, মানববন্ধন হওয়ার পর এ বিষয়টি শুনলাম। আমাদের হলে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।
প্রধ্যক্ষ পরিষদের আহব্বায়ক প্রফেসর শিউলী শামিম শান্তা জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। অভিযোগ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। হলের প্রাধ্যক্ষ দেশের বাইরে আছেন তিনি আসলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
- See more at: http://www.bd24live.com/bangla/article/72731/index.html#sthash.hHOaTR5b.dpuf