বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০১৫

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, মাপ চেয়ে পার পেলেন শিক্ষক


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকরেপাড়া ইউনিয়নের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে গ্রাম্য শালিসে মাপ চেয়ে পার পেয়ে গেলেন ঐ বিদ্যালয়েটির সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন (৩২)। মঙ্গলবার বিকেলে একটি শালিসী বৈঠকে ঐ শিক্ষককে নিয়ে মাতাব্বরা এ রায় দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মানুষের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকের অভিযোগ থেকে জানা যায় ঘাটাইল উপজেলা লোকেরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক যোগিহাটী গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন দুই বৎসর পূর্বে শিক্ষক হিসেবে ঐ স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছিল।

সম্প্রতি  ঐ গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী দুলু মিয়ার মেয়েকে যৌন হয়রানি করলে বিষয়টি সে তার বাবা মাকে বলে। একই অভিযোগ ঐ গ্রামের তছলিম,  দুলু, গণি, জহুরুল, সাথী তাদের মেয়েকে একই কায়দায় যৌন হয়রানি করে। যৌন হয়রানির স্বীকার শিক্ষার্থীর অভিবাবকরা বিষয়টি ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ পারভীন আক্তার কে জানায়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম তালুকদার ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরাম হোসেন সহ ঐ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে   বিকেলে স্কুলের শ্রেণি কক্ষে একটি শালিসী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। শহিদুল, আঃ রশিদ, এমরান তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ও লাল খান তাদের সমন্বয়ে জুড়িবোর্ডের সদস্যগণ অভিযুক্ত শিক্ষককে সবার পায়ে ধরে মাফ চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

এ বিষয়ে লোকেরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম তালুকদার বলেন শালিসী বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে  সিদ্ধান্তে গৃহিত হয়  যে সে সবার পায়ে ধরে মাপ চাবে এবং সে স্কুলে আর শিক্ষকতা করতে পারবে না। 

লোকেরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার জানায় শালিসী বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষক ঐ স্কুলে আর শিক্ষকতা করতে পারবে না। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন জানান আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়, পরিস্থিতির কারণে আমি সবার পায়ে ধরে মাপ চেয়েছি।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-যেহেতু সে অন্যায় করেছে সবার কাছে মাফ চাইলে আর কি করার থাকে। -