বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮

টাঙ্গাইলে ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপার্সন অবরুদ্ধ ১ ঘন্টা পর উদ্ধার

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রোগীদের দূর্ভোগ ও অনিয়মের তথ্যচিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিবিসি নিউজ টাঙ্গাইলের ক্যামেরাপার্সন আশিকুর রহমান শহিদকে প্রায় ১ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্থক্ষেপে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মঙ্গলবার নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনাটি ঘটে।

ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পার্সন আশিকুর রহমান শহিদ জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্য সংগ্রহ করতে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। প্রথমে তিনি হাসপাতালের তত্বাবধায়কের কক্ষ ও পরে চিকিৎসকদের কক্ষে গিয়ে কাউকে না পেয়ে সেখানকার ভিডিও ধারন করতে থাকে।



এসময় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে ভিডিও ধারনে বাধা দেন এবং নানা ভাবে ক্যামেরাপার্সনকে নাজেহাল করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে তত্বাবধায়কের কক্ষে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার উপর স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

এদিকে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ক্যামেরাপার্সন আশিকুর রহমানকে উদ্ধার করে।
ডিবিসি নিউজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সোহেল তালুকদার জানান, ক্যামেরাপার্সন আশিক তার পরিচয় দেয়ার পরেও পেশাগত কাজে সহযোগীতা না করে উল্টো ১ঘন্টারও অধিক সময় অবরুদ্ধ করে তাকে নানা ভাবে নাজেহাল করেছেন।

নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.রোকনুজ্জামান ক্যামেরাপার্সনকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শুধুমাত্র তার পরিচয় পত্র চাওয়া হয়েছে।

এদিকে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক ডাক্তার নামের কসাই অপরাধী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশের দাবী জানান

কালিহাতী আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন লতিফ সিদ্দিকী!

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

লতিফ সিদ্দিকীর ভাতিজা মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কালিহাতী উপজেলার প্রতিটি এলাকায় লতিফ সিদ্দিকীর গণভিত্তি রয়েছে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা–কর্মীই তাঁকে চান। তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর জন্য ভোটারদের সেই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চলছে। আগামী রোববার (২৫ নভেম্বর) লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতীতে এসে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেবেন বলে মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী জানান।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে লতিফ সিদ্দিকী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। সে নির্বাচনের পর তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে মন্তব্য করে সমালোচিত হন। এ জন্য তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে 
দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। দেশে ফিরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য হয়।

সংসদ থেকে পদত্যাগের পর লতিফ সিদ্দিকী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ও তাঁর স্ত্রী যোগদান করতেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের ওপর লতিফ সিদ্দিকীর প্রভাব রয়েছে।

২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাসান ইমাম খান সাংসদ হন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলার একাধিক নেতা জানান, এবারের নির্বাচনেও হাসান ইমাম খান এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। হাসান ইমাম খানের সঙ্গে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের দূরত্ব রয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন।

এবার এ আসন থেকে বর্তমান সাংসদ ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য লিয়াকত আলী এবং জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোলায়মান হাসান মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাঁরা সাংসদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের নেতাদের কাছে দাবি জানান।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

আজ বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল বা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্যমতে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আজকের এই দিনে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। কিন্তু তিনি আবার এই ১২ রবিউল আউয়ালেই আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।


এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হবে।

অজ্ঞতা, মুর্খতা ও ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’-এর অন্ধকার দূর করতে এসেছিলেন পৃথিবীর এ শ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনি বিশ্বে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচার  করেছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এসব বাণীতে তারা দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তারা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানব কল্যাণে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান।

ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

যেখানে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ‘চা’ খেতে যায় মানুষ! (ভিডিও)

একটু অদ্ভুত মনে হতেই পারে। শুধু চা- আর তার জন্য কেই বা এতো ঝুঁকি নিবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটাই ঘটছে চীনের অন্যতম মাউন্ট হুয়া পর্বতে। যেখানে চা খেতে যেতে হলে আপনাকে উঠতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ফুট উপরে। শুধু তাই নয়, সেই পথও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।

মনে হতেই পারে, কী এমন চা? দাবি করা হয়, অত্যন্ত সুস্বাদু চা এটি। সবচেয়ে মজার হল, এই চা বানানো হয় বরফের কুচি, বৃষ্টির পানি ইত্যাদি মিশিয়ে। আগে এক বিচিত্র নিয়ম ছিল। পানিও নিজেকেই নিয়ে যেতে হতো।

চীনের প্রধান পাঁচটি পর্বতের অন্যতম মাউন্ট হুয়া। সেখানেই পাওয়া যায় এই চা। একটু পথের বর্ণনা দেওয়া যাক। মাউন্ট হুয়াতে একাধিক তাও ধর্মের মন্দির রয়েছে। তারই অন্যতম একটি মন্দির অবস্থিত একেবারে দক্ষিণের চূড়াতে। সেই প্রাচীন স্থানেই টি-হাউসটি।

সেখানে যেতে হলে শিয়ান থেকে হুয়াশানে ২ ঘণ্টা ট্রাকে করে যেতে হবে। এটাই সফরের সবচেয়ে সহজ অংশ। এরপরই শুরু হয় কষ্টকর পথ। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক। কাঠের মচমচে পথের ধারে কোন রেলিং বা কিছু নেই। উঠতে গিয়ে প্রতি পদে ভয়। একটু পা ফসকালেই সব শেষ। একদম শেষে এসে কাঠের পথের ওই অংশটুকু চেইন ধরে ঝুলে যেতে হবে।


জিতলেও নেইমারকে হারাল ব্রাজিল


বার্মিংহ্যামের এমকে স্টেডিয়ামে খেলা। প্রতিপক্ষ স্যামুয়েল ইতোর দেশ ক্যামেরুন। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে শুরু থেকে খেলার কথা নেইমারের। কোচ তিতের সেরা একাদশে ছিলেনও তিনি। নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পরেই। কিন্তু বিধিবাম, ম্যাচের বয়স ৭ মিনিট হতে না হতেই বিপদ। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে হলো পিএসজি তারকা নেইমারকে। যদিও কতদিন তাকে মাঠের বাইরে কাটাতে হবে, সেটা এখনও জানা যায়নি।

তবে, নেইমার মাঠ ছেড়ে গেলেও ঠিকই জয় পেয়েছে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে নেইমারের পরিবর্তে মাঠে নামা রিচার্ডসনের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তিতের শিষ্যরা। এ নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের পর টানা ৬ ম্যাচের সবগুলোতে জয় পেলো ব্রাজিল। শুধু তাই নয়, এই ৬ ম্যাচের কোনোটিতেই গোল হজম করতে হয়নি সেলেসাওদের।




সাত মিনিটের মাথায় একটি শট নিতে গিয়ে গ্রোইনে টান লেগে মাঠ ছেড়ে নেইমারের চলে যাওয়ার পর অবশ্য ব্রাজিলকে গুচিয়ে উঠতে বেশ সময় নিতে হয়েছিল। কিছুটা অগোচালো, এলোমেলো লাগছিলো তিতের দলকে। অবশেষে, নিজেদের গুচিয়ে নিয়ে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে গোলের তালা খুলে নেয় ব্রাজিলিয়ানরা। উইলিয়ানের নেয়া কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেড করেন রিচার্ডসন।

প্রথমার্ধ কিছুটা স্লো হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই ম্যাচটা ওপেন হয়ে যায়। দু’দলই দারুণ আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের রাশ কিন্তু থেকে যায় ব্রাজিলের হাতেই।

Neymar

পরিবর্তিত হিসেবে মাঠে নামা গ্যাব্রিয়েল হেসুস সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যবধান দ্বিগুণ করার। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে হেসুসের দারুণ একটি শট সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর আবার আর্থারের ২৫ মিটার দুর থেকে নেয়া শট বারের ঠিক উপরের প্রান্তে ফিরিয়ে দেন ক্যামেরুনের গোলরক্ষক।

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার অ্যালান অবশ্য দারুন দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন স্কোরলাইনকে আরও স্বাস্থ্যবান করে তোলার জন্য। কিন্তু দু’বারই তার সামনে হিমালয় পাহাড়ের মত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ক্যামেরুন গোলরক্ষক ফ্যাব্রিক ওনদোয়া।



ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গোলদাতা রিচার্ডসন বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমি দারুন একটি সুযোগ পেয়েছিলাম গোল করার। কিন্তু দুর্ভাগ্য, গোলটি করতে পারিনি। তবে আজ (গতকাল রাতে) নিজের মনযোগটা আরও বেশি দিতে পেরেছিলাম। যে কারণে গোলটাও পেয়েছি এবং দলকেও সহযোগিতা করতে পেরেছি।’

এভার্টনের এই ফুটবলার বলেন, ‘কোচ তিতে আমাদেরকে বলে দিয়েছেন, ওপেনলি ম্যাচটা খেলতে। উইলিয়ানের সঙ্গে জায়গা অদল-বদল করে যেনো খেলি সেটাও বলে দেন। আমাদের মুভমেন্টটা এমনভাবে হওয়া প্রয়োজন ছিল, যাতে তাদের সেন্ট্রাল ডিফেন্স দ্বিধায় পড়ে যায়, কাকে সামলাবে- এ নিয়ে। এটাই কাজ করেছে বেশি, আমরা জায়গা তৈরি করে নিতে পেরেছি এবং এ কারণে সুযোগগুলোও তৈরি করতে পেরেছি।’

আইএইচএস/জেআইএম