বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৮

ঘাটাইলে গরু পালনে স্বাবলম্বী আফছার আলী

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল:  দেশি জাতের গরু পালন করে অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন আফছার আলী। আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি পূরণ করছে দেশের মোট আমিষের চাহিদার একটি অংশ। কোন প্রকার ইঞ্জেকশন, রাসায়নিক সার ছাড়া সম্পূর্ণ দেশি খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। আফছার আলী বছরে তিন ব্যাচ গরু পালন করেন। একেক ব্যাচের জন্য সময় নেন তিন থেকে চার মাস। গরু পালন ছাড়াও আফছার আলীর মধু চাষে এলাকায়া রয়েছে বেশ সুনাম এবং পরিচিতি।

গরুর খামারে গিয়ে আফছার আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ২০১৬ইং সালে নিজেস্ব অর্থায়নে গরুর খামারের যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে তিন লাখ টাকা খরচ করে মেঝে পাকা করে ৩০ হাত লম্বা একটি টিনসেট ঘর দেন। ১০টি দেশি গরু দিয়ে শুরু করেন প্রথম যাত্রা। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

আফছার আলীর বলেন, আমি এক বছরে তিন ব্যাচ গরু পালন করি। প্রতি ব্যাচের জন্য সময় লাগে তিন থেকে চার মাস। গড়ে প্রতি চালানে লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। চলতি ব্যাচে আমার খামারে ছোট বড় ৩২ টি দেশি জাতের গরু রয়েছে। লক্ষ কোরবানি ঈদ। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আমার স্ত্রী এবং বড় ছেলে আলামিনকে সাথে নিয়ে খামারে কাজ করছি। গরুর খাবার এবং পরিচর্যা করার জন্য বাড়তি লোকের প্রয়োজন হচ্ছে না। তিন মাস আগে এই গরুগুলো দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ক্রয় করেছি। এক একটি গরু একেক দামে কিনেছি। তাতে এই ৩২টি গরুর জন্য মোট খরচ হয়েছে ১৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো। আশা করছি কোরবানি ঈদে দেশি গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকবে এবং বেশি টাকাও পাবো। সে অনুযায়ী চলছে গরুর বাড়তি পরিচর্যা এবং যত্ন।

তিনি আরো বলেন, গরু পালনে তেমন কোন অসুবিধা নেই। তবে গরুর সুস্থতার জন্য গরুর শরীর আর ঘর সবসময় পরিস্কার রাখতে হয়। আর আমি কোন রাসায়নিক সার বা ইঞ্জেকশন করে গরু মোটাতাজা করি না। স্থানীয় পশু ডাক্তারের সহযোগিতা এবং পরামর্শ নিয়ে কাজ করি। সময়মত কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশি খাবার যেমন চালের ভূষি, কাচা সবুজ ঘাস, খর, খৈল ইত্যাদি দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটা লাভ পেয়ে যাই। বিভিন্ন এলাকার অনেকেই এখন আমার খামার দেখতে আসছে। আমার খামার দেখে অনেক বেকার যুবক চাকরির আশা ছেড়ে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে গরুর খামার করতে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আঃ মান্নান মিয়া জানান, আমরা সবসময় গরু খামারীদের বিজ্ঞান সম্মত পরামর্শ দিয়ে থাকি। ঘাটাইলে ছোট বড় প্রায় ২৬৩ টি গরুর খামার রয়েছে। তাদের আনেকেই দেশি গরু পালন করছে যা দেশের মোট আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।

ঘাটাইলে জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

যুব ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট (অনুর্ধ্ব ১৭) এর উদ্বোধন অনুুষ্ঠান টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টায় ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঘাটাইল সরকারী জিবিজি কলেজ মাঠে খেলাটি উদ্বোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহম্মেদ । উদ্বোধনী খেলায় আনেহলা ইউনিয়ন ৪-১ গোলে ঘাটাইল ইউনিয়নকে পরাজিত করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ খান, ঘাটাইল জিবিজি কলেজের অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম শামসুল হক, যুব কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন,কৃষি কর্মকর্তা মতিন বিশ্বাস,জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইখলাস হোসেন খান শামীম,ঘাটাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হায়দার আলী প্রমুখ।

আ.লীগের মনোনীত প্রার্থীরা গ্রিন সিগন্যাল পাবেন গোপনে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলের হাইকমান্ড থেকে গোপনে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়া হবে। প্রার্থীর কোনো দুর্বলতা থাকলে নির্বাচনের আগেই তা কাটিয়ে তোলার জন্য এই সংকেত দেয়া হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮০ থেকে ২০০টি আসনে জয়লাভ করতে পারেন- এমন প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে সাবেক সংসদ সদস্য, অপেক্ষাকৃত তরুণ, জনপ্রিয়, ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেন, একটি নির্বাচন শেষ হলেই পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয় আওয়ামী লীগে। সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন এমন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও আমাদের নেত্রীর হাতে থাকে।

নির্বাচনী আমেজ শুরু হওয়ার আগেই অন্তত শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা আমাদের নেত্রীর ল্যাপটপে থাকে- যোগ করেন তারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ ও ৩০ জুন এবং ৭ জুলাই- এই তিন দফায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভার মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে আওয়ামী লীগ। বর্ধিত ওই সভাগুলোতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূল থেকে বর্ধিত সভায় যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীরাও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে নিজেদের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন দলীয় প্রধানের কাছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উইনেবলদেরই (জয়ী হওয়ার মতো) গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থা, দলীয় নেতাকর্মী, দলের সভাপতির নিজস্ব মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার কাজ করেছে আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। এছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হয়েছে। সব জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন যিনি পাবেন, তাকে গোপনে গ্রিন সিগন্যাল (সবুজ সংকেত) দেয়া হবে এবং তা গোপন রাখতে বলা হবে।

দলটির অন্যতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীর কোনো দুর্বলতা থাকলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য গোপনে সিগন্যালও দেয়া হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে তৃণমূলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের সভাপতি বিভিন্ন উইং থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হবে।

‘মোটামুটি সেই তালিকাও প্রস্তুত, প্রার্থিতাও প্রায় চূড়ান্ত। তফসিল ঘোষণার পরপরই মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন, তা প্রকাশ করা হবে’- যোগ করেন তিনি।