বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

ঘাটাইলে ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১২৬ পিচ ইয়াবা সহ আটক করেছে র‍্যাব-১২ এর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন এবং ৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উপজেলার বাহ্মনশাসন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার গুনদত্ত গ্রামের মৃত ইমান আলী ছেলে শুকুর মাহমুদ (২৫) ও একই উপজেলার গারট্র গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে রুবেল মিয়া (২০)।

বুধবার রাতে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. হাসান আরাফাত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. হাসান আরাফাত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল ঘাটাইল উপজেলার বাহ্মনশাসন এলাকার গ্রামীন ব্যাংকের সামনে অভিযান চালিয়ে ১২৬ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা ঘাটাইল উপজেলার আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন মাদক সেবীদের নিকট তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল।

ঘাটাইলে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অষ্টম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে একাধিকবার ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে রিফাত নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। ধর্ষিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে রিফাতকে প্রধান আসামী করে দুইজনের নামে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করলেও আসামীকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ধর্ষক রিফাত ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে।

ধর্ষিতা ও তার পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন মোবাইল ফোনে উতক্ত করার পর গত তিন মাস যাবৎ ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সুত্র ধরেই গত ২৫ তারিখ সোমবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষিতাকে কৌশলে রিফাত তার মামার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে একটি ঘড়ে নিয়ে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

এক পর্যায়ে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলে রিফাত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতার মা সংবাদ পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে রিফাতকে প্রধান আসামী করে দুইজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে। এখনও আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, প্রেমের ফাদেঁ ফেলে ৮ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন করেছে। তারা এঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, হাসপাতালে মেয়েটিকে ভর্তি করে তার শারিরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রথমিকভাবে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে মেয়েটি আশংকামূক্ত রয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সায়েদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘাটাইলে গাছ পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ভূইয়া বাড়ী মোড়ে হঠাৎ রাস্তার গাছ পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রহিম (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারটার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রহিমের বাড়ী উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের বড় মেধার শরিসাআটা গ্রামে। তিনি উক্ত এলাকার ছামাদ শিকদার ও আছিয়া বেগম দম্পতির সন্তান।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে (৬) ও এক মেয়ে (৪) সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।

তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয়রা জানান, আজ সকালের দিকে আব্দুর রহিম নিজ বাড়ী থেকে ধলাপাড়ার দিকে আসার সময় ভুঁইয়া বাড়ী মোড়ে এসে পৌঁছলে আকস্মিক রাস্তার পাশের একটি গাছের ডাল তার উপর ভেঙ্গে পড়ে। চলন্ত মোটরসাইকেলের উপর গাছের ডালটি ভেঙ্গে পড়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

ঘাটাইলে তর্ণমূলের পছন্দের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল): আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় তৃনমূলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে জনগণ তাকেই বেছে নিবে এমনটি প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান খানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানেও তিনি খান পরিবারের সুখ দুঃখের সারথী। শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৩ নং জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় গোল্ডমেডেল এবং মাদক মুক্ত ইউনিয়নের স্বীকৃতি পান।

উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান উপজেলার সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ, তৃনমূল নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক তিনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় তার পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার শোভা পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় দলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। তার সাথে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে।

ঘাটাইলে সংরক্ষিত টিলা কেটে সাবার

বন উজারের পর এবার ধ্বংসের পথে ঘাটাইলে লাল মাটির টিলা পাহাড়। বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের চৌড়া, দেওপাড়া, ঝড়কা, বটতলি ও ধলাপাড়া সদর বিটের আওতায় সংরক্ষিত টিলা পাহাড় কেটে সাবার করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বনবিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় চলছে টিলা ও লাল মাটির সুউচ্চ পাহাড় কাটা। বিরামহীনভাবে পাহাড় কাটায় একদিকে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে এখানকার জীববৈচিত্রে দেখা দিয়েছে মারাত্মক হুমকি। পাহাড় আর বনভূমি রক্ষায় রক্ষকরাই এখন রয়েছে ভক্ষকের ভূমিকায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের দেওপাড়া ইউনিয়নের চৌড়া বিট ও দেওপাড়া বিটের আওতায় ডেলুটিয়া, বারইপাড়া প্রভৃতি এলাকার সরকারী খাস উচু টিলা কেটে নিচু করে প্রায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জহুরুল হক বলেন, ফরেস্টের লোকদের ম্যানেজ করে টিলা কাটা কোনো ব্যাপারই না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া এক কোদাল মাটিও কেউ নিতে পারবে না।

জানতে পারলে মামলা ঠুকে দেবে। এভাবে এলাকার শতশত লোক ফরেস্ট কর্মকর্তাদের অপকর্মের কথা তুলে ধরলেও মামলার ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি। কাছরা নামক স্থান থেকে বারই পাড়া হয়ে দেওপাড়াবাজার পর্যন্ত গেলে চোখে পড়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য। সেখানে ৪০ থেকে ৬০ ফিট উচ্চতার টিলাগুলো কাটা হচ্ছে। আর মাটি নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে স্থানীয় কাছরা গ্রামের সোনা মিয়ার পুকুর। সোনা মিয়া বলেন, আমি আমার পুকুর ভরাট করাতে ৪ লাখ টাকা চুক্তি দেই ছামনা গ্রামের সাইদকে। সেই এভাবে মাটি ভরাট করছে।

এ ব্যাপারে সাইদের বাড়ি ছামনা গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করা হলে রিং বাজলেও রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবার বটতলা বিটের গৌরিস্বর মৌজার জানেরপাড় নামক স্থানে গেলে দেখা যায় শাল গজারি বনের সাথে বেক্যু দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বন্দকুলিয়া গ্রামের জুয়েল ও বাইচাইলের সাইদ নামে দু’ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছে। ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আ. হামিদ বলেন, আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছি।

কে প্রথম প্রেম নিবেদন করেছেন, জানালেন কারিনা

বলিউড অভিনেতা শহীদ কাপুরের সঙ্গে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি। অবশেষে বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের সঙ্গে প্রেমের পর সাতপাকে বাঁধা পড়েন অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। তিনি সাইফ আলী খানের দ্বিতীয় পত্নী ও তৈমুর আলী খানের মা।

সম্প্রতি করণ জোহরের ‘কফি উইথ করণ’-শোতে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে হাজির হয়েছিলে কারিনা। সেখানেই নিজের ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রথম স্ত্রী অমৃতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মেয়ে সারার সঙ্গে সাইফের সম্পর্কে ঠিক কেমন? কারিনার সঙ্গেই বা সারার কেমন সম্পর্ক? এই সবকিছু নিয়েই অনেকেরই অনেক কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’ এর শোতে কারিনা-প্রিয়াঙ্কার কথোপকথনে উঠে এসেছে নানা তথ্য।

এদিন সাইফের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরুর কথা বলতে গিয়ে কারিনা জানান, গ্রীসে সাইফ তাকে প্রথম প্রেম নিবেদন করেন। তিনি আরও জানান, ‘তশন’ ছবির ‘ছলিয়া ছলিয়া’ গানের শুটিংয়ের সময় সাইফ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

কারিনার কথায়, ‘একদিন সকালে উঠে হঠাৎই সাইফ বলল, চলো বিয়ে করে ফেলি। সাইফ বলে, চলো এখানকার কোনো চার্চে যাই আর বিয়ে করি। ও (সাইফ) বলে আমি কোনো কিছুকে তোয়াক্কা করি না, বাকি জীবনটা তোমার সঙ্গে কাটাতে চাই।’

সাইফ তাকে সারা ও ইব্রাহিমের কথাও জানিয়ে দেন বলে জানান কারিনা। তিনি জানান, ওরা ওর জীবনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পরে তিনিও সাইফকে তার প্রতি ভালোবাসার কথা জনিয়েছিলেন এবং তাকে বিয়ে করতে সমস্ত সমস্যা সম্মুখীন হতেও রাজি বলে জানিয়েছিলেন মন্তব্য করেন বেবো।

সাইফের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে সারার সঙ্গে প্রথমবার দেখা প্রসঙ্গে কারিনা জানান, সারা সেদিন তার বিখ্যাত ‘পু’ চরিত্রের (কাভি খুশি কাভি গাম ছবিতে কারিনার চরিত্র) ‘ইউ আর মাই সোনিয়া’ গানের পোশাক পরে দেখা করতে পৌঁছেছিলেন। কারণ সারা কারিনার ভীষণ ভক্ত ছিলেন।

পাশাপাশি করিনা আরও জানান, তার সঙ্গে সাইফের প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতার কোনোদিনই দেখা হয়নি।

সাইফের প্রাক্তন স্ত্রী অমৃতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখো- করণের এমন প্রশ্নের জবাবে বেবো বলেন, ‘আমার সঙ্গে অমৃতার কোনোদিনই দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। তবে আমি অমৃতাকে শ্রদ্ধা করি।’

কারিনা আরও জানান, ‘সাইফের সঙ্গে আমার আলাপ অমৃতার সঙ্গে তার বিচ্ছেদের বহু বছর পর। সাইফ সেসময় কারোর সঙ্গেই ছিল না, সিঙ্গল ছিল। 

কালিহাতীতে হর্ণ বাজিয়ে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের বিরক্তি করায় আটক-১

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নরদহি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ও নরদহি বাজারের জনগণকে কিছু বখাটে বে-গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে বিরক্তির প্রতিবাদ করায় নজরুল ইসলাম নামের এক সচেতন যুবকের উপর হামলা চালিয়েছে বখাটেরা।

এ ঘটনায় হামলার শিকার নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করলে বখাটে জাহিদুল ইসলামকে আটক করে কালিহাতী থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার আনালিয়াবাড়ী গ্রামের লাভলু মিয়া(২০),মাজেদুল ইসলাম(২১), জাহিদুল ইসলাম(২০), সুজন মিয়া(২২), আসলাম(২০), সেলিম হোসেন(১৯), নাজমুল হোসেন(২০) ও আঃ ছালাম(২২) বিভিন্ন সময়ে বেগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে নরদহি বাজারে গিয়ে বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে স্থানীয় জনগণ ও বাজারের পাশে নরদহি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিরক্তি করলে নরদহি পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিবাদ করলে বখাটেরা মারপিটের হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এলেঙ্গা থেকে নরদহি যাওয়ার পথে হাতিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে ওই বখাটেরা নজরুল ইসলামের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে তার পকেটে থাকা নগদ এক লক্ষ টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বখাটেরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় হামলার শিকার নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১৭,তারিখ-২৫-০২-২০১৯ ইং।

এব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ জানান, নজরুল ইসলামের চাচা লাল চাঁন মন্ডল বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করলে আসামী জাহিদুল ইসলামকে আটক করে ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

ফাঁসি কার্যকরের আগে ‘হৃদয়বিদারক চিঠি’ ৯ তরুণের

গত ২০ ফেব্রুয়ারি মিশরে এক আইনজীবী হত্যার দায় চাপিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৯ তরুণের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর থেকেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিরা এই দণ্ড কার্যকরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে।

এই ইস্যুতে মিশরের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান ।

অ্যামনেস্টি বলেছে, ফাঁসি কার্যকরের আগে ওই তরুণদের কারাগারে দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

কোমল শরীরে লাগাতার শাস্তি প্রয়োগের পর ওইদিন ভোরের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর মধ্যদিয়েই শেষ হয়ে যায় ৯ তরুণের জীবন-সফর। আর তারা একত্রে আরোহন করে বেদনার কফিনে, রেখে যায় কেনানার ভূমিতে মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রত্যয়িত ফতোয়া কর্তৃপক্ষ, রাজনীতি ও বিচার বিভাগের মুখে একটি বিশাল প্রশ্ন।





নিহত যুবকদের বসবাস ছিল মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে। এমনকি তাদের শিক্ষা অর্জনের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও ছিল আলাদা। কিন্তু, শেষযাত্রা হলো একসঙ্গে, মিশরের গোরস্থানে। দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় এই ৯ তরুণের বিরুদ্ধে। সিসি সরকারের আজ্ঞাবহ এই অ্যাটর্নি জেনারেল ২০১৫ সালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এক গাড়িবহরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান।

সিসির হীন আক্রোশের নির্মম শিকার নয় তরুণ হলেন— আহমাদ ত্বহা ওয়াহদান, আবুল কাসিম আহমাদ, আহমাদ জামাল হিজাযী, মাহমুদ আল-আহমাদী, আবু বকর আস-সাইয়্যেদ, আব্দুর রহমান সুলাইমান, আহমাদ মুহাম্মাদ আহমাদ মাহরুস সাইয়্যেদ ও ইসলাম মুহাম্মাদ।

এই নয়জন আরও সে সকল দশক সংখ্যার মধ্যে যুক্ত হলেন, সিসির পাঁচ বছরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ১ হাজার ৫৬ জনের মধ্যে যাদের রায় কার্যকর করা হয়েছে। তারা রাবেয়া ও তাহরির স্কয়ারে নৃশংস গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া শতশত অভিযুক্ত নিরীহ মিশরীর পক্ষে তাদের জীবনের যাত্রা বন্ধ করার চূড়ান্ত বিচারে ১৯ জন বিচারপতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।





মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার আগে তারা প্রত্যেকেই নিজের পরিবারের কাছে লিখেছেন নিজেদের অন্তিম অনুভূতির কথা। আল-জাজিরা সে চিঠিগুলো প্রকাশ করে, যা পড়ে হৃদয় ভিজে যেতে বাধ্য এবং প্রাণোদ্দীপক এসব চিঠি পড়ে কেঁদেছেন অসংখ্য মানুষ।

৯ তরুণের একজন আহমদ ত্বহা ওয়াহদান। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের গাইডেন্স ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ ত্বহা ওয়াহদানের ছেলে। তিনি মৃত্যুদণ্ডের আগ মুহূর্তে চিঠি লিখেছেন তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে।

তিনি লিখেছেন, ‘আম্মুজান, তুমি আমার ভালোবাসা, আমার কলিজার টুকরো। কখনো ভেব না যে, তোমার বাবা অপরাধ করেছেন। তোমার বাবা তোমার নিরাপত্তা চেয়েছেন। কেয়ার করে এমন রাষ্ট্র তৈরি করতে চেয়েছেন। বড় কারাগারে থাকেন, এটা চাননি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও মা।

পৃথিবী থেকে বিদায়ের আগে একবারের জন্যও তোমাকে বুকের মাঝখানটায় চেপে ধরতে পারলাম না। তোমার কোমল পবিত্র কপালে চুমু খেতে পারলাম না। তবে, জান্নাতের দরজায় সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকব, মামণি। সেখানে কোনো বিদায় ও বিচ্ছিন্নতা নেই। আম্মুজান, আমার ভালোবাসা সব সময় তোমার সঙ্গে থাকবে।’





অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাত নিহত হওয়ার পর যখন ত্বহা বন্দি হন, তার স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তিনি কারান্তরীণ হবার এক মাস পর স্ত্রী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কন্যার সঙ্গে এই ক’বছরে তার দেখা হয়েছে সাকুল্যে দু’বার। একবার কোর্টে বিচার চলাকালীন কন্যার মা কন্যাকে উঁচু করে দেখান। তিনি তখন কাঠগড়ায়।

আরেকবার কোর্টেই, মেয়ের যখন দাঁত গজাচ্ছে, স্ত্রী মেয়েকে দেখিয়ে ইশারায় বোঝান, মেয়ের দাঁত গজাচ্ছে।

আহমদ ত্বহা আনন্দিত হয়ে জেলের শিকের ভেতর থেকে হাত দিয়ে লাভ বানিয়ে দেখান। বন্দি থেকেও কী নিদারুণ আনন্দ তখন ঝরে পড়ছিল তার চেহারা থেকে, সাংবাদিকদের তোলা সেই ছবি দেখলেই বোঝা যায়।

৯ তরুণের প্রতিটা চিঠিই এমন হৃদয়বিদারক। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান সিসিকে অমানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।





শনিবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সিসির মতো অমানুষের সঙ্গে তিনি কখনোই আলোচনায় বসবেন না।’

ব্রাদারহুডের এই তরুণদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এরদোগান আরও বলেন, ‘মিশর সরকার-প্রধান হয়তো বলতে চাইবে আদালত তাদের (৯ তরুণ) সাজা দিয়েছে। কিন্তু, দেশটিতে আদালত, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন সব অর্থহীন। একজনের হুকুমে চলে। দেশটিতে একনায়কতন্ত্র ও সর্বাত্মকবাদ চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সব রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানাই।’

ঘাটাইলে সন্ত্রাসী কায়দায় তিন ছাত্রকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগে মামলা

কৌশলে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় নবম শ্রেণীর তিন ছাত্রকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগে থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌরসভার পশ্চিম পাড়া এলাকার ঝলক ইট ভাটায়।

জখম প্রাপ্তরা হচ্ছে- চান্দশী গ্রামের শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে নাফিউল হাসান (১৪),ঘাটাইল পৌরসভার পশ্চিম পাড়ার শামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে জামাল (১৫), পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মোতালেব হোসেনের ছেলে পিয়াস (১৪)। এদেরকে প্রথমে ঘাটাইল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামালার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নাফিউল হাসান ও তার দুই বন্ধুকে পৌরসভা ফতের পাড়া ব্রীজপাড় থেকে ডেকে ঝলক ইটভাটায় নিযে যায়। ভাটার অফিস কক্ষে আটকিয়ে তিন বন্ধুকে বেধরক পিটানো হয়।

এ ঘটনায় নাফিউল হাসানে বাবা শহিদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে গত ২১ ফেব্রুয়ারী ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হচ্ছে- দক্ষিণপাড়া গ্রামের আঃ সালেমের ছেলে মো.আতিক (২৪),সাবেক মেয়র আঃ রশিদ মিয়ার ছেলে মো.রফিক মিয়া, তার ছেলে আদিব হোসেন (১৯) এবং ফুলহারা গ্রামের নজরুল। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মো.শাহিন মিয়া বলেন, মামলাটি তদন্তধীন আছে। আমাসী ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।


পুত্রবধূ সিমলাকে কি বলেছিল নিহত পলাশের বাবা?

ঘটনাটি ২০১৮ সালের। গেল বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রেমিকার পরিচয়ে চিত্রনায়িকা সিমলাকে প্রথম নিজের বাড়িতে নিয়ে বাবা মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় চট্টগ্রামে নিহত পলাশ আহমেদ। এরপর দুই মাস বাদেই ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আবারো সিমলাকে বাড়িতে নিয়ে যায় পলাশ। নিজের বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের জানায়, তারা (পলাশ ও সিমলা) বিয়ে করেছেন। সিমলা নিজেও বিয়ের কথা স্বীকার করেছিলেন পলাশের বাবার কাছে।

সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার পর নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে নিহত পলাশ আহমেদের বাড়িতে তার বাবা পিয়ার জাহানের সাথে কথা হয়।

এসময় নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান জানান,‘২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিমলা নামে এক মেয়েকে রাতের বেলা বাড়িতে নিয়ে আসে পলাশ। মেয়েটিকে চিত্রনায়িকা ও তার প্রেমিকা বলে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। দুই মাস পর এপ্রিল মাসে আবার সিমলাকে বাড়িতে নিয়ে এসে বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় পলাশ। বিয়ের কথা সিমলাও আমাদের কাছে স্বীকার করে। এরপর ওই রাতেই তারা আবার ঢাকায় চলে যায়।’

তিনি আরো বলেন, সে সময় আমরা পুত্রবধূ সিমলাকে পারিবারিক অনেক বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করেছি। সিমলাকে বলেছি– আমার ছেলেকে যেন সে ভালো পথে ফিরিয়ে আনে। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলেটি অবাধ্য ছিল। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বিদেশে থেকে আমার পাঠানো টাকা সে নানা পথে খরচ করেছে।

নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান জানান, সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে বাড়িতে আসে পলাশ। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখতে পাই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে বলেছে, সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে। রোববার চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাশের মুত্যুর খবর ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিবার জানতে পারে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহতের ছবি রোববার রাত ১টার দিকে দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহানের বাড়িতে নিয়ে দেখালে তারা ওই ছবি পলাশের বলে নিশ্চিত করেন।

আরো পড়ুন : বিমান ছিনতাইকারী যুবকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, নায়িকা শিমলার সাথে ছিল রহস্যময় সম্পর্ক
কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

বিমান ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত নিহতের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে । তার নাম পলাশ আহমেদ । তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দুধঘাটা। বাবার নাম পিয়ার জাহান। রোববার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাইয়ের নাটকীয় ঘটনার পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে সোমবার সকালে হাজির হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা । সকল তথ্য সংগ্রহ করতে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার অনেকেই।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, এলাকার সোনারগাঁ উপজেলার দুধঘাটার অনেকের ভাষ্য জানা যায়, বাবার একমাত্র ছেলে পলাশ আহমেদ স্থানীয় তাহরপুর মাদরাসা থেকে ২০১১ সালে দাখিল পাশ করার পর মাদরাসার নিয়ম নীতি রহস্যজনক কারণে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শর্ট ফিল্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে । এ থেকেই অনেক শর্ট ফিল্ম করলেও সাফল্যের মুখ দেখেনটি পলাশ। প্রকৃত নাম পলাশ হলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে এলাকায় নায়ক নায়িকাদের নিয়ে বাড়ি আসতেন। এতে পরিবারে লোকজন পলাশ আহমেদের উপর প্রচণ্ডভাবে রাগান্বিত ছিল। গত শনিবার রাতে পলাশ নিজের মোবাল ফেলে বাড়ির সিমকার্ড ও মোবাইল নিয়ে দুবাই চলে যাচ্ছেন বলে বের হয়ে যান ।

সকালে পুলিশ প্রশাসনের অনেকেই বিমান ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত নিহত পলাশের বাড়ি উপস্থিত হলে টনক নড়ে দুধঘাটা এলাকার সকলেই ।

এলাকার রহিম মুন্সী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই পলাশই বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন নামে পরিচয় দিতো। বাবা পিয়ার জাহান মুদি দোকানদার হলেও পলাশ নায়ক নায়িকাদের নিয়ে এলাকায় শো ডাউন করতো। তার চাল চলন ছিল রহস্যেঘেরা। নায়িকা শিমলার জন্য পরাশ ছিল পাগল। বাড়িতেও নায়িকা শিমলাকে বিয়ে করবে বলে জানাত। কিন্তু বাড়ির কেউ এ বিয়েতে রাজি ছিল না। নায়িকা শিমলা প্রায়ই সোনারগাঁয়ের দুধঘাটায় পরাশের বাড়িতে আসতো।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় পলাশ আহমেদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেয়া উচিৎ হবে না। ঢাকা থেকেই ব্রিফিং করা হবে।

স্বর্ণপদক পেলেন জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান ঘাটাইলের নজরুল ইসলাম

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এলজিএসপি প্রকল্পে-৩ এর আওতায় ’এ’ গ্রেড ভূক্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্বর্ন পদক লাভ করেছেন।

গতকাল রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৫টায় ঢাকায় হোটেল ফার্স, বিজয়নগরে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম (বিইউপিএফ) উদ্যোগে তাকে এই স্বর্ণপদক সন্মাননা প্রধান করা হয়।

বাংলাদেশে অগ্রযাত্রায় ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও এলজিএসপিতে “এ”গ্রেড ভূক্ত সকল চেয়ারম্যানদেরকে (স্বর্ণপদক) সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম সভাপতি মাহাবুবুর রহমান টুলু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সভাপতি মাহবুবুর রহমান টুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন মোঃ আছলাম হোসেন সওদাগর এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ।

ঘাটাইলে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান "আমি হতে চাই" অনুষ্ঠিত

শিশু সমাজের অংকার ফুলের মত তাদের সৌর্ন্দয্য। তারাই হবে জাতীর ভবিষ্যত কর্ণধার । তাদের কে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে । এ দায়িত্ব সমাজের সকলের।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিশুদের আগাম ভবিষ্যত “আমি হতে চাই” একটি ব্যতিক্রম অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গুড নেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে সোমবার সকালে বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। শিশুরা সুশিা অর্জন করে আগামী দিনে কে কি কাজ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করবে এমন সব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সমাজে ডাক্তার, বিচারক, শিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতি, ইঞ্জিনিয়ার সহ বিভিন্ন কর্মেল বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এডমিন অফিসার অজয় কুমার দে,প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার প্রমুখসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চায় বিমান ছিনতাইকারী

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড্ডয়নের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণ করেছে। সন্ত্রাসীরে কবলে পড়েই বিমানটি অবতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমানটিতে অনবোর্ড যাত্রী ছিলেন মঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি। তিনি জানিয়েছেন, বিমান ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।

রোববার বিকালে বিজি-১৪৭ নং ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিলো। মঈনুদ্দিন খান বাদল আরো জানান, অস্ত্র নিয়ে পাইলটের দিকে উদ্ধত হচ্ছিলো ওই সন্ত্রাসী। ফলে ফ্লাইটটি দ্রুত অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট এবং ক্রুরা। তবে বিমানটিতে অবস্থানরত সকল যাত্রীকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল এভিয়েশন সচিব মহিবুল হক জানান, বিমানটির মধ্যে সন্দেহভাজন একজন অস্ত্রধারী পাইলটসহ দুইজন ক্রুকে জিম্মি করে রেখেছে। ঘটনার পরপরেই বিমান বন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়। র‍্যাবের একাধিক গাড়ি বিমানবন্দরের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

ঘাটাইলে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পানিতে ডুবে সহপাঠি দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ফুলমালিরচালা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, আঃ হালিমের ছেলে সাফি (৪) ও হাবিবুর রহমানের ছেলে রাফি (৪)। তারা দুজনে সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও নিহত দুই শিশুর চাচা আরিফ হোসেন থেকে জানা যায়,  সাফি ও রাফি দু’জনই ফুলমালিরচালা ফজর আলী আলিম মাদরাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র। মাদরাসা থেকে বাড়ি আসার পর সকাল অনুমান ১১টার সময় তারা পাশেই বড় চাচা হারুনের বাড়ি যাওয়ার পথে তারা পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

অনেক খোঁজা-খুঁজির পর দুপুর একটার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের লাশ ভাসতে দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন।

পরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন পুকুর থেকে দুই শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘাটাইলে সুইসাইড নোট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছে সামিয়া নামে এক স্কুলছাত্রী। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সিংগুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

সামিয়া সিংগুরিয়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সিংগুরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হযরত আলীর মেয়ে সে।

রাতেই ঘাটাইল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং আজ রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এলাকাবাসী জানায়, সামিয়া সিংগুরিয়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়শোনা করতো। মা ও বড় বোন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করত। শনিবার সন্ধ্যার পর মা ও বড় বোন বাড়ির বাইরে গেলে সামিয়া ঘরের বারান্দায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মা ও বড় বোন বাড়ি ফিরে ঝুলন্ত অবস্থায় সামিয়াকে দেখতে পেয়ে লাশ মাটিতে নামায়।

খবর পেয়ে রাতেই ঘাটাইল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এলাকাবাসী জানায়, মৃত্যুর আগে সামিয়া একটি সুইসাইড নোট লিখে যায়। নোটে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করে সে। সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘাটাইল থানার এসআই আবু হানিফ বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

নিজ পরিচয়ে সারাবিশ্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

মানুষের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করাটা তাঁর বংশ পরিচয়ে নয়, কর্মেই তাঁর পরিচয়। তাঁর জন্ম গ্রহণ যেখানে বা যে বংশেই হোক কর্মের মানদণ্ডে সেই মানুষকে 'শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা নীচুতা’ নির্ণীত করা হয়। জন্ম গত সূত্রেই যেন এক একজন মানুষ তাঁর আসল পরিচয় নির্ণয় করতে চায়, বলতে চাই যে, তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিজস্ব কর্ম-কান্ডেই যেন হওয়া উচিৎ। 


তাঁর মহৎ কার্যাবলির জন্যেই সকলের প্রসংশা অর্জন করতেই সক্ষম হবে। যুগে যুগে এমন ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ বহু গুনীব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে।তাঁরা সকলের কাছেই একজন মহৎ মানব বা ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পৃথিবীতে যারা মহান, যারা স্মরণীয় এবং বরণীয় ব্যক্তি তাঁরা কখনো বংশ মর্যাদার বড়াই দেখিয়ে বড় হন নি। 


সেই পরিচয় বহু জনের হয়তোবা থাকতেও পারে। কিন্তু তাঁরা নিজস্ব কর্মগুনে সফল ব্যক্তি হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীর মানব হৃদয়ে তাঁরা নিজ আসন স্হায়ী করেছে। কিন্তু, যদি তেমন যোগ্য ব্যক্তি আবার নারী হয় তো কথা গুলো একটু অমসৃণ পথ ধরে অগ্রসর হবে। নারীদের মান- মর্যাদা, আজকের সমাজের পুরুষরা একটু আলাদা আঙ্গিকে অর্থাৎ কটাক্ষের দৃষ্টিতেই দেখে।


এই জগৎ-সংসারে নারীদেরকে যুগে যুগেই সবচেয়ে আলোচিত বা কটূক্তিপূূূর্ণ একটি প্রাণী হিসেবেই গন্য করা হয়েছে। এই ধরণের কথা বলে ছিল ভার্জিনিয়া উলফে। তিনি নিজে কিংবা নারী সমাজদের জন্যেই একটি নিজস্ব কক্ষ চেয়েছিল, কিন্তু তা পাননি। সেই নারীর এমন ধারার আলোচনাতেই তাঁর পতিপক্ষের সবাই অংশ নিলেও শুধু মাত্র যার সম্পর্কেই অনেক গভীর আলোচনা, সে নারীকেই অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বলতেই হচ্ছে, এ পতিপক্ষটির নাম পুরুষ, নিজের বানানো অলীক বিধাতার পার্থিব প্রতিনিধি, আর পুরুষমাত্রই অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি, আবার- কেউ কেউ তাঁর বিধাতার চেয়েও নাকি বহু প্রতিভা-দীপ্ত। এমনই কিছুসংখ্যক- অন্ধ ও বধির, দালাল কিংবা দার্শনিক, লম্পট এবং ঋষি, কবি ও কামুক, বালক এবং বৈজ্ঞানিক, পাপী কিংবা প্রেমিক পুরুষরা অংশ নিয়ে ছিল এমন নারী সম্পর্কে অন্তত একটি- "নেতিবাচক শ্লোক" রচনায়। 


কিন্তু এ ধরনের ‘শ্লোক’ আসলেই অশ্লীল আবর্জনার মতো। এই প্রতিপক্ষ কিংবা পুরুষ জাতিরাই কখনো কারো মূল্য বা অধিকারকে কখনই স্বীকার করে না। এমন কি নারীদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না অনেক সময়। তাই এমন পুরুষরা নারী সমাজ সম্পর্কে বেশ কয়েক হাজার বছর ধরেই যেগুলো অশোভন শ্লোক রচনা করেছে, তার অনেক বিধি বিধান সবটাই যেন সন্দেহজনক এবং আপত্তিকর। 


বলতেই হচ্ছে পুরুষ নারীকে দেখে দাসীরূপে, করেও রেখেছে দাসী; তবে স্বার্থে এবং ভয়েই কখনো সখনও মহিমাকীর্তন করে দেবী রূপে। এমন চতুর এই ‘পুরুষ’ নামধারী আজব প্রাণী, তারা নারীদের এমন নিন্দায় যত সামান্য সত্য বা সামাজিক ভাবে মূল্যায়ন করলেও পর্বতীতে যেন মহিমা কীর্তন ছেড়েই সু-পরিকল্পিত ভাবেই প্রতারণা করে। যুগে যুগেই পুরুষরা সাধারণত প্রতারণা ক’রে এসেছে নারী সমাজকে। সুুতরাং একটি কথা বলতে হয়, নারীরা কখনই কোনো- 'দুর্বল মানুষ' নয়। কেউ নারী হয়ে জন্মায় না। সমাজ একটি মানব শিশুকেই ধীরে ধীরে নারীতে পরিণত করে। শৈশবে তাদেরকে হাজারো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতেই হয় নারী। পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিজেই নিজেকে- 'অবলা' ভাবতে শিখে। নারীর মন এবং মননের বিকাশের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীদেরকে “সু-শিক্ষায় শিক্ষিত’ হয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে, তাদের কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার মতো দুর্বিসহ বা অসহায় জীবন আর নেই।

সুতরাং এই নারীকে ভাঙতে হবে তার শৃঙ্খল। মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন কিংবা একটি সম্মান জনক জীবন নারী হয়েও অর্জন করতে হবে। তাই- “শেখ হাসিনা” অক্লান্ত পরিশ্রম করে যোগ্য ও সফল মানুষ হিসেবে নিজে যেমন বাঁচার অধিকার সৃষ্টি করেছে। সে ভাবে রাষ্ট্রের সকল নারীসমাজেরও নিশ্চিত করবার চেষ্টা করেছে। জানা দরকার তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের বিশ্বভারতী ও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় বা অস্ট্রেলিয়ার-ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা ব্রাসেলসের বিশ্ব বিখ্যাত-ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাশিয়া’র- পিপলস ফ্রেন্ড-শিপ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন তাঁকেই সম্মান সূচক ‘ডক্টরেট ডিগ্রি’ প্রদান করেছে।


তাছাড়া ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে ডিপ্লোমা প্রদান করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা বা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্যেই বিশ্বের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, নারীরা অর্জন করে সমাজকে দেখাতে শুরু করেছে। ঠিক তখনই সমাজের পরিবর্তন হবে, যখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষরা নারীর প্রতি দৃষ্টি-ভঙ্গির পরিবর্তন করবে। এই পরিবর্তন আনতে হলে আবার নারীদেরও পরিশ্রমী হতে হবে। তাই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্যে প্রত্যেক নারী সমাজকে অবশ্যই ‘উন্নত জীবন চর্চার’ কর্মটি করতে হবে। বলতেই হয়, বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে আজ মাথা তুলে দাঁড়িছে-শুধুমাত্র নারীর কারণে। এদাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় আত্ম সম্মান বোধ সম্পন্ন এক নারী জাতি তিনিই হচ্ছেন-বঙ্গবন্ধুর-তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- ”শেখ হাসিনা”। তাঁর নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে বর্তমান এই বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করা। অক্লান্ত পরিশ্রম, দেশপ্রেম ও অপ্রমেয় দূরদৃষ্টি এক্ষেত্রে অনেক কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে যে কেউই আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করতেই পারবে না। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যেই যেন- এক 'আদর্শ' হিসেবে পরিগণিত। এটিই প্রধানমন্ত্রী- শেখ হাসিনার খুব বড় অর্জন তা স্বীকার করে নিতে হবে। বলা দরকার যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় বঙ্গবন্ধুর স্ব পরিবার নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানিরা- ''রাষ্ট্র-ক্ষমতা'' দখল করে। যার ফলেই বাংলাদেশ কয়েক- দশক পিছিয়ে পড়েই ছিল। 


আর সেই তখন থেকে চলেছে, কুচক্রীগোষ্ঠীদের আতাতে ‘ইতিহাস’ বিকৃতির এক অধ্যায়। এমন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা একা নিজেই, তাঁর নিজস্ব দল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সংস্কৃতিকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক -বুদ্ধিজীবী সমাজ, নারীসমাজ, বিশেষ করেই তরুণ সমাজের সহিত এই বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের ভালবাসা নিয়ে সম্মিলিতভাবে ধাপেধাপেই তাকে বন্ধ করতে পেরেছে এবং আজো সেই চেষ্টাটি অব্যাহত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এই সর্বোচ্চ অর্জন সত্যিই জাতি গর্বিত। তথ্যপ্রযুক্তি যুগে তাঁর মাধ্যমে এদেশের মানুষ তা ব্যবহার করতে পারছে। শুধুুু প্রযুক্তির ব্যবহারই নয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি কিংবা অগ্রগতিতে বিশ্বাসী হয়েই যেন দরিদ্র্য বিমোচনে জাতি অর্থনৈতিক মুক্তির সুফল পেয়েছে।


১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসক গোষ্ঠির রোষানলেই পড়েছিল। তবুুুও গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, ধর্ম নিরপক্ষেতা কিংবা জাতীয়তাবাদকে নিয়েই আজও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁকেই বারবার কারান্তরীণ করা হয়ে ছিল। জেলেখানা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে না থেকে বা হত্যার জন্যেই কমপক্ষে-‘১৯ বার সশস্ত্র হামলা’র’ পরেও মনোবল বিন্দু মাত্র না কমিয়ে নিজ কর্মকান্ডে সংগ্রামী মনোভাব পোষণ করেই আজকে সফলতার কর্ণধার। রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে- শুধুই ব্যস্ত নন,- ভালো ‘রন্ধনশিল্পী’, ‘সঙ্গীত” প্রিয় এবং বই লেখা কিংবা পড়ার প্রতিও বহু আগ্রহ আছে। জানা দরকার, দেশনেত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়টি গ্রন্থেরও রচিয়তা। সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত হওয়া সেইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুুুস্তক হচ্ছে: ‘’শেখ মুজিব আমার পিতা’’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘কিছু-ভাবনা’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন’, ‘সাদা-কালো’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ওরা টোকাই কেন?, সবুজমাঠ পেরিয়ে, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র,আমার সংগ্রাম, আমার স্বপ্নসহ লিখেছে- ‘Miles to Go,The Quest for Vision2021(two volumes) শত বাধা-বিপত্তি বা হত্যার হুমকি সহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখহাসিনা ভাত-ভোট ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে অবিচল থেকেই ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে গেছে এবং যুগোপযোগী এই বইগুলি লিখেছে। তাঁর সু-নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনসাধারণ অর্জন করেছে ‘বাক স্বাধীনতা’ এবং পেয়েছে ‘গণতন্ত্র’। ‘বাংলাদেশ’ পেয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশের মর্যাদা। প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার’ অপরিসীম আত্ম ত্যাগের ফলেই ‘বাংলাদেশ’ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।


অর্জন তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য নির্দিধায় বলতে পাবি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্যেই যুক্তরাষ্ট্রের 'ম্যাকন উইমেন্স' কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাসূচক “Pearl S. Buck ’৯৯’’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। তাছাড়া জাতিসংঘের- বিশ্ব খাদ্য কর্ম-সূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদান স্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক স্বীকৃতি- সেরেস (CERES) মেডেল প্রদান করেছে। শেখ হাসিনাকেই সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ ১৯৯৮ সালে ‘মাদার টেরেসা’ পদক প্রদান করেছে। আবার ১৯৯৮ সালে তিনাকে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন যেন Paul Haris ফেলোশিপ প্রদান করেছে। পশ্চিম বঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস, তাঁকেই ১৯৯৭ সালে- ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু’ স্মৃতি পদক প্রদান করেছে। তা ছাড়াও তাঁকেই আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক১৯৯৬-১৯৯৭ সালে Medal of Distinction পদক কিংবা ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে- “Head of State” পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরাগান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হতে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনে শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। তিনি বৃটেনের “গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার” এবং ২ বার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। ২০১৪ সালে ইউনেসকো তাঁকে শান্তির বৃক্ষ ও ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামে- নারীদের ক্ষমতায়নের জন্যেই তাঁকে রিজিওনাল লিডার শীপ পুরস্কার এবং “গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভলপমেন্ট এক্সপো”-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করেছে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উন্নয়নেই বহু অবদানের জন্যে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় হতে নারীনেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৫ সালে সম্মাননা সনদ প্রদান করেছিল।


শেখ হাসিনা বিগত ৩ দশকের রাজনীতির মাধ্যমেই, তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ দলে, স্বাধীনতার পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-আদর্শে ও বাংলাদেশের অস্তিত্বে ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যেন বহু অর্জন নিয়েই ইতিহাস হয়ে রয়েছে। শেখ হাসিনা- দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি কিংবা অর্থনৈতির চরম সফল, আমাদের ঘরের মেয়ে বলেই হয়তোবা আমরা খুব কাছ থেকে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা কিংবা অবদান সবটুকু দেখতে পাই না। তাই, নিরপক্ষেতার আতশি কাঁচের নিচে ফেলে শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক অধ্যায়কেই ইতিহাসের পরম্পরায় বিচার করার সময় উপস্থিত। বিশেষত জাতীয় জীবনেই তিনি- অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ এক নির্বাচন- ২০১৮ সালের- ৩০ ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়েল পরই ০৭ জানুয়ারি- ২০১৯ সালে ৪র্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ‘'শপথ'’ নিয়ে বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এই আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর - ১২ জানুয়ারি ৩য় বারেও “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে “শপথ” নিয়ে ছিল। আবার তিনি ১৯৯৬ সালে ২৩ জুন ১ম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেছিল। তাঁর নেতৃত্বধীন বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সেই বছরের বারো জুনেই সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।


জানা যায় যে ২০০১ সালে একটি সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রে’ শিকার হয়ে তাঁর দল আওয়ামীলীগ পরাজয় বরণ করলেও শেখ হাসিনা বিরোধীদলের শক্তিশালী নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। বলা দরকার তাহল ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলেই “সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার” রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করে। তাঁরা প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সে সরকার- ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর- ‘৯ম জাতীয় সংসদ’ নির্বাচনের আয়োজন সৃষ্টি করে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় জয় লাভ করে। শেখ হাসিনা- ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ২য় বারের মতই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।


এবার ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বিরোধী দলীয় চৌকশ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। এমন এ নির্বাচনের পরেই বাংলাদেশ থেকেই ‘সামরিক আইন’ প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই ‘নারী নেত্রী শেখ হাসিনা’ ৯০ এর জটিল এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগ করেছিল।


১৯৯১ সালে সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হয়ে 'রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার' পরিবর্তন এনেই ‘সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা’ পুনঃপ্রবর্তনে রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেছিল। ১৯৯৬ সালের দিকে বিএনপি’র ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধেও তিনি গণআন্দোলন গড়ে তোলেছিল। আন্দোলনের মুখে তিরিশমার্চ তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। চৌকশ মেধা সম্পন্ন না হলে এতো অর্জন কখনোই সম্ভব হতো না। আর বলতে পারি যে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সব সময়েই আপোষহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তাঁর আওয়ামীলীগ সরকার ১৯৭১সালে মানবতাবিরোধী এক সংঘটি অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্থাপনের জন্য নেত্রী শেখহাসিনা আইন প্রণয়ন করেছিল। এমন এআইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইবুনালে যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিল এবং ‘রায় কার্যকর’ করেছে। সাহসী পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আদর্শ মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা। তাই তো তাঁর এতোই সৃজনশীল মেধা ও সাহস। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামাঞ্চলে এমন মেয়ে ১৯৪৭ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।


সামাজিক কর্মকান্ড, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেই অসামান্য অবদানের জন্যেই শেখ হাসিনাকে বিশ্বের “বিভিন্ন সংস্থা” সম্মানিত করেছে এবং আগামীতেও করবে তা আশা করাই যায়।

এ বাংলাদেশের আর্থ-সমাজিক কিংবা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে, উত্তরোত্তর রাজনৈতিক উন্নয়নকে যথাযথভাবেই পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা নিয়ে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সম্ভব। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর গভীর আন্তরিকতা এবং নির্দেশনা রেখে চলেছে। 


সুতরাং,-জাতি হিসেবে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে যদি সত্যি সত্যিই 'অগ্রসর জাতি-রাষ্ট্র' গুলির মাঝেই অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা থাকে তাহলে বাস্তবতা হচ্ছে, নারী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার শাসনামলেই আর্থ-সামাজিক খাতে এদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। বলতেই হয় যে, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনার সরকার উল্লেখ যোগ্য সাফল্যগুলি ছিল ভারতের সঙ্গে তিরিশ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ কিংবা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন। তা ছাড়াও, তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণ মূলক কর্মসূচি বা ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা মূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এ গুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য তা হচ্ছে দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, আশ্রয়হীনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। তিনি একজন যোগ্যতাসম্পন্ন নারী মানুষ হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের যে গৃহযুদ্ধ চলছিল তার অবসান ঘটিয়ে ছিল। সেই ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাঁকে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো- ‘হুপে-বোয়ানি’ “শান্তি” পুরস্কারেও ভূষিত করেছে। প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরে গরিব-অসহায় মেয়েদের বাল্য বিবাহের শিকার হয়, আবার অনেক নারীরা যেন নেশাতে আসক্ত হয়়ে যাচ্ছে। সন্তানদের তো মানুষ করতেই হবে। এই সন্তানদেরকে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার ‘দোষ বা দ্বায়’ যদিও সরকারের নয়। তবুও আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধী নারীর সহিত সকল নারীসমাজের আত্মমর্যাদা, বাল্যবিবাহ ও ‘নেশায় আসক্ত’ থেকে পরিত্রাণের অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে।

জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি এই দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ বা টেকসই উন্নয়নের জন্য অসামান্য অবদানে নারী নেত্রী শেখ হাসিনাকে লিডার শীপ ক্যাটাগরির আওতায় সর্বোচ্চ পুরস্কার -‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ- ২০১৫’ পুরস্কারেই ভূষিত করেছে। তাছাড়া, তাঁকে টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে- International Telecommunication Union (ITU) আওতায় যেন ICTs in Sustainable Development Award 2015 প্রদান করেছে। তিনি বলেন, সমাজে এ নারীদের ব্যাপক অংশ আজো যে পশ্চাদপদ অবস্থায় পড়ে আছে তাতো পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেই কিছুটা। এমন এই ‘অসম্ভব কাজ’ গুলোকেই সম্ভবনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছে নারী নেত্রী শেখ হাসিনা। সুতরাং এই নারী সমাজের গতানুগতিক ভাবেই শিক্ষকতায়, ডাক্তারি পেশায় ও মিডিয়া লাইনেও নারীর আধিপত্য বা তাদের দাপট রয়েছে। ঐতিহ্যগত ভাবেই কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি এমন এই বাংলাদেশ এখন শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতিতেই গড়ে উঠছে। এ দেশীয় তৈরি পোশাক ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ঔষধ শিল্পের সহিত তথ্য প্রযুক্তি খাতও বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটিও শেখ হাসিনার সাফল্য। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদ কালে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুুুৎ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশিই প্রবৃদ্ধি অর্জন, পাঁচ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীত করণ, ভারত দেশ এবং মায়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রত্যেকটি ইউনিয়নেও ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে সাফল্য অর্জন করেছে, কৃষকদের জন্যও কৃষিকার্ড তাছাড়াও “দশ” টাকাতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্যেও সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে তা ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস। তাইতো জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করতে পেরেছে।


শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছে। তিনি দেশে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই ‘সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি হয়ে ছিল। সে কলেজের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। আবার পরের বছরেই সভাপতি হয়েছিল। আরও পরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একজন সদস্য ও ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হয়ে ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই এই নারী শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। এইদেশের নারীরা রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়নে একেবারেই যেন অনেক পিছিয়ে ছিল। সুতরাং, নারী সমাজের দিকে বর্তমান এই আওয়ামী লীগ সরকার চৌকশ সু দৃষ্টির জন্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং চাকরিতেও অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। উন্নয়নের দেশ, এ বাংলাদেশ। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি রোলমডেল হিসেবে অবস্থান করছে। নারীসমাজকে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, নারী হত্যা, নারী পাচার, নারী অপহরণ, নারী বৈষম্য ও নারীসমাজেকে বিভিন্নভাবেই যেন শোষণের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অন্যায় অবিচার থেকে ‘শেখ হাসিনা’ মুক্তি দিতে পেরেছে। এমন বহু অর্জনই তাঁর নিজস্ব অর্জন। বলতেই পারি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী- ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ও আপন বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিচয়ে নয়, তাঁর নিজস্ব পরিচয়েই স্বদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে ইতিহাস হয়ে রবে।



লেখক:

নজরুল ইসলাম তোফা, 

টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, 

সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

মেসির হ্যাটট্রিকের ‘হাফ সেঞ্চুরি

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের ‘হাফ সেঞ্চুরি’ তে সেভিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক জয় নিয়ে ফিরলো বার্সেলোনা। শনিবার স্থানীয় সময় বিকালে প্রতিপক্ষের মাঠে লা লিগার ম্যাচটি ৪-২ গোলে জেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।


বার্সার হয়ে অন্য গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ। সেভিয়ার গোল দুটি করেন হেসুস নাভাস ও গাব্রিয়েল মের্কাদো।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে গোল আদায় করে নেয় সেভিয়া। নিজেদের ডি-বক্সের সামনে মেসির ভুলে প্রোমেস বল পেয়ে সামনে বেন ইয়েদেরকে বাড়ান। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড মাঝমাঠ থেকে অনেকটা ছুটে গিয়ে ডান দিকে হেসুস নাভাসকে পাস দেন। আর স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল ঠিকানায় পাঠান।

২৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে সমতা টানেন মেসি। বাঁ দিক থেকে ইভান রাকিতিচের ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে বুলেট গতির শটে ক্রসবার ঘেঁষে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

এরই সঙ্গে সেভিয়ার বিপক্ষে ২৬ গোল করে লা লিগায় কোনো এক দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি একার করে নেন মেসি। এতদিন রেকর্ডটির যৌথ মালিক ছিল মেসি ও রোনালদো। গত জুলাইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যুভেন্তুাসে যোগ দেওয়া পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডও সেভিয়ার বিপক্ষে ২৫ গোল করেছিলেন।

৪২তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বার্সেলোনা গোলরক্ষকের দুর্বল উঁচু শটে বল পেয়ে যায় সেভিয়া। সতীর্থের পা ঘুরে আসা বল ধরে এগিয়ে গিয়ে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন পাবলো সারাবিয়া। আর ছোট ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল মের্কাদো।

৬৭তম মিনিটে আবারও মেসির নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে শিরোপাধারীরা। সেভিয়া গোলরক্ষকের দুর্বল নিচু শটে বল পেয়ে যায় বার্সেলোনা। সতীর্থের পাস পেয়ে উসমান দেম্বেলে বাড়ান মেসিকে। ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

৮৫তম মিনিটে কার্লেস আলেনার শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল চলে যায় মেসির পায়ে। চিপ শটে একটু এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের উপর দিয়ে বল জালে জড়ান সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মেসির উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে লক্ষ্যে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সুয়ারেজ।

চলতি লা লিগায় ২৫ ম্যাচে ১৭ জয় ও ছয় ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫৭। এক ম্যাচ কম খেলা আতলেতিকো মাদ্রিদ ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তিন নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪৫।

এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসির গোল হলো ২৫টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল হলো ৩৩টি।

স্পেনের শীর্ষ লিগে মেসির এটা ৩২তম আর ক্যারিয়ারে ৫০তম হ্যাটট্রিক। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৩১ বছর বয়সী তারকার মোট গোল হলো ৬৫০টি।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯

কেন সরানো যায়নি পুরান ঢাকার কেমিক্যালের গুদাম?

ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকান্ডে ৭০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যুর পর পুরনো ঢাকা থকে রাসায়নিক পদার্থের গুদামগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেবার কথা আবারো আলোচনায় এসেছে।

কিন্তু আগেকার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অনেকেই বলছেন, এখন এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কিছুদিন পরই বিষয়টি হয়তো আর আলোচনায় থাকবে না, গুদামগুলো সরিয়ে নেবার প্রক্রিয়াও যাবে থেমে - ঠিক যেমনটা আগে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকান্ডের পর রাসায়নিক কারখানাগুলো সরিয়ে নেবার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা রাজি না হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি।

অবশ্য ব্যবসায়ীরা এ কথা স্বীকার করেন না। তারা বলেন, তারা পুরোনো ঢাকা থেকে সরে যেতে রাজি আছেন। পরিবেশকর্মীরা বলেন, আসলে সরকারই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন - বুধবার তাদের দেখতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেমিক্যাল গুদামের জন্য ঢাকার পাশেই কেরানীগঞ্জে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল।



"সেখানে (কেরানীগঞ্জে) আমরা খুব আধুনিক গোডাউন তৈরি করে দিতে চাচ্ছিলাম, বহুতল ভবন করে, যেখানে কেমিক্যালগুলি সুরক্ষিত থাকবে। যেহেতু মালিকরা রাজী হন নাই, যার জন্য ওটা আর কার্যকর করা যায় নাই" বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পুরনো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কথা বলে দেখা গেল, যেসব বাড়ির মালিক কেমিক্যাল কিংবা নানা দাহ্য পদার্থের গুদাম বা দোকান ভাড়া দিয়েছেন, তাদের অনেকেই সে বাড়িতে থাকেন না। সুতরাং সে বাড়ি থেকে যত বেশি সম্ভব ভাড়ার টাকা তুলে আনাটাই তাদের লক্ষ্য থাকে।

এ নিয়ে স্থানীয় বাড়ির মালিকদের মধ্যেও নানা ধরণের দ্বন্দ্ব আছে।

স্থানীয় এক বাড়ির মালিকের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার শীলা বিষয়গুলো নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। "আমাদের সমস্যার সমাধান কে করবে? টাকার জন্য ওনারা কেমিক্যাল গোডাউন ভাড়া দেয়। ওদের কারণে আমরা শান্তিতে নাই। এটা কি সমাধান হবে না কখনোই? এটার সমাধান আমাদের সরকারকেই করতে হবে" বলছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বারবার অভিযান চালিয়েও এসব রাসায়নিকের গুদাম সরানো সম্ভব হয়নি।

কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাবী করছেন, জায়গা পেলে এখন পুরনো ঢাকার অলি-গলি থেকে সরে যেতে তাদের আপত্তি নেই।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, একটি কাজ আট বছরে বাস্তবায়ন করতে না পারায় বোঝা যায়, সরকার আসলে বিষয়টি তেমন একটা গুরুত্বই দেয়নি এমনটাই বলছেন, পরিবেশবাদীরা।

কারণ, সরকার চাইলে আট বছরেও একটি কাজ করা সম্ভব নয়, এ কথা বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না অনেকের কাছেই।

পরিবেশবাদী আইনজীবী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, "এখানে মুখ্য দায়িত্ব সরকারের। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সে ব্যর্থ হয়েছে, আইন বাস্তবায়বায়নকারী সংস্থা হিসেবে সে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের জানমালের হেফাজত দেয়ার যে দায়িত্ব তার (সরকার), সেটা করতে সে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যদি সচেষ্ট হতো, তাহলে এ গোডাউনগুলোকে সরিয়ে নেয়া যেত।"

বাংলাদেশে কোন দূর্ঘটনার পর সরকারের দিক থেকে প্রতিশ্রুতির কোন কমতি থাকে না। চকবাজার অগ্নিকান্ডের পর তাই হয়েছে।

রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেবার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেটি আদৌ গুরুত্বের তালিকায় থাকবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ আছে অনেকের মনে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

যুগান্তর সাংবাদিক গ্রেফতারে ঘাটাইল প্রেসকাবের নিন্দা

দৈনিক যুগান্তরের লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘাটাইল প্রেসকাবের নেতারা। গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে তারা বিবৃতি দেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ঘাটাইল প্রেসকাবের সভাপতি মো.নজরুল ইসলাম সিনিয়র সহ সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি খান ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান মিঞা,সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ, কোষাধক্ষ্য মো.মাসুম মিয়া, দপ্তর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান,সাংবাদিক আতিকুর রহমান,রেজাউল করিম খান রাজু প্রমুখ।

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২ ; আহত ৬

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আহত হয় অনন্ত ৬ জন ।

শনিবার ভোরে জেলার কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কের হাতিয়ায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহতরা হলেন, মাইক্রোবাস চালক মোশারফ হোসেন মুসা ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুজনের সভাপতি সৈয়দ শাহজামাল।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। শনিবার ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া নামকস্থানে পৌঁছলে মাইক্রোবাসটিকে পিছন থেকে অপর একটি অজ্ঞাত পরিবহন ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) এর চাপাইনবাবগঞ্জ শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজামাল ও মাইক্রোবাস চালক নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত হয় আরো ৪জন। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন ‘এমএ পাস’ ওসি!

নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। চলতি বছর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রের ১নং রুমে বসে পরীক্ষা দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ওই কেন্দ্রে গিয়ে ওসির পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে মফিজ উদ্দিন শেখ ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মে তিনি ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত।

একাধিক পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জানান, ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করার সনদপত্র দিয়ে পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি নিয়েছেন। তিনি ৮ম শ্রেণির সনদপত্র দিয়ে কনস্টেবল পদে পুলিশ বিভাগে যোগদানের পর পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে ডিমলা থানায় কর্মরত আছেন।

উন্মুক্ত বিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৭ সালে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন। যার রোল নং-৭। ২০১৮ সালের প্রথম সেমিস্টারের ও চলতি বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিস্টারের বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মফিজ উদ্দিন শেখ, যার পরীক্ষার রোল নং-১৭-০-১০-২৪৮-০০৭। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম মফিজ উদ্দিন শেখ, পিতা- রজব আলী শেখ ও মায়ের নাম রয়েছে নুরুননেছা বেগম।

এ বিষয়ে জলঢাকা আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে তিনি (মফিজ উদ্দিন শেখ) বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২টি সেমিস্টারের পরীক্ষায় এবার পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ওসি মফিজ উদ্দিনসহ দ্বিতীয় সেমিস্টারে ৯৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

এ ব্যাপারে ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। আমি আমার আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে পদোন্নতি নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েছি। এরপরও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় আবারও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। মানুষ ডাবল এমএ পাস করে না? এতে অসুবিধা কী?

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নীলফামারীর পুলিশ সুপার আশরাফ আলীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

তারেকের নির্দেশনায় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছা্ত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে ছাত্রদল। এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রদল নেতারা স্কাইপেতে কথা বলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরই ছাত্রদল নেতারা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। ছাত্রদলের একাধিক নেতা এ-তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসে বিএনপি নেতাো। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানী, কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীসহ ছাত্রদলের প্রায় ৫০জন নেতাকর্মী।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের ডাকসু সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়।  এরমধ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব হলে ছাত্রদলের কমিটি নেই, সেখানে কমিটি দেওয়া, দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের একটি হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক থাকলও নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে দোলাচলে ছিল।  কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ছাত্রদল।  ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দল প্যানেল চূড়ান্ত করবে।  এছাড়া ছাত্রদল যে সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছিল সেই দাবিও অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘আমরা ডাকসুর জন্য সময় বাড়ানোর দাবি করেছি।  কিন্তু প্রশাসন সময় বাড়াচ্ছে না।  আমরা বলেছি, ডাকসু নিয়ে ইতিবাচক থাকতে চাই।  সেজন্য আমাদের প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে।  প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি যেন যেকোনো সিদ্ধান্ত ফেস করতে পারি।’

ছাত্রদলের এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘কর্তৃপক্ষ ৫ মার্চ সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।  আর ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকসুর মনোনয়ন গ্রহণ করবে।  এতে আমাদের অনেক ভোটার প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভালোভাবে প্রস্তুত  নয়।  দ্রুত নির্বাচন করতে যেয়ে তারা একটি লেজে-গোবরে অবস্থা করে ফেলছে।  তাদের উচিত সময় বাড়ানো।’

প্রসঙ্গত, আসন্ন ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচন ৩ মাস পেছানোসহ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল।  নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘ ৯ বছর পর  ১৩ ফেব্রয়ারি তারা মধুর ক্যান্টিনে আসে।  সেই থেকে ছাত্রদল মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত এসে ডাকসুর ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্য রাখছে।

তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের একটি পক্ষ ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে না।  কিন্তু বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে ডাকসু নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।  পাশাপাশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াও শুরু করে।

উল্লেখ্য, ১১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে।  ২৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ও মনোনয়ন বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩ মার্চ হলের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।  ভোটগ্রহণ হবে ১১ মার্চ (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯

নিহতদের কুলখানি ও দোয়া মাহফিল শনিবার

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় আগামীকাল শনিবার বাদ আসর চুড়িহাট্টা মসজিদে কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। 

এর আগে শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের জন্য গায়েবানা জানাযা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে নগর ভবনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যে কোন তথ্য এই নম্বরে  ৯৫৫৬০১৪ ফোন করে দেয়া যাবে। 

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনসমূহ বসবাস উপযোগী আছে কি না এ বিষয়ে তদন্ত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এতে আরো রয়েছেন- বুয়েটের প্রফেসর ড: মেহেদী আহমেদ আনসারি, প্রফেসর ড: ইশতিয়াক আহমেদ, ফায়ার ব্রিগেডের লে. ক. জুলফিকার রহমান রাজউক এর মো: শাহ আলম, নুরুল ইসলাম, নুরুজ্জামান জহির, ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো:আসাদুজ্জান, মো:জাফর আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল হাসেম এবং প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো: সিরাজুল ইসলাম। 

শুক্রবার সকালেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
সোর্স : আজকের টাঙ্গাইল ডটকম।

ঘাটাইলে দিন দুপুরে লুটতরাজ আহত ৩

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের হায়দার আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার মালামাল প্রকাশ্যে লুটতরাজ করে নিয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী পাগারিয়া গ্রামের শাজাহান ওরফে নয়া শিকদার ও তার লোকজনেরা।

লুটতরাজে বাধা দিতে গিয়ে মালিক পক্ষের ৩ জন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী ক্ষতিগ্রস্থ হায়দর আলী বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় একটি ভাংচুর ও লুটতরাজ মামরা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২৩।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, জালালপুর গ্রামের ইউছুফ আলীর ছেলে হায়দর আলী তার নিজস্ব জমিতে গোডাউন তৈরী করে একতা ফুড প্রোডাক্ট মৃগেল স্পেশাল মুড়ি ও চিড়ার মিল ছাড়াও প্রাণ গ্রুপ সহ বড় বড় বিভিন্ন কোম্পানীর ডিলারসিপ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ইউসুফ আলীর ছেলে কিসমত আলী জানায় হায়দর আলীর বড় ব্যবসাকে ভাল চোখে নেয়নী বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গবদ্ধ চক্রের সদস্য পাগারিয়া গ্রামের মৃত রুপা শিকদারের ছেলে শাহজাহান ওরফে নয়া শিকদার ও তার দলের লোকজনেরা।

তারা পরিকল্পিতভাবে মালামাল লুট করতে ১৯ ফেব্রুয়ারী ভোর বেলায় ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশিয় অস্ত্রে দা, কুড়াল, রামদা, চাপাতি, লোহার রড, শাবল, হাতুর নিয়ে মিলের টিনের দেয়াল ভেঙ্গে গাড়ী নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং গোড়াউনের তালা ভেঙ্গে সিগারেটের কাটুন সহ দামী দামী মালামাল গাড়ীতে তুলতে থাকে।

এ সময় গোডাউনে থাকা ইউছুফ আলী ও তার ছেলে হাসমত আলী এবং হাসমতের স্ত্রী জরিনা বেগম লুটতরাজে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের এলোপাথারি মাইরপিট করে রক্তাক্ত জখম করে এবং ইউছুফ আলীর পা ভেঙ্গে ও মাথা ফাটিয়ে আহত করে মালামাল লুট করে গাড়ীতে তুলে নেয়। এ সময় আহতদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের অস্ত্রের ভয় দেখাইয়া মালামাল সহ গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায়।

১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী দুই দিনের অনুসন্ধান কালে মিলের পার্শ্ববর্তী জালালপুর গ্রামের নজ্জেশ আলী মুন্সীর ছেলে শামছুল হক, হায়েত আলীর ছেলে রহমত আলী ও ওসমান সুতারের ছেলে জয়েন উদ্দিন, আশরাফ আলীর স্ত্রী রুপিয়া বেগম, আইয়ুব আলীর স্ত্রী শেফালি বেগম সহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অনেকেই জানায় আসামীরা সকলেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গবন্ধ সক্রিয় সদস্য। এমন কোন অপরাধ নাই তারা না করে থাকেন।

এ বিষয়ে ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও লুটতরাজ মামলার ৩নং আসামী শফি উদ্দিনের নিকট মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এখন ব্যস্ত আছি- এ বিষয়ে আমি আপনাকে পরে জানাব বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

দিনের বেলায় লুটতরাজের বিষয়ে সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, দুইটা হাতই আমার তবে শাজাহানের নেতৃত্বে যে কাজটা হয়েছে তা মোটেই উচিত হয়নি। কারন হায়দর ও তার ভাইয়েরা অত্যন্ত ভাল মানুষ।

এ বিষয়ে সাগরদিঘী তদন্ত ফাঁড়ির এস/আই ফজলুল হক জানান দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল, তবে সেদিনের ঘটনা ঘটানো মোটেও উচিত হয়নি।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘাটাইলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো সজিব আহাম্মেদ গণগ্রন্থাগার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সজিব আহাম্মেদ গণগ্রন্থাগারের আয়োজন লোকেরপাড়া ইউনিয়নের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরুস্কার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন  এহসান ইসলাম মানিক, ইবরাহীম খা সরকারী কলেজ প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম পাপ্পু প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অত্র ইউনিয়নের প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া দেয়া হয়।

মারা গেছেন ঘাটাইল জিবিজি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মনসুর আহমেদ

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল : আজ শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জিবিজি সরকারী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর আহমেদ (৭৬) সকাল সাতটায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নানিলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি মৃত্যকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

শুক্রবার আছরের নামাজের পর ঘাটাইল জিবিজি সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে তার জানাজা নামাজ শেষে পৌর এলাকার দক্ষিনপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায়।

তিনি ঘাটাইল জিবিজি কলেজের প্রথমে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১১সাল পর্যন্ত দুইবার সুনামের সহিত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহন করেন।

পুরান ঢাকায় হয় কারখানা থাকবে নয় বাড়িঘর

পুরান ঢাকা খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। এখান থেকে এবার সব কারখানা সরিয়ে নেওয়া হবে। পুরান ঢাকায় হয় কারখানা থাকবে নয়তো বাড়িঘর থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী।

এসময় ঢাকা মেডিকেলে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের দেখার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দগ্ধদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে সরকার।

স্থানীয়রা বলছেন, চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আবাসিক ভবনটিতে কেমিক্যাল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের আরও ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

ঘাটাইল হামদর্দের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আজ বৃহস্প্রতিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হামদর্দ শাখার উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রায় শতাধিক অসহায় দুস্থ্য ও গরীব রোগীদের মাঝে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়।

এ সময় ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি খান মোঃ ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দপ্তর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান, হামদর্দ ঘাটাইল শাখার ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মহব্বত হোসেন, চিকিৎসক হাকীম মোঃ মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে সাবেক এমপি রানার পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন

সারা বিশ্বের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তব অর্পন করেছে উপজেলা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম(রফিক)সদস্য এসএম বাবলু, সাবেক পৌর কাউন্সিরল মোঃ মুনছুর আলী  প্রমুখ।