শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

১০০ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জোট সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ফলে বদলে যাচ্ছে জোটকেন্দ্রিক নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। বর্তমান ২০ দলীয় জোট বহাল রেখেই 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট' নামে নতুন আরেকটি জোটে শামিল হয়েছে বিএনপি। এখন সরকার ও বিরোধী জোটের বাইরে থাকা ছোট ছোট ধর্মভিত্তিক এবং বাম ও ডানপন্থি অন্য দলগুলোকেও ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগবিরোধী নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকেও প্রার্থী মনোনয়ন দেবে দলটি। নির্বাচনে আসন ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে আগের অবস্থান থেকেও সরে আসছে বিএনপি। এত দিন জোটের শরিকদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি আসন বণ্টনের পরিকল্পনা থাকলেও এখন আরও উদার হয়ে উঠেছে বিএনপি হাইকমান্ড। সম্প্রসারিত জোট এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মিলিয়ে সর্বোচ্চ একশ' আসন পর্যন্ত ছাড়তে রাজি বিএনপি। দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে আসন বণ্টনের ব্যাপারে যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে বার্তা পাঠিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে দলের সঙ্গে থাকা নেতাদের ত্যাগ স্বীকারের বিষয়টি বিএনপি ভুলে যাবে না বলে জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে নতুন জোট করা দলগুলোর নেতাদের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখানো হবে। তবে কৌশলগত কারণে আসন বণ্টনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন বিএনপির কোনো নেতা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে বড় ছাড় দিতে তারা প্রস্তুত।

এ মুহূর্তে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই বড় চ্যালেঞ্জ। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে আরও যেসব দল তাদের জাতীয় ঐক্য গড়ার ডাকে সাড়া দেবে, সবাইকে নিয়ে আন্দোলন ও নির্বাচন করতে চান। জোট সম্প্রসারণ ও আসন বণ্টন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও আলোচনার সময় আসেনি। এখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে ঘোষিত কর্মসূচি পালনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি দুই জোটের শরিক সব দলকেই যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

২০০৮ সালে ২৬০ আসনে প্রার্থী ছিল বিএনপির। ৪০ আসন ছেড়ে দেওয়া হয় শরিকদের। জামায়াতকে ছাড় দেওয়া ৩৩ আসনে 'ধানের শীষ' প্রতীক ছিল না। বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে দুটি করে এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটিসহ মোট সাতটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। তবে এসব দলের প্রার্থীরা 'ধানের শীষ' প্রতীকে ভোটে অংশ নেন। ২০১২ সালে জোট সম্প্রসারণে বিএনপির শরিক বেড়েছে। ১৪টি দল গত কয়েক বছরে বিএনপির জোটে এসেছে। সর্বশেষ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট' নামে নতুন জোট করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন ও পুরনো মিত্রদের ধরে রাখা এবং জোট আরও সম্প্রসারণ করতে বিএনপি হাইকমান্ড এবার সর্বোচ্চ একশ' আসন পর্যন্ত ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, এবার জোটবদ্ধ নির্বাচনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নিজেদের দীর্ঘদিনের আসনও ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে তারা। বিএনপি থেকে ন্যাপ ও এনডিপি বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটের অন্য শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

জোট সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অনেক দল ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দিতে চায়। তবে জোট সম্প্রসারণ হবে কি-না, এ সিদ্ধান্ত পরে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়ার জন্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সামনে এই ঐক্য আরও জোরদার হবে; আরও সম্প্রসারিত হবে। সরকার ভীত হয়ে ফ্রন্টের নেতাদের সম্পর্কে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট :বিএনপির নতুন মিত্র ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ একশ' আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণফোরাম ৩০, জেএসডি ৩০ ও নাগরিক ঐক্য ৩০ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারাও নির্বাচন করতে পারেন। নাগরিক সমাজের জন্য ১০টি আসন চাওয়া হবে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা আরও বড় হবে বলেও জানিয়েছেন দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা।

জামায়াতে ইসলামী :২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৩টি আসন দিয়েছিল বিএনপি। দলটি ৩৯ আসনে প্রার্থী দেয়। তবে একটিতে ভোটের আগে বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ায়। বাকি পাঁচ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে, দুটিতে বিএনপিকে টপকে দ্বিতীয় হয়। আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াত যুদ্ধাপরাধের বিচারে এবার কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। প্রকাশ্য রাজনীতিতে না থাকলেও জামায়াতের দাবি ৬০টি আসনের। তবে শেষ পর্যন্ত ৪০ আসনের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নেবে তারা।

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার সমকালকে বলেন, জামায়াত জোটের কাছে কত আসন চায়- তা এখনই খোলাসা করতে চান না। তারা নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসনভিত্তিক প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে। ২০০৮ সালের চেয়ে এবার বেশি আসন চাওয়া হবে। তফসিলের পর জোটসঙ্গীদের আলোচনায় তা চূড়ান্ত হবে।

নিবন্ধনহীন জামায়াত দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বিএনপির প্রতীকেও তারা আগ্রহী নয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, নিবন্ধন হাইকোর্টে বাতিল করলেও সুপ্রিম কোর্টে আপিল চলছে। ভোটের আগেই এর ফয়সালা হয়ে যাবে। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা ৪০ আসনের কমে মানবে না। তবে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতকে এবার সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০টি আসন দেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টি (জাফর) :বিগত নির্বাচনের আগে এরশাদের জাতীয় পার্টি ছেড়ে দলটির একাংশ প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির জোটে যোগ দেয়। দলটির দাবি অন্তত ২০ আসন। কিন্তু বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, পাঁচটির বেশি আসন দেওয়া হবে না। জাতীয় পার্টিতে (জাফর) ২০০৮ সালের সংসদে এমপি ছিলেন তিনজন। এ দলের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার সমকালকে বলেন, তাদের দলে ১২ জন সাবেক এমপি রয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো আরও যোগ্য নেতা রয়েছেন। তারা আশা করেন, বিএনপি যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নেতাদের মনোনয়ন দেবে।

এলডিপি : কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নেতৃত্বাধীন এলডিপির চাওয়া ৩০ আসন। দলটিতে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত কয়েকজন সাবেক এমপি রয়েছেন। এলডিপিকেও সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাতটি আসন দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপি সূত্র জানায়।

এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আসন নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনা হলে প্রার্থীর তালিকা জানানো হবে। তবে যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম বলেন, এলডিপিতে অনেক সাবেক এমপি ও যোগ্য নেতা রয়েছেন। সব প্রলোভন ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। তারা আশা করেন, এবার যোগ্য ও জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপি মূল্যায়ন করবে।

বিজেপি :২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ ও ২ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছিল আন্দালিভ রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বিজেপি। ভোলা-১ আসনে আগামীতেও আন্দালিভ রহমানের মনোনয়ন নিশ্চিত। তিনি ঢাকায় একটি আসনেও নির্বাচন করতে চান। তবে দলটি নিশ্চিত করেনি আগামী নির্বাচনে তারা কয়টি আসন চায়।

জমিয়ত :দলটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জোটের মনোনয়নে 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিল। সম্প্রতি এ দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একাংশের সভাপতি সাবেক এমপি মুফতি মুহম্মদ ওয়াক্কাস এবারও যশোর-৫ থেকে মনোনয়ন চান। সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা সুনামগঞ্জ-২ থেকে মনোনয়ন চান। অপর অংশের নির্বাহী সভাপতি আবদুর রব ইউসুফি, মহাসচিব মহীউদ্দিন ইকরামও জোটের মনোনয়ন চান।

ইসলামী ঐক্যজোট (রাকিব) :ইসলামী ঐক্যজোটের মূলধারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে গেছে। আবদুর রাকিবের নেতৃত্বে ছোট একটি অনিবন্ধিত অংশ রয়ে গেছে। ২০০৮ সালে ইসলামী ঐক্যজোট দুটি আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছিল। এবার দলের চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব ও মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম প্রার্থী হতে চান।

জাগপা :জাগপার প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ২০০৮ সালের নির্বাচনে দিনাজপুর-২ থেকে জোটের মনোনয়নে 'ধানের শীষ' প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবার তার মেয়ে দলের সিনিয়র সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রার্থী হতে পারেন।

কল্যাণ পার্টি :নিবন্ধিত এ দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন- এমন দাবি দলটির নেতাদের। আটটি আসনে মনোনয়ন চায় তারা।

খেলাফত মজলিস :নিবন্ধিত দলটি জোটে থাকলেও গতবার কোনো আসনে ছাড় পায়নি। তাদের চাওয়া আগামী নির্বাচনে ১০ আসন। দলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন চান।

ন্যাপ (একাংশ) :নিবন্ধিত ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণির নেতৃত্বাধীন একাংশ ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করেছে। সূত্র জানায়, নীলফামারী-১ আসন থেকে জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি জোট ছাড়েন। খণ্ডিত দলের শীর্ষ নেতারাও জোটের মনোয়ান চাইবেন।

ন্যাপের সঙ্গে অনিবন্ধিত এনডিপি খোন্দকার গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন একাংশ জোট ত্যাগ করেছে। অপর অংশ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আছে। তারাও শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন চাইবেন।

নিবন্ধিত দল মুসলিম লীগ একটি আসন চায়। এ ছাড়া অনিবন্ধিত এনপিপি, ডেমোক্রেটিক লীগ, সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস লীগ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাপ ভাসানীর শীর্ষ নেতারাও মনোনয়ন চান। সূত্রঃ সমকাল।

পাবলিক এখন ইলেকশন মুডে আছে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গোড়াতেই গলদ।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ব্রিজের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, মওদুদ আহমদের গলার জোর ছাড়া কিছু নেই। তার চাপাবাজি ছাড়া আর কিছু নেই। রাস্তায় জনগণকে ডাক দিক না, জনগণ তাতে সারা দেয় কিনা। তারা আন্দোলন কি জনগণ ছাড়া করবে? আর তাদের ঐক্যফ্রন্টের গোড়াতেই গলদ। ঐক্যের শুরুটাই করেছে তারা বিদেশিদের নিয়ে। জনগণের কাছে না গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গেছে বিদেশিদের কাছে।

মন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বিদেশিদের আস্থায় আনতে চায়। জনগণের আস্থা তাদের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। যদি জনগণের প্রতি তাদের আস্থা থাকত তাহলে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর তারা জনগণের কাছে যেত।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখন মানুষ ইলেকশনমুখী। পাবলিক এখন ইলেকশন মুডে আছে। কেউ এখন আন্দোলনের দিকে তাকিয়ে নেই।

পরিদর্শনকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, চন্দ্রা ফ্লাইওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মূল ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই ব্রিজের পুরো কাজ শেষ হবে এ লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

মন্ত্রীর সঙ্গে সাসেক প্রকল্প পরিচালক মো. ইছহাক আলী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সওজের ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে শিক্ষক কর্মচারী কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিডেটের সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) ১১টায় ঘাটাইল পৌর এলাকার আলহেরা স্কুল প্রাঙ্গণে এর ১০ম সাধারণ সভা ও নির্বাচন ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকুটিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জীবুন নিছা সভাপতি ও সাধুুটি নজিব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সভায় শিক্ষক কর্মচারী কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি মো.শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আশফাকুজ্জামান খানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহম্মেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. শওকত হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল হক প্রমুুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক বৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে বাৎসরিক লাভ-ক্ষতির হিসাব প্রধান ও ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আশফাকুজ্জামান খানের পরিচালনায় আগামী ৩ বছরের জন্য উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাকুটিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জীবুন নিছা সভাপতি, চৈথট্ট গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ সহ সভাপতি, সাধুুটি নজিব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মো. ফজলুল হক, মো. শাজাহান আলী নির্বাচিত হন।

ঘাটাইলে দুর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে নৌকায় ভোট চাইলেন তানভীর রহমান

জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে নৌকায় ভোট চাইলেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মতিউর রহমানের পুত্র আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর রহমান।

বুধবার (১৮অক্টোবর) দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় ও নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন তিনি।

এ সময় তিনি পূজামন্ডপে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাধ্যমতো অনুদান প্রদান করেন।

উপজেলার দেওপাড়া, ধলাপাড়া, সাগরদিঘী, সংগ্রামপুর, সন্ধানপুর, দিঘলকান্দী, দিগর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গাপুজা মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ ও কৃষকলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ তানভীর রহমানের সাথে উপস্থিত থেকে নৌকার প্রচারণায় অংশ নেন।

বিকল্পধারা থেকে বি. চৌধুরীসহ ৩ নেতাকে বহিষ্কার


বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীকে দল থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক সম্মলন করে এ ঘোষণা করেন ড. নরুল আমিন ব্যাপারী। তিনি নিজেকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহ আহম্মেদ বাদলের নাম ঘোষণা করেন।

নরুল আমিন বলেন, ‘দলীয় গঠন তন্ত্র অনুযায়ী বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী চৌধুরীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

শাহ আহম্মেদ বাদল বলেন, ‘প্রেস ক্লাবে আমাদের হল বুকিং দেওয়া থাকলেও হঠাৎ করে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তাই আজকে এখানে (প্রেস ক্লাব চত্বরে) ঘোষণা দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী অত্যন্ত ভালো মানুষ। কিন্তু তার ছেলে মাহী চৌধুরীর কূটচালে তিনি শেষ পযন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতে পারেননি।’

জামায়াত প্রশ্নে বি. চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যায়নি আপনারা কী করবেন এমনে প্রসঙ্গে নুরুল আমিন বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ জামায়াতকে সমর্থন করে না। এটা মাহী চৌধুরীর কূটচাল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেজর মান্নানের দুর্নীতির খবর বের হয়েছে। কোনও দুর্নীতিবাজ বিকল্প ধারায় থাকতে পারে না।’ তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যাবে বলেও জানান নুরুল আমিন।

মন্দিরে গিয়ে নৌকায় ভোট চাইলেন শহিদুল ইসলাম লেবু


বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় পৌর এলাকায় অবস্থিত সার্বজনীন হরিমন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবে মহানবমী পুজায় সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক বিআরডিবি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক জিবিজি কলেজের সাবেক অধ্যাপক অধির চন্দ্র সাহা সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বৃন্দ।

ঘাটাইলের রিপোর্ট যদি মানসম্মত হয় আর নিয়মিত প্রকাশ হয়, তাহলেও কিন্তু বিপদ

মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম
আপনার রিপোর্ট যদি মানসম্মত হয় আর নিয়মিত প্রকাশ হয়, তাহলেও কিন্তু বিপদ আছে। আপনার সহকর্মী হয়ে উঠবে আপনার প্রধান শত্রু। আপনার সাফল্য দেখে সহকর্মীর গায়ে জ্বালা ধরবে। সহকর্মী আপনাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করবেন। যার অন্যায় অপকর্ম নিয়ে রিপোর্ট করবেন আপনার সহকর্মী তার সঙ্গে হাত মেলাবেন। রিপোর্টটি যদি মানসম্মত হয় তাহলে ডেস্কের দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা সেটা ফেলতে পারেন না। বরং গুরুত্ব সহকারে তা প্রকাশ করেন। তাই সব সময় মানসম্মত রিপোর্ট তৈরির পর তা অফিসে প্রেরণ করতে হবে।

আমি সব সময় ভাল বিষয়টিকে গ্রহণ করে মন্দ বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করার কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের এই লেখা।

ঘাটাইলের সাংবাদিকদের সভ্য সমাজের অনেকেই সাংবাদিক হিসেবে মানতে চান না। কারণ অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি যাদের নেই, তারা সাংবাদিক নন। অনেকে আবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের রিপোর্টার বা সংবাদদাতা বলে অভিহিত করেন।

নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের পর খবর তৈরি করে অফিসে প্রেরণ করাই একজন সংবাদকর্মীর কাজ। এর মধ্যে সাংবাদিক, রিপোর্টার বা সংবাদদাতার মধ্যে পার্থক্য কি তা বুঝি না। পরিচয় নিয়ে যেহেতু কথা হচ্ছে, সেহেতু প্রয়োজনে নিজেকে ‘সংবাদকর্মী’ হিসেবে পরিচয় দেয়াই শ্রেয়।

সাংবাদিকতা পেশা একটি অদ্ভুত নেশা। এই নেশায় আক্রান্ত হলে আর রক্ষা নেই। প্রতিদিন একটি রিপোর্ট তৈরি না করলে নেশাগ্রস্তদের মতো আপনাকে ছটফট করতে হবে। তবে সবদিকের তথ্য সংগ্রহের পর একটি মানসম্মত রিপোর্ট তৈরি করা খুবই কষ্টের কাজ।

আপনার রিপোর্ট যদি মানসম্মত হয় আর নিয়মিত প্রকাশ হয়, তাহলেও কিন্তু বিপদ আছে। আপনার সহকর্মী হয়ে উঠবে আপনার প্রধান শত্রু। আপনার সাফল্য দেখে সহকর্মীর গায়ে জ্বালা ধরবে। সহকর্মী আপনাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করবেন। যার অন্যায় অপকর্ম নিয়ে রিপোর্ট করবেন আপনার সহকর্মী তার সঙ্গে হাত মেলাবেন।

সেক্ষেত্রে আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে কুন্ঠাবোধ করবে না। কেবল তাই নয়, আপনার বিরুদ্ধে পত্রিকা অফিসে ভুরি ভুরি অভিযোগ দিয়ে ভাবমূর্তি নিয়ে টানাটানি করবেন। এমনকি সহকর্মীরা অডিও রেকর্ড তৈরি করে আপনাকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে সম্পাদককে অবহিত করতে পারে যে, আপনার প্রতিনিধির কারণে পত্রিকার ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই না করে পত্রিকার নীতিনির্ধারকরা যদি আপনার ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই হাউসে কাজ না করাই ভালো। মনে রাখতে হবে, নিজের যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা থাকলে যেখানে কাজ করবেন সেখানেই আপনার জয় জয়কার।

বর্তমানে অনেকে সাংবাদিকতা পেশাকে জাহির করে চলেন। নির্মাণ কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে ক্যামেরা আর মোটরসাইকেল নিয়ে এমন অঙ্গভঙ্গি করেন যা দেখে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। এর মানে হলো- অবিলম্বে যোগাযোগ করেন অন্যথায় ঠিকাদারের সমস্যা হয়ে যাবে।

আবার যথাসময়ে যোগাযোগ না করলে আক্রোশমূলক খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের হেনস্থা করা হয়। এটি কিন্তু সাংবাদিকদের কাজ নয়, সাংবাদিকতা একটি ছদ্মবেশী পেশা। সাংবাদিকরা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এখানে কি ঘটেছে বা হচ্ছে তা খবরের কাগজে পড়ে মানুষ চমকে উঠবেন। একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী হতে হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করতে হয়।

যিনি আপনার সোর্স হবেন, তার কথা শুনেই রিপোর্ট তৈরি করা যাবে না। ঘটনার সঙ্গে সোর্সের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তাই খবর শুনে তা যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য দিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, যে পেশায় আপনি কাজ করেন না কেন আগে আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারোর কথায় রিপোর্ট করে নিজের ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দেয়া যাবে না।

আপনার কোনো সহকর্মী নিজেকে হিরো জাহির করতে তার পত্রিকায় আসল ঘটনার সঙ্গে মুখরোচক মনগড়া তথ্যজুড়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। তা দেখে আপনার হাউসে থেকে উর্ধ্বতন কেউ ফোন করে আপনার কাছে কৈফিয়ত চাইছে।

আপনি বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। এ রকম যদি একাধিকবার ঘটে আর আপনি তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হন বা আপনার কথায় কতৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হয় তাহলে সে হাউসে কাজ না করাই ভালো। আগেই বলেছি, সোর্স বা হাউসের কারও উস্কানিতে রিপোর্ট লিখে নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেবেন না। তবে অফিসের কোনো স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট থাকলে গুরুত্ব সহকারে সেই দায়িত্ব পালন করুন।

অফিস থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা কি পরিমাণ পারিশ্রমিক পান তা সংশ্লিষ্টরা ভালো জানেন। যাদের পিছুটান আছে তাদের গ্রামীণ সাংবাদিকতা পেশায় না আসা উত্তম। অবশ্য আজকাল অনেকে সাংবাদিকতা পেশাকে লাভজনক মনে করেন। ঘাটাইলের সাংবাদিকতা পেশায় এসে অনেকে ভালো ব্যবসা-বাণিজ্যও করছেন। তাই দিন দিন এই মহান পেশাটি সাধারণ মানুষের কাছে ঘৃণায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। ঘাটাইলের সাংবাদিকতা বিষয়ে আমার কোন উচ্চতর ডিগ্রি নেই। কাজ করতে গিয়ে রিপোর্ট লেখার কৌশল কিছুটা রপ্ত করেছি। তবে এখনও শেখার অনেক বাকি আছে। এখনও প্রায় প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখছি। কথায় আছে, শেখার শেষ নেই। দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে এই পেশায় যতটুকু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তার মধ্যে ভালো ও মন্দের মিশ্রণ রয়েছে।

লেখক : মো. খায়রুল ইসলাম
           ঘাটাইল প্রতিনিধি
          দৈনিক সংগ্রাম।

বিসিবি একাদশ-জিম্বাবুয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ আজ

বিসিবি একাদশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আজ। সাভারের বিকেএসপিতে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টায়। এই ম্যাচে বিসিবি একাদশকে নেতৃত্ব দিবেন সৌম্য সরকার। কিন্তু সৌম্য সরকার জিম্বাবুয়ে সিরিজের ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।

এই সিরিজের স্কোয়াডে যারা আছেন তাদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোয়াডে আছেন ফজলে রাব্বী, আরিফুল হক ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ফজলে রাব্বী এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মোট তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

আগামী ২১ অক্টোবর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। এই ভেন্যুতেই ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ তথা শেষ ওয়ানডে ম্যাচ।

চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দুই দল চলে যাবে সিলেটে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩ নভেম্বর শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। এবারই প্রথমবারের মতো সিলেটে টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সিলেটে ম্যাচ শেষে করে দুই দল আবার ঢাকায় ফিরবে। ১১ নভেম্বর মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ।

বিসিবি একাদশ: সৌম্য সরকার (অধিনায়ক), আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ফজলে রাব্বী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মিজানুর রহমান, মোহর শেখ, নাঈম হাসান, ইয়াসিন মিশু, ইবাদত হোসেন, আফিফ হোসেন, জাকির হাসান।

জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে স্কোয়াড: হ্যামিলটন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), সলোমন মিরে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, পিটার মুর, এলটন চিগুম্বুরা, ডোনাল্ড তিরিপানো, কাইল জারভিস, ব্রান্ডন মাভুতা, রিচার্ড এনারাভা, জন নায়ুম্বু, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তারিসাই মুসাকান্দা, টেন্ডাই সাতারা, কেফাস ঝুওয়াও।

গানে গানে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ

‘এই রূপালী গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো দূরে বহু দূরে’, ‘অভিলাষী আমি, অভিমানী তুমি... আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে’, ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে... তুমি ক্ষমা করে দিও আমায়।’

সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় এই গানে গানে তাকে স্মরণ করেছেন বরগুনার উন্নয়ন কনসার্টের সঙ্গীতশিল্পীরা। সঙ্গীতশিল্পীদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এসব গান গেয়ে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করেছেন কনসার্টে আগত আইয়ুব বাচ্চুর ২০ সহস্রাধিক ভক্ত ও শ্রোতা।


কিংবদন্তি এই সঙ্গীতশিল্পীর মূত্যুর দিনে তার ভক্তরা কেউ বা এসেছেন কালো ব্যাচ ধারণ করে আবার কেই কেউ এসেছেন শোক জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে লিখে নিয়ে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বরগুনা স্টেডিয়ামে এ উন্নয়ন কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জেমস, বাপ্পা মজুমদার, পুলক এবং মেহেরীনসহ স্থানীয় শিল্পীরা।

আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতিচারণ করে উন্নয়ন কনসার্টে সঙ্গীতশিল্পী পুলক বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগেও আমরা এই উন্নয়ন কনসার্টে একই মঞ্চে গান গেয়েছি। আগামী কয়েকদিন পরও একই মঞ্চে আমাদের আবারও গান গাওয়ার কথা ছিল। অথচ তিনি হঠাৎ করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। তাকে ভীষণ মনে পড়ছে আমার।’



কণ্ঠশিল্পী মেহেরীন বলেন, ‘বাচ্চু ভাই নিজেই সঙ্গীত ছিলেন। তিনি সঙ্গীত হয়েই আমাদের মাঝে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন। আমার মতো কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরজীবী হয়ে থাকবেন তিনি।’

বরগুনার উন্নয়ন কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘আমি সেই সময়ে গান শুনেছি বাংলাদেশের, যেই সময়ে আইয়ুব বাচ্চু ভাই গান গেয়েছেন। আমি সেই সময়ের সাক্ষী, যেই সময়ে বাচ্চু ভাইকে দেখেছি দুর্দান্ত গিটার বাজাতে। মন্ত্রমগ্ধের মতো শুনেছি আমি সেই গিটারের শব্দ। আমি অনেক মর্মাহত।’

আইয়ুব বাচ্চুর নাম নিতে গিয়ে চাপা কান্নার স্রোতে কথা হারিয়ে ফেলেন জেমস। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়েরই একটা কথা মনে পড়ে গেল। একটা গল্প বলি। অনেক আগে একটা শোতে হাস্যোজ্জ্বল বাচ্চু ভাই বলেছিলেন- যাই হোক শো ইজ মাস্ট অন! আজও অন। আমি চেষ্টা করছি।’

এরপর জেমস বাচ্চুর স্মরণে গিটারে সুর তোলেন। সেই সুরেও ছিল কান্না। তিনিও কাঁদছিলেন। কাঁদাচ্ছিলেন দর্শকদেরও।

নিজেকে না পাল্টিয়ে ঘাটাইলকে পাল্টাতে চাই

টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেছেন, আমি নিজেকে না পাল্টিয়ে ঘাটাইলকে পাল্টাতে চাই। দ্বিধাবিভক্তির অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ঘাটাইলকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বৃহস্পতিবার(১৮ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ডা. কামরুল হাসান খান আরো বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে পারলে অত্যাধুনিক ঘাটাইলের স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব। স্বপ্নের ঘাটাইল প্রতিষ্ঠায় তিনি আন্তঃদলীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি, আইটি পার্ক স্থাপন, বনরক্ষা ও নতুন বনায়ন কর্মসূচি গ্রহন, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন সহ ২৩ দফা উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাবাইচ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাহাড়ঘেরা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

কেউ নৌকা, কেউবা বোটে আবার কেউবা লঞ্চে করে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে আসেন। এ সময় হাজারও পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষের ঢল নামে দুই পাড়ে।


নৌকাবাইচে চারটি গ্রুপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ছেলেদের ২১ জনের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয় পহেল চাকমার দল, দ্বিতীয় স্থান সুশান্ত চাকমার দল ও তৃতীয় হয়েছে সুশান্তের দল। দ্বৈত সাম্পানে চ্যাম্পিয়ন হয় কামাল, দ্বিতীয় হয়েছেন নজরুল ইসলাম ও তৃতীয় হয়েছেন দিদার।

মহিলা নৌকাবাইচে চ্যাম্পিয়ন হয় অর্চনা ত্রিপুরার দল, দ্বিতীয় হয়েছেন শান্তি ত্রিপুরার দল ও তৃতীয় হয়েছেন অনিতা চাকমার দল। এছাড়া প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় কায়কিং প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম হয়েছেন অপূর্ণা, দ্বিতীয় হয়েছেন তাপসী ও তৃতীয় হয়েছেন যৌথভাবে বিশাখা ও পারুমি। প্রতিযোগিতা শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিজয়ীদের মাঝে নগদ টাকা ও সনদ বিতরণ করা হয়।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক হাজি মো. মুছা মাতব্বরের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির।