টাঙ্গাইলে শিশু মাসুদ রানা (৮) হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ করেছেন নানি মাজেদা বেগম। বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঘাটাইলের রামপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন তার নাতি মাসুদ রানা শয়নকে অপহরণ করেন। অপহরণের পর ২ অক্টোবর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে জাহাঙ্গীর হোসেন। মুক্তিপণ বাবদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার পরেও মাসুদ রানাকে হত্যা করে মধুপুরের টেংরী কবরস্থানের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখেন জাহাঙ্গীর।
পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাটাইলের রামপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ভূঞাপুর উপজেলার রুহুলী চরপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. সোহেল, গোপালপুর উপজেলার কামাক্ষাবাড়ি গ্রামের হিরালাল আর্য্য-এর ছেলে গৌতম চন্দ্র আর্য্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ নিহত মাসুদ রানার কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নারী ও শিশু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
কয়েক মাস জেলহাজতে থাকার পর আসামি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর আসামিরা মাজেদা বেগম ও নিহত মাসুদের মা মাসুদা বেগমকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি-ধামকি দেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভূঞাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাসুদের নানি।
মাজেদা বেগম বলেন, আমার নাতিকে চিরতরে হারিয়েছি। তার পরও আসামিরা আমাদের স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে দিচ্ছে না। একের পর এক হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
আমরাওতো মানুষ, আমাদেরও তো সমাজে স্বাভাবিকভাবে জীবন করার অধিকার আছে। এখন আমাদের নিরাপত্তা চাই। সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ ঘটনা প্রধানমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে আমাদের নিরাপত্তা ও আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।
এ সময় নিহতের মা মাসুদা বেগম, এলাকাবাসী আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
‘আমাদের ঘাটাইল’ এ সংগৃহিত তথ্যগুলোর স্বত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের এবং আমাদের সংগৃহীত প্রতিটা নিউজে সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংকসহ কৃতজ্ঞতা উদ্ধৃত আছে। আমাদের কোনো স্বত্ব বা কপিরাইট নাই। আমাদের ঘাটাইল এ প্রকাশিত সকল কন্টেন্ট সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত।

