বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

ঘাটাইলে কাজী আব্দুল গফুরের মৃত্যুবরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাজী আব্দুল গফুর মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উপজেলার শাহ্‌পুর এলাকার এই কৃতি সন্তান দীর্ঘদিন যাবত পৌর শহরের কাজী রোড এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

কাজী আব্দুল গফুর দীর্ঘসময় টাঙ্গাইল জেলা কাজী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঘাটাইলের শাহ্‌পুর তাহিরীয়া দারুচ্ছুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও তিনি নানা ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

ঢাকা হাসপাতালে আব্দুল গফুরের মৃত্যুবরণের পর আজ বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মরদেহ ঘাটাইলে নিয়ে আসা হয়। পরে ঘাটাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা শেষে উপজেলার শাহ্‌পুর তাহিরীয়া দারুচ্ছুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তার ইচ্ছা অনুযায়ী শাহ্‌পুর গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মরহুম আব্দুল গফুরের মেঝ সন্তান কাজী শিবলি জানান, বেশ কিছু দিন যাবত তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। যথাসাধ্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরও বাবাকে শেষ রক্ষা করা যায়নি।

ঘাটাইলের এই কৃতি সন্তান আব্দুল গফুর স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘাটাইলে ‘দৈনিক আমার সংবাদ’ পত্রিকার সপ্তম বর্ষে পদার্পন অনুষ্ঠান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নানা আয়োজনে অনাড়ম্বরভাবে ‘সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘দৈনিক আমার সংবাদ’ পত্রিকার ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সপ্তম বর্ষে পদার্পন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে ঘাটাইল প্রেসক্লাবে কেক কাটা, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, জিবিজি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মনি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম শামসুল হক।

পরে ঘাটাইল প্রেসকাবের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান আলী সরকার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, সহ সভাপতি খান ফজলুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক ও দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুর লতিফ, সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ, আতিকুর রহমান, মোঃ মাসুম মিয়া, এবিএম আতিকুর রহমান, রেজাউল করিম খান রাজু ,ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন খান, সাধারন সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খান, উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহবায়ক এসএম শোয়েব রানা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আবু হানিফ প্রমুখ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিককর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।

কবি রফিক আজাদের জন্মবার্ষিকী আজ

কবি রফিক আজাদের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাংবাদিক, সম্পাদক ও লেখক রফিক আজাদ ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সকালে কবির সমাধিতে স্মৃতি পর্ষদ ও পরিবারের পক্ষ থেকে পুস্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হবে। 

বিকেল চারটায় কবি রফিক আজাদের বাসভবনে (বাড়ি নং ১৩৯/৪এ, সড়ক নং ১, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫)-এ কবির সাক্ষাৎকারভিত্তিক গ্রন্থ ‘মুখোমুখি রফিক আজাদ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া আজ বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলা মঞ্চে বিকেল চারটায় ‘কবি রফিক আজাদ : শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং কবির কবিতা থেতে আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কবি রফিক আজাদ ছাত্র জীবনেই সাহিত্য তিনি চর্চা শুরু করেন। ষাট দশকের কবি শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। টাঙ্গাইল মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজে শিক্ষকতা করেন। দেশ স্বাধীনের পর বাংলা একাডেমিতে চাকুরী শুরু করেন। প্রায় দেড় দশক বাংলা একাডেমিতে থাকাকালে তিনি একাডেমি’র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। 

তিনি একাডেমির সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ সম্পাদনা করতেন। একাডেমির চাকুরিতে ছেড়ে ইত্তেফাক গ্রুপের ‘সাপ্তাহিক রোববার’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কবি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর অধীনে অংশ নেন।

কবি রফিক আজাদ মূলত সৃজনশীল ও চিরায়ত কবিতার প্রণেতা। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো, অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুণিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি, প্রেমের কবিতাসমগ্র, বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে, বিরিসিরি পর্ব ও রফিক আজাদের কবিতা সমগ্র।

সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি রফিক আজাদ একুশে সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, হুমায়ুন কাদর স্মৃতি পুরস্কার, হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার, কবি আহসান হাবী পুরস্কার, মুক্তিযোদ্ধা সন্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ কবি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।