বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

সংসদ সদস্য এবার অভিনয়ে, নায়িকা তিশা

অভিনয়ে আসলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের এমপি সোহেল হাজারী। এই প্রথমবারের মতো কোনো টিভি নাটকে অভিনয় করলেন তিনি। নাটকটির নাম ‘নৈবেদ্য’। শ্যামল চন্দ্রের লেখা মুক্তিযুদ্ধের গল্প থেকে এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন মান্নান হীরা।

নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন শাব্দিক শাহীন ও সিহানুর রহমান আসিফ। নাটকটির চিত্রগ্রাহক হৃদয় সরকার।

গত ২ ও ৪ নভেম্বর এ নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে বলে জানান নির্মাতা শাব্দিক শাহীন। নাটকটিতে এক বীরাঙ্গনার ভূমিকায় অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহনীর হাত থেকে এই বীরাঙ্গনাকে উদ্ধার করতে দেখা যাবে সংসদ সদস্য সোহেল হাজারীকে।

হঠাৎ করে অভিনয়ে আসা প্রসঙ্গে সোহেল হাজারী বুধবার দুপুরে  বলেন, ‘আমি আসলে রাজনীতিরই মানুষ। কিন্তু যখন এই নাটকের চিত্রনাট্য শুনি তখন অনেক ভালো লাগে। নির্মাতা সিহানুর রহমান ও শাহীন আমার পূর্বপরিচিত। ওরা একদিন নাটকটির গল্প শেয়ার করছিল আমার সঙ্গে। আমাকে অভিনয়ের অনুরোধ করে বসবে সেটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু যখন বললো আমাকেও এই নাটকে অভিনয় করতে হবে, আমি রাজি হয়ে গেছি।

এর কারণ হলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প। আমি তো প্রফেশনাল অভিনেতা নই, মনের খোরাক থেকেই এই নাটকে অভিনয় করে ফেললাম। ছোটবেলায় গ্রামে নাটক-থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। প্রতি বছরই আমাদের এলাকায় নাটক মঞ্চায়ন করা হতো। সেসব নাটকে অভিনয় করতাম।’

অনেক দিন আগে ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’ শিরোনামে একটা গীতি আলেখ্যতে অভিনয় করেছিলাম। টাঙ্গাইলের ভাষানী হলে সেটা মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৯৯০ সালে। প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার দুদিন পরই ২১ আগস্ট ঢাকায়ও আমার শো করেছিলাম ওই গীতি আলেখ্যর। অনেক দিন পর আবারও অভিনয়ের সুযোগ আসলো, তাই ফেরাইনি’- যোগ করেন এই সাংসদ।


‘নৈবেদ্য’ নাটকে একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল হাজারী। তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, হাসান ইমাম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, দীপক কর্মকার, সাইকা আহম্মেদ, শাহাজান সম্রাট প্রমুখ। এখানে একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে রওনক হাসানকে।

সোহেল হাজারী বলেন, ‘নাটকটির শুটিংয়ের সময় অনেক ভালো লাগছিল। দেশের বড় বড় তারকার সঙ্গে অভিনয়ের মূহুর্তগুলো ভালো কেটেছে। বিশেষ করে তিশা আপার সঙ্গে কয়েকটি দৃশ্য ছিল আমার। আমি উনার অভিনয় ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি। অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। আমি উনাকে বলেছি, আপনার সঙ্গে কখনই দেখা হয়নি আগে, প্রথম সামনে থেকে দেখে মনে হলো আপনি অনেক বড় অভিনেত্রী। আরও অনেক বড় হবেন নিশ্চয়।’

নির্মাতা শাব্দিক শাহীন জানান, আসছে ডিসেম্বর মাসে একটি টিভি চ্যানেলে বিশেষ নাটক হিসেবে প্রচার হবে ‘নৈবেদ্য’।

অতীতের ধারাবাহিকতা নাকি নতুন দিনের সূচনা?

অভিষিক্ত শিবাম দুবের করা ওভারের তৃতীয় বলটি লংঅন আর মিডউইকেটের মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে বাউন্ডারির ওপাড়ে আছড়ে ফেললেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর মধ্য দিয়ে মাধ্যমে সম্পন্ন হলো অসাধারণ এক জয়, সম্ভব হলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ভারতবধ। তাও আবার তাদেরই মাটিতে।

মাহমুদউল্লাহ যখন উইনিং শট নেন, তখন উইকেটের অপর প্রান্তে ছিলেন মুশফিকুর রহীম। যিনি আগের ওভারে টানা ৪টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সহজ করেছিলেন সমীকরণ, শেষ ওভারে যা ছিলো মাত্র ৪ রানের চাহিদা। তবু মনে ছিলো অজানা এক ভয়।

কেননা ২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালুরুতে শেষ ওভারে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণটা ৩ বলে ২ রানে নামিয়েছিলেন মুশফিক; কিন্তু পরের তিন বল থেকে আর ১ রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ। হেরে যায় ১ রানের ব্যবধানেই। সেই ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ।

প্রায় ৪৩ মাস পর আবার যখন একই পরিস্থিতিতে দল, তখনও উইকেটে ছিলেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। তবে এবার আর ভুল করেননি দুই ভায়রা ভাই। আগেরবার ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়া মাহমুদউল্লাহ, এবার ঠিকই ছক্কা মেরেই নিশ্চিত করেন দলের জয়।

তবু এমন এক জয়ের পর মুশফিক বা বাংলাদেশ দলের উদযাপনে ছিলো না বিশেষ কিছু। আনন্দের আতিশয্যে ভেসে যাননি মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ, আবার ড্রেসিংরুম থেকেও ছুটে আসেননি দলের অন্য খেলোয়াড়রা। নিজেদের মধ্যে অভিনন্দন আদান প্রদান এবং ভারতের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দনের পর ড্রেসিংরুমের পথে পা বাড়ান দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ।

ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহীমকে। জানতে চাওয়া হয়, অসাধারণ এ জয়ের পরেও উদযাপনে কেনো ছিলো না কোনো বিশেষত্ব। পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে মুশফিক জানিয়েছিলেন, মাত্র শেষ হয়েছে এক ম্যাচ। সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার আগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। তাই সবার আগে সিরিজ জয় নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।


সেই ম্যাচের ভেন্যু দিল্লি ছেড়ে দ্বিতীয় ম্যাচের মাঠ রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর একই কথা শোনা যায় দলের তরুণ অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব কিংবা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এক কথায়, পুরো বাংলাদেশ দলেরই এখন প্রধান লক্ষ্য সিরিজ জয় করা।

কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে, এ লক্ষ্যটি বেশ কঠিনই মনে হতে পারে টাইগারদের জন্য। কেননা কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলেছে ২৭টি। এর মধ্যে পরাজয় মিলেছে ১৬টিতে। টাইগারদের জয় ৫ সিরিজে, ড্র হয়েছে বাকি ৬টি।

এই ২৭ সিরিজের মধ্যে কমপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ছিলো ১৪টি। যেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ২টি সিরিজে। প্রথমটি ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে, তাদেরই মাটিতে। আর পরেরটি গতবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে, ক্যারিবীয়দের মাঠেই।

আর এক ম্যাচের সিরিজে জয় তিনটি যথাক্রমে ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। তিনটিই ঘরের মাঠে।

ড্র হওয়া সিরিজগুলো হলো ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের মাটিতে ১-১; ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ১-১; একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২০১৫ সালে ১-১ ও ২০১৬ সালে ২-২ আর সবশেষটি ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ১-১ ব্যবধানে ড্র। এর বাইরে ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এক ম্যাচের সিরিজের একমাত্র ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।

প্রাপ্তি (সিরিজ জয়) আর অর্ধপ্রাপ্তির (সিরিজ ড্র) হিসেব আঙুলের কড়া গুনে করা গেলেও, অপ্রাপ্তি বা ব্যর্থতার যোগ-বিয়োগ করতে রীতিমতো বসতে হবে খাতা-কলম নিয়ে। কেননা বৃষ্টিতে বাতিল হওয়া সিরিজটি বাদ দিলে জয় ও ড্র যেখানে মাত্র ১০ বার; সেখানে পরাজয় মিলেছে ১৬ বার!

এসব পরাজয়ের প্রতিপক্ষের নাম শুনলেও চুপসে যেতে পারে আশার বেলুন। এক ম্যাচের যে ৯টি সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ দল, সেখানে রয়েছে স্কটল্যান্ডেরও নাম। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়ার পরের সিরিজেই স্কটিশদের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ।

এছাড়া কমপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজগুলোতে বাংলাদেশের পরাজয়ের সংখ্যা ৭টি সিরিজে। যার মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়ে বিব্রতকর ছিলো গতবছর পূর্ণশক্তির দল নিয়েও আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া। এছাড়া নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও নাকানিচুবানি খাওয়ার ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশের।

এদিকে বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস যেখানে রীতিমতো হতাশাজনক, সেখানে ভারত অনুপ্রেরণা পেতে পারে তাদের বিগত দিনের সিরিজগুলো থেকেই। ঘরের মাঠের দলটি এখনও পর্যন্ত খেলেছে ৪০টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ, জিতেছে ২০টিতে, ড্র হয়েছে ৮ সিরিজ আর হেরেছে বাকি ১০টিতে।

এর মধ্যে তিন ম্যাচের সিরিজই ছিলো ১৫টি। যার মধ্যে ভারতের জয় ১০টিতে, ড্র হয়েছে ৩টি আর পরাজয় মাত্র ২টিতে। এটুকুতেই অবশ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে না বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ। কেননা প্রথম ম্যাচ হেরেও শেষ দুইটি জিতে সিরিজ বাগিয়ে নেয়ার অতীত ইতিহাসও যে রয়েছে ভারতীয় দলের। তাও একবার নয়, তিন-তিন বার।

২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরেও পরের দুইটিতে জিতে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছিল ভারত। এর আগের বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একইভাবে সিরিজ জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। একই বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও প্রথম ম্যাচ হারের পর সিরিজ জিতেছিল ভারত।

সবমিলিয়ে অতীত পরিসংখ্যানের পুরোটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ভারতের পক্ষে। তবে টাইগারদের পক্ষে রয়েছে নিজেদের মধ্যকার বোঝাপড়া এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের কাছ থেকে পাওয়া পূর্ণ স্বাধীনতা। যা দিল্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উজ্জীবিত করেছে পুরো দলকে। সেই ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বদলে যাবে অতীত পরিসংখ্যান, নতুন করে লেখা হবে টাইগারদের অনেক ইতিহাস।

ঢাকায় পৌঁছেছে খোকার মরদেহ

অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৮ মিনিটের দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাদেক হোসেন খোকার কফিন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গ্রহণ করেছেন। অন্যদের মধ্যে বিমানবন্দরের সামনে উপস্থিত হন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আতাউর রহমান খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, ইমরান সাহলে প্রিন্স, এনামুল হক, কামরুজ্জামান রতন, শামীমুর রহমান শামীম, এস এম জাহাঙ্গীর, মীর সরাফত আলী সফু, ফিরোজ আহমেদ, মকবুল আহমেদ টিপু, মেজর কামরুল, আব্দুল আলি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে খোকার মরদেহ নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন তার স্বজনরা।

আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর বাদ জোহর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

khuka-1

বিকেল ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে জানাজা হবে। সেখান থেকে গোপীবাগে মরহুমের নিজস্ব বাসভবনে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ আসর তার মরদেহ ধূপখোলা মাঠে নেয়া হবে। সেখানে শেষ জানাজা হবে। জানাজা শেষে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী জুরাইন কবরস্থানে মায়ের কবরেই শায়িত করা হবে সাদেক হোসেন খোকাকে।


সাদেক হোসেন খোকা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। গত ২৮ অক্টোবর শারীরিক অবস্থার অবনতির পরই তাকে নিউইয়র্কে ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা ২০১৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তারপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।

কী ঘটেছিল ৭ নভেম্বরে

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী ও জনতার বিপ্লবের স্মরণে দিবসটি পালিত হয়। কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের নেতৃত্বে সংঘটিত এই বিপ্লব জেনারেল খালেদ মোশাররফের তিন দিনের সরকারের পতন ঘটায়। এই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান, এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন।

কিছু সেনা কর্মকর্তার দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হবার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। কিন্তু খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতার নেপথ্যে ছিলেন ১৫ অগাস্টের ঘটনার মূল নায়কেরা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) এ ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি। তিনি তার অনুগত সৈন্য বাহিনী নিয়ে ৩ নভেম্বর মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান ঘটান। অভ্যুত্থানটি প্রাথমিকভাবে সফলও হয়। কিন্তু তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র তিন দিন। বস্তুত খালেদ মোশাররফ রক্তপাত এড়াতে চেষ্টা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে জেনারেল খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন ক্যু করতে গিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করেন। কর্নেল (অব.) আবু তাহের সেসময় নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। কর্নেল তাহের ছিলেন জিয়াউর রহমানের একজন বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। সৈনিক-অফিসার বৈষম্য তার পছন্দ ছিল না। তার এই নীতির জন্য তাহের সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের মাঝেও দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। কর্নেল তাহের বিশ্বাস করতেন জিয়াও তারই আদর্শের লোক।

জিয়া তার বাসভবনে বন্দি হয়ে থাকেন। খালেদ মোশারফের নির্দেশে তাকে বন্দি করে রাখেন তরুণ ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ। জিয়ার বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ একটি ভুল করেন। তিনি ভুলে যান বেডরুমেও একটি টেলিফোন আছে। জিয়া কৌশলে বেডরুম থেকে ফোন করেন তাহেরকে। খুব সংক্ষেপে বলেন ‘সেভ মাই লাইফ’।

তাহের জিয়ার আহ্বানে সাড়া দেন। তিনি ঢাকাতে তার অনুগত ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহীদের পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার নির্দেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। খন তার সফরসঙ্গী ছিল শত শত জাসদ কর্মী। কর্নেল তাহেরের এই পাল্টা অভ্যুত্থান সফল হয় ৭ নভেম্বর। কর্নেল তাহের, জিয়াউর রহমানকে বন্দিশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। ওইদিনই পাল্টা অভ্যুত্থানে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা জেনারেল খালেদ মোশাররফকে হত্যা করেন।

কথা ছিল, জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে আনা হবে। তারপর জাসদের অফিসে তাকে এনে তাহেরদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হবে। পরে সিপাহী-জনতার এক সমাবেশ হবে। সেখানে বক্তব্য দেবেন জিয়া আর তাহের। কিন্তু মুক্ত হওয়ার পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জিয়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হতে সম্মত হন না। ঊর্ধ্বতন সামরিক অফিসাররা তাকে পরামর্শ দিতে থাকেন। তাহের জিয়াকে ভাষণ দিতে বলেন। জিয়া ভাষণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তাহের বুঝতে পারেন জিয়া তাদের সঙ্গে আর থাকছেন না। তিনি পুনরায় সংগঠিত হতে থাকেন। কিন্তু জিয়া বুঝতে পারেন ক্ষমতায় টিকতে হলে তাহেরসহ জাসদকে সরাতে হবে। সেই অনুযায়ী গ্রেফতার হতে থাকেন জাসদের সব নেতা। তাহেরও গ্রেফতার হন। শুরু হয় এক প্রহসনের বিচার। গোপন আদালতে চলতে থাকে সেই বিচার।

১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। অন্য নেতাদের বিভিন্ন মেয়াদের জেল হয়। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের কারিগর ছিলেন তাহের। আর তার ফলে ক্ষমতায় বসেন জিয়া।

‘বিপ্লব ও সংহতি’ -শব্দটি সাধারণত সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে দিনটিকে মূলত জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দল বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে।

এদিকে জাসদের পক্ষ থেকেও ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। তবে দলটির পক্ষ থেকে মনে করা হয় জেনারেল জিয়ার বিশ্বাসঘাতকতায় দিবসটি কালিমালিপ্ত।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক দলসমূহ দিবসটি মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে অভিহিত করলেও কোনো কর্মসূচি পালন করে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জাসদ আজ বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারসহ জাসদ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এতে বক্তব্য দেবেন।

খালেদ মোশাররফ ট্রাস্ট আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সন্মেলন এবং ‘অভিমত প্রকাশ’ এর আয়োজন করেছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন খালেদ মোশাররফ এর জেষ্ঠ কণ্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ।