মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৪, ২০১৭

ঘাটাইলে কৃমি নাশক ঔষধ খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গালা গন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে ।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানায়, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রন সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গালা গণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ লতিফ জানান, কৃমি নাশক এ ট্যাবলেট থাওয়ানোর পরে পরই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। এতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে। তাদেরকে ভ্যান, নসিমন ও গাড়িতে করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, এতে চিন্তার কোন কারণ নেই। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘাটাইলে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম চেয়ারম্যানের পকেটে গরিবের টাকা

 রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল :
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ইউপি সদ্যসরা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। সব নীতিমালা উপেক্ষা করে ধলাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার শ্রমিকদের টাকা পকেটে পুরেছেন।

উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য মো. জিয়াউর রহমান জিয়া ও মোছা. রুলিফা খাতুন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের জন্য ৪২৫ জন শ্রমিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এ ইউনিয়নে প্রকল্প নির্ধারণ করা হয় পাঁচটি। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে গুপ্তবৃন্ধাবন থেকে রাধারবান পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে প্রতিদিন ৯৪ জন শ্রমিক কাজ করার কথা। সেই হিসেবে  ৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ কর্ম দিবসে এক হাজার ৪১০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার মাত্র ২৬৭ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছেন। এক প্রকল্প থেকে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে ১১শ’ ৪৩ জন শ্রমিকের দুই লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ প্রকল্পে সরকারের গচ্চা যাবে ৬ লাখ টাকার উপরে।

একই অবস্থা ৪নং ওয়ার্ডের আষাড়িয়া চালা হতে মহরগাঙ্গী ব্রিজপা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে। এ প্রকল্পে সভাপতি ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম। প্রকল্পটিতে শ্রমিকের সংখ্যা প্রতিদিন ৭৪ জন। সেই হিসেবে ৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ কর্ম দিবসে ১১শ’ ১০ শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান  মাত্র ২২৫ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছেন। শ্রমিক কম দেখানো ছাড়াও সপ্তাহে ৫ দিনের স্থলে ৩ দিন কাজ করার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ইউপি সদস্য রুলিফা খাতুন অভিযোগ করেছেন, শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, জেলা প্রশাসক বরাবর ইউপি সদস্যদের করা অভিযোগ পেয়েছি। অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, এসব প্রকল্পে এদিক সেদিক কিছু হয়েই থাকে। - See more at: http://www.ajkalerkhoborbd.com/details.php?id=29061#sthash.5lRy2WGp.dpuf