রবিবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

১৯ বছর পর এক মঞ্চে দুই ভাই!

দু’জনেই প্রভাবশালী, সুপরিচিত রাজনীতিক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, করেছেন আওয়ামী লীগ, মন্ত্রীও হয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে এখন আর কেউই দলে নেই। এদের একজন নিজে আলাদা দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। অন্যজন বলা চলে নিষ্ক্রিয়। তারা আপন দুই ভাই— আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। হজ ও ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তোপের মুখে প্রথমে মন্ত্রিত্ব হারান। পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। তারও অনেক আগেই আওয়ামী লীগ থেকে সরে এসে নতুন দল গঠন করেন আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি তিনি।
একই পরিবারে থেকেও দু’ভাইয়ের মধ্যে এতটা দূরত্ব তা হয়তো কারো জানাই ছিল না। রোববার একটি অনুষ্ঠানে ছোট ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মুখ থেকেই জানা গেল, দীর্ঘ ১৯ বছর তারা কোনো মঞ্চে একসঙ্গে বসেননি।
রোববার (২৮ অক্টোবর) রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ৭৫’র বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধযুদ্ধে জাতীয় মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধাদের ‘মিলনমেলায়’ তিনি একথা জানান।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ প্রায় ১৯ বছর আমরা দু’ভাই পাশাপাশি কোনো জনসভায় বসিনি। খুব সম্ভবত একটি জানাযায় আমরা একত্রিত হয়েছিলাম।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর স্যান্ডেল যারা টেনেছে, তারা আজ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী। যে আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছে লতিফ সিদ্দিকী। তাকেই বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে।’
কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় আমরা প্রতিরোধ গড়েছিলাম। কিন্তু, সরকারিভাবে আমাদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমরা শুধু সরকারের স্বীকৃতি নয়, জাতীয় স্বীকৃতি চাই। যদি স্বীকৃতি না দেয়া হয়, তাহলে আজ ঘোষণা করা হোক আমরা সেদিন প্রতিবাদ করে ভুল করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হোক।’
মিলনমেলায় আরো বক্তব্য দেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ছোট ভাই আব্দুল বাবুল সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহাসচিব হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, অর্থ সম্পাদক আবদুল্লাহ বীরপ্রতীক, কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিনী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান কায়সার চৌধুরী, ভারত থেকে আগত সুধীর চন্দ্র দাস প্রমুখ।