বৃহস্পতিবার, মার্চ ০৭, ২০১৯

ঘাটাইল পৌরসভার টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভা

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার টাউন লেভেল কো অর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) ঘাটাইল পৌরসভা কক্ষে ঘাটাইল পৌরসভার টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (টিএলসিসি) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর মেয়র মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া, সরকারী জি,বি.জি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা, অধ্যাপক মমতাজ বেগম,অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, সাবেক ভিপি মনজুর কাদের বকুল, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান ও পৌর সভার কাউন্সিলরবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় দীর্ঘ দিনের খানা-খন্দের রাস্তাসমূহ দ্রুত মেরামত করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

এ ছাড়া পৌর সভার বিভিন্ন সমস্যার নিরসন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ঘাটাইলে স্বামীর ২য় বিয়ের প্রতিবাদে ৪দিন ধরে অনশনে স্ত্রী

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : এক বছরের প্রেমের পর পরিবারকে না জানিয়েই বিয়ে করেছিলেন প্রিয়া আক্তার (২১) ও মনিরুল ইসলাম (২৬)। এরপর একই ছাদের নিচে তিন বছর কেটেছে দুজনের। তবে এখন আর প্রিয়াকে চিনতে পারছেন না মনিরুল। এরই মাঝে সেতু অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আর বিষয়টি জানতে পেরে চারদিন ধরে মনিরুলের বাড়িতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শিমলা গ্রামে।

মনিরুলের বাবার নাম আলাউদ্দিন। প্রিয়া একই উপজেলার পৌর এলাকার বানিয়পাড়া গ্রামের আ. হামিদের মেয়ে।

প্রিয়া বলেন, এক বছর প্রেম করার পর মনিরুল আর আমি পালিয়ে বিয়ে করি। সে চট্রগ্রামে পড়াশুনা করত আর আমি একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করতাম। সেই সুবাদে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে চট্রগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। আমার বেতনের টাকা দিয়ে ওর পড়াশোনার খরচও যোগাতাম। মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে হঠাৎ করেই সে একদিন বলে আমি গ্রামের বাড়ি যাব এবং ১০ হাজার টাকা লাগবে। এরপর আমার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা নিয়ে সে বাড়ি চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, এর কিছুদিন পর জানতে পারি মনিরুলের পরিবার অন্য এক মেয়ের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক করেছে। পরে আমি ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে আমার এবং মনিরুলের বিয়ের বিষয়টি জানাই এবং কাবিননামা দেখাই। সে সব কিছু জানতে পেরে মনিরুলকে বিয়ে করবে না বলে জানায় মেয়েটি। বিষয়টি জেনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর আমি কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর গোপনে মনিরুলের সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

প্রিয়া আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি স্ত্রীর দাবি মনিরুলের বাড়িতে আসি। আসার পর মনিরুল ও তার পরিবারের লোকজন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। এখন বাড়িতে আমি একা আছি।

প্রিয়ার বাবা আ. হামিদ বলেন, মেয়ের বিয়ে করার বিষয়টি আগে জানতাম না। কিছুদিন আগে সে আমাদের জানিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, এর আগেও একবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হই। এখন মেয়ে ছেলের বাড়িতে চারদিন ধরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ছেলেসহ তার পরিবারের সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. হায়দার আলী বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা।

ঘাটাইলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় প্রার্থী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেই আগাম শুভেচ্ছা ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। 

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম খান সামু। তিনি এ উপজেলায় তিন বারের চেয়ারম্যান নির্বাচিত। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয় তাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী নন বলে তিনি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রায় ৫শ উপজেলায় নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশিন (ইসি)। ফেব্রুয়ারির প্রথমদিকে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার আগেই টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় নেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে।

এদের মধ্যে ঘাটাইল আওয়ামী লীগ নেতা মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংসের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান খানের রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত খান পরিবারের ঘাটাইলের কাণ্ডারি শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে গত ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় গোল্ড মেডেল এবং মাদক মুক্ত ইউনিয়নের স্বীকৃতি পান। ছাত্রজীবন থেকেই মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী থেকে নেতার পরিচিতি লাভ করেছেন এবং খান পরিবারের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। দুর্দিনেও তিনি হাল ছাড়েননি দল থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন। এবার তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হবেন এমনটিই প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ঘাটাইলস্থ আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লা্‌হ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনমানুষের যে সাড়া পাচ্ছি তাতে দল যদি আমাকে প্রার্থী করেন তাহলে সহজেই জয়লাভ করতে পারবো।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাচনে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে  চতুর্থ ধাপের  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা৷ গতকাল বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে যাচাই বাছাই শেষে সকলের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষনা করেন তিনি৷

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু৷ সতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন বর্তমান উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আরিফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেস্টিং, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ তুহীন আব্দুল্লাহর ছেলে এহসান আব্দুল্লাহ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জনি ও মনিরুজ্জামান৷

সকলেই ৪ই মার্চ মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন৷ যাচাই বাছাই শেষে সকলের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা৷

এছাড়াও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুবলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ, যুবলীগ নেতা সুমন খান (বাবু), কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি সজীব সরকার, বিশিষ্ট শিল্পপতি কাজী আরজু, এম এম সোয়েব এবং তুহীন খান ৷

উপজেলা নির্বাচনে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন বর্তমান মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা, উপজেলা মহিলালীগের নেত্রী নুরজাহান সিদ্দিকা,ফাহিমা তালুকদার,শাহিনা আক্তার শিল্পী,মীর আলেয়া পারভীন,তাসলিমা জেসমিন, মরিয়ম আক্তার এবং আফিয়া বেগম৷

এদের সকলেরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে৷

ঘাটাইলে পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন ১৪টি, ভোট কেন্দ্র ১১৯টি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ জন, মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন।

আগামী ৩১ মার্চ (রোববার) চতুর্থ ধাপে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৪ মার্চ, যাচাই বাছাই ৬ মার্চ, প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ মার্চ।