মঙ্গলবার, আগস্ট ১৪, ২০১৮

বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভূমিকা

এক সময় দেশ জর্জরিত ছিল নানা রকম সমস্যায়। কিন্তু সব সমস্যা পিছনে হটিয়ে দেশ এগোচ্ছে উন্নতির চরম শিখরে। দেশের প্রধান সমস্যা ছিল জনসংখ্যা। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য দেশে বেকারত্ব সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলা করেছে।

দেশ এক সময় শুধু মাত্র কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। দেশের অর্থনীতির প্রধান হাতিয়ার ছিল কৃষি। বর্তমানে কৃষির পাশাপাশি দেশের শিল্প-বাণিজ্য, পোশাক খাত, পর্যটন শিল্প, সিরামিক শিল্প সহ আরও অনেক শিল্প অবদান রাখছে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে। অবদান রেখেছে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণেও।

শিল্পের বিকাশ হলেই দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। নানা সমস্যা ও মূলধন জটিলতার কারণে দেশের এই শিল্পটি পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সরকারের নানা উদ্যোগে আবার আশার আলো দেখছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। দেশে প্রায় ১০ লাখ এসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের  কর্মসংস্থান হয়েছে। অবদান রেখেছে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে। গ্রামাঞ্চলের মানুষদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

দেশের বেকার যুব সমাজকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করতে সরকার মালয়েশিয়ার সাথে দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছে এবং দক্ষ করে তুলছে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। এতে করে দেশের রেমিট্যান্সের পাশাপাশি তাদের পরিবারেও ফিরে এসেছে সুদিন।

পুরো বিশ্ব আজ এগিয়ে যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে। ডিজিটাল বাংলদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেট সেবাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক যুবক ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে তাদের ভাগ্য বদল করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এ একটি অনন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নারী পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই অপরিসীম এবং অবদান রাখতে পারে। এই লক্ষ্যে সরকার দেশের নারীদের শিক্ষা ও ব্যবসা খাতে গুরুত্ব প্রদান করেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তাদের নানা রকম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

গত ৫ বছরে দেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর দেশে ২১ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ১৪শ’ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে বড় বড় অবকাঠামো সৃষ্টির প্রকল্প রয়েছে। ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কাজ শেষ হলে কেবল এসব অঞ্চলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও অবসরের পর পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমাদের বর্তমান অবস্থান ৪৩তম। বিশ্বে এখন বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ‘রূপকল্প-২১’ ও ‘রূপকল্প -৪১’ বাস্তবায়নের জন্য বেকারত্ব দূরীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেকার ও শিক্ষিত বেকার এক সময় দেশকে কলংকিত করেছিল। কিন্তু দেশ আজ এই অভিশাপ থেকে মুক্ত। দেশ আজ বেকারমুক্ত। সরকার নানা রকম প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বেকারমুক্ত সমাজ তথা একটি দেশ গড়তে সক্ষম হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা: বাদীর মুখে লোমহর্ষক বর্ণনা

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট। একটি জাতির জীবনে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া। আর তার লোমহর্ষক চিত্র ফুঁটে ওঠে মুহিতুল ইসলামের বর্ণনায়। তৎকালীন সময়ে এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এমনকি ওই রাতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে টেলিফোনের দায়িত্বে ছিলেন এবং পরে শেখ মুজিব হত্যা মামলায় বাদী হয়েছিলেন তিনি।

অন্যান্য দিনের মতোই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১২টার মধ্যেই সে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যায়। তখন সে বাড়ির নীচ তলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম। রাত তিনটা নাগাদ ঘুমাতে যান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই সে বাড়িতে টেলিফোনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মুহিতুল ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। কারণ রাষ্ট্রপতি তার সাথে কথা বলতে চেয়েছেন।

মুহিতুল ইসলামের ভাষায়, ‘বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় আক্রমণ করছে। ওই অবস্থায় আমি পুলিশকে টেলিফোনের চেষ্টা করছিলাম। তারপরে বঙ্গবন্ধু উপর থেকে নিচে নেমে এলেন। গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরা। তখন উনি আমাকে বললেন, যে আমার কাছে দে। আমার কাছ থেকে তিনি রিসিভারটা নিলেন। নিয়ে বললেন যে, হ্যালো আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি। উনি একথা বলার সাথে সাথেই বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু হলো। উনি গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বললেন, পুলিশ সেন্ট্রি, আর্মি সেন্ট্রি- এতো গুলি চলছে তোমরা কী করো? আমিও ওনার পিছু এসে দাঁড়ালাম। উনি একথা বলেই উপরে উঠে চলে গেলেন।’

এ গোলাগুলির সময় রাষ্ট্রপতিসহ তাঁর বাড়ির কেউ ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন নি। শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামালকে যখন বাড়ির নিচ তলায় গুলি করে হত্যা করা হয় তখন ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল, বলেন মুহিতুল ইসলাম। ধানমন্ডির সে বাড়িতে সশস্ত্র হত্যাকারীরা প্রথমে হত্যা করে শেখ কামালকে। গোলাগুলির আওয়াজ শোনার পর ঘটনা সম্পর্কে জানতে বাড়ির নিচ তলায় নেমে আসেন শেখ কামাল। মুহিতুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ-ছয়জন আর্মি, কেউ কালো পোশাকধারী কেউ খাকি পোশাকধারী- ওনার সামনে এসে বললো হ্যান্ডস আপ। কামাল ভাই বলছে, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। তখনই সাথে-সাথে ব্রাশ ফায়ার।’ পরিবারসহ শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদতবরণ করেন। বঙ্গবন্ধু মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথেই যেন লুটিয়ে পড়ল বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন কোন ধরণের প্রতিরোধ ছাড়াই হত্যাকারীরা পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। মুহিতুল ইসলাম বলেন, একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরণের নিরাপত্তা থাকা দরকার সেটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোন তরফ থেকে কোন ধরণের সহায়তা আসেনি।

শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বেপরোয়া গুলি চালিয়ে বাড়ির উপরের দিকে যাচ্ছিল। উপরে উঠেই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। চারিদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ।

সে রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে মুহিতুল ইসলাম বলেন, ‘উপরে তো তাণ্ডবলীলা চলছে। চারিদিকে একটা বীভৎস অবস্থা। ঠিক সে মুহূর্তে উপর থেকে চিৎকার শুরু করলো যে পাইছি পাইছি। এরপরে বঙ্গবন্ধুর একটা কণ্ঠ শুনলাম। তিনি বললেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস? এরপরে ব্রাশ ফায়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা আর শুনতে পাইনি।’

মুহিতুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ধানমন্ডির সে বাড়িটিতে সর্বশেষ হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে। তখন তার বয়স মাত্র দশ বছর। এ হত্যাকাণ্ডটি হয়েছিল মুহিতুল ইসলামের সামনে। তিনি বলেন, ‘রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে ‘আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব’। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, ‘চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি’। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।’

রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পর ঘাতকরা একে অপরকে বলছিল, “অল আর ফিনিশড (সবাই শেষ)’।

আওয়ামী জোটে আসতে প্রস্তুত ৮ দল, বিএনপিতে শঙ্কা

ইসলামিক জোট, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাগো দল, একামত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক জোট। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে সংশয় ও শঙ্কটে পড়েছে বিএনপি। সূত্র বলছে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা ও নাজমুল হুদার সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।


বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সালে ‘তৃণমূল বিএনপি’গঠন করেন। বর্তমানে ৩১টি দল নিয়ে নাজমুল হুদার জোট বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) । নতুন জোট গঠনের পরপরই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জোটে ভিড়তে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বড় দুই দলেই চলছে ছোট দলগুলোর জোটভুক্ত হওয়ার হিসাব-নিকাশ। গত ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপিসহ নয়টি দল বৈঠক করে। সে বৈঠকে নাজমুল হুদা বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগী হয়ে কাজ করতে চান।
সপ্তাহখানেক পর ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে নাজমুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেদিন অবশ্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক হয়।

বৈঠক ও জোটে যাওয়ার ব্যাপারে নাজমুল হুদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোট আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তার জোটের বাইরে সমমনাদের নিয়েও ভাবছেন। বিএনএ ছাড়াও বাইরে আরও কিছু জোট আছে। সার্বিকভাবে একটি নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির আসা না–আসার ওপর আওয়ামী লীগের জোট সম্প্রসারণ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি সমমনা সব দলের সঙ্গেই আওয়ামী লীগ যোগাযোগ রাখছে। নাজমুল হুদার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও বিভিন্ন দলের জন্য কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করবে তাঁর দল। আওয়ামী লীগ অবশ্য হুদাকে জানিয়েছে, তাদের ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরা এই জোটকে আর বড় করতে চায় না।

২০ বছর ধরে শিকলে বন্দী ঘাটাইলের সাইফুল


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. সাইফুল (৩০) নামের এক যুবক। শিকলে বাঁধা অবস্থাতেই তার খাওয়া, গোসল ও ঘুমানোসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। গত ২০ বছরে একদিনের জন্যও শিকলের বাঁধন থেকে মুক্তি মেলেনি এই যুবকের। পরিবারের দাবি— ১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে।

উপজেলার ধারিয়াল এলাকায় মৃত বহর আলীর ছেলে সাইফুল। শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করলেও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের ভাগ্যে এখনো জুটেনি কোন সরকারি সহযোগিতা।

সাইফুলের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে আমার সহায় সম্পদ বলতে প্রতিবন্ধী ছেলে সাইফুল ছাড়া তেমন কিছুই নেই। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করি।’

তবে সাইফুলের আরো দুই বড় ভাই রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছে। আলাদা সংসার আছে। গত ৬ বছর আগে সাইফুলের বাবাও মারা যায়। এখন বড় ছেলে বাচ্চুর ঘরে থাকে সাইফুল।

তিনি আরো বলেন, সবার ছোট সাইফুল প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নেয়। জন্মের পর বিভিন্ন কবিরাজ দেখিয়ে চিকিৎসা করিয়েও ফল পাওয়া যায়নি।

যখন সাইফুল হাটতে শিখল তখন দেখা গেল সে বাড়ির বাহিরে চলে যায়। পরে বয়স যখন ১০ বছর, তখন থেকেই তার নিরাপত্তার কথা ভেবে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।



সাইফুল কারো কোন ক্ষতি করে না জানিয়ে তার মা বলেন, সব সময় সে গরু লালন পালন করতে পছন্দ করে। তবে সে যদি কোন গরু দেখে তাহলে গরুর পিছনে পিছনে অনেক দূরে গিয়ে হারিয়ে যায়। সে আশঙ্কায় তাকে বেঁধে রাখা হয়। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত (২০ বছর) তাকে এ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সুইফুলকে তার মা প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে শিকলবাঁধা অবস্থায় বাহির করে আবার রাতে শিকল বাঁধা আবস্থায় ঘরে নিয়ে শুইয়ে দিতে হয়। রাতেও বাঁধা থাকে। প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ঘুম পাড়াতে হয়।

শিকলে বেঁধে রাখলে সাইফুলের মন খুব খারাপ হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইফুলকে শিকলে বেঁধে রাখলে একাকিভাবে বসে থাকে। তবে ছিলেটিকে সুস্থ করে তোলার ইচ্ছা থাকলেও দারিদ্রতার প্রতিবন্ধকতায় তা সম্ভব হয়নি।

সাইফুলের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সহায়তার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিকট অনেক ঘুরেছি। তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও মিলেছে বহুবার। কিন্তু তার ভাগ্যে আজও কোনো ভাতা জোটেনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও তাদের প্রতিবেশি মো. মনির বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে আমরা এই অবস্থায় দেখছি। তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। এ অবস্থায় যদি সরকার সাইফুল ও তার মায়ের দিকে সুদৃষ্টি দেয় তা হলে তারা ভালোভাবে চলতে পারতো।’ 

এ ব্যাপারে ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহিদ বলেন, বিষয়টি আমি জানলাম। আগামীতে সাইফুলকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হবে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে আরো সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানায়। 

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। সাইফুলের বিষয়টি আমি মাত্র শুনলাম। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’