মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

সাংসদ রানার জামিন স্থগিতের সময় বাড়ল

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মদ হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আগমী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে ওই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।   - খবর ঃ ঢাকা টাইমস।

চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী। রানার পক্ষে ছিলেন আবদুল বাসেত মুজমদার।  
মাসুদ হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আগামী ৮  মে পর্যন্ত স্থগিত করেছন। বিষয়টি ওই দিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হবে।
গত ১৬ এপ্রিল এমপি রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন তিন দিনের জন্য স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত। গত ১৩ এপ্রিল রানাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।
গত ৩০ মার্চ এমপি রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইকে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যা মামলায় ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রানা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা  করেন।
এ মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ ১৪ জনকে আসামি করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ৬ এপ্রিল আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। টাঙ্গাইলের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রানার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলার সাবেক ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আনিসুল ইসলাম রাজা, কবির হোসেন, সাবেক কমিশনার মাসুদ মিয়া, চান, নুরু, সানোয়ার হোসেন, দাঁতভাঙা বাবু, ফরিদ হোসেন, আবদুল হক ও সমির হোসেন। আসামিদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও সমির হোসেন আগেই গ্রেপ্তার হয়ে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন। আসামি ফরিদ হোসেন কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। আর আসামি আবদুল হক পলাতক অবস্থায় কয়েক মাস আগে দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহম্মেদ হত্যা মামলায় প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে। একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামের আরও একজনকে গোয়েন্দা গ্রেপ্তার করে। তারা দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামি রাজা উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন (২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা রাজাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহম্মেদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজপাড়ায় তার একটি প্রতিষ্ঠানে ডেকে নেয়ার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সঙ্গে ফারুক আহম্মেদের দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিকশা ছেড়ে ফারুক আহম্মেদের রিকশায় ওঠেন এবং তাকে এমপি রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে রানা ও ফারুক আহম্মেদের কথা হয়। রানা ফারুককে ওই পদে প্রার্থী না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ফারুক এতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ফারুক সেখান থেকে বের হলে সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এ সময় অন্যরা তার মুখ চেপে ধরেন। ফারুকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রানার নির্দেশে সেখান থেকে রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটোরিকশায় লাশ তুলে নেন রাজাসহ দুজন। তারা ফারুকের বাসার কাছে তার লাশ ফেলে চলে যান।

এমপি রানার জামিন না দেয়ার দাবিতে ঘাটাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ, আধা ঘন্টা সড়ক আবরোধ

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ 
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যার এক মাত্র প্রতিবাদ কারী মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার আহমেদ হত্যার অন্যত  আসামী আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন না দেয়ার জন্য মহামান্য আদালতের কাছে দাবি জানালো ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগ । মঙ্গলবার সকালে হাইকোর্টের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্র পক্ষ আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে জামিন স্থগিত করে আগামী ৮মে পূর্ণ বেঞ্চে শুনানীর জন্য আদেশ দেন চেম্বার আদালতে। এখবর গণ মাধ্যমে জানতে পেরে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামীলীগ । রানা মুক্তি চার ভাই এক দড়িতে ফাঁসি চাই, এই শ্রোগ্লান নিয়ে   ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীগের কার্যালয় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঘাটাইলের প্রধান সড়কের কমপক্ষে ২কিলোমিটার প্রদক্ষিন করে। বিক্ষোভ মিছিলে  বিভিন্ন এলাকা  থেকে আসা সহ¯্রাধিক নেতা কর্মী সমাগম ঘটে। বিক্ষোভ শেষে  ঘাটাইল বাস স্ট্যান্ড চত্বরে এক সংক্ষেপ্ত সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।  টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস স্ট্যান্ড চত্বরে আধা  ঘন্টা  সড়ক আবরোধ করে সমাবেশ করতে থাকে। এসময়  উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় । ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বকৃতা করেন আওয়ামীলীগেল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম মিয়া , ঘাটাইল পৌর মেয়র ও যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ,যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান,  যুগ্ম আহ্বায়ক  ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান আজাদ, লোকের পাড়া ইউনিয়ন সভাপতি আকরাম হোসেন, দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বাহার উদ্দিন খোকন, সাধারন সম্পাদক কহিনুর রহমান খান, মহিলা আওয়ামীগের সভানেত্রী নুরজাহান সিদ্দিকা, ঘাটাইল পৌর সভার মহিলা প্যানেল মেয়র রওশন আরা রুবী,ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সালেহা খানম, রসুলপুর ইউনিয়ন সভানেত্রীও ইউপি মেম্বার  রাশেদা, নয়ন উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা  আবু সাইদ রুবেল ভিপি , এজিএস রঞ্জু আহম্মেদ প্রমুখ। প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ১৮জানুয়ারী আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক আহমেদ কে গুলি করে হত্যা করা হয়। এঘনায় ২১ জানুয়ারী তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি আমানুর রহমান রানাকে প্রধান আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ।  

নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে একান্তে পেতে ইউএনও’র ‘চাপ’


প্রশাসন সহ বিভিন্ন মহল, সিনিয়র সাংবাদিকদের অনুরোধের জন্য এই লিংকের নিউজটি এখান থেকে সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। পত্রিকা প্রকাশে যাতে কোন বাধা না আসে তাই কাজটা করা হয়েছে। সদা সত্য, আপডেট সহ আজ সকালে ঢাকা টাইমস এ প্রকাশিত নিউজটি 
বিস্তারিত ঢাকা টাইমস দেখুন এখানে