সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

ঘাটাইলে সরিষার চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা


ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১০০ হেক্টর জমিতে মৌসুমী ফসল সরিষার আবাদ কমে গিয়েছে । এর কারন হিসেবে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়াকে দায়ী করছে উপজেলা কৃষি অফিস।                                                                                                                                                                                                      
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় দিগড় ইউনয়িনের  কদমতলী, হামিদপুর, কান্দুলিয়া, লোকের পাড়া, বাসাবাইদ এলাকায় গত বছর বিএডিসি চাষী পর্যায়ে উন্নতজাতের বীজ সংগ্রহ করে ১৪০০ হেক্টর জমিতে ১৩৫০মেট্রিকটন বারি ১৪-১৫, টাবি ৭ জাতের সরিষা কৃষকরা উৎপাদন করে। এর মধ্যে দীঘর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশী।
কিন্তু চলতি বছরে কমে গিয়ে ১৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ ১২০০ মেট্রিক টন সরিষা আবাদ হবে ধারনা করা হচ্ছে। এর কারন দেরিতে বৃষ্টিপাত হওয়াকে দায়ী করেছে কৃষি অফিস। তবে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ভাল তৈল ও পিয়াজ, উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরন প্রকল্প এর আওতায় কাজ করছে। হামিদপুর কদমতলী কান্দুলিয়া, লোকের পাড়া জামুরিয়া থেকে ১৫ জন কৃষক সরিষা প্রদর্শনির কাজ করছে। তার পরও যাতে বেশী ফলন আসে সে জন্য পরাগায়ন নিশ্চিত করার লক্ষে আরও মৌবক্স স্থাপন করা হবে । যদিও এর মধ্যে মৌচাষীদের মৌবক্স ফতেরপাড়া কান্দুলিয়া স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হ্ওয়ার কারনে এবার আবাদ কম হয়েছে। 

ঘাটাইলে দলিল গ্রহীতা জিম্মি সিন্ডিকেটের কাছে

ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রারের মাসিক সেলামি সাড়ে ৩১ লাখ টাকা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কমপক্ষে ২০-৩০ লাখ টাকা মূল্যের দলিল রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। এতে ৭০-৮০টি দলিল হয় প্রতিদিন।

প্রতি লাখে সেরেস্তা নামে সাবরেজিস্ট্রার মোতালেব হোসেনকে সেলামি দিতে হয় ৫০০ টাকা। আর এ টাকা নিয়ে থাকেন ক্যাশিয়ার নামে পরিচিত সেরেস্তাদার ছামাদ। ফলে প্রতদিন গড়ে ১৫ লাখ টাকা দলিল হলে তাতে প্রতি মাসে তার সেলামি দাঁড়ায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা। এছাড়াও হেবা ঘোষণার একটি দলিলে সরকারি ফিস ৪০০ টাকা । সেক্ষেত্রে নেয়া হয় ১০,০০০ হাজার থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাবরেজিস্ট্রার লাখে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকার ১টি দলিল থেকে নিয়ে থাকেন ৫০,০০০ হাজার টাকা। আর সাব-কবলা দলিল করতে ব্যাংকে টাকা জমা দানের বিধান থাকলেও হাতে হাতে টাকা নেয়া হয়। এদিকে সিন্ডিকেট করে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দলিল লেখক সমিতি। প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি টাকা নেয় দলিল লেখক সমিতি। আর এ সিন্ডিকেটের সদস্য হচ্ছে- ঘাটাইল উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. মোতালেব হোসেন, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম সরকার ও যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবরেজিস্ট্রারের ঘনিষ্ঠ আবদুল লতিফ (চামুরিয়া)। আর এ দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে দলিল গ্রহীতারা। চা বিক্রেতা মোহর আলী জানান, তিনি নন্দনগাতী মৌজায় ১৫ শতাংশ জমির দলিল করতে ৩৩ হাজার ৩’শ টাকা ব্যাংক চালান দেন। তারপরও অতিরিক্ত আরও ৮ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে তাকে। ঘাটাইলের সর্বত্র সাবরেজিস্ট্রার মোতালেবের দুর্নীতির ঝড় ওঠায় তিনি এখান থেকে দ্রুত পোস্টিং নেয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন। অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রার মোতালেব হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানামতে এ অফিসে কোনো অনিয়ম নেই। দলিল লেখক সমিতি নামে কোনো সিন্ডিকেট আছে কিনা এরকম অভিযোগ নেই। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টিও তার জানা নেই বলে জানান। সেরেস্তায় লাখে ৫শ’ টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, এনডসমেন্ট, আর ব্যাংকে চালান কপি জমা দিতে খরচ বাবদ এ টাকা নেয়া হয়। দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, মজুরি হিসাবে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয়। এ টাকা গুলো দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় বলে তিনি জানান।