শুক্রবার, আগস্ট ০৩, ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমীপে ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ নেতার খোলা চিঠি

আল্লাহ সর্বশক্তিমান                                                  জয়বাংলা                                              জয়  বঙ্গবন্ধু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সমীপে খোলা চিঠি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

মাননীয় নেত্রী,

আমি শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার মুজিব আদর্শ লালনকারী একজন আওয়ামীলীগ কর্মী। ছাত্রজীবনে মাত্র ১১ বছর বয়সে সক্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেকে গড়ে তোলা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি বারবার। ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ঘাটাইলে হরতাল পালন কালে আমার উপর বোমা হামলা হয় এবং ঐ হামলার প্রাতিবাদে আপনি মিডিয়ায় বিবৃতি প্রদান করেছিলেন এবং আমার চিকিৎসা বাবদ অনুদান প্রদান করেছিলেন। ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা হামলার মামলায় বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের রোষানলে পড়ে কারারুদ্ধ হয়েছি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে Operation Clean Heart এর নামে যে আওয়ামীলীগ নিধন পক্রিয়া BNP শুরু করেছিল, তার শিকার হয়েছি আমি। অবর্ণনীয় অত্যাচারের ও যুলুম নির্যাতনের সেই ধকল এখনো আমার ধমনিতে। এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে আমি যখন ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মডেল ইউনিয়নের স্বীকৃতি লাভ করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবং উন্নয়নের ফলাফল জনগনের দোরগোরায় পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পাড় করি, তখনি আমার উপর বিএনপি জামাতের বর্বরোচিত হামলা হয়। বারবার হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৪ জুন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমি আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করি। কোন দিক থেকেই পেরে না উঠে তারা আমার দুই সহোদরকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করে এবং তাদের ভুড়ি ভূপাতিত করে। আতংক ছড়িয়ে আমাকে পরাজিত করা হয়।

মাননীয় নেত্রী,

ব্যক্তিগত এই আবেগগুলি উল্লেখ করা চিঠির মূল উদ্দেশ্য নয়। আমি এটা বলতে চেয়েছি যে, শরীরের কয়েক পাউন্ড রক্ত ওরা নিয়েছে, শরীরের মাংস কোষ ওরা কেঁটেছে, ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। তথাপি এটা বলতে চাই শরীরের সমস্ত রক্ত যদি শুশুকেরা নিয়ে নেয়, সমস্ত মাংস যদি ঐ শকুনেরা ভাগা দেয় তারপরও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবেনা, ইনশাল্লাহ

মাননীয় নেত্রী,

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, ঘাটাইল তথা টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগের শ্রষ্ঠা জননেতা প্রয়াত শামসুর রহমান খান (শাজাহান) এর কাছে আমাদের সকলের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছে। হিমালয়ের মত উদার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এই নেতার সান্নিধ্যে বঙ্গবন্ধু শিখেছি, জয় বাংলা শিখেছি, শেখ হাসিনা শিখেছি, সংগঠন শিখেছি, নিশিদিন গ্রাম বাংলায় ঘুরে আওয়ামীলীগ শিখেছি। হাজার হাজার নেতাকর্মী আওয়ামীলীগের পতাকাতলে ভিড়াতে শিখেছি।

প্রিয় নেত্রী,

সেই নেতার আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ আজ ঘাটাইলে বিপন্ন। দিকভ্রষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে ঘাটাইলের আওয়ামীলীগ আজ কতিপয় নেতার পকেটের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র একজন নেতাকে দমন করার জন্য ঘাটাইলের আওয়ামীলীগকে করা হয়েছে ছিন্নভিন্ন। ৮০-৮৫ শতাংশ আওয়ামীলীগকে বাইরে রেখে চলছে প্রাণের সংগঠন। হালে পানি না পেয়ে দোসর করেছে বিএনপি জামাতের সাথে। তাদের সাথে আঁতাত করে অত্যাচার নির্যাতন করে নির্বাসিত করা হচ্ছে, রক্ত ঝড়ানো হচ্ছে তাদের, যাদের ধমনিতে শুধু আওয়ামীলীগের রক্ত, শুধুই জয় বাংলার রক্ত। জয় বাংলার ঝান্ডাধারীদেরকে নির্বিচারে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে।

মাননীয় নেত্রী,

শুধুমাত্র একজন নেতাকে দমন করে, ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই তাদের এই চিত্র। জননেতা শামসুর রহমান খানের মৃত্যুর পর ঘাটাইলের আওয়ামীলীগকে যিনি ৭০ এর আওয়ামীলীগে রূপান্তরিত করেছিলেন, দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যিনি ঘাটাইলকে এক আওয়ামীলীগের পতাকাতলে এনেছিলেন, যার গনমূখী নেতৃত্বে ঘাটাইল থেকে বিএনপি জামায়াত ছিল প্রায় নির্বাসিত, যার নেতৃত্বকালীন সময়ে ঘাটাইলের মাটিতে এক দিনের জন্য বিএনপি জামাতের শ্লোগান পর্যন্ত হয়নি (তারা কর্মী পায় নাই)। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই নেতা আলহাজ আমানুর রহমান খান রানা, এম.পি’র বিষোধগার করতে ঘাটাইলের রাজপথে অসংখ্য মিছিল সমাবেশ হয়েছে। অথচ বিএনপি জামায়েত/জঙ্গিবাদের বিরুদ্বে তাদের কোন মিছিল সমাবেশ হয় নাই। বরঞ্চ বিএনপি জামায়েতকে তাদের মিছিল সমাবেশ করার সুযোগ করে দিয়ে ঘাটাইলের মাটিতে শেখ হাসিনা হটানোর শ্লোগান করানো হয়েছে।

মাননীয় নেত্রী,

আলহাজ আমানুর রহমান খান রানা এম.পি. ঘাটাইলের গনমানুষের নেতা। সরকারী বেসরকারী অনেক জরিপ আপনার কাছে রয়েছে। সেই জরিপের প্রেক্ষিতে আমার কথার মূল্যায়ন হবে। আমার এই চিঠি শুধুমাত্র একটি হাতের লেখা নয়, ঘাটাইলের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের আকুতি। তসবি হাতে জায়নামাজে বসা হাজার হাজার বিধবা, বৃদ্ধ-বিদ্ধা মা-বাবার মিনতি – কবে আসবে আমাদের সন্তান? কবে বন্ধ হবে ঘাটাইলে আওয়ামীলীগের উপর যুলুম নির্যাতন?

প্রিয় নেত্রী,

আপনি মানবতার মা। লক্ষ লক্ষ উদ্ধাস্তুকে আশ্রয় দিয়ে মা – তুমি আজ বিশ্বমাতা। মা, তোমারি বুকে তোমার সন্তানেরা আজ উদ্ধাস্তু। তুমি তাদের দেখবে না, মা?

নিবেদক

মোঃ শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস

পক্ষে,

ঘাটাইলের সর্বস্তরের জনগন।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কি হচ্ছে পর্দার আড়ালে?


নিউজ ডেস্ক: গত ২৯ জুলাই বাস চাপায় অনাকাঙ্খিতভাবে দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে রাজধানীর স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রথমবারের মতো কিশোর বিপ্লবের উত্তাল হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। সেই উত্তাল হাওয়ায় ভেসে আসা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

এদিকে পর্দার আড়ালে এই আন্দোলনকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে কুচক্রী মহল। বাংলাদেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা সব সময় নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ রয়েছে যারা এই স্বার্থ আদায়ের জন্য জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত। ক্ষমতালোভী হায়েনারা কোমলমতি বাচ্চাদের ক্ষতি করে হলেও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বোমা হামলা করে একটা স্বার্থান্বেষী মহল দেশটাকে সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান বানাতে চায়।

আন্দোলনরত ছেলেমেয়েরা সহিংস আন্দোলনে অভ্যস্ত নয়, কুচক্রী মহল তাদের দলে ভিড়ে গিয়ে সহিংস আন্দোলনের নামে নাশকতা ছড়িয়ে দিলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। সরকারবিরোধীরা ছদ্মবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করে শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে যাতে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সর্বোপরি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আর্থিক সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন।

আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশকে আমরা সবাই ভালোবাসি। নাশকতা করে কোনো মহল আমাদের দেশকে আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়ায় পরিণত করুক তা আমাদের কাম্য নয়।

তাই যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই আবেগ সংযত রেখে প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যাওয়াটাই উত্তম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার বানানোর সুযোগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন অনেকে। আজকের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যত। কোনো অবস্থাতেই তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করা যাবেনা।
আমাদেরঘাটাইল/কেআই

ভূঞাপুরে গরু-মহিষের আবাসিক হোটেল ব্যবসায় মন্দা!


টাঙ্গাইল : যমুনার তীর ঘেঁষা টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গরুর হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গরু-মহিষের আবাসিক হোটেল ব্যবসায় এবার মন্দাভাব দেয়া দিয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গোবিন্দাসী হাটে প্রচুর গরু-মহিষের আমদানি হলেও ক্রেতা কম থাকায় পাইকাররা গরু-মহিষ নিয়ে অন্য হাটে চলে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, গরুর হাটকে কেন্দ্র করেই অত্রাঞ্চলের রাজনীতি-অর্থনীতি আবর্তিত হচ্ছে। গোবিন্দাসীসহ অত্রাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান দিচ্ছে এই হাট। এই হাটকে ঘিরে এতদাঞ্চলের অনেকেই নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিতও হয়েছেন।

গরু-মহিষের আবাসিক সুবিধা থাকার সুবাদেই গোবিন্দাসী গরুর হাট দেশের অন্যতম বৃহত্তম তথা দ্বিতীয় বৃহত্তর গরুর হাট হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু-মহিষের আবাসিক হোটেলগুলোর ব্যবসাও থাকে বেশ জমজমাট। 

হোটেলেরই গরু-মহিষের যাবতীয় দেখভাল করার দায়িত্ব থাকে। নিরাপদে রাখার পাশাপাশি গোসল করানো, মশায় না কামড়ানো এবং খাওয়ানোর যাবতীয় ‘রুম সার্ভিস’ দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। গোবিন্দাসী হাটকে কেন্দ্র করে এতদাঞ্চলে শতাধিক গরু-মহিষের আবাসিক হোটেল গড়ে ওঠেছে। 

প্রতিবছর গরু-মহিষের আবাসিক হোটেল থেকে আয়ের টাকায় জীবন চলে প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের। কিন্তু এবার হাটে বেঁচা-বিক্রি কম হওয়ায় বিক্রেতারা গরু-মহিষ অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ায় সবগুলো আবাসিক হোটেল চালু করা হয়নি। ৭০টির মতো আবাসিক হোটেলে অল্পকিছু গরু-মহিষ রয়েছে। অন্যগুলো এখনও চালু করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ষাটের দশকে গোবিন্দাসীতে ছোট আকারে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালের আগে পর্যন্ত গোবিন্দাসী একটি ছোট বাজারই ছিল। চরাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতো। ১৯৯১ সালের প্রথমদিকে সপ্তাহে দুইদিন রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসানো হয়। সে সময় সাধারণত বিকালে হাট বসতো। সন্ধ্যার পর ‘মশাল’ বাতি জ্বালিয়ে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত দোকানপাট চালানো হতো। তখন স্থানীয়রা ৮-১০টা করে করে গরু-ছাগল হাটে তুলে বিক্রি করার চেষ্টা করে। কখনো বিক্রি হয়, আবার কখনো হয়না।

১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে গোবিন্দাসী হাটের প্রথম ইজারা হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা গোবিন্দাসী হাটটি মাত্র ৩২ হাজার টাকায় ইজারা নেন। ইজারার টাকা ওঠাতে তিনি হাটটির ব্যাপক প্রচারণা চালান। গোবিন্দাসী হাটটিতে নদী ও স্থল পথে যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে দেশের সিলেট, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের গরু ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করেন। তাদেরকে হাটে আনতে নানা রকম প্রণোদনা চালু করেন। যেমন রংপুর, রাজশাহী বিভাগ ও ভারত থেকে গোবিন্দাসী হাটে গরু আনলে যমুনা নদীর পাড়াপাড়ের জন্য ফেরি ফ্রি, হাটে গরুর পাহারা ফ্রি এ রকম হরেক রকম প্রণোদনা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাটমুখো করতে ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন জেলায় মাইকিং করা হয়।

পাইকাররা শুরুতে ট্রাক ও নৌকায় গরু এনে হাটের আশপাশের মানুষের বাড়ির সামনে এনে জড়ো করে রাখতেন। ঝড়-বৃষ্টির সময় এসব বাড়ির গোয়ালঘরেই জায়গা হতো পাইকারদের কিছু গরুর। আশ্রয় পেতেন পাইকাররাও। বিনিময়ে তারা বাড়ির মালিককে নামমাত্র কিছু অর্থ দিতেন। এভাবে টাকা রোজগারের এই সহজ সুযোগ ও পাইকারদের চাহিদার কারণে হাটের আশপাশের বাসাবাড়ির মালিকরা তাদের খোলা জায়গায় টিনের ছাপড়া দিয়ে ঘর তুলে দেয় হাটে আসা গরু-মহিষের জন্য। ভাড়ার বিনিময়ে গরু রাখা শুরু হয় সেখান থেকেই। পরবর্তীতে এসব ঘরই পরিচিতি লাভ করে গরু-মহিষের  আবাসিক হোটেল হিসেবে।

দিন দিন বাড়তে থাকে এ হোটেলের সংখ্যা। হোটেলের গন্ডি ছড়িয়ে পড়ে গোবিন্দাসীর আশপাশের খানুরবাড়ি, ভালকুটিয়া, কুকাদাইর, রাউৎবাড়ি, জিগাতলা, বাগবাড়ি, স্থলকাশি, মাটিকাটা ও চিতুলিয়াপাড়াসহ অন্তত ১০-১২টি গ্রামে। গরু-মহিষের আবাসিক সুবিধা থাকায় হাট শুরুর প্রায় ২-৩দিন আগেই হাটে এসে এসব হোটেলে গরু-মহিষ রাখেন পাইকাররা। আর এ জন্য হোটেল মালিককে গরু প্রতি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা দিতে হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে হাটে পাইকারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবাসিক হোটেলের ভাড়ার কমিয়ে গরুপ্রতি ১০ টাকা করা হয়েছে। 

গোবিন্দাসী  হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার ও ব্যাপারীরা গরু বেঁচা-কেনা করতে আসেন। তাদের থাকার জন্য এখানে যেমন আবাসিক হোটেল রয়েছে তেমনি তাদের গরু, মহিষ ও ছাগল নিরাপদে রাখার জন্যও রয়েছে গরু-মহিষের আবাসিক হোটেল। এসব গরু-মহিষের আবাসিক হোটেলের আয় থেকে যাঁরা  সংসারের চাকা সচল রাখছেন তাদের অবস্থাও এবার খুব ভালো নয়। তবে, তারা আশা করছেন, আগামি ৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে হাট জমে ওঠার পাশাপাশি তাদেরও ভাগ্য খুলে যাবে।
আমাদেরঘাটাইল/হাসান

নিরাপদ সড়ক কতো দুর ?


রেজাউল করিম: সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বিভৎস ছবি, দেখতে পাচ্ছি স্বজন হারানোদের আহাজারি। বিশেষ করে ঈদের ছুটির সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হতে থাকে। বর্তমান সময়ে এক আতঙ্কের নাম সড়ক দুর্ঘটনা।
প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। এইতো ২৯ আগস্ট রোববার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের এমইএস মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রেজাউল করিম রাজু ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম নামের দুই শিক্ষার্থীর ওপর চেপে বসল যাত্রীবাহী বাস। ফলে ঘটনাস্থলেই ঝরল দুটি মেধাবি প্রাণ। প্রকাশ্যে বাসচাপায় মৃত্যু। সহপাঠীর লম্ভা তালিকা আন্দোলনে শরীক হওয়ায় ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। এরকম কতো প্রাণ সড়কে ঝড়ছে ।
পরিচয় না পেয়ে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে মাটিচাপা পড়ে। গণমাধ্যমে তালিকাবদ্ধ পরের কথা, অপমৃত্যুর তালিকা থেকেও বঞ্চিত হয় ওরা। নৌ, সড়ক ও রেলপথের সমন্বয়ে তৈরি করা তথ্য মতে ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজার ২৮৪ জন। এর মধ্যে ৫১৬ জন নারী ও ৫৩৯ শিশু। এতে আহত হয় ৯ হাজার ১১২ জন। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৯৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৪১২ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৭২। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭তে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৭৪টি। আর দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৮৭২।। এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ ও হতাহত ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে সংগঠিত হয়।
কিন্তু কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা? কেন এই অকাল অপমৃত্যু ? সড়কপথ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখলেও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়, বিআরটিএ সহ যোগাযোগ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা কি সদুত্তর দিতে পারবেন ? দেশের মহাসড়কগুলোতে সংঘর্ষের সংবাদ শুনে মনে হতো দ্রæত গতি, সড়কগুলো সরু এবং কোনো ডিভাইডার নেই ,অতিক্রম এমন নানা কারনে সংঘর্ষ হয়ে থাকে। সম্প্রতি আমরা হতভম্ব হচ্ছি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষও নিরাপদ নয়। কখন যেন প্রাণটা কেড়ে নেয় ঘাতক যান।
দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা, ভালো সড়কের অভাব, চালকের অদক্ষতা, পুরাতন ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা, বিকল্প যানবাহনের অপর্যাপ্ত সুবিধা, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অভাব সহজেই চোখে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানামুখী পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা একেবারেই সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনার চ্যালেঞ্জও নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েছে অন্তত ১৫ থেকে ২২ ভাগ। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা মোট জিডিপির দুই ভাগ।
যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস বাধ্যতামূলককরণ। চালক ও সহকারীসহ সব ধরনের পরিবহন কর্মীদের নিয়োগপত্র ও শ্রম আইন মেনে মজুরি-ভাতা প্রদান এবং তাদের শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ। অবৈধ-ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সারা বছর বিআরটিএর অভিযান, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানোর দায়ে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর সঙ্গে মালিককেও আইনের আওতায় আনা। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদন্ড, সহকারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড , সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সতর্ক সংকেত স্থাপন। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। ক্ষুদ্র যানবাহনের জন্য আলাদা সড়ক , যানবাহনের চালক ও সহকারির লাইসেন্স বাধ্যতামূলককরণ।
বিআরটিসিকে শক্তিশালীকরণ ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুটসহ দেশের সকল আন্তঃজেলা রুটে বিআরটিসির সার্ভিস চালু, আধুনিক ডিজিটাল সিগনাল পোস্ট নির্মাণ করা, ,ফিটনেসবিহীন কোনো যানবাহন পথে না নামানো, ওভারব্রিজ পারাপারে লোকজনকে উৎসাহিত করা এবং আইন প্রয়োগে যথাসাধ্য চেষ্টা করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে সতর্ক হওয়া, রাস্তার উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ করা, ফিটনেস চেকিংয়ের জন্য জনগণ ও সড়ক উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে একজন মেজিস্ট্রাটের অধীনে মোবাইল টিম বের করা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রায়ই এসব সুপারিশ থাকলেও বাস্তবায়ন নেই।
সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়সের চালক স্টিয়ারিংয়ে বসা। সাথে মাদক সেবন। ২৫ জুন টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া এলাকায় ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে পিতা-পুত্রসহ পাঁচজনের মৃত্য হয়। আহতরা জানান, ট্রাকচালক নেশাগ্রস্থ ছিল। নেশা করতে মানা করায় চালক বলছিল সে নেশা করে তার বাবাও নেশা করত। নেশা না করলে গাড়ি চালানো যায়না। অধিকাংশ চালক নেশা করে স্টিয়ারিংয়ে বসে। দুইশ’র বেশি মাদক সেবক বা কারবারীর মৃত্যু হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর গুলিতে। মাদকাসক্ত চালকের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিআরটিএ’র লাইসেন্স। লাইসেন্স প্রদানে সতর্কতা, মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অভারটেকিং নিষিদ্ধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পথচারী চলাচলের জন্য ফুটপাত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অবৈধ চালকের দৌরাত্ম্য বন্ধ, অপরাধীদের দ্রæত বিচার ব্যবস্থা চালু এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্টিয়ারিং ছেড়ে না দিয়ে সরকারি নজরদারি বাড়ালে নিরাপদ সড়ক খুব দুরে নেই। সম্প্রতি সড়কদুর্ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, মন্ত্রীর হাসি, পরবর্তীতে মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা এসবের কোনটাই সমাধান না। নিরাপদ সড়কের জন্য চাই কার্যকরী পদক্ষেপ।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চনের স্ত্রী জাহান আরা কাঞ্চন শুটিং দেখতে মাইক্রোবাসে বান্দরবানে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ওই বছরই নিরাপদ সড়ক চাই নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন ইলিয়াছ কাঞ্চন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ গণসচেতনায় সফল। এই সংগঠনটি সক্রিয় থাকলেও শক্তিশালী কোন গোষ্ঠি সরাসরি পাশে না থাকায় তেমন কোন কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারেনি। কিন্তু সহপাঠীর মৃত্যুতে ছাত্রসমাজ মাঠে নেমে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে , ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না, শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে এবং শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে এমন নয়টি দাবী নিয়ে আন্দোলনে মাঠে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা মাঠে নামাতে এবার নিরাপদ সড়ক হয়তো আর দুরে নেই।
পৃথিবী কোথাও ছাত্র আন্দোলন বৃথা গেছে এরকম ইতিহাস নেই। সরকার , বিরোধীদলসহ অন্যান্য সংগঠনও বিরোধীতা করছেনা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রæত বিচারের বিধান রাখা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন , সড়ক দুর্ঘটনায় যে শাস্তি হওয়া উচিত, তার সর্বোচ্চটাই থাকছে সড়ক পরিবহন আইনে। আইনটিতে তড়িৎ গতিতে বিচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই আইনে সংশ্øিষ্ট কোনো অপরাধী আইনের কোনো ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বের হতে পারবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাস হলেই তারা কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। প্রধানমন্ত্রীও চান আইনটি দ্রæত পাস হোক এবং অপরাধীরা শাস্তি পাক। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের আন্তরিকতার কথাও বলেছেন আনিসুল হক।

লেখক : সংবাদকর্মী
আমাদেরঘাটাইল/এমএইচ

ইংল্যান্ডে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ?


খেলাধুলা ডেস্ক:  রাশিয়া বিশ্বকাপের রেশ এখনও কাটেনি। ভক্তদের মধ্যে এখনও চলছে তর্ক-বিতর্ক। পাশাপাশি শুরু হয়ে গেছে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আর এরই মধ্যে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইংল্যান্ড ফুটবলের প্রশাসনিক সংস্থা দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।

এ ব্যাপারে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নতুন মৌসুম থেকেই কাজ শুরু করে দেবে এফএ।

এদিকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পেলে, ১৯৯৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর প্রথম বড় কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে দেশটি। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ইংল্যান্ড।

তবে এর আগেই আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে যৌথভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে থাকার আবেদন করে রেখেছে। আবেদন করেছে মরক্কোও। এর আগে ২০১৮ সালেও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আবেদন করেছিল, কিন্তু রাশিয়ার কাছে হেরে যায়।

আমাদেরঘাটাইল/এমএইচ

শিশুরা যেন আঘাত কিংবা ক্ষতির সম্মুখীন না হয় : সেভ দ্য চিলড্রেন


বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেয়া স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠনটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, একটি শিশুও যেন আঘাত কিংবা ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

শিশুরা যখন সড়কে, যানবাহনে শৃঙ্খলা আনতে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, তখন সরকারের এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া ‘উচিত’ বলে মনে করে দাতব্য সংস্থাটি।

সরকারের সব ধরনের কার্যক্রমে শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করতেও সেভ দ্য চিলড্রেন অনুরোধ করেছে।

সংগঠনটি শিশুদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোভাব উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

মিরপুর-১৪ নম্বর সেকশনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে একদল যুবককেও দেখা যায়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক সনদ (ইউএনসিআরসি) অনুযায়ী, শিশুদের অবশ্যই অধিকার রয়েছে, যেসব বিষয় তাদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাতে নিজেদের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশের এবং সেই মত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ার।

সংগঠনটি জানিয়েছে, শোকাহত ও আবেগতাড়িত হয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে প্রতিবাদ জানাতে। তবে এই আন্দোলন তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হল- তাদের সহিংসতা থেকে রক্ষা করার, যতক্ষণ তারা অধিকার আদায়ের দাবিতে লড়ছে।