শনিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

ঘাটাইলে এক মাসেও খোঁজ মেলেনি শাকিলের

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল: ঘাটাইলে এক মাসেও খোঁজ মেলেনি অটোবাইক চালক শাকিল খানের। গত ১০ অক্টোবর দুপুরের দিকে অটোবাইক নিয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

তারপর থেকেই তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সে সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কামারচালা গ্রামের রহিজ খানের ছেলে। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবা-মা পাগল প্রায়।

অটোবাইক চালকের বাবা রহিজ খান তার ছেলেকে পাওয়ার আশায় ঘাটাইলসহ আশপাশের থানাগুলোতে মাইকিং করেও কোনো খোঁজ মেলাতে পারছেন না। অভাবের সংসারে টাকা রোজগারের আশায় তার বাবা কিশোর পুত্রের হাতে তুলে দিয়েছিলেন অটোবাইক।

ভাসানীর উত্তরাধিকার কোথায়?

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বিপুল জনপ্রিয় থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। একদিকে তিনি আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক ছিলেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের পাশেও ছিলেন তিনি। একদিকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ ছিলেন, আবার কখনো কখনো ধর্মচর্চাকে রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতেন।

রাজনীতির মূল অংশই হচ্ছে জনগণ। আর সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সম্পৃক্ততা ছিল অনেক। শোষণ ও বঞ্চনাহীন এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল সমাজের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণ। কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অধিকার তেভাগা ও ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ আন্দোলন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি মজলুম জননেতা হিসেবে আখ্যা পান। কিন্তু তাঁর রাজনীতির এই ধারা তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিস্তৃত হয়নি। এদের মধ্যে অধিকাংশই বিভ্রান্ত হয়ে পথহারা রাজনীতির চর্চা করছে। তারা অনেকেই উগ্র বাম, বিএনপি, অনেকেই আবার দক্ষিণপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। কেউ কেউ আবার যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও।

মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা ভাসানী। বঙ্গবন্ধুও তাঁকে পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। ঐ সমসাময়িক সময়ে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল তাঁর। ভুল রাজনীতির দর্শন যে মানুষকে ভবিষ্যৎ অমরত্ব থেকে বঞ্চিত করে তার নিদর্শনই হচ্ছেন ভাসানী। এত জনপ্রিয়তা থাকার সত্ত্বেও আজ তাঁর মতাদর্শের রাজনীতির চর্চা অদৃশ্যমান। এজন্যই হয়তো আজ এই মজলুম জননেতার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়া শর্তেও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি একেবারেই কম।

রাজনীতিতে শুধুমাত্র জনগণের হাততালিই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি সঠিক আদর্শও জরুরি। আমৃত্যু সেই আদর্শকে লালন করতে হয়। সেই সঙ্গে রেখে জেতে হয় সঠিক উত্তরাধিকার। যদি কোনো রাজনীতিবিদ এটাতে ব্যর্থ হয়, তবে কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবেন তিনি, এটাই স্বাভাবিক।

টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

আজ শনিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোটের শীর্ষ নেতারা টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সেখানে যাওয়া কথা থাকলেও তিনি যাচ্ছেন না। তবে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ আছেন।

এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। 
তিনি বলেন, আজ মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা উনার মাজার জিয়ারত করতে টাঙ্গাইল এসেছি।

ঢাকা থেকে দুইটি গাড়িতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা টাঙ্গাইল পৌঁছান। মাজার জিয়ারতের পর সেখানে স্থানীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখবেন নেতারা। আগে থেকেই ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও ইকবাল সিদ্দিকী রয়েছেন সেখানে। এছাড়াও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের মোস্তাক আহমেদ তাদের সঙ্গে রয়েছেন।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা ফিরে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন ড. কামাল হোসেনসহ অন্যরা। আজ সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ওই সমাবেশের কারণে টাঙ্গাইল আসেননি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

এর আগে সিলেটে হযরত শাহ জালাল ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নিজেদের যাত্রা শুরু করে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সিলেট-৬ আসনে জামায়াতকে ‘না’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনটি জামায়াতে ইসলামীকে না ছেড়ে যেকোনো বিএনপি নেতাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের ১১ ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা।

এই আসনটি বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিতে পারে এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের একটি রেস্তরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি জানান তারা।


গত কয়েকদিন ধরেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, এই আসনটি জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন বলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই আসনের বিএনপি দলীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। এই দুই উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নেই দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানরা। আর এ জন্যই এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত।

দুই উপজেলার চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিয়ানীবাজার উপজেলার ১ নম্বর আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন। এ সময় উপস্থিত চেয়ারম্যান এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোটের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে আহ্ববান জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণকে সার্থক করে তোলার জন্য, এলাকার জনগণের স্বার্থে এবং বিএনপিকে রক্ষার জন্য সিলেট-৬ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হোক। তা না হলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন শুধু বাধাগ্রস্তই হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

এ দাবির সঙ্গে সমর্থন জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নছিরুল হক শাহীন, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিলাল উদ্দিন এবং তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএফএম আবু তাহের, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নোমান উদ্দিন মুরাদ, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরী, পশ্চিম আমুড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহেল আহমদ, প্যানেল চেয়ারম্যান (২) আবদুল গফফার কুটি, লক্ষণাবন্দ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজু আহমদ ও শরীফগঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ মুছব্বির প্রমুখ।

বিএনপিতে যোগ দিলেন জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান

বিএনপিতে যোগ দিলেন নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী। শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠান হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে হাত রেখে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগদান করেন।