শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৬

এমপি রানার নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানার সমর্থনকারী শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা সূত্রে এমপি আমানুর রহমান খান রানা সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর মুনছুর আলীতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত কর্মী শফিকুল ইসলাম (৩৮), মজিবর রহমান (৫৫), দেওয়ান নিজাম (৪০) শুক্রবার(৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘাটাইল থানায় দায়েরকৃত মামলা ৩টিতে বাড়িঘর ভাংচুর, বেআইনী জনতাবদ্ধে অনাধিকার প্রবেশ, চুরি, ক্ষতিসাধন, হুমকি ও হুকুম দানের অভিযোগ আনা হয়েছে। শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করায় এমপি রানা সমর্থিতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা উপজেলায় বিভিন্ন আত্মীয়য়দের বাড়িতে আত্মগোপণে রয়েছে। কেউ কেউ উপজেলা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কামাল হোসেন জানান, এমপি রানার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়াকে কেন্দ্র করে আ’লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেছেন লেবু সমর্থক তিন কর্মী। মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে, ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (এমপি রানা সমর্থিত) শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম লেবু সমর্থিত ২২জন নেতাকর্মীর নামে ঘাটাইল থানায় শুক্রবার(৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গন্য না করায় শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস-এর নেতৃত্বে শতাধিক মহিলা শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করলে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহন করা হয়। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘাটাইলে এমপি সমর্থিত ও লেবু সমর্থিতদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘাটাইলে আ’লীগের দু’গ্রুপের ভাংচুরের ঘটনায় চার মামলা গ্রেপ্তার ১০ জন

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ চার ভাইয়ের  বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করাকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই পক্ষের ভাঙচুরের ঘটনায় ঘাটাইল থানায় পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত মামলার এজহার ভূক্ত দুই পক্ষের ১০ আসামীকে র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল গ্রেপ্তার করে ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করেছে। পুলিশ দুপুরেই তাদের টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
ঘাটাইল থানার পুলিশ জানায়, আ’লীগের দুই পক্ষের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি চারটি মামলার হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা আবিদের বাবা মজিবর রহমান, তমালের বাবা নাজিম উদ্দিন এবং সৃষ্টি মেমোরিয়ার কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে পৃথকভাবে মামলা তিনটি দায়ের করেছেন। তিনটি মামলাতেই শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিং ও পৌর কাউন্সিলর মনসুর আলী সহ ১৭ জনকে আসামী করেছেন মামলার বাদীরা।  এদিকে জামুরিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বাদী হয়ে তার বাসাবাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক ভিপি শহিদ সহ ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি চার মামলার এজহার ভূক্ত দুই পক্ষের ১০ আসামীকে র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল গ্রেপ্তার করেছে। র‌্যাব গতকাল শনিবার ভোরে তাদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করে। প্রেপ্তারকৃতরা হল আবু সাইদ রুবেল, আবিদ, রুবেল মিয়া, রানা, সোহেল, রাজীব, মৃদুল, বাবর ও মজ্ঞু । এরা সকলেই ছাত্রলীগ কর্মী এবং শহিদুল ইসলাম লেবুর অনুসারি। অপরজন হল এমপি রানার অনুসারী ঘাটাইল পৌরসভার কাউন্সিলর মনছুর আলী। পুলিশ দুপুরেই তাদের ১০ জনকেই টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, এমপি রানার অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়  বিলবোর্ড ও নেতা কর্মীদের বাসাবাড়িতে ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা জামুরিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংসহ ১৭ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায়  পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী  ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফারুক আহমেদের লাশ উদ্ধার হয়। ফারুক আহমেদ হত্যাকা-র প্রায় ২০ মাস পর গ্রেপ্তার হওয়া আনিসুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। উভয় আসামীর জবানবন্দিতে এই হত্যাকা-ে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ হত্যাকা-ের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ ভাসানীর কথা