মঙ্গলবার, জুলাই ০২, ২০১৯

ঘাটাইলে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও বকশিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 
আজ ২ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে তারা এই মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে এলাকার কয়েক শতাধিক লোকসহ বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এ সময় তারা গ্রেপ্তারকৃত দুই ধর্ষকের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেয়। 

 গত ২১ জুন উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামে রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে গোপালপুর উপজেলার শাওনের বাড়িতে যাওয়ায় পথে বাড়ির পাশের ফাঁকা মাঠে নিয়ে  একই গ্রামের আলমগীর হোসেন ও আ. হামিদ ওরফে আলপিন তাকে সংঘবন্ধভাবে ধর্ষণ করে । 
পরে এ ঘটনায় গত ২৪ জুন সোমবার ছাত্রীটির মা বিনা বেগম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় গণধর্ষণের মামলা করলে পুলিশ তাদের দুজনকে এই দিনই আটক করে  আদালতে প্রেরন করেন।

সেই নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত

দেশব্যাপী আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নয়ন বন্ডের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

নিহত নয়ন বন্ড বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কলেজ রোড এলাকার মৃত মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে এবং রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

গোলাগুলির এক পর্যায়ে নয়ন বন্ড বাহিনী পিছু হটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুটি শর্টগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নয়ন বন্ডের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলায় নয়ন বন্ডকে অভিযুক্ত করে বিভিন্ন সময় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এসব মামলার মধ্যে দুটি মাদক মামলা, একটি অস্ত্র মামলা এবং হত্যাচেষ্টাসহ পাঁচটি মারামারির মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।