রবিবার, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৮

ঘাটাইলে জন্মাষ্ঠমী উদযাপিত

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা শাখা আয়োজিত পৌর এলাকার শান্তিনগর হরি মন্দির প্রাঙ্গনে জন্মাষ্ঠমী উপলক্ষে পাঠকীর্ত্তন, লীলাকীর্ত্তন ও গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।

পরে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ঘাটাইলের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ অধির চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক দত্ত, আইন বিষয়ক সম্পাদক সুমন আর্য্য, ধর্ম সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সুধাংশ দে প্রমুখ।

ঘাটাইলের দেউলাবাড়ীতে তোপের মুখে শালিসের টাকা ফেরত দিলো মাতাব্বররা


নারীকে মাধ্যম বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে শালিসের নামে নেয়া ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিলো ইউপি সদস্য ও কথিত মাতাব্বররা। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি মহল মিথ্যা অভিযোগে শালিসের নামে নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে থানা পুলিশের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত ২৯ আগষ্ট রাতে উপজেলার রতনবরিষ গ্রামের বিদেশ ফেরত লিপি নামে এক যুবতীকে দেউলাবাড়ি গ্রামের শুকুর আলী ওরফে বেগুর বাড়িতে তুলে দেয় রতনবরিষের মাসুদ, মুক্ষগাংগাইরের রফিক ও সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার আলী আকবর বাবুল। পরে ঐ যুবতীকে ব্যবহার করে রাতেই গ্রামে শালিশী বৈঠক বসায়। শালিসে থানা পুলিশের ভয়ভীতি ছাড়াও নানাভাবে চাপ প্রয়োগে ঐ পরিবারকে জিম্মি করে ৯১ হাজার টাকা আদায় করে।

এভাবে একের পর এক দেউলাবাড়ি, রতনবরিষ, মুক্ষগাংগাইর এ ৩ গ্রামকে জিম্মি করে নিরীহ মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা আদায় করতে থাকায় এলাকাবাসি বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। ইউপি সদস্য হায়দর আলী, লেবু বেগম ও কথিত ঐ মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসি প্রকাশ্যে মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। একপর্যায়ে তোপের মুখে পরে এ মাতাব্বররা শালিসে নেয়া ঐ টাকা ফেরত দেয়।

অতি সম্প্রতি গোপালপুর সরওয়ার্দি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিমের রতনবরিষ গ্রামে তার প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে পাশের বাড়ির ৬ বছরের এক শিশুকে জড়িয়ে মিথ্যা রটনা ঘটিয়ে শালিসের নামে ৮০ হাজার টাকা নেয় ঐ কথিত মাতাব্বররা।

গত ২৪ আগষ্ট দেউলাবাড়ি উত্তরপাড়া শাহজাহান আলীর জমি সংক্রান্ত শালিসি দরবার করে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। রতনবরিষ গ্রামের শহিদুলকে গাজা খাওয়ার ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৬ হাজার টাকা নেয় এ কথিত মহলটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেউলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

অপরদিকে ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুল হক বলেন শালিসী দরবারে কেউ যদি থানা পুলিশের ভয় দেখায় সেখানে আমার কি করার আছে?

টাঙ্গাইল জেলার উন্নয়নে সরকারের অবদান (ভিডিও সহ)

টাঙ্গাইল বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি জেলা। প্রশাসনিক দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। রাজধানীর সাথে উত্তরবঙ্গে সড়ক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশজুড়ে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে।

সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুরের ভোগরা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল করে উত্তরবঙ্গের ১৭টিসহ মোট ২৩ জেলার যানবাহন। সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে রাজধানী ঢাকার সাথে টাঙ্গাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুততর হবে। দেশের উত্তরবঙ্গের সাথেও রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হবে। সড়কটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়ক (এন-৪) একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়কটি জয়দেবপুর থেকে শুরু হয়ে জামালপুর শহরে গিয়ে শেষ হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কের মানদন্ড অনুসারে সড়কটির প্রস্থ ৭ দশমিক ৩৯ মিটার। কিন্তু টাঙ্গাইল থেকে জামালপুর অংশ ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থে নির্মিত, যা জাতীয় মহাসড়ক মানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম। এজন্য সড়কটি মহাসড়কে উন্নত করতে ‘এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৪) প্রশস্তকরণ শীর্ষক’ ৪৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার।

ট্রেন যোগাযোগ আরও সহজ করতে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সরকার দেশের প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ করছে। এর আওতায় টাঙ্গাইলেও স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ করা হচ্ছে। জেলায় নতুন নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত চিকিৎসক।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে এলাকার মানুষের বিশ্বাস।

ঘাটাইলে সড়ক দূর্ঘনায় নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে তিন লক্ষ টাকার চেক প্রদান

ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ আঃ রহিম  সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ঘটনায়  তার  পরিবারকে তিন লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়। 

স্কুল কর্তৃপক্ষ  জানান , ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ আঃ রহিম (১৮) গত ২০ মে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দেউলাবাড়ি নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। তার এই অকাল মৃত্যুতে সেনা সদর পরিচালিত “ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদ” কর্তৃক প্রেরিত পরিবার নিরাপত্তা  প্রকল্পের তিন লক্ষ টাকার চেক মোঃ আঃ রহিমের পিতা মোঃ শাহজাহান আলী ও মাতা রেনু বেগমের নিকট হস্তান্তর করেন শহীদ সালাহ উদ্দিন  সেনানিবাসের ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ও অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এনডিইউ,পিএসসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়ছার হোসেন ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ লে.কর্ণেল খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, বীর। উল্লেখ্য, নিহত মোঃ আঃ রহিম ছিল মধুপুর উপজেলার হলুদিয়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।