বুধবার, আগস্ট ০১, ২০১৮

ঘাটাইলে এক নারীর মৃত্যুর পর নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে দাফন সম্পন্ন


মো. মাসুম মিয়া, ঘাটাইল:  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাজিয়া বেগম (২৫) নামক এক নারীর মৃত্যুর পর লাশ দাফন নিয়ে নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে পোস্টমর্টেম পরবর্তীতে গ্রাম্য মাতব্বরদের সহযোগিতায় অবশেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজিয়ার এই মৃত্যু স্বাভাবিক না-কি হত্যা, এবং প্রেমের সম্পর্কর মাধ্যমে নও-মুসলিমকে বিয়ে পরবর্তীতে এই অকাল মৃত্যু নিয়ে এলাকায় দেখা দেয় জটিলতা এবং চাপা ক্ষোভ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) উপজেলার ঘাটাইল ইউনিয়নের বটতলী জামালপুর গ্রামে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় আড়াই বছর আগে জামালপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে রাজিয়া বেগমের সাথে একই উপজেলার নন্দনগাতি গ্রামের আবদুল্লাহ নোমান নামক এক নও-মুসলিমের প্রেমের সম্পর্কর মাধ্যমে বিয়ে হয়। কোর্ট এভিডেভিট এর মাধ্যমে লিটন রাজবংশী আবদুল্লাহ নোমান নাম নিয়ে মুসলমান হয়ে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেন রাজিয়াকে। বিয়ের পর এই দম্পতির সংসার মুসলিম রীতিতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অল্প কিছুদিনেই অভাব অনটনের সংসারে শারীরিক অসুস্থতার কাছে পরাজিত হলেন রাজিয়া।

জানা যায়, বেশ অনেক আগের থেকেই লিটন রাজবংশী (নও-মুসলিম আবদুল্লাহ নোমান) ও রাজিয়ার মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক বিষয়ে জানতে পেরে তা মেনে না নিয়ে রাজিয়ার বাবা-মা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। কিছুদিন সংসার করার পর স্বামীকে ত্যাগ করে সে আবার তার বাবার বাড়ী চলে আসেন। এরই মাঝে লিটনের সাথে রাজিয়ার পুরনো প্রেমের সম্পর্ক আবারও জেগে উঠে। কোর্ট এভিডেভিট এর মাধ্যমে লিটন রাজবংশী আবদুল্লাহ নোমান নাম নিয়ে মুসলমান হয়ে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেন রাজিয়াকে। বিয়ের পর তারা উভয়ের পরিবারের কারও কাছে স্থান না পেয়ে জামালপুর গ্রামে একটি ভাড়া করা বাসায় বসবাস করতে থাকে। লিটন রাজবংশীকে মুসলমান হওয়ার জন্য ত্যাজ্য করে তার বাবা-মা। এই দম্পতি তাদের আড়াই বৎসরের সংসার জীবনে ছিলেন নিঃসন্তান। এরই মধ্যে কিছু দিন আগে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরে রাজিয়া। অসচ্ছল পরিবারে কারও সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে অসুস্থতার মাঝেই গত সোমবার (৩০ জুলাই) নিজেদের ভাড়া করা বাসায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রাজিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর ধারণা, রাজিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। এ জন্য এলাকাবাসী দাবি তুলেন লাশ পোস্টমর্টেম করার। ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ পোস্টমর্টেম করা হয়। পোস্টমর্টেম প্রতিবেদনে রাজিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সন্ধায় রাজিয়ার লাশ গ্রামের বাড়ী জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অবতারণা হয় এক করুণ হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। রাজিয়ার অপরাধ, নও-মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তি না থাকা। লাশ দেখে এলাকাবাসী, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি আফসোস করতে থাকে। অসম এই প্রেমের বিয়ের এমন করুণ নির্মম পরিণতি এবং ভালবাসার অকাল মৃত্যুতে অনেককে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়। অবশেষে গ্রাম্য মাতাব্বরদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) রাত দশটা নাগাদ স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক কবরস্থানে তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

এবারও আয় বেশি বিএনপির


এবারও ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি বিএনপির। একাদশ সংসদের আগে ২০১৭ সালে দলটির ব্যয় মিটিয়ে এখন উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকা। গতকাল বিকালে বিএনপির বার্ষিক আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে জমা দিয়েছেন যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দলটি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে টানা ব্যয় বেশি দেখিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কাউন্সিলের পর (বিভিন্ন ডোনেশন) থেকে আয় বাড়ে; তাতে ঘাটতি মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ৭টি দল বার্ষিক প্রতিবেদন দিতে না পেরে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। নিবন্ধিত দলকে প্রতি পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষা করিয়ে পরের বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দলকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে এ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার জানান, দলটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ১৫ দিন বাড়ানোরে আবেদন জানানো হয়েছে। ইসির সহকারী সচিব রওশন আরা সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ৭টি দল প্রতিবেদন দিতে না পেরে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। তবে বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ বাকি দলগুলোর অডিট রিপোর্ট পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য কমিশনের শিগগির উপস্থাপন করা হবে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূইয়া ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

পরে খোকন সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়। ২০১৭ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। ‘এই বছরে বিএনপির মোট আয় ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা হয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা। ৫ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা হাতে বা ব্যাংকে রয়েছে।’ ২০১৬ সালের দলটির আয় বেশি ছিল। সে বছর আয় হয়েছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা। আর ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা। এর আগে তিন পঞ্জিকা বছরে দলটির আয়ের থেকে ব্যয় বেশি ছিল। ২০১৫ সালের দাখিল করা আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা ঘাটতিতে ছিল। ২০১৪ সালে আয়ের চেয়ে ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৬ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে দলটির। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে বছরে ২০১৩ সালে (পঞ্জিকা বছর) দলটি ৭৬ লাখ ৫ হাজার ৭৬২ টাকা আয়ের বিপরীতে ২ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩২৬ টাকা ব্যয় দেখিয়েছিল। সে সময় ঘাটতি ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা।
তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।