মো. মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাজিয়া বেগম (২৫) নামক এক নারীর মৃত্যুর পর লাশ দাফন নিয়ে নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে পোস্টমর্টেম পরবর্তীতে গ্রাম্য মাতব্বরদের সহযোগিতায় অবশেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজিয়ার এই মৃত্যু স্বাভাবিক না-কি হত্যা, এবং প্রেমের সম্পর্কর মাধ্যমে নও-মুসলিমকে বিয়ে পরবর্তীতে এই অকাল মৃত্যু নিয়ে এলাকায় দেখা দেয় জটিলতা এবং চাপা ক্ষোভ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) উপজেলার ঘাটাইল ইউনিয়নের বটতলী জামালপুর গ্রামে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় আড়াই বছর আগে জামালপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে রাজিয়া বেগমের সাথে একই উপজেলার নন্দনগাতি গ্রামের আবদুল্লাহ নোমান নামক এক নও-মুসলিমের প্রেমের সম্পর্কর মাধ্যমে বিয়ে হয়। কোর্ট এভিডেভিট এর মাধ্যমে লিটন রাজবংশী আবদুল্লাহ নোমান নাম নিয়ে মুসলমান হয়ে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেন রাজিয়াকে। বিয়ের পর এই দম্পতির সংসার মুসলিম রীতিতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অল্প কিছুদিনেই অভাব অনটনের সংসারে শারীরিক অসুস্থতার কাছে পরাজিত হলেন রাজিয়া।
জানা যায়, বেশ অনেক আগের থেকেই লিটন রাজবংশী (নও-মুসলিম আবদুল্লাহ নোমান) ও রাজিয়ার মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক বিষয়ে জানতে পেরে তা মেনে না নিয়ে রাজিয়ার বাবা-মা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। কিছুদিন সংসার করার পর স্বামীকে ত্যাগ করে সে আবার তার বাবার বাড়ী চলে আসেন। এরই মাঝে লিটনের সাথে রাজিয়ার পুরনো প্রেমের সম্পর্ক আবারও জেগে উঠে। কোর্ট এভিডেভিট এর মাধ্যমে লিটন রাজবংশী আবদুল্লাহ নোমান নাম নিয়ে মুসলমান হয়ে মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেন রাজিয়াকে। বিয়ের পর তারা উভয়ের পরিবারের কারও কাছে স্থান না পেয়ে জামালপুর গ্রামে একটি ভাড়া করা বাসায় বসবাস করতে থাকে। লিটন রাজবংশীকে মুসলমান হওয়ার জন্য ত্যাজ্য করে তার বাবা-মা। এই দম্পতি তাদের আড়াই বৎসরের সংসার জীবনে ছিলেন নিঃসন্তান। এরই মধ্যে কিছু দিন আগে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পরে রাজিয়া। অসচ্ছল পরিবারে কারও সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে অসুস্থতার মাঝেই গত সোমবার (৩০ জুলাই) নিজেদের ভাড়া করা বাসায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রাজিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর ধারণা, রাজিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। এ জন্য এলাকাবাসী দাবি তুলেন লাশ পোস্টমর্টেম করার। ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ পোস্টমর্টেম করা হয়। পোস্টমর্টেম প্রতিবেদনে রাজিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সন্ধায় রাজিয়ার লাশ গ্রামের বাড়ী জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অবতারণা হয় এক করুণ হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। রাজিয়ার অপরাধ, নও-মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তি না থাকা। লাশ দেখে এলাকাবাসী, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশি আফসোস করতে থাকে। অসম এই প্রেমের বিয়ের এমন করুণ নির্মম পরিণতি এবং ভালবাসার অকাল মৃত্যুতে অনেককে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়। অবশেষে গ্রাম্য মাতাব্বরদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) রাত দশটা নাগাদ স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক কবরস্থানে তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

