শনিবার, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

সদরঘাটে বেপরোয়া কুলিরা!

এমদাদ হোসেন। বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। লঞ্চেই বাড়িতে যাতায়াত বেশি করেন। বাড়িতে যাবেন বলে সদরঘাট এসেছেন। সাথে রয়েছে দুটি ব্যাগ। সিএনজি থেকে নেমে টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে বাধ সাধে কুলিরা। এমদাদ নিজে ব্যাগ দুটি বহনের সামর্থ রাখলেও তা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই তার। কুলি দিয়েই নিতে হবে ব্যাগ। এ ব্যাপারে কোন ছাড় নয় কুলিদের।

কুলিদের সাফ কথা ব্যাগ নিজে নিলেও ৫০০ টাকা দিতে হবে। নইলে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কোন উপায় না দেখে দরকষাকষি করে ৩০০ টাকায় ব্যাগ দুটি কুলি দিয়েই নিতে হল।

শুধু এমদাদই নয়, এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সদরঘাটে লঞ্চ এবং নৌকার লাখ লাখ যাত্রীদের। বিষয়টি প্রশাসনের নাকের ডগার ঘটলেও নিরব তারা।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, সদরঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায়ই জোর করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে ঘাটের নীলশার্ট পরা কুলিরা।

এমদাদ হোসেন  বলেন, ‘এটা চাঁদাবাজির মতোই। কুলিরা সবসময়ই এভাবে চাঁদাবাজি করে থাকে। কিছু বলার নেই আমাদের। আমাদের থেকে তারা অনেক বড় ক্ষমতাবান। তারা ক্ষমতাবান না হলে এতো সাহস পায় কিভাবে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ তার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কুলি বলেন, ঘাট লিজ রাখতে অনেক টাকা দিতে হয়েছে। এখন যদি যাত্রীরা এভাবে নিজেদের ব্যাগ নিজেরা নিয়েই যায় তাহলে আমরা খাব কী?

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো আর শুধু শুধু টাকা নেই না। ব্যাগ টেনে দিয়ে টাকা নেই। তবে অনেক সময় ব্যাগ নিতে জোর করতে হয়। তবে সেটা চাঁদাবাজি নয়।

দীর্ঘ দিন ধরেই সদরঘাটে কুলিদের অতিষ্ঠে বিরক্ত লঞ্চ ও নৌকার যাত্রীরা। কুলিদের সেল্টার দেওয়ার অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া এ ঘাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ের চাঁদাবাজি হচ্ছে। চাঁদাবাজির অংশ ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের মাঝে। যার কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কুলিরা।

সরেজমিন দেখা যায়, চোখের সামনেই চাঁদাবাজি করছে ঘাটের কুলিরা। যাত্রীদের বহনযোগ্য কোন মালামাল কুলিদের কাছে দিতে না চাইলেও কুলিরা জোর করেই তা বহন করে। অনেকটা জিম্মি করে বহন বাবদ অতিরিক্ত মজুরি আদায় করতেও দেখা যায়। এমনকি দাবি করা টাকা দিতে না চাইলে মালামাল পানিতে ফেলে দেয়ারও হুমকি দেন তারা। এর আগে জেটিতে প্রবেশের মুখে কুলিরা সদলবলে ঘিরে ধরে যাত্রীদের।

এ চাঁদাবাজি শুধু ঘাটেই চলে না। রাজধানীর সদরঘাটের পোর্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বুড়িগঙ্গা নদীতে চলাচলকারী নৌকার মাঝি ও নদীর পাড়ের ফুটপাত থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পুরানো। তবে এ অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না কেউই।

বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট-কালীগঞ্জ ফেরিঘাট, সিমসন ঘাট-কালীগঞ্জ ফেরিঘাট, ওয়াইজ ঘাট-নবাববাড়ি-আগানগর ঘাটে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার নৌকা চলাচল করে।

প্রত্যেক নৌকার মাঝির কাছ থেকে প্রতিদিন খাজনার নামে ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যদি কোন মাঝি চাঁদার টাকা দিতে দেরি করেন, তাহলে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, অনেক মাঝিকে রাতের বেলায় নৌকা থেকে নদীতেও ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে সদরঘাট এলাকার হকাররা জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় হওয়া অতিরিক্ত চাঁদার টাকা পুলিশ, ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী থেকে শুরু করে ঘাট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টন হয়। তাদের চাঁদাবাজি চলে নৌকার মাঝি, ঘাটের ফলের দোকান এবং হকার থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি পর্যায়ে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক পৃথক লোক রয়েছে। টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো ও হকারির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে চাঁদাবাজরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়।

প্রতিদিন প্রতি হকারের কাছ থেকে ২০০ টাকার বেশি আদায় করা হয়। এছাড়া নদীর ওপর ভাসমান দোকানগুলো থেকে আদায় করা হয় ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই মিলে না অটোরিকশা ও রিকশা চালকদেরও।

এ ব্যাপারে সদরঘাট পোর্ট অফিসার যুগ্ম কমিশনার মো. আরিফকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেষ মুহূর্তের গোলে জয় পেল ম্যানইউ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনহোর দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে স্বাগতিক এএফসি বোর্নমাউথের সামনে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মরিনহোর শিষ্যরা।

শনিবার প্রিমিয়ার লিগে অতিরিক্ত সময়ে মার্কুস র‌্যাশফোর্ডের লক্ষ্যভেদে ২-১ গোলে ভিটালিটি স্টেডিয়ামে জিতেছে ম্যানইউ।

শুরু থেকেই স্বাগতিকরা দুর্দান্ত খেলতে থাকে। যার ফলাফল পেয়ে যায় ক্যালাম উইলসনের গোলে ১১ মিনিটেই। প্রথমার্ধের বেশ কিছুটা সময় যেন ছন্দই খুঁজে পায়নি ইউনাইটেড। 

৩৫ মিনিটে অ্যালেক্সিস সানচেস ডানপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে বল বানিয়ে দেন অ্যান্থনি মার্শালকে। শক্তিশালী শটে ১-১ করেন তিনি। এই গোলেই উজ্জীবিত হয়ে বিরতির পর ফিরে আসে ম্যানইউ।

লিড নেয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার অতিথিদের রক্ষণে হামলে পড়েছে বোর্নমাউথ। একাধিকবার সুযোগ পেয়েও তা কাজে না লাগাতে পারার খেসারত অবশ্য শেষ পর্যন্ত দিতে হয় স্বাগতিকদের।

৬৫ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলেও র‌্যাশফোর্ড ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন। অ্যাশলে ইয়ংয়ের ফ্রি কিক পোস্টে লাগলে তার শট গোললাইনে দাঁড়িয়ে ঠেকান নাথান আকে। তবে ইনজুরি সময়ে পল পগবার ক্রস স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা বিপদমুক্ত করতে পারেনি। তাতে বাঁ পায়ের শটে ঠিক গোলপোস্টের সামনে থেকে লক্ষ্যভেদ করেন র‌্যাশফোর্ড।

এই জয়ে ১১ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে উঠে এসেছে ম্যানইউ। তবে পয়েন্ট সমান থাকা সত্ত্বেও ম্যানইউ'র ওপরে উঠেছে বোর্নমাউথ। লিগে ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ম্যান সিটি। 

ভূত তাড়াতে ৭টি ছাগল জবাই দিলেন সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ভূত আতঙ্কে দুইদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে কাজে যোগ দিয়েছেন মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ে কর্মরত শ্রমিকরা। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬ হাজার শ্রমিকের মন থেকে ভূতের ভয় তাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

শনিবার বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উদ্যোগে শিল্প পুলিশ, ফতুল্লা থানা পুলিশ প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভূত তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।



ভূতের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত শ্রমিকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের মধ্য থেকে সন্ধান দেয়া এক হুজুরের মাধ্যমে ভূত তাড়ানোর ব্যবস্থা করেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

পরে জৈনক হুজুরের বলে দেয়া পদ্ধতি অনুযায়ী কারখানার ভেতরে সাতটি ছাগল জবাই করা হয়। জবাইকৃত ছাগলগুলো হুজুরের বলে দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী সাতটি মাদরাসায় পাঠানো হয়।

এরপর মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানায় গিয়ে পৌঁছান বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান। যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন- মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল পোদ্দার, বিকেএমইএর জিএম ফারুক, শিল্প পুলিশের সুপার অহিদুল ইসলাম, এএসপি মাহাবুব ও ফতুল্লা থানা পুলিশের ওসি মঞ্জুর কাদের প্রমুখ।


কারখানায় গিয়ে ভূতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেলিম ওসমান। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ শুনেন তিনি।

এদিকে, হুজুরের বলে দেয়া সাতটি মাদরাসা থেকে জবাইকৃত ছাগল নিতে আসা এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে হুজুর এই কারখানার ভূত তাড়িয়েছেন তিনি মূলত তাবিজ কবজ, ঝাড়ফুঁক করে থাকেন। এর আগেও দুটি গার্মেন্টের ভেতর থেকে ভূত তাড়িয়েছেন ওই হুজুর। ওই সময় গরু জবাই করে ভূত তাড়ানো হয়েছিল।

গার্মেন্ট কারখানা থেকে ভূত তাড়ানোর পাশাপাশি এই ভূতের রহস্য এবং একই হুজুরের আগমনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন সেলিম ওসমান।


পরে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, ইসলাম ধর্মে ভূত বিশ্বাস করে না। মূলত কোনো ধর্মেই ভূত বিশ্বাস করে না। এমনকি বিজ্ঞানেও ভূত বিশ্বাস করে না। যদিও আমরা ছাগল জবাই দিয়ে ভূত তাড়িয়েছি। এই ছাগলগুলো কী ভূতে খেয়েছে? এর আগে অন্য কারখানায় গরু জবাই করে ভূত তাড়ানো হয়েছে। মালিক মুসলিম হলে ভূতে গরু চায় আর হিন্দু হলে ছাগল চায় তাহলে প্রশ্ন থাকে ভূত আসলে কোন ধর্মের? কাজেই ভবিষ্যতে এসব বিশ্বাস করবেন না।

ঘাটাইলে জেল হত্যা দিবসে আলোচনা সভা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার ( ৩ নভেম্বর ) বিকালে এ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোঃ শহীদুল ইসলাম লেবু’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, ঘাটাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ লিটন সরকার, দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকন, শ্রমীকলীগ নেতা মোঃ জুয়েল প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কামালকে এড়াতে বঙ্গবীরকে বি. চৌধুরীর ‘না’

জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত হতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

কিন্তু, শেষ মুহূর্তে তিনি এই অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিকে না আসার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন।

শনিবার বিকেলে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নের আলোচনা সভার স্বাগত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘আজ জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় যারা উপস্থিত হয়েছেন, ড. কামাল হোসেনসহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আরেকজনের থাকার কথা ছিল, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আমি তাকে আলোচনায় অংশ নিতে অনুরোধ করেছিলাম। শুক্রবার পর্যন্ত তিনি রাজি ছিলেন। আজ যখন শুনলেন এখানে ড. কামাল হোসেন আসবেন তখন তিনি আমাকে না করে দিয়েছেন, আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।’



জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সভাপতিত্ব করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান শুরুর পর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আসেন ড. কামাল হোসেন। এ সময় মঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে তাকে স্বাগত জানান কাদের সিদ্দিকী।

ড. কামাল হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। জানা গেছে, এই আলোচনা সভা থেকেই ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন কিনা, তা স্পষ্ট করবেন কাদের সিদ্দিকী।

ড. কামাল হোসেন আসার কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তাকেও স্বাগত জানান কাদের সিদ্দিকী। পরে সবাইকে নিয়ে তিনি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

ড. কামাল হোসেন ছাড়াও আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ প্রমুখ।

চট্টগ্রামে শিবির কার্যালয়ে বিস্ফোরণ, ঘিরে রেখেছে পুলিশ

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার চন্দনপুরা ডিসি রোডের শিবির কার্যালয় ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের ব্লক রেড অভিযানের সময় পরপর তিন-চারটি বিস্ফোরণ ঘটলে পুলিশ শিবির কার্যালয়টি ঘিরে ফেলে।

শনিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানায়, ব্লক রেড দেয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর শিবির কার্যালয়ের চারতলা ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা শিবির কার্যালয়টি ঘিরে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চকবাজার ডিসি রোড এলাকায় ব্লক রেইড দিচ্ছিল পুলিশ। এসময় বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে শিবির কার্যালয় ঘেরাও করে তারা। শুরুতে তিনতলা ভবনটির দুইতলা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। ভেতরে জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো ও সিলিং থেকে ফ্যান খুলে পড়ে আছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান  বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি যে, বিস্ফোরণের শব্দ আমরা শুনতে পেয়েছি। সেটা আসলে বোমা ছিল। ইতোমধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ডাকা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছিলাম, শিবির কার্যালয়ে অনেক সক্রিয় সদস্য ছিল। পুলিশ ব্লক রেড চালালে তারা কার্যালয়ের ভেতরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।’

চাইলেই বিয়ে করা যায় না

আরও একটি বিয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে একটি প্রেম। বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে অনেক কিছু। সেসব নিয়ে যেটুকু হতাশা ছিল, তা সম্ভবত কেটে গেছে। এবারের গিঁট শক্ত ভীষণ। আর ফসকাবে বলে মনে হয় না। জানা গেছে, অনেক বেতাল সময় পিছে ফেলে তালে ফিরেছেন রণবীর। চুটিয়ে প্রেম করছেন বলিউড তারকা আলিয়া ভাটের সঙ্গে।

রণবীরের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে নিয়ে বেশ আলোচনার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। এই দুই তারকার পরিবার তাদের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক হলেও এখনই বিয়ে করতে চাচ্ছেন না তারা। তবে আগামী বছরের শেষ তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

বিয়ের তারিখ ঠিক না থাকলেও এটা নিশ্চিতভাবে বলাই যায় যে আগামী বছরই বাজবে বিয়ের সানাই। এরই মধ্যে দুই পরিবারের মধ্যে কথা পাকা-পাকি হয়ে গেছে। কাপুর খান্দানের গোপন সূত্রে জানা গেছে, ঋষি কাপুর একটু সুস্থ হয়ে উঠলেই বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হবে। ইতিমধ্যে ব্যাপক কেনাকাটা করতে দেখা গেছে আলিয়াকে। অনেকে সমালোচনাও করেছেন। পরিবারের মুরুব্বি অসুস্থ আর মেয়েটা নাকি শপিং করে বেড়াচ্ছে! এখন বোঝা গেল ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে আলিয়া বলেন, চাইলেই তো যখন তখন বিয়ে করা যায় না। সময় হলে অবশ্যই বিয়ের খবর সবাইকে জানাব।

রণবীর সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, নতুন প্রেম বেশ উপভোগ করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটা সব সময়ই রোমাঞ্চকর। নতুন মানুষ, নতুন স্পন্দন। পুরোনো সবকিছু নতুন নতুন লাগে। এখন মনে হয় আমি আগের থেকে অনেক ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি তো সম্পর্কের ওপর বিশেষভাবে জোর দিই। এমনকি আঘাতও ভালো লাগে। বছর কয়েক আগেও আমার এমন অনুভূতি হতো না।’

দীপিকা পাড়ুকোন, ক্যাটরিনা কাইফের পর এবার আলিয়া ভাটের সঙ্গে জড়িয়েছে রণবীর কাপুরের নাম। পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়ের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির শুটিং সেট থেকে সেটা শুরু। ছড়াতে ছড়াতে ডালপালা ছড়িয়েছে গল্পের। কয়েক দিন আগে সেই গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলেছেন আলিয়া ভাট নিজেই। ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, প্রেমে পড়ার প্ল্যান আর নেই তাঁর। সরাসরি রণবীরকে বিয়ে করে ফেলতে চান তিনি।

শামীম ওসমানের প্রশংসায় ফতুল্লা বিএনপি নেতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু আওয়ামী লীগের এমপি একেএম শামীম ওসমানের ব্যাপক প্রশংসা করেন। বলেন, আমি অন্য দলের কর্মী, সেই হিসেবে কুতুবপুর ইউনিয়নে কোন কাজ হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু শামীম ওসমান এমন এক এমপি যিনি কে কোন দল করে সেটা নিয়ে তিনি চিন্তা করে না। তার চিন্তা একটাই কিভাবে উন্নয়ন করা যায়। আর শামীম ওসমান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালোবাসেন।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান ফতুল্লায় যেভাবে উন্নয়ন করছেন- আগামী অল্প সময়ের মধ্যে কোন এলাকার রাস্তাঘাটের সমস্যা থাকবে না। শামীম ওসমানের বিগত সময়ে এমপি থাকাকালীন যেভাবে উন্নয়ন করেছেন তা কোন এমপি তা করতে পারেননি। এবারও এমপি হওয়ার পর তিনি সর্বপ্রথম টার্গেট করেন তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাটসহ সকল ধরনের উন্নয়ন করবে। তারই ধারাবাহিকতা উন্নয়ন করে চলছে।

শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় কবরস্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।

রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া করেন পিলকুলি জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা মুফতি আবু নাঈম ও পিলকুলি মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদের ঈমাম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ নোমান।
রাস্তার কাজের উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পিলকুনি কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা, সাধারণ সম্পাধক মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ ইউসুফ, হাসান জামীল, আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন, সানোয়ার হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনিরুল আলম সেন্টুকে ডেকেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করানো যায়নি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে অনেকটা তিনি সরকারি দলের স্টাইলেই নির্বাচন করেন। যেখানে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সিকদার গোলাম রসূল ছিলেন অনেকটা কোনঠাসায় ছিলেন।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে গিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু।

সৌদি যুবরাজের বিদায় ঘণ্টা বাজছে?

‘সে শেষ হয়ে হয়ে গেছে’, ‘সে খুবই বিপজ্জনক’, ‘আমরা তাকে ভালোবাসি’, ‘তিনি আমার হিরো’ - সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে জনমত একেবারেই বিভক্ত।

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুন হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘এমবিএস ব্র্যান্ড’ এখন আরো বিপজ্জনক হয়ে গেছে। যদিও সৌদি আরব বারবার বলছে, ওই খুনের ঘটনার সাথে প্রিন্স সালমানের কোন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু এ অস্বীকৃতি দেখা হচ্ছে গভীর সন্দেহের চোখে।


কারণ কি? এক কথায় - যে দেশে ওপরের নির্দেশ ছাড়া প্রায় কিছুই হয় না, সেখানে কিছু নিয়মভঙ্গকারী অ্যাজেন্ট মিলে জামাল খাশোগিকে খুন করেছে, এটা শুনতে প্রায় অসম্ভব মনে হয়।

আরব দেশগুলোতে একটা ‘তত্ত্ব’ বেশ চলছে। সেটা হলো এই রকম : খাশোগি সৌদি সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন এবং তাই এমবিএস চেয়েছিলেন তার ব্যাপারে ‘কিছু একটা করা হোক।’ কিন্তু তিনি কখনো খুনের অনুমতি দেননি। বরং তার অফিস যিনি চালান সেই সাউদ আল-কাহতানি এমবিএসের নির্দেশের বাইরে গিয়ে হত্যাকারীদের বলেছিলেন যে, যুবরাজ সবকিছুরই অনুমোদন দিয়েছেন।

সমস্যা হলো সৌদি আরবের বাইরে প্রায় কেউই এ কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এ খুনের ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই সৌদি আরবের দিক থেকে একেকবার একেক রকম কথা বলা হচ্ছিল। তাই এটাই অনুমান করে নেয়া যায় যে- প্রিন্স সালমান তার মোটা-বেতন-পাওয়া মিডিয়া উপদেষ্টাদের কথা কানে শুনলেও পাত্তা দেননি।

ফলে এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে এমবিএস এখন বিশ্বজনমতের কাঠগড়ায়। পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে তার সাথে কোন সংস্রব আছে এটা আর তারা দেখাতে চাইছে না।

কিছু পশ্চিমা সংস্থা এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান এখন দাবি করছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। এখন সৌদি আরব দাঁড়িয়ে আছে এক মোড় বদলকারী মুহূর্তে। কি করতে পারে দেশটি?

এখন কি সৌদি রাজপরিবারের সিনিয়র প্রিন্সরা মিলে এমবিএসের ক্ষমতা কিছু কমিয়ে দেবেন; যাতে এই বিক্ষুব্ধরা খুশি হয়? নাকি তাকে যুবরাজের পদ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে একটা নামমাত্র এবং অর্থহীন পদোন্নতি দেয়া হবে?

নাকি তারা এই ঝড় কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন? বিবিসির ফ্রাংক গার্ডনার লিখছেন, সৌদি রাজপরিবারের অন্দরমহলে, বন্ধ দরজার ওপাশে এখন এ প্রশ্নগুলো নিয়ে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ আলোচনা চলছে।

ব্যাপারটা কত গুরুতর - তার একটা আভাস পাওয়া যায় একটি ঘটনা থেকে। ৮২ বছর বয়স্ক সৌদি বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজ হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার রিয়াদে ফিরে এসেছেন। তিনি এতদিন লন্ডনে ছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন এমবিএসের বিরোধীদের মধ্যে ‘গুরুস্থানীয়’ একজন ব্যক্তি যিনি ইয়েমেনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করেছিলেন যুবরাজ সালমান এবং তার পিতাকে। তার ভয় ছিল - দেশে ফিরলেই তাকে গৃহবন্দী করা হবে।

গভীর রাতে রিয়াদে নামার পর প্রিন্স আহমেদ বিন আবদেলআজিজকে আগরবাতির ধোঁয়া এবং অন্য প্রিন্সদের উষ্ণ আলিঙ্গন দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। অভ্যর্থনাকারীদের মধ্যে এমবিএসও ছিলেন। প্রিন্স আহমেদ এখন চেষ্টা করছেন পুরো রাজপরিবারকে একসাথে করতে। কিন্তু এমবিএসের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ধরণের আলোচনা করছেন তারা?

প্রথম কথা- ৩৩ বছর বয়স্ক প্রিন্স সালমানকে চ্যালেঞ্জ করার মত কেউ এখন নেই। যুবরাজ আগেই সব চ্যালেঞ্জারদের সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করেন, রাজপরিবারের রক্ষক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তিনি; তাই সৌদি সশস্ত্র বাহিনীও তার নিয়ন্ত্রণে।

রাজকীয় আদালত, অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশ পরিচালনার প্রকৃত কর্তৃত্ব; এগুলোও এমবিএসের হাতে, যদিও বাদশাহ হচ্ছেন তার অসুস্থ পিতা।

বেশ কিছুদিন ধরেই এটা স্পষ্ট হচ্ছিল যে এমবিএস কোন গণতান্ত্রিক নেতা নন। তাকে জানেন এমন একজন বর্ণনা করেছেন- লোকটি আসলে ‘একজন বেপরোয়া, নিয়ন্ত্রণহীন গুন্ডা।’

কিন্তু তার অনেক বাড়াবাড়িই সৌদি আরবের মানুষ এতদিন ধরে মেনেই নিচ্ছিল। লক্ষ লক্ষ তরুণ সৌদির কাছে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাদের ভবিষ্যতের আশার প্রতীক। একজন সাহসী, আকর্ষণীয় নেতা, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংস্কারক - যিনি ধর্মীয় নেতাদের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছেন, মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছেন, সৌদি সমাজে বিনোদনের সুযোগ খুলে দিয়েছেন। তেলভিত্তিক সৌদি অর্থনীতিরও সংস্কার করছেন তিনি।

ওয়াশিংটন, লন্ডন বা প্যারিসের কূটনীতিক বা নীতিনির্ধারকদের কাছে মনে হতে পারে, প্রিন্স সালমানকে সরিয়ে দেয়া বা তাকে সংযত করাই এখন স্বাভাবিক বিকল্প। কিন্তু সৌদি আরবের রক্ষণশীল রাজপরিবার ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী। তারা চাইবে এরকম কিছু না করতে।

তাই এমবিএসের দিন কী শেষ হয়ে গেছে? এ পর্যায়ে এটা বলা খুবই কঠিন। ২০১১ সালের মাঝামাঝি আরব বসন্তের সময় প্রায় সবাই ভেবেছিলেন - সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ কয়েক মাসের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হবেন। তার পর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। তিনি আজও ক্ষমতায় আছেন। বিবিসি বাংলা।

মির্জাপুরে যৌনশক্তি বাড়াতে পারদ খেয়ে ২ জনের মৃত্যু!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কবুতরের মাংসের সাথে পারদ মেশানো খাবার খেয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন, রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুঠিমারী গ্রামের হিরো মিয়ার ছেলে সুলতান (২৪), একই এলাকার কাউনিয়া থানার হারাগাছ গ্রামের আব্দুল ছামাদ মিয়ার ছেলে আনোয়ারুল (৩০)।

এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জন চিকিৎস্বাধীন রয়েছেন। সে নওগাঁ জেলার মান্দা থানার চকগোপাল গ্রামের মমতাজের ছেলে রাব্বানী (২৫)।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রাজাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সুলতানের বড় ভাই সোহেল জানান, শুক্রবান রাতে আনোয়ারুল ও সুলতান কবুতরের মাংস রান্না করে যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য তার সাথে পারদ মিশিয়ে খায়। অবশিষ্ট অংশ মুদি দোকানদার রাব্বানীকেও দেয়। খাবার খেয়ে রাব্বানী চলে যায় তার শ্বশুর বাড়ি। সেখানে রাত ১২ টার দিকে বেশ কয়েকবার বমি করলে তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত দুইজনই রাতের বেলা বমি করলে তাদেরও একই হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার এস.আই আশিকুজ্জামান জানান, দুটি লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান।

মস্তকবিহীন সেই লাশ ইটভাটা শ্রমিকের!

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় উদ্ধার হওয়া মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় মিলেছে। লাশটি সুলতান মিয়া (৩০) নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের। শনিবার সকালে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত সুলতান মিয়া দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার দুর্বাকান্দা পাতাইরা গ্রামের আলকাছ মিয়ার ছেলে। সুলতান উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের এ আর ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। 

স্থানীয়রা জানায়, সকালে ওই যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহটি রাস্তার পাশে পরে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছায়। লাশের মাথা না থাকায় প্রথমে তার পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি কেউ। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থলের প্রায় ৩০ ফুট দূরে ঝোপের মধ্যে পাওয়া যায় কাটামাথা। 

লাশের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র’র সুত্র ধরেই নিশ্চিত হয় সুলতানের পরিচয়। পরে পুলিশ মরদেহটি সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। 

সুত্র জানায়, গ্রামের বাড়ি থেকে সুলতানের ভাই ও ভাবী তাকে দেখতে এলে শুক্রবার বিকেলে তাদের এগিয়ে দিতে বের হয় সুলতান। পরে আর সে ইটভাটায় ফিরেনি।

বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সুলতান মিয়াকে হত্যা করে লাশ ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। 

ড. কামালের কাছে ইনুর পাঁচ প্রশ্ন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নিরপেক্ষ সরকার প্রস্তাব প্রসঙ্গে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি ড. কামাল হোসেনকে পাঁচটি প্রশ্ন করেছেন।

প্রশ্নগুলো হলো- ১. রাজবন্দির সংজ্ঞা কি, রাজবন্দির তালিকা কিভাবে তৈরি করবেন এবং তাতে কাদের কাদের নাম থাকবে? ২. রাজনৈতিক মামলার সংজ্ঞা কি, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ব্যক্তি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া কি? ৩. সংবিধানের কোন জায়গায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর বিধান আছে? ৪. সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার নিয়ম কি আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে যায়? ৫. নল যার হাতে তার কাছে কি বিচারিক ক্ষমতা দেয়া যায়?

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা নির্বাচনে যাব’ ড. কামাল হোসেনের এমন মন্তব্যের জবাবে ইনু এসব প্রশ্ন করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার এই পাঁচটি প্রশ্নের সদুত্তরের মধ্য দিয়ে অনেক বিভ্রান্তি দূর হবে এবং ঘটনাটি পরিষ্কার হবে বলে আশা করছি।

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আইনগতভাবে সাংবিধানিকভাবে নিবন্ধিত কোন দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নাই। সুতরাং নির্বাচন ব্যর্থ হবে এটা আমি মনে করি না। এটা আলোচনা মধ্য দিয়ে একটি নিষ্পত্তির জায়গায় যাবে এবং অনেক বিভ্রান্তি দুর হবে।

এসময় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়সহ স্থানীয় জাসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রোববারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ৯ নভেম্বর

আগামীকাল রোববারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।  জেএসসি ও জেডিসিতে রোববার যে পরীক্ষাগুলো ছিল, তা নেওয়া হবে আগামী ৯ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক আমাদের সময়কে বলেন,‌ ‘অনিবার্য কারণবশত আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী ৯ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায়। ’
গত ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।  প্রথম দিন জেএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র এবং জেডিসিতে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষাবোর্ডের তথ্যানুযায়ী, নবমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ পরীক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার ২ লাখ ১ হাজার ৫১৩ পরীক্ষার্থী বেড়েছে এ পরীক্ষায়। এর মধ্যে জেএসসিতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬ এবং জেডিসিতে ২৪ হাজার ৪৪৭ জন পরীক্ষা দিচ্ছে।

এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সাতটি বিষয়ে ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে।

রায়ের পাঁচ বছর পরও ১১ খুনি পলাতক

বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কময় জেলহত্যা মামলার চূড়ান্ত বিচার ২০১৩ সালে নিষ্পত্তি হলেও পলাতক থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা এখনও কার্যকর হয়নি। মামলার ১১ আসামি বিদেশে পলাতক আছে।


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

পলাতক ১১ জনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হল- মোসলেহ উদ্দীন, বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাসেম মৃধা।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হল- আহমেদ শরফুল হোসেন, কিসমত হাশেম, নাজমূল হোসেন আনসার, খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও আবদুল মাজেদ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর একই বছর ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে।

কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, জেলহত্যা মামলার পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়ে চেষ্টা চলছে। যারা এখনও পলাতক আছেন, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা আছে, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি কমিশন গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সর্বশেষ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর দণ্ড কার্যকরের জন্য আসামির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

মামলা ও বিচার : হত্যাকাণ্ডের পরদিন তৎকালীন ডিআইজি (প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। তদন্তভার দেয়া হয় সিআইডিকে।

২ বছর তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ ১৯৯৮ সালের ২০ অক্টোবর ২০ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এরপর দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় চলে বিচারকাজ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অপর ১২ আসামি খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, মো. কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নিু আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া ৫ জন হলেন- বিএনপি নেতা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও মো. খায়রুজ্জামান।

উচ্চ আদালতে মামলার নিষ্পত্তি : যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেয়া রায়ে ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনকে খালাস দিয়েছিলেন। তবে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি হিসেবে এ চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট এক রায়ে শুধু রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

মৃত্যুদপ্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধা এবং যাজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়।

হাইকোর্টে খালাসপ্রাপ্ত এ চারজনের ফাঁসি কার্যকর হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার আবারও ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ফাঁসির তিন আসামির মধ্যে শুধু দু’জনকে খালাস দেয়ায় রায়ের ওই অংশটির বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর ওই রায়ের ২৩৫ পৃষ্ঠার অনুলিপি প্রকাশ পায়।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার লেখা ওই রায়ে বলা হয়, ‘এ মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে, ২ নভেম্বর রাতে রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে এ দুই আসামি কারাগারে ঢুকেছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও দুই সামরিক বাহিনীর লোক ছিল। তারা তাদের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগের চার নেতাকে হত্যা করে। হাইকোর্ট বিভাগ এ দুই অভিযুক্তকে নির্দোষ দেখিয়ে ভুল এবং অবিচার করেছে।’

রিয়াদে ‘গ্রিন বাংলা’র ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

সৌদি আরব রিয়াদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ভেস্তোনা রয়েস টি২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশি ক্লাব গ্রিন বাংলা বনাম ভারতীয় ক্লাব চ্যালেঞ্জার্স ইলেভেন। শুক্রবার সৌদি সময় ১টায় ভারতীয় ক্লাব টস জিতে বেটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে।


১৭০ রানে বেটিং এ নেমে গ্রিন বাংলার বিনা উইকেটে ৬ ওভারে সংগ্রহ ৬৪ রান। ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে ছিল সাইফুল ইসলাম বাদল এবং জাহিদ।

এদিকে টি২০ ম্যাচটি দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিল রিয়াদ দূতাবাসের উপমিশন প্রধান ডা. নজরুল ইসলাম এবং প্রেস সচিব ফখরুল ইসলামসহ বাংলাদেশিরা।