বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে সাবেক মেয়র হাসান আলী স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

টাংগাইলের ঘাটাইল দারুল উলুম হামিউস সুন্নাহ্ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এম হাসান আলীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই ) মাদ্রাসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এতে ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মোঃ শহিদুজ্জামান খান শহীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা মোতালেব হোসেন, সাবেক ভিপি মোঃ সাইদুর রহমান লিপু, সাবেক ভিপি রুবেল, সাবেক জিএস মতিয়ার রহমান, সাহাদত হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য : ঘাটাইল পৌরসভার প্রথম প্রশাসক ও মেয়র পৌরর চাঁন্দশী এলাকার নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী (৮০) গত ২১ জুন শুক্রবার সকাল ৮.৪০ মিনিটে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ফুসফুসে সংক্রামক ব্যাধি সহ নানা অসুখে ভুগছিলেন।

ঘাটাইলে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু

আজ বৃহস্পতিবার ( ১৯ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মধ্যকর্না গ্রামে পৃথক বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন শাহাদৎ (৩৩) ও রনি (২০)।এ সময় ঘাটাইলে পৃথক পৃথক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের নব রত্ববাড়ি গ্রামে আব্দুল ছালামের ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৫) পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।একই সময় বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে উপজেলার গুণগ্রাম থেকে মধ্যকর্না নিজ বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সরকারি জিবিজি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রনি (২০) মারা যায়। রনি উপজেলার মধ্যকর্ণা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।

এ ছাড়া পৃথক বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ঘাটাইলের আরো পাঁচ জন। তারা হলেন, উপজেলার মধ্যকর্ণা গ্রামের আনিস আলীর ছেলের খোরশেদ আলম (৩২), আব্দুর রহমানের ছেলে রমজান আলী(৩০), নবরত্ন গ্রামের জুব্বার আলীর ছেলে আবেদ আলী (৩০), উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), ও লিমন(২৭)।

ঘাটাইলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত


আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ – এই শ্লোগান কে সামেন নিয়ে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচানা সভা ও পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

র‌্যালী শেষে সহকারী কমিশনান (ভূমি) নুর নাহার বেগমের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান, মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা আখতার তামান্না প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন।

মির্জাপুরে ফুল-মিষ্টি নিয়ে কৃষক কন্যার বাসায় হাজির এসআই!

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রতিশ্রুতিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দরিদ্র কৃষকের মেয়ে রেখা আক্তারের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হওয়ায় ফুল ও মিষ্টি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দয়াল চন্দ্র সরকার। বুধবার বিকেলে রেখা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান তিনি।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের দরিদ্র কৃষক আজাহার তালুকদারের মেয়ে রেখা আক্তার ১০০ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পান। চাকরিতে যোগদানের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তার বাড়িতে যান মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক দয়াল চন্দ্র সরকার। এ সময় তিনি নিজ উদ্যোগে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টি মুখ করান।

দরিদ্র কৃষক আজাহার তালুকদারের চার মেয়ের মধ্যে রেখা আক্তার তৃতীয়। সম্প্রতি তিনি পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। এছাড়া এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

রেখা আক্তার জানান, দরিদ্র বাবার পক্ষে তাদের চার বোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় বড় দুই বোনকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়েছেন। ছোট বোন ইতি আক্তার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। খুব কষ্ট করে বাবা-মা তদের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন। এ অবস্থায় চাকরিটা তার খুবই দরকার ছিল বলে জানান তিনি।

রেখা আক্তার বলেন, মাত্র ১০০ টাকায় আমার চাকরি হবে কল্পনাও করতে পারিনি। চাকরি পেয়ে আমি খুবই খুশি। চাকরিতে যোগদানের পর সৎভাবে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চাই। সরকারি বেতন-ভাতা দিয়ে বাবা-মার ভরণপোষণ ও ছোট বোনকে লেখাপড়া করাবেন বলেও জানান তিনি।
১০০ টাকায় চাকরি পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেখা আক্তার।

রেখার মা সখিনা বেগম বলেন, আল্লাহ আমাগো গরীবের মুখের দিকে তাকাইছে। মেয়েটার পুলিশে চাকরি হইছে।
তার বাবা আজাহার তালুকদার জানান, টিভিতে দেখি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি দেবে। এরপর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মেয়েকে টাঙ্গাইল পুলিশ মাঠে নিয়ে যাই। সেখানে মেয়ের যোগ্যতায় ১০০ টাকায় পুলিশের বড় স্যার আমার মেয়েকে চাকরি দিছে। আল্লাহ স্যারের ভালো করুক।

কালিহাতীতে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মানসিক প্রতিবন্ধী!

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে মাথার কাছে কয়েকটি পোটলা নিয়ে অসুস্থ্য শরীরে খোলা চৌকির উপর শুয়ে কাতরাচ্ছে একটি মেয়ে।

বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পরনে ছেড়া ময়লা কাপড়। কালো বর্ণের মলিন চেহারার মেয়েটিকে দেখার জন্য মানুষ চারদিকে ভীড় জমিয়েছেন। এরমধ্যে এক ব্যক্তি ২ টা পাউরুটি নিয়ে মেয়েটির হাতে দিলেন খেতে। ক্ষুধার্ত পেটে পাউরুটি পেয়ে সে মহাখুশি। কোন দিকে না তাকিয়ে নিমিষেই খেয়ে ফেললো পাউরুটি দুটো।

জানা যায়, মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী। স্থানীয়রা মেয়েটিকে নিয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে যান। সেখানে দায়িত্বরত পরিদর্শিকা মর্জিনা বেগম প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বলেন মানসিক প্রতিবন্ধী এই মেয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী।

সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল এবং গায়ে জ্বর রয়েছে। তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। এভাবে পথে পথে ঘুরতে থাকলে সে মারাও যেতে পারে। হাসপাতালে থাকা অন্যরা মেয়েটিকে দেখে মর্মাহত হন।

মেয়েটি তার নাম পরিচয়, গ্রাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। সে রাস্তায় কে বা কাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে গর্ভবতী হয়েছে, নাকি গর্ভবতী হয়ে বাড়ি থেকে চলে এসেছে এ বিষয়েও কিছু বলছে পারে না।

তবে মেয়েটির সাথে আকার ইঙ্গিতে কথা বলে স্থানীয়দের ধারণা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে মানুষ নামক কোন পশু বা পশুদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েই সে গর্ভবতী হয়েছে। এ ধরনের হৃদয় বিদারক ঘটনা সমাজে প্রতিনিয়তই ঘটছে।

উপজেলার মাইস্তা গ্রামের জমশেদ আলী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দু তিন দিন যাবত এই পাগলীটাকে এলাকায় দেখতেছি। খুব ক্লান্ত অবস্থায় আমদের গ্রামে এসে খেতে চাইলে আমি বাড়িতে খেতে দেই। সে গর্ভবতী হয়েছে এটা দেখাচ্ছে সবাইকে।

টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, বলেন যদি এই মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষিত হয়ে গর্ভবতী হয়ে থাকে, তবে অপরাধীদের খুঁজে বের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে।

তা না হলে সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাথি রোধ করা সম্ভব হবে না। ধর্ষনের ফলে মেয়েটির বাচ্চা হলে এর দায়ভার কে নেবেন কিংবা বাচ্চাটি কার পরিচয়ে বড় হবে? তিনি আরো বলেন মেয়েটির পরিচয় ঠিকানা বের করার জন্যে পুলিশসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় থানায় জিডি করার পর গর্ভবতীকে গাজীপুরের পুবাইলে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

সেখানে প্রসবের পর বাচ্চাটিকে এতিমখানায় লালন পালনের জন্য দেওয়া হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। সেইসাথে মেয়েটির পরিচয় পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।