মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

ঘাটাইলে পিইসি পরীক্ষায় উইজডম ভ্যালির সেরা সাফল্য

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের অনন্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে।

২০১৯ সালের পিইসি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে ১০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫জন বাকীরা এ গ্রেড লাভ করেছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। বর্তমানে উইজডম ভ্যালি উত্তর টাঙ্গাইলের একটি ঐতিহ্যবাহী শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারনে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

একঝাঁক সিনেমার ডানায় চড়ে সুদিন আসুক ২০২০ সালে

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধুঁকছে ঢাকাই সিনেমা। ভালো ও মৌলিক গল্পের অভাব, ভালো নির্মাণের অভাব, হল নিয়ে নোংরা রাজনীতি, তারকায় তারকায় বিভেদ, পরিচালক-প্রযোজক-শিল্পীসহ কলাকুশলীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, সিনেমা বাজারজাতকরণের দুর্বলতা, শ্রুতিমধুর গানের অভাব; নানা সংকটে জর্জরিত এই শিল্পটি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে আছে বলা চলে।
৬ ঋতুর বছরে ৬টি ব্যবসা সফল ছবির দেখাও পাওয়া যায় না ইন্ডাস্ট্রি। ব্যবসা সফল শব্দটি তো বিরল প্রজাতির শব্দেই পরিণত হয়েছে। সিনেমা তৈরির কারখানা বিএফডিসির চারদিকে বিষাদের ছাপ। পুরনো দালানগুলোর চারদেয়াল ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকতেই যেন পরগাছা শ্যাওলায় মুখ লুকিয়েছে। যেখানে শুটিং আর আড্ডায় মুখর হয়ে উঠতো পরিবেশ সেখানে আজ বছরের ১০ মাসই বাজে নির্জনতার করুণ সুর!

রোজ রোজ মিটিং হয়, মিছিল হয়, ঘোষণা আসে সিনেমার উন্নতির ভাবনায়। সেসবের কোনো বাস্তবায়ন নেই। পরিচালক, স্টার-সুপারস্টার, প্রযোজকসহ সিনেমার সকল বিভাগের মানুষদেরই যথেষ্ট যোগান আছে এখানে। তাদের হয়ে সমিতিগুলোও সারা বছর থাকছে আলোচনায়। কিন্তু সিনেমার উন্নয়ন হচ্ছে না কিছুতেই।
অনেক প্রত্যাশার প্রযোজক সমিতি নতুন করে গঠিত হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। চার মাস পার হয়ে গেলেও ২১ জন নিয়ে নির্বাচিত কমিটির ১ জনও একটা সিনেমার ঘোষণা দিতে পারলেন না!
সবাই নানা সমস্যার কথা বলেন প্রতিদিন। সমাধানের পথও বাতলে দেন। নানা উদ্যোগের কথাও শোনা যায়। তবুও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দুর্দিনের গোলকধাঁধা থেকে বের হতে পারছে না ঢাকাই সিনেমা। ভাবটা এমন, বিরাট কোনো রহস্যময় সমস্যায় আটকে গেছে ঢালিউড। জেমস বন্ড বা ফেলুদা'র মতো কাউকে হয়তো নিয়োগ দিতে হবে এই রহস্যের জট খুলতে।

তবুও আশাবাদী মানুষ। স্বপ্ন দেখাই মানুষের প্রকৃতি। সবাই স্বপ্ন দেখছে। কিছু একটা হবে। কোনো একটা মিরাকলে ফিরবে সুদিন। কিন্তু সেটা কবে কীভাবে কার হাত ধরে হবে তা অজানা।

আপাতত মন দেয়া যেতে পারে আসছে বছরে মুক্তি পাবে এমন ছবিগুলোর দিকে।
ছবির নাম-মান, পরিচালক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, শিল্পীদের তালিকা কিছুটা হলেও যেন আশা জাগায় ভালো একটা বছরের।

আলোচনা শুরু করা যায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবি দিয়ে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত পরিচালক দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত এই ছবিটি তৈরি হচ্ছে সুন্দরবনে র্যাবের কিছু দঃসাহসিক অভিযানকে কেন্দ্র করে। সফল পরিচালক, নায়ক রিয়াজের প্রত্যাবর্তন, সফল নায়ক সিয়াম, দুই বাংলার পরিচিত মুখ নুসরাত ফারিয়া, সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা রোশান, মনোজ প্রামাণিক, তাসকিন রহমান, শতাব্দী ওয়াদুদের মতো তারকারা ছবিটির রোশনাই বাড়িয়েছেন।

তবে এই ছবির মূল নায়ক হবে গল্প ও অভিযানের দৃশ্যগুলো। যা দর্শককে হলে টানবে। সেইসঙ্গে র্যাব সদস্যদে অংশগ্রহণও ছবিটিকে বাড়তি আকর্ষণ দেবে।
২০২০ সাল মাতাবেন শাকিব খান, এটাও আগাম বলে দেয়া যায়। এই অসময়েও শাকিব সেই তারকা যার নামে দর্শক হলে আসে। হল মালিকরা যার উপর ভরসা করে চোখ বন্ধ রেখেই সিনেমা চালান। আসছে বছর এই নায়কের ‘বীর’, ‘শাহেনশাহ’, ‘একটু প্রেম দরকার’ ছবিগুলো মুক্তি পাবে।

তারমধ্যে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘বীর’ ছবিতে বুবলীকে নিয়ে বাজিমাত করবেন শাকিব এই প্রত্যাশা করছেন সবাই। নুসরাত ফারিয়ার ও রোদেলা জান্নাতের সঙ্গে ‘শাহেনশাহ’ ছবিটিও ভালো চলবে বলে আশা করা যায়। সেইসঙ্গে শাহীন সুমনের ‘একটু প্রেম দরকার’ ছবিতে শাকিবের বিপরীতে আছেন বুবলী। শাকিব-বুবলী জুটির ছবি সাধারণত সবসময়ই দর্শক পেয়েছে। সেদিক থেকে এই ছবি দিয়ে সফল হবেন দুই তারকা আশা করাই যায়।

২০২০ সালে চমক দেখাবেন আরিফিন শুভ’ও। বেশ কিছু ছবি দিয়ে বাজিমাত করবেন তিনি, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। তার ভিড়ে আপাতত নাম নেয়া যায় ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিটির। ‘ঢাকা অ্যাটাক’র বিশাল সাফল্যের পর একই প্রযোজনা সংস্থা নির্মাণ করছে ছবিটি। এখন পর্যন্ত সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশ। আগের সিনেমার মতো এই সিনেমাতেও আছেন আরেফিন শুভ, তাসকিন আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদের দেখা মিলবে। নতুন করে তাদের সঙ্গী হয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী, মনোজ কুমার, ইরেশ যাকেরসহ আরো অনেকে।

২০২০ সালে ‘পাপ পূণ্য’ নামের নতুন ছবি নিয়ে আসছেন ‘মনপুড়া’খ্যাত নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম। দীর্ঘদিনের বিরতি ভেঙে ২০১৮ সালে ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে ফিরেছিলেন তিনি। সেই ছবি ব্যবসা না করলেও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার তিনি নির্মাণ করছেন লাভ থ্রিলজি ধাঁচের সিনেমা। দর্শক এই ছবির মধ্য দিয়ে আবারও একসঙ্গে পেতে যাচ্ছেন ‘মনপুড়া’ ছবির পরিচালক-নায়ক জুটিকে। সেলিমের পরিচালনায় আবারও চঞ্চল চৌধুরীকে দেখবেন দর্শক।

সেইসঙ্গে ছবিটিতে চমক হিসেবে থাকবে জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদের সঙ্গে নতুন মুখ শাহনাজ সুমী। আরও আছেন সবার প্রিয় আফসানা মিমি, ফজলুর রহমান বাবুর মতো তারকারা।

২০২০ সালটা হতে পারে পরিচালক রায়হান রাফীর রাজত্বের বছর। একে একে মুক্তি পাবে তার তিনটি সিনেমা। তারমধ্যে দর্শকপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকতে পারে তার ‘ইত্তেফাক’ ছবিটি। এখানে চিত্রনায়ক সিয়ামের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বিদ্যা সিনহা মিম।

পাশাপাশি রাফীর পরিচালনায় ‘পরাণ’ ছবিটি মুক্তি পাবে ভালোবাসা দিবসে। ইয়াশ রোহান ও শরীফুল রাজের এই ছবিতে দেখা যাবে লাক্স সুপারস্টার মিমকে। ত্রিভূজ প্রেমের এই ছবিটি নিয়ে এরইমধ্যে দর্শকের বেশ আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ ‘স্বপ্নবাজি’ নামের একটি ছবি নির্মাণ করছেন ‘পোড়ামন ২’খ্যাত নির্মাতা রাফী। এখানে মাহিয়া মাহি, পিয়া জান্নাতুল ও সিয়াম আহমেদকে দেখা যাবে। তবে ছবিটির ভবিষ্যত নিয়ে আছে নানা সংশয়।

টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ নিয়েও বেশ আশাবাদী সিনেমার মানুষেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি নিয়ে বেশ আগ্রহ লক্ষ করা গেছে দর্শকেরও। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে আছেন চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজসহ আরো অনেকে।

২০২০ সাল নায়কদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন সিয়াম আহমেদ। এখন পর্যন্ত যা হিসেব তাতে করে হাফ ডজনেরও বেশি সিনেমা মুক্তি পাবে তার। সেই তালিকায় অন্যতম নাম ‘শান’। আগামী ঈদ উল ফিতরে মুক্তি দেবার লক্ষ্যে পুলিশ থ্রিলার ছবিটি নির্মাণ করছেন নবীন নির্মাতা এম রহিম। সিয়াম, পূজা ও তাসকিন অভিনীত সিনেমাটি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন অনেকেই।

জয়া আহসান এখন পুরোদস্তুরই কলকাতার অভিনেত্রী। কালেভদ্রে তাকে দেখা যায় ঢাকাই সিনেমাতে। ২০২০ সালে তাকে ‘বিউটি সার্কাস’ ছবিতে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শক। মাহমুদ দিদার পরিচালিত ছবিটি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে চারদিকে। ভিন্ন ভাবনার এই ছবিটিতে জয়ার বিপরীতে দেখা যাবে চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে। আরও অভিনয় করছেন তৌকীর আহমেদসহ অনেকেই। এছাড়া জয়ার প্রযোজনায় ‘ফুড়ুৎ’ ছবিটির দেখাও এই বছরে মিলতে পারে।

ঢাকাই সিনেমার সফল দুই চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক ও বাপ্পী চৌধুরীকেও নতুন করে পাবেন দর্শক। সাইমন পর্দায় আসবেন মাহিয়া মাহিকে নিয়ে ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিতে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের নির্মাণে রোমান্টিক গল্পেই দেখা যাবে তাদের। ২০১৮ সালের ‘জান্নাত’ সিনেমার মতো ‘আনন্দ অশ্রু’ দিয়ে দর্শক মাতাবেন সাইমন-মাহি এই প্রত্যাশা করাই যায়।

অন্যদিকে চিত্রনায়ক বাপ্পী নিজেকে আমূল বদলে নিয়ে হাজির হবেন ‘ঢাকা ২০৪০’ ছবিতে। দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত এই ছবিতে বাপ্পীর নায়িকা নুসরাত ফারিয়া ও
নুসরাত ইমরোজ তিশা। এছাড়াও বাপ্পীর ‘ডেঞ্জার জোন’ ছবিটি দর্শক টানতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে তার নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে জলিকে।

২০২০ সালে সাফল্যের নির্মাতা হতে পারেন ‘দেশা দ্য লিডার’খ্যাত নির্মাতা সৈকত নাসিরও। তার দুটি ছবি মুক্তি পাবে। যার একটি নিরব-বুবলীকে নিয়ে ‘ক্যাসিনো’। বেশ জমজমাট এক গল্পে এই ছবিটি নির্মাণ করছেন তিনি। আর দর্শককে উপহার দিচ্ছেন নায়ক নিরবের সঙ্গে বুবলীর জুটিকে। এখানে আরও অভিনয় করছেন তাসকিন রহমান।

অন্যদিকে নায়ক ইমনকে নিয়ে সৈকত নাসির নির্মাণ করবেন ‘আকবর’। এই ছবিতে ইমনের বিপরীতে প্রথম সারির একজন অভিনেত্রীর দেখা মিলবে। রোমান্টিক থ্রিলারধর্মী এই ছবিটিও দর্শক মাতিয়ে দিতে পারে।

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক অনন্য মামুনও হাজির থাকবেন নতুন বছরের সাফল্যের প্রতিযোগিতায়। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন ‘সাইকো’ নামের একটি ছবি নির্মাণের। রোশান ও পূজাকে জুটি করে এই ছবিটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি।

২০২০ সালটা ভালো কাটবে চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফ চন্দনের। এরই মধ্যে ‘ওস্তাদ’ নামে ছবির ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন তিনি। ছবিতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান ও নবাগত উষ্ণ। আরও রয়েছেন তাসকিন, শানুশিবা, ডন প্রমুখ। এ ছবি ছাড়াও সাইফ চন্দন গুছিয়ে নিয়েছেন ‘মন্ত্র’ নামের আরেকটি ছবির প্রাথমিক কাজ। শিল্পী হিসেবে শোনা যাচ্ছে সিয়াম ও জয়া এখানে কাজ করতে পারেন। যদি এমনটি হয় তবে আসছে বছরের সফল ছবির তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে মাসুম রেজার চিত্রনাট্যের এই সিনেমা।

ফেরদৌস-পূর্ণিমা জুটির ‘গাঙচিল’ ছবিটিও মুক্তি পেতে পারে ২০২০ সালে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবিটি নির্মাণ করছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। একই পরিচালক আরিফিন শুভ ও পূর্ণিমাকে নির্মাণ করছেন ‘জ্যাম’ নামের আরও একটি ছবি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই ছবিটিও মুক্তি পাবে নতুন বছরে।

জাজ মাল্টিমিডয়ার ব্যানারে সিনেমায় আসতে চলেছেন ছোটপর্দার সুপারস্টার সজল। পূজাকে নিয়ে তিনি ‘জ্বিন’ ছবিতে হাজির হবেন নাদের চৌধুরীর পরিচালনায়। জাজের ঘোষণা অনুযায়ী ‘মাসুদ রানা’ ছবিটিও ২০২০ সালে মুক্তির জন্য নির্মিত হবার কথা। তবে এখন পর্যন্ত ছবিটির শুটিং শুরু হয়নি।

এছাড়াও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঐশী অভিনীত ‘আদম’, পরীমনি অভিনীত ‘বিশ্বসুন্দরী’, স্পর্শিয়ার ‘কাঠবিড়ালী’, কেয়া অভিনীত ‘ইয়েস ম্যাডাম’ ছবিগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধারার দর্শককে বিনোদিত করতে পারে বলে প্রত্যাশা করা যায়। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পাবে অমিতাভ রেজার ‘রিক্সা গার্ল’ ছবিটি। অন্যদিকে সেন্সর বোর্ডের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে প্রশংসিত একটি ছবি হিসেবে তালিকা সমৃদ্ধ করতে পারে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। তানভীর মোকাম্মেলের ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ ছবিটিও ভিন্ন ভাবনার দর্শকের মন ভরাতে পারে।

এছাড়াও নতুন বছরে মুক্তি পাবে বলে আরও বেশ কিছু সিনেমার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারমধ্যে আছে শাবনূরকে নিয়ে জাজ, কলকাতার দেবকে নিয়ে শাপলা মিডিয়ার ছবি দুটো উল্লেখ করা যায়। এ তালিকায় আরও আছে তৌকীর আহমেদের ঘোষণা দেয়া ছবি। ছবিগুলো যদি নির্মিত হয় তবে সেগুলো আলোচনার শীর্ষে থাকবে তা অনুমান করা যায়।

সেইসব ছবির গল্প ও কলাকুশলীদের উপর নির্ভর করে ২০২০ সাল হতে পারে ঢাকাই সিনেমার জন্য সফল একটি বছর।

সোমবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

ঘাটাইলে ধাতব মুদ্রা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

খাদেমুল ইসলাম মামুন ,ঘাটাইল : টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার বেশ কিছু বাজার ও পৌরসভার অলিগলি ঘুরে দেখা যায় ঘাটাইলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়িরা সহ ধাতব মুদ্রা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে আছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশে বর্তমানে পয়সা আকারে ধাতব মুদ্রা চালু আছে ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার। এ ছাড়া ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রাও আছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব কয়েন অচল না হলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকই তা নিচ্ছে না। এমনকি কয়েনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নতুন ২ টাকা ও ৫ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে না কেন্দ্রিয় ব্যাংক। এরপরও অলিখিতভাবে ব্যাংকগুলোতে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ায় কোটি কোটি টাকার মুদ্রা অলস পড়ে থাকছে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন রাষ্ট্র ও ব্যাবসায়িরা।এদিকে হাট-বাজারে দোকানিরাও কেনাবেচায় কয়েন নিতে অনীহা দেখানোয় বিপাকে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে প্রশ্ন উঠছে ‘কাদের জন্য এ কয়েন’?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিছুদিন পাকিস্তানি মুদ্রায় লেনদেন হয়েছে। বাংলাদেশ কয়েনেজ অর্ডার, ১৯৭২ হওয়ার পরের বছর ১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ছাড়তে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইড সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাতব মুদ্রা হিসেবে ৫ পয়সা ও ১০ পয়সা চালু হয় ১৯৭৩ সালে। ১ পয়সার মুদ্রা চালু হয় তারপরের বছর ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা রয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে রয়েছে পাঁচ টাকা, দুই টাকা ও এক টাকার কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা।

তবে ঠিক কী পরিমাণ ধাতব মুদ্রা বা কয়েন বাজারে আছে সে পরিসংখ্যানের বিষয়ে সঠিক কোন তর্থ্য পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েব সাইডে। দেশের বাজারে এখন ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েনই বেশি চলে। এগুলোর আবার কাগুজে নোটও আছে। কিন্তু কয়েন লেনদেনে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।কয়েন দিয়ে কিছু কেনা বেচা বন্ধ হয়েগেছে।ভিক্ষা দিলেও নিতে চায়না,উল্টো ভিক্ষুকের এক গাদা কথা হজম করতে হয় সাহায্যকারিকে। কয়েনের বদলে কাগুজে নোট ব্যবহারে আগ্রহ কিছুটা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে নতুন টাকা বাজারে ছাড়লেও ২ টাকা ও ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না মুদ্রার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। অনেকে বলছেন, পকেটে বা টাকা রাখার ব্যাগে কয়েন রাখতে সমস্যা হয় বলেই আগ্রহ কমেছে।অনেকে আবার ব্যাংকগুলোকেও দায়ী করছেন। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, এই কয়েন নিয়ে বিপাকে আছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। ধাতব মুদ্রা, নিম্ন মূল্যমানের নোট ও ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময়ের ক্ষেত্রে জনসাধারণ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। এ ধরনের কার্যক্রম তাদের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক লেনদেনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে তফসিলি ব্যাংকের কয়েন নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় প্রতিবছরই বিজ্ঞপ্তি নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হলেও বেশিরভাগ শাখা সেটা মানছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েন নেয়ার ব্যাপারে গ্রাহকদের আগ্রহ কম। যেহেতু গ্রাহকদের মধ্যে আমরা চালাতে পারি না,তাই নিতেও চাই না। একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানালেন ভল্টে জায়গা না থাকার কথা। প্রতিষ্ঠানের বিধিনিষেধের কারণে নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি সহ অনেকেই। অনেক কষ্ঠে নাম্বার সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা বা নোট না নেয়ার সুযোগ ব্যাংকের নেই। জনসাধারণও এ ধরনের মুদ্রা নিতে বাধ্য। তবে এক, দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ও কিছু ক্ষেত্রে এসব মানের নোট কিছু ব্যাংক না নেয়ার অভিযোগ তারাও পাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ডেকে বা টেলিফোনে সতর্ক করা হচ্ছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। এরপরও কোনো ব্যাংক না নিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৯

প্রতিবন্ধীদের শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন আতাউর রহমান খান এমপি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহপুর অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান ও সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা উপস্থিত থেকে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,পাকুটিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জীবুন নিছা,রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মো.হাসান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.বিপ্লব সরকার, শাহপুর অটিস্টিক প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান রানা, ২নং ঘাটাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোতাহার আলী মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান,ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন লেবু, শিহাব উদ্দিন, সুমন মিয়া, সহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন ।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা ইজ্জত আলীর দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইজ্জত আলী (৭০) আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তিনি দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন ঘাাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন, ইউনিয়ন ডিপটি মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ বাছেদ, সেলিম তালুকদার, আরফান আলী, নূরুল ইসলাম সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষজন।

ঘাটাইলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও হুইল চেয়ার বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গড়িব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।

ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য: উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে গড়িব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।

আ’লীগের সাধারণ সম্পাদককে ঘাটাইলের এমপির শুভেচ্ছা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান।

এ সময় আতাউর রহমান খানের সাথে ছিলেন তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান (রানা), ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সহ দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বৃন্দ।

শনিবার (২১ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী’র বাস-ভবনে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বড় রাজাপুর গ্রামে ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদের জন্ম গ্রহণ করেন। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) তিনি চারবার সাংসদ নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর নোয়াখালী থেকে আওয়ামী লীগের একমাত্র সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল মালেক উকিল। এরপর সে খান থেকে আর কেউ দীর্ঘ মেয়াদে এত বড় পদ পাননি। এ জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জেলার সাধারণ মানুষও বেশ উচ্ছ্বাসিত।

ঘাটাইলে ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বহুল প্রকাশিত দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৬৬ বছর পেরিয়ে ৬৭ বছরে পর্দাপণ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘাটাইল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কেক কাটা হয়। ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম (কালের কণ্ঠ) এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ঘাটাইল সংবাদদাতা ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান মিঞা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন (পূর্বাকাশ), সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ (দিনকাল), মোঃ আতিকুর রহমান (নিউজ টুয়েন্টিফোর), মো. মাসুম মিয়া (সমকাল), বিষ্ণু প্রিয় দীপ (ভোরের পাতা), মনোয়ার হোসেন সোহেল (দৈনিক জনতা), রেজাউল করিম খান রাজ (ঢাকা টাইমস), মো. খায়রুল ইসলাম (দৈনিক সংগ্রাম) প্রমুখ।

ঘাটাইলে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

মঙ্গলবার সকালে গ্রামীণ ব্যাংক অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ঘাটাইল উপজেলা কমিটির উদ্যোগে
অর্থ মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তাগণ বলেন,র্   সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টুনির আওতায় শতভাগ পেনশন সমর্পনকারীদের পেনশন পুনঃস্থাপন ,বার্ষিক বোনাস,  মাসিক চিকিৎসাভাতা অনতিবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত অবসর প্রাপ্ত  গ্রামীণ ব্যাংক  কর্মকার্তা- কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশ  থাকলেও তা  ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করতে তালবাহানা করছে। তারা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানান। বক্তব্য রাখেন, ব্যাংক অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ঢাকা  বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি  মোঃ জুলহাস উদ্দিন ,সদস্য মামুন সিদ্দিকী,  জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম , সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন ভুইয়া, ভ’ইয়াপুর উপজেরা কমিটির সভাপতি  আব্দুস সাত্তার, ঘাটাইল উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ মোখলেছুর রহমান খান,সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামিরুল ইসলাম প্রমুখ। 

রবিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জন

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল : ঘাটাইলে সরিষার বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের রেখা ফুটে উঠেছে। এবার সরিষার হলুদ ফুলে মাঠ ঘাট ছেয়ে গেছে। মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষার ফুলে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিরা মধু আহরণে ব্যস্ত। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঘাটাইলের ফসলি মাঠ। প্রকৃতির এক অপার লিলাভ’মি নেমে এসেছে এখানে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা কৃষকদের। গত শুক্রবার সরেজমিনে ঘুড়ে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের মুসল্লিপাড়া এলাকার শ্রী রমেশ চন্দ্রের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমদিকে কৃষকরা সরিষার বীজ বুনে থাকে। কৃষকরা খুব কম সময়ে সরিষা ঘরে তুলতে পারে।

একই এলাকার আবু ইউসূফ মিয়া বলেন, আমি দুই একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রচুর ফলন হয়েছে, আশা করি দামও ভালো পাবো। তবে বিভিন্ন কৃষি পণ্যের পাশাপাশি সরিষার ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এখানকার কৃষকরা আরো বেশি উপকৃত হতো। উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের ও গৌরাঙ্গী গ্রামের কৃষক লেবু মিয়া জানান, এবার চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এতে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. উম্মে হাবিবা জানান, উপজেলায় ২ হাজার ২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। কম খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় প্রতি বছরই সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের ৫৫৭ হেক্টর জমিতে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে । সরকারী ভাবে ও বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল সরিষা আবাদের জন্য সব সময়ই উৎসাহ ও সহায়ত করে থাকি। উপযুক্ত বীজনির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯

ঘাটাইলে সাংসদের ১৮টি বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক প্রকল্প উদ্বোধন

বুধবার  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পুর্বাঞ্চলে পাহাড়ি জনপদ সাগরদিঘী ইউনিয়ন,লক্ষিন্দর ও রসুলপুর ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ইউনিয়নে ৪টি পাকা রাস্তা,১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোট ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন বর্তমান টাঙ্গাইল(৩)  ঘাটাইল আসনের স্থানীয়  সাংসদ আতাউর রহমান খান,সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম,   লক্ষিন্দর ইউপি চেয়ারম্যান,মোঃ একাব্বর হোসেন,রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদ সরকার, উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়োরম্যান মোহাম্মদ আরিফ হোসেনসহ উপজেলা  ইউনিয়ন আওয়ামীলিগ,যুবলিগ,ছাত্রলিগ সহ অসংখ্য নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন ।
উন্নয়ন প্রকল্প গুলি  হলো ভরাডোবা সাগরদিঘী ঘাটাইল মহাসড়ক উন্নয়ন,গারোবাজার সাগরদিঘী জিসি চেই মেরামত,সাগরদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১তলা ভবন ,সাগরদিঘী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,বিদ্যমান ভবনের উপর উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারন, ভবন, সাগরদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় ৪র্থ তলা ভবন ,সাগরদিঘী কলেজ নির্মান ।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

মির্জাপুরে কুচকাওয়াজে মাদ্রাসাছাত্রীরা

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়।

সোমবার ভোরে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। পরে উপজেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

মির্জাপুর উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। মির্জাপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াচ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জাপুরে এই প্রথম আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থীরা বোরকা পরে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে।

এর আগে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত মুক্তির মঞ্চে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

দুপুর ১২টায় একই মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

মিডিয়া থেকে দূরে থাকার কারণ জানালেন মাশরাফি

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পর ফের ক্রিকেটে সরব হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। গত কয়েকমাসে খুব একটা মিডিয়ার মুখোমুখি হননি ওয়ানডে অধিনায়ক।

এ বিষয়ে মাশরাফি বলেছেন, পেশাগত দিক থেকে যখন প্রয়োজন পড়বে আপনাদের সামনে আসতেই হবে। বিশ্বকাপের পর আমি কোনো ধরনের ক্রিকেটে ছিলাম না যে আপনাদের সামনে এসে কথা বলব। মিডিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা তো সবসময়ই ভালো। আপনারা আপনাদের পেশাগত কাজ করবেন, আমিও আমার খেলা খেলব।

বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন মাশরাফি। প্রথম ম্যাচেই রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে তার দল হেরে গেছে ৯ উইকেটে। 

ঘাটাইলে গাছে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গা‌ছ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (৪০) এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৩ ডি‌সেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাকুটিয়া ইউ‌নিয়‌নের দয়াকান্দী গ্রাম থে‌কে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দয়াকান্দী গ্রা‌মে আকাশমনি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠা‌য়।

ওসি জানান, নিহ‌তের প‌রিচয় এখনও পাওয়া যায়‌নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

ঘাটাইলে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত অসহায় দুস্থ ব্যক্তি, গরীব পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা এসব ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণের আয়োজন করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা প্রমুখ।

বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন

বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস ্(বিসিডিএস) সমিতি ঘাটাইল উপজেলা শাখার ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রিয়াদ রাতুল মেডিক্যাল হলের স্বত্বাধিকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ফয়সাল মেডিক্যাল হলের স্বত্বাধিকারী মোঃ জুলহাস উদ্দিন। ঔষধ ব্যবসায়ীদের মতামত, মৌখিক ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখা  গত ৯ ডিস্মেবর সোমবার এই কমিটি অনুমোদন করেছেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হল, সহ সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ নাসির উদ্দিন ও মোঃ আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক, কার্যকরি সদস্য সাইদুর রহমান সিদ্দিকী আবু, মুশফিকুর রহমান পান্না, আব্দুল আওয়াল সুমন, জামাল উদ্দিন, সাইদুর কবীর, নুরুল ইসলা, মোতালেব হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ আইয়ুব আলী, ফজলুল করিম আতিক এবং ফরিদ তালুকদার। 

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

ঘাটাইলে ৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

“মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুন্যের অভিযাত্রা”এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন উপজেলা ও পৌর শাখা আয়োজিত এ দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়।

র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন স্থানীয় সাংসদ আতাউর রহমান খান, উপজেলা চেযারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, জিবিজি সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এমদাদুল হক খান, সাধারন সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দৈনিক যায়যায়দিন ঘাটাইল প্রতিনিধি উত্তম আর্য্য, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমীন, পৌর শাখার সাধারন সম্পাদক আমার সংবাদ পত্রিকার ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

দায়সাড়াভাবে পালিত হলো ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর একটি র‌্যালী করার মাধ্যমে এবং উপজেলা মিলনায়তনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে কোন আলোচনা সভা হয়নি। করা হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ। অন্যান্য বছরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা এ দিবসটি পালন করতেন। সে পরিবেশ লক্ষ্য হয়নি এ বছরে আজকের এ দিবসটিতে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলনা আনন্দ ও উদ্দীপনা, ছিল সর্বত্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ। ইতিপূর্বে সরকারি বেসরকারি অফিস, শহরের বিভিন্ন দোকানপাটে জাতীয় পতাকা উড়তো অথচ আজকের এ গুরুত্বপূর্ণ দিবসটিতে ঘাটাইলের কোথাও উঠেনি জাতীয় পতাকা। যা চরম অবমাননাকর এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল।

উপজেলা মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে একমাত্র স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেও উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক নেতৃবৃন্দ কাউকে বক্তৃতার সুযোগ দেয়া হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী হীরা বলেন, অচল পয়সার মূল্য আছে আজকের পরিবেশ দেখে মনে হলো মুক্তিযোদ্ধাদের কোন মূল্য নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল সৃষ্টি করায় এহেন অবস্থা আমাদের দেখতে হচ্ছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দেখলাম ঘাটাইল উপজেলার সকল কর্মকান্ড রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় পালিত হচ্ছে। এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আলোচনার সমালোচনার ঝড় বইছে। ১০ ডিসেম্বর ঘাটাইলে হানাদার মুক্ত দিবস যে দায়সাড়াভাবে পালিত হলো এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হলো এমন নজির ইতিপূর্বে দেখিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালনের জন্য আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা চেয়েছি তারা এগিয়ে আসেননি।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান, সরকারি জিবিজি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা (শিল্পী), সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মিয়া, এমদাদুল হক খান হুমায়ুন প্রমুখ।

ঘাটাইলে অগ্নিকান্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ভোররাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, স্বর্নালংকার ও সকল আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।

উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কামারচালা গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য আতাব আলীর বাড়িতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতিবেশীরা জানান, ঘরের মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আতব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম। তার স্ত্রী ঘরটি তালাবদ্ধ করে বাবার বাড়িতে যান। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ভোর রাতে ঘরের চারদিকে দাউ দাউ করে হটাৎ আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির লোকজন । পরে বাড়ির লোকজনের ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন দৌড়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। তৎক্ষনে ঘরের টিভি ফ্রিজসহ সকল আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নজরুলের ভাই মসলিম জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্রতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমও অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

শাহীনুর রহমান উপজেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি

ঘাটাইল উপজেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ শাহীনুর রহমান (শাহীন)।  তিনি ঘাটাইল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র  বর্তমান সভাপতি।

জাতীয় প্রাথমিক  শিক্ষা পদক-২০১৯ উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ এসএমসি বাছাই কমিটি বিভিন্ন ক্যাটাগরি বিচার করে তাকে  উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি নির্বাচিত করেন। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ কামরুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ এসএমসি নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান  সদস্য সচিব ছিলেন।

আজ ১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস

আজ ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদারের কবল থেকে মুক্ত হয় ঘাটাইল। দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঘাটাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনীতে বিশেষ বীরত্বের অবদান রাখেন এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। কাদেরিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে যমুনা নদীতে পাকিস্তানী যুদ্ধ জাহাজ ধবংস করা হয়।

এ সময় মুক্তিসেনারা ২১ কোটি টাকার গোলা বারুদ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনী পাকিস্তানী বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে দুর্বার লড়াই গড়ে তুলেন। মাকড়াই যুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর হাতে গুলি লাগলে তিনি মারাত্বক আহত হন। ৭ ডিসেম্বর ভুঞাপুর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় ৮ ডিসেম্বর রাত্রেই ঘাটাইলের প্রতিটি পাকবাহিনীর অবস্থানে এক যোগে আক্রমন করা হবে খোদ কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে।

এই মর্মে প্রতিটি কোম্পানী ও কোম্পানী কমান্ডারদের আক্রমন স্থল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই লক্ষে ৫ হাজার মক্তিযোদ্ধাকে ৩০টি কোম্পানীতে বিভক্ত করে ৫টি মূল দলে ভাগ করে আক্রমনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। ৮ ডিসেম্বর রাত ১১টায় হাবিবুল হক বেনুসহ আরও একটি কোম্পানী রতনপুর অবস্থান নেয়। গোলাপের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে বানিয়া পাড়া সেতুর পশ্চিম পাশে তেলেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। ৯ ডিসেম্বর কাদের সিদ্দিকীর নিদের্শ অনুযায়ী কালিদাস পাড়া, গুণগ্রাম, ঘাটাইল সদর ও বানিয়াপাড়া সেতু একযোগে আক্রমণ করা হবে। সে পকিল্পনা মোতাবেক ভোর চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত চতুর্দিক থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘাটাইল থানা আক্রমণ করেন মুক্তি বাহিনীরা। পরে কমান্ডার হাবিব ভোরে বানিয়া পাড়া সেতু, মেজর মোস্তফা কালিদাস পাড়া সেতু দখল করে ঘাটাইল থানার দিকে অগ্রসর হন। কাদের সিদ্দিকী নিজেই পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে ৫০ জন পাকিস্তানীহানাদার নিহত ও ১৫০ জন বন্দী হয়। এই দিন সম্পূর্ণরূপে ঘাটাইল থেকে হানাদার মুক্ত হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে ঘাটাইল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছেন।

সোমবার, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

ঘাটাইলে বেগম রোকেয়া দিবস পালন ও জয়িতাদের সংবর্ধনা প্রদান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বেগম রোকেয়া দিবস পালন ও জয়িতাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ (৯ ডিসেম্বর) সোমবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে করে।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে, জয়িতাঅন্বেষনে বাংলাদেশ শীষর্ক কার্যক্রমের আওতায় ৫ জন জয়িতা নারীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, বক্তব্য রাখেন, পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী বিভিন্ন ইউনিয়নের কিশোরী ক্লাবের সদস্য, নারী নেত্রী এবং নারী সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।

শনিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

ঘাটাইলে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহনন করলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী

ঘাটাইলে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে কমলা আক্তার(১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহনন করেছে। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের মলাজানি গ্রামে শনিবার বিকালে এ ঘটনাটি ঘটে।

এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার জানায়, উপজেলার মলাজানি গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী নূরুল ইসলামের মেয়ে কমলা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন। ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে কমলা আক্তারের মা মনোয়ারা বেগম বাড়ির পাশের মাঠে ছাগল চড়াতে যায়। এসময় বাড়ি ফাঁকা পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহনন করেন। নুরুল ইসলামের চার মেয়ের মধ্যে কমলা সবার ছোট। সে এবার উপজেলার ধলাপাড়া চন্দন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
এলাকাবাসী ঘরে আগুন দেখে তাকে অর্ধপোড়া অবস্থায় উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কি কারণে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আত্মহনের পথ বেছে নিয়েছে তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

ঘাটাইলে আর্ন্তজাতিক সেচ্ছাসেবক দিবস পালিত

আর্ন্তজাতিক সাহায্যকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুডনেইবারস বাংলাদেশ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে আর্ন্তজাতিক সেচ্ছাসেবক দিবস পালিত হয়েছে। । এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুুরে সিডিপি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ র‌্যালী  বের হয়ে শালিয়াজানী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সিডিপি প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমারান হোসেন খান, ইউপি মেম্বার হাজী চান মিয়া, ঘাটাইল সিডিপির প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার বর্মন, গুডনেইবারস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম হোসেন প্রমুখ। 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঘাটাইল সিডিপির ভলেন্টিয়ার লিডার শারমিন আক্তার বিথী ।

নয়াপল্টন থেকে বিএনপির সাত নেতাকর্মী আটক

নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে দলটির সাত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলাবাহি নীর সদস্যরা তাদের আটক করে। প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দুইজন এবং আশপাশে থেকে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক করার পর তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিকের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিউটি অফিসারের টেলিফোনে ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি।

জানতে চাইলে মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলাম  জানান, ‘সাতজন আটকের খবর আমি পেয়েছি। তবে তাদের কারা আটক করেছে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না। সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ আটক করতে পারে।’

প্রত্যক্ষর্শীরা জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলার বইয়ের দোকানোর সামনে অবস্থান করছিলেন কয়েকজন। এ অবস্থায় সাদা পোশাকের পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

তার আগে দুপুর ১২টায় বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খানসহ বেশ কিছু নারী নেত্রীদের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা সকাল থেকে আদালত ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে। এসময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি ছিলো।

বুধবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

ঘাটাইলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এক প্রস্তুতি মূলক এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম প্রমূখ। এ সময় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি ও সাংবাদিক গন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে,”পরিবার পরিকল্পনার সেবা গ্রহন করি কৈশোরকালিন মাতৃত্ব রোধ করি” এই শ্লোগান নিয়ে আগামী ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রচার সপ্তাহ পালিত হবে।

ঘাটাইলে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যানজট নিরসন কল্পে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার বিকালে এ অভিযান পরিচলনা করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড় চত্বর, মেইনরোড, স’মিল রোড ও কলেজ রোডে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চা স্টলসহ বিভিন্ন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল দখলদাররা। এ কারনে উপজেলা সদরে সব সময় যানজট লেগে থাকত। যানজট দুর করতেই এ উদ্যোগ গ্রহন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯

হলি আর্টিজান মামলার রায় ও জামায়াতের রহস্যজনক নীরবতা

গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন নিহত হন। শেষ পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে ৫ জঙ্গির পাশাপাশি নিহত হয় আরও দু’জন রেস্টুরেন্টকর্মী।

এ ঘটনার পর আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে। এতে অন্তত ৭৯ জঙ্গি নিহত হয়। জব্দ  ও ধ্বংস করা হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য। গ্রেফতার করা হয় আড়াই শতাধিক জঙ্গিকে।

প্রায় দেড় বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ নভেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। এতে ৭ জঙ্গিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক পরিচয়কে নিশ্চিহ্ন করতেই হলি আর্টিজানে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়।

রায়ের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের নেতারা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিবিসি, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, এএফপি ও এপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা এই রায় সংক্রান্ত সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমও এটিকে বিশেষভাবে প্রচার করে। সেই সঙ্গে আদালতের রায়কে স্বাগত জানায় ও হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে।

কিন্তু এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর নির্বিকার নীরবতা মন-বিভ্রান্তিকর। অথচ দলটিকে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ, কখনও কখনও গুরুত্বহীন ইস্যুতেও নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।

তবে কি হলি আর্টিজানের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় তাদের বিবেককে মন্তব্য করার মতো নাড়িয়ে দিতে পারেনি?

অন্ততঃপক্ষে তারা এই জঘন্য হামলায় হতাহতদের বিচার পাওয়ার বিষয়ে সরকারি বাহিনী ও আদালতের কার্যক্রম নিয়ে দু/চারটি ভাল কথা তো বলতে পারত।

প্রকৃতপক্ষে, জামায়াতের এই নীরবতা তাদের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী/সমর্থকদের কাছে দলটির অবস্থান ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তবে কি আদালতের রায়কে নীরবে প্রত্যাখ্যান করতেই জামায়াতের এই ‘মন্তব্যহীন’ আচরণ? নাকি তারা রায়ের পক্ষে মন্তব্য করলে বাংলাদেশে পরিচালিত জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিশোধের ভয় করছে? নাকি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি?

মনে হচ্ছে, জামায়াত ক্রমবর্ধমান জনসাধারণের অনুভূতি ও কট্টরপন্থী ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর বিপক্ষে যেতে চায় না। ফলে এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বণকেই প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি।

যদিও শেখ হাসিনা সরকার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এখনও দলটি বারবার অভিযোগ করছে যে, তাদের নেতাকর্মীদের ক্রমাগতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দেশে যেকোনও ইস্যু পেলেই দলটি সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্যও করে। অথচ হলি আর্টিজানের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার রায়ের বিষয়ে তারা নিশ্চুপ রয়েছে।

একই সময়ে আরও একটি অদ্ভূত বিষয় পরিলক্ষিত হল। সেটি হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনও এই ঘটনার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ। এর দ্বারা এটাই বোঝা যায় যে, জামায়াত এখনও ইমরান খান নেতৃত্বাধীন তথা পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

সোমবার, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

ঢাকা টাইমস সম্পাদককে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে ঘাটাইলে মানববন্ধন

দৈনিক ‘ঢাকা টাইমস’, ‘ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম’ ও  সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ পত্রিকার সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলনকে চাঁদা চেয়ে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে ঘাটাইলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ  করেছেন সাংবাদিকরা। সোমবার বেলা ১১টায় ঘাটাইল প্রেসক্লাবের  উদ্যোগে এবং ঢাকা টাইমস-এর ঘাটাইল প্রতিনিধি রেজাউল করিম খান রাজুর পরিচালনায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা ঢাকা টাইমস সম্পাদককে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও সুব্রত বাইন পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলনের কাছে চাঁদা দাবি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দেশে যে সময় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অনিয়ম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে, ঠিক সে সময় এ ধরণের হুমকি নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দেয়। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিও জানান সাংবাদিকরা।


মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম (কালের কণ্ঠ), সহ-সভাপতি  খান ফজলুর রহমান (দৈনিক যুগান্তর), সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান মিঞা (দৈনিক ইত্তেফাক), নিউজ২৪ টিভির জেলা প্রতিনিধি আতিকুর রহমান, সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ (দৈনিক দিনকাল), যুগ্ন সম্পাদক  আব্দুল লতিফ ( দৈনিক আমার সংবাদ), অর্থ সম্পাদক মো. মাসুম মিয়া (দৈনিক সমকাল), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক  মনোয়ার হোসেন সোহেল (দৈনিক জনতা), খাইরুল ইসলাম ( দৈনিক সংগ্রাম ও দ্যা বাংলাদেশ টুডে), সাপ্তাহিক জাহাজমারা এর নিজস্ব প্রতিবেদক  রাজ রায়হান প্রমুখ।

রবিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

সখীপুরে ১২ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

শনিবার সন্ধ্যায় বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কাউচিচালা গ্রামের লোকালয় থেকে ২০ কেজি ওজনের ওই সাপটিকে উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, শনিবার কাউচিচালা গ্রামের লোকালয়ের একটি গাছে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ দেখে ধরে ফেলে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাপটি হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, অজগর সাপটি উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘাটাইলে আই কে এস স্কুল উদ্বোধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও গুণগত শিক্ষার সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইনফ্রান্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুল (আই কে এস) পরিবারের পথ চলা শুরু।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ঘাটাইল সাগরদিঘীতে স্কুল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজন ফিতা কেটে স্কুলটি উদ্বোধন করেন চর্যাপদ গবেষক, প্রাবন্ধিক, সুরকার, গীতিকার ও অধ্যক্ষ আলীম মাহমুদ।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং সাগরদিঘী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মো. মাইনুল ইসলাম, ঘাটাইল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আ. লতিফ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোন অবস্থায় শিক্ষা যেন ব্যবসায় পরিণত না হয়।’

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক স্কুল পরিচালনায় এলাকার সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

একই ষ্টেশনে বছরের পর বছর সরকারী কর্মকর্তারা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একই ষ্টেশনে ২৫/৩০ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা দেশের প্রচলিত আইন ও বদলীর পরিপত্রের নির্দেশ অমান্য করে বিধি বর্হিভূত ভাবে  বদলী ফিরাইয়া বছরের পর বছর ঘাটাইলে থেকে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ভেঙে পড়ছে ঐ দপ্তরের আইন কানুন। অপরদিকে একই স্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। 

ভূক্তভোগী ও উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে, তাদের অনেকেই সময় মত অফিসে না আসা, কাজে মনোযোগী না হওয়া, মানুষকে অবমূল্যায়ন করা, প্রভাব খাটিয়ে কাজে সেবা না দেওয়া। অফিসকে নিজের বাড়ি ঘর মনে করে মনগড়া কাজ করা। তবে বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাত ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ীর ড্রাইভার মাসুক আহমেদ। তার বাড়ী ধনবাড়ী উপজেলার সদরে তিনি ১৯৮৭ সালে ঘাটাইলে যোগদান করেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা সরকারি বাড়ী ভাড়া ফাকি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রভাব খাটাইয়া উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের নেতৃত্ব দিয়ে সাবেক ইউএনও আছমারা বেগমকে বদলী নিয়ে চলে যেতে বাধ্য করেন। তারপরেও তিনি আইনকে বোকা বানাইয়া টানা ৩২ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে (সূত্র যুগান্তর)।   

এসব বিষয়ে ড্রাইভার মাসুক আহমেদ বলেন আপনারা যতই লেখালেখি করেন না কেন আমি ইচ্ছা করলে ৩২ বছরের জায়গায় সরকারকে ৮ বছর দেখাতে পারি। তিনি দাম্ভিকতা করে আরো বলে ১৯৯১ সালে আমাকে বাসাইল উপজেলায় বদলী করেছিল, আমি একদিনের জন্যও সেখানে যাই নাই। উল্টো বাড়ীতে ১৫ দিন ছুটি কাটিয়ে পুনরায় ঘাটাইলে যোগদান করেছি। 

অপরজন উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী শামসুন্নাহার। তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার আথাইলশিমুল গ্রামে। তিনি ১৯৯৪ সালে চাকুরী হওয়ার পর শেরপুর নকলা উপজেলায় যোগদান করলেও ০৩ মাসের মাথায় বদলী নিয়ে ঘাটাইল উপজেলায় চলে আসেন বলে তিনি জানান। তার বিরুদ্ধে পোন মাছ অবমুক্তি, টেন্ডার কেলেঙ্কারী, এফ.সি.ডি. প্রকল্পে পুকুর খনন বরাদ্দের টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়াও তিনি প্রকৃত মৎস্যজীবি বিহীন মধ্যস্বত্ব ভোগীদের নিকট বিভিন্ন জলমহাল বরাদ্দ, মাছের পোনা উন্মুক্তকরণ এবং জলমহাল সংস্কার বা খনন বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ায় তার মূল কাজ। এমন অভিযোগ জেলে সমিতি সহ আরো অনেকের। জানা যায়, তার নামে একাধিকবার বদলীর আদেশ থাকলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সুবিধা দিয়ে টানা ২৫ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী শামসুন্নাহার প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, কেউ নিজ উপজেলায় চাকুরী করতে চাইলে তাকে বদলীর করার কোন আইন নাই। আমি সেই আইন মেনেই চাকুরী করে আসছি। অথচ বদলীর পরিপত্রের ০৪.৫১০.৩৫.৪৩৭.২০১৫.১৯১ নং স্মারকে বলা আছে একই পদে তিনবছরের অধিককাল যাবত নিয়োজিত কর্মচারীকে বাস্তব অবস্থা ভেদে অবশ্যই অন্যত্র বদলী করতে হবে। দূর্গম বা প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন এলাকায় ০২ (দুই) বছর হলেও বদলী করা যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বদলীর পরিপত্রের আদেশ না মানায় ০৩ বছরের স্থলে কেউ কেউ ২০, ২৫, ২৮ ও ৩২ বছর যাবত একই স্টেশনে চাকুরী করে আসছে। 

এসব বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার তামান্না বলেন, আমার নতুন চাকুরী তাছাড়া সবেমাত্র এই অফিসে যোগদান করেছি আমি অনেক কিছুই অবগত না। 

অপরজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নজরুল ইসলাম তার বাড়ি সরিষাবাড়ী উপজেলার দোয়ার ইউনিয়নে। তিনি মধুপুর পৌর এলাকায় বাসা বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন। তিনি ১৯৯১ সালে ঘাটাইলে যোগদান করে ১৯৯৫ সালে বদলী নিয়ে গোপালপুর চলে যান বলে তিনি জানান। পরে ১৯৯৬ সালে পুনঃরায় ঘাটাইলে যোগদান করে টানা ২৩ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন-কেউ একটানা যুগ যুগ ধরে একই অফিসে থাকতে পারেনা। যারা আছে তারা নিজেদের স্বার্থে উপরমহলের সাথে আতাত করে দীর্ঘদিন যাবত রয়েছে। তবে এদের দ্রুত অন্যত্র বদলী করার জরুরী বলে জানান। 

অপরজন একই অফিসের অফিস সহকারী কামরুল আহসান খান, তার বাড়ী ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের সাইটশৈলা গ্রামে। তিনি ১৯৯১ সালে ঘাটাইলে যোগদান করে কোনপ্রকার বদলী ছাড়াই টানা ২৮ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে। এদের উভয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা বিভাগের ঘাটে ঘাটে নানা অনিম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।   

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ মানুষ গড়ার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম ও কামরুল হাসান ঘাটাইলে দীর্ঘদিন যাবত চাকুরী করে শিক্ষা অফিসকে অনিয়মের নোঙর খানায় পরিণত করেছে। এদের কাছ থেকে একটা ফটোকপি নিলেও টাকা দিতে হয় বলে তারা জানান।   

এসব বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, ২য় শ্রেণির কর্মচারীদের ০৩ বছর পর পর বদলী করার আইন আছে। তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়মাফিক বদলী করার আইন এখনো হয় নাই। তবে কারো বেলায় একজায়গায় বেশিদিন থাকা ঠিক না। কেউ অনিয়ম করলে অথবা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অবশ্যই তাকে বদলী করা হয়ে থাকে।  

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, একই ষ্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করার আইন নাই। ঘাটাইলে কে কে আছে আমার জানা নাই। তবে আমার অফিসে এমন কেউ নাই।  

শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৯

ঘাটাইল আ’লীগের প্রয়াত নেতাদের স্বরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত নেতাদের স্বরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার আনেহলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে  ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণভোজ, শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক এমপি আলহাজ্ব আমানুর রহমান খান রানা।

আনেহলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মোঃ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু,  উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, ভুঞাপুর পৌরসভার সাবক মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ, প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ মামুন, ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সাদৎ,  নেতা সামাদ মিয়া, আবু সাঈদ মন্ডল, লুৎফর রহমান আঃমজিদ ভান্ডারী , মোঃ জালাল মিয়াসহ মৃত্যুবরণকারী ২৯ জন নেতা-কর্মীদেরকে “শ্রেষ্ঠ সংগঠক” হিসাবে তাদের পরিবারকে মরণোত্তর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ঘাটাইলে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাতার প্রবাসী মানিক খানের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানিক খান (২৮) উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ভূইয়া গম্ভীর গ্রামের সোবহান খানের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই আনিছুর রহমান জানান, ভূইয়া গম্ভীর গ্রামের মানিক খানের সাথে পাশর্^বর্তী শহর গোপিনপুর গ্রামের মৃত আঃ ছামাদের মেয়ে জাহানারা জান্নাত (২৩) এর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে মাদকসেবী দেবর সজীব (১৯) বিভিন্ন সময় তার ভাবীকে উত্যক্ত করত। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় সংসারে কলহের সৃষ্টি হলেও জান্নাতের শ^শুর-শ^াশুরি এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি। গত ২ নভেম্বর প্রবাসী মানিক খান বাড়ীতে ফিরে এলে স্ত্রী জান্নাত ঘটনাটি স্বামীকে অবগত করে। স্বামী ঘটনাটিকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো তাকে দোষারোপ করে।

২৮ নভেম্বর গৃহবধু জান্নাত ফাঁসি দিয়ে আতœহত্যা করেছে বলে মানিক তার শ^শুর বাড়ীতে খবর দেয়। খবর পেয়ে জান্নাতের পরিবারের লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। তাদের দাবি জান্নাতকে মেরে ঘটনাটি আতœহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি।

ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

ঘাটাইলের উইজডম ভ্যালি স্কুলে ফানুস উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠাত উইজডম ভ্যালি স্কুলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফানুস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল কর্তপক্ষ প্রতি বছরের ন্যায় এবারো এ উৎসবের আয়োজন করে। ফানুস উড়িয়ে উৎসবের উদ্ধোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী ডাঃ নাফিস ফাতেমা আশা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী রেজাউল হক সিজার, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী মাহমুদ হাসান জাহান, বিআরডিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ বেসরকারি সংস্থা নির্মাণ সংগঠনের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মেহরুন্নাহার বাবলী প্রমূখ। এ সময় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিপুল সংখ্যক দর্শণার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আইএসের টুপি পরে আদালতে আসামিদের স্লোগান!

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার তিন বছর চার মাস ২৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে আট আসামির মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গির কারো মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং আদালত কক্ষ থেকে বের করার সময় তারা স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় আসামি রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের (ইসলামিক স্টেট) পতাকার প্রতীক সংবলিত টুপি পরে ছিলেন।

এরপর আসামিদের প্রিজনভ্যানে তোলার পর আরও এক জঙ্গিকেও কালো কাপড়ে তৈরি একই রকম টুপি পরতে দেখা যায়। ওই জঙ্গির নাম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

দণ্ডপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির এসব জঙ্গিদের আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময় তারা প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে চিৎকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে বলতে থাকেন। একই সঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে সকালেও আসামিরা হাসিমুখে আঙুল উঁচিয়ে আদালতে প্রবেশ করে। তখন তাদের চোখেমুখে কোনো চিন্তার ছাপ ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়ে, সকালে আদালতে হাজির করার সময় কারো মাথায় এমন টুপি ছিল না। কিন্তু বের হওয়ার সময় রাকিবুলের মাথায় এই টুপি দেখা যায়।

কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনা এসব জঙ্গিরা আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি কোথায় পেলেন তা নিয়ে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে আসামিরা কারাগার থেকে এ টুপি নিয়ে এসেছেন নাকি আদালতে আনার সময় বা আনার পর কোনোভাবে তাদের কাছে এই টুপি এসেছে— তা এখনও জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি আমরা দেখেছি, ছবিও দেখেছি। আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারাগার থেকে আনার সময় আসামিদের তল্লাশি করে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে কি আছে তা দেখা হয়। এ ধরনের টুপি তাদের কাছে কীভাবে গেল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। এটি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। আমি এখনই তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।’

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন।

আর খালাস পাওয়া আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া হামলায় অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ডে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে এক জাপানি ও দুই শ্রীলংকানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

জঙ্গি হামলার ঘটনায় ওই বছরের ৪ জুলাই গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর এ চার্জশিট দাখিল করেন। ঘটনায় জড়িত ‘চিহ্নিত’ বাকি ১৩ জন এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।

এরপর গত বছরের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর শেষ হয়।

গত ৩০ অক্টোবর আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতের কাছে আট আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর চলতি মাসের ৬ নভেম্বর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চান। আর ১৭ নভেম্বর এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় ৭ জনের ফাঁসির আদেশ

বহুল আলোচিত রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলায় ৭ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে, ২০১৮ সালে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ওই বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি মানুষদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন রেস্তোরাঁকর্মী।

হাসিমুখে আঙুল উঁচিয়ে আদালতে প্রবেশ

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা মামলার রায় আজ। এরইমধ্যে মামলার আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজনভ্যানে কারাগার থেকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

এসময় প্রিজনভ্যান থেকে নেমে আঙুল উঁচিয়ে হাসিমুখে আদালতের ভেতর প্রবেশ করে আট আসামি। এরমধ্যে একজনের পায়ে সমস্যা থাকায় সে ক্রাচে ভর করে আদালতে প্রবেশ করে।

এসময় তাদের খুবই আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে। নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা নিয়ে তাদের চোখেমুখে কোনো ধরনের চিন্তাও দেখা যায়নি।

ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে দুপুরে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

আসামিরা হলেন- রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন।

এ মামলায় গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণার এদিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া হামলায় অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ডে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে এক জাপানি ও দুই শ্রীলংকানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

হলি আর্টিজান হামলায় নিহত ও আহত হয়েছিলেন যারা

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়।

এদের মধ্যে নয়জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানের নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক, একজন বাংলাদেশ-আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক, দু’জন বাংলাদেশি নাগরিক ও দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

এছাড়া পরবর্তীকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের দু’জন স্টাফ মারা যান। নিহত ইতালির নয় নাগরিক হলেন- মার্কো টোনডাট, ভিনজেনজো ডি’অ্যালেস্ট্রো, সিমোনা মন্টি, মারিয়া রিবোলি, নাদিয়া বেনেভেট্ট, অ্যাডেলে পুগলিসি, ক্লদিও ক্যাপেলি, ক্রিশ্চিয়ান রসি ও ক্লদিয়া মারিয়া ডি’অ্যান্টোনা।

জাপানের সাত নাগরিক হলেন- হিডেকি হাশিমোটা, কোয়া ওগাসাওয়ারা, মাকোটো ওকামুরা, হেরোশি তানাকা, ইয়োকি সাকাই, নোবুহিরো কোরুসাকি ও রুই শিমোডাইরা।

ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈন, বাংলাদেশ-আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক অবিন্তা কবির, বাংলাদেশি দুই নাগরিক ইশরাত জাহান আখন্দ ও ফারাজ আইয়াজ হোসেন এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম ও পুলিশ পরিদর্শক সালাউদ্দিন আহম্মেদ খান ভয়াবহ ওই হামলায় নিহত হন। 

পরে হলি আর্টিজানের দু’জন স্টাফ সাইফুল চৌকিদার ও জাকির হোসেন শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ওই হামলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

সেদিন জঙ্গি হামলায় গুরুতর আহত হন ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য। তবে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গিও নিহত হয়।