বৃহস্পতিবার, মার্চ ০২, ২০১৭

ঘাটাইলে শিমুলে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া

খাদেমুল মামুনঃ 
ঝড়া পাতার রিক্ত শাখায় দেখা মেলেছে নয়া পল্লবের উল্লাস। সবুজ পাতার আড়াল থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কুহু কুহু মিষ্টি সুর। অম্রমুকুলের ম-ম গন্ধে দিশে হারা প্রাণ। রিক্ত শীতের শেষে প্রকৃতি সেজেছে এক নতুন সাজে। তবে কি প্রকৃতির গায়ে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া? লেগেছে কি আগুন শিমুলের শাখে? হ্যা। বাংলার প্রকৃতিতে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। বসন্ত আমাদের রূপসী বাংলার ষড় ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন আর চৈত্র এই দু’মাস বসন্তকাল হলেও মূলত বসন্তের পূর্ণ যৌবন পরিধি কিছুটা কম। তবে যে কয়েকদিন বসন্ত তার পূর্ণ যৌবনের ধূতি ছড়ায় প্রকৃতিতে, তাতেই প্রকৃতি ফিরে পায় প্রাণের সঞ্চারণ। বসন্তের আহবানে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি। অম্রমুকুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সাথে সাথে ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখরিত হয়েছে কুঞ্জবন। শিমুল পলাশ আর কৃষ্ণচুড়ার বহ্নি শিখায় দিশেহারা বাংলার রূপ। সবুজ পাতার আড়ালে মিষ্টি সুরে ডাকদেয় বসন্তের কোকিল, যার সুরের মুর্ছনায় দিশেহারা প্রাণ। বসন্তের ছোঁয়ায় মাতুয়ারা কবি। তাইতো সুফিয়া কামাল লিখেছেন, “হে কবি নিরব কেন? ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে নাকি তব বন্দনায়?” প্রাচীন কাল থেকেই কবিরা তাদের বসন্ত বন্দনায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। রবিন্দ্রনাথের মতো বসন্তকে নিয়ে মেতেছিলেন নজরুল, ফররুখ, জসিম উদ্দীন, সুফিয়া কামাল সুকান্ত ভটাচার্য, আল মাহ্মুদ সহ অসংখ্য বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক। বসন্ত শুধু প্রকৃতির জন্যই গুরুত্ববহন করেনা বরং এর গুরুত্ব মানব জীবনেও উল্লেখ যোগ্য। বিশেষ করে বাঙালী জীবনে বসন্ত খুবই তাৎপর্যময়। কারণ এই ফাল্গুন মাসেই বাঙালী স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। বসন্ত যেন আমাদের এই-ই শিক্ষাদেয়। শিক্ষাদেয় প্রকৃতির সাথে ভালো আচরণ করতেও। বসন্ত যেমন করে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে নব জীবনের উচ্ছ্বাস, তেমন করে বাঙালী জীবনে নিয়ে আসে আধিপত্যবাদী মোকাবেলার দূর্বার শক্তি। প্রকৃতির এই রূপমাধুর্য বিলিয়ে দেবার পরও যদি আমরা প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ না দেখিয়ে নিষ্ঠুর হয়ে যাই, তাহলে প্রকৃতিও একদিন তার রূপ মাধুর্য গুটিয়ে নিবে।

ঘাটাইলে শিমুলে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া

খাদেমুল মামুনঃ 
ঝড়া পাতার রিক্ত শাখায় দেখা মেলেছে নয়া পল্লবের উল্লাস। সবুজ পাতার আড়াল থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কুহু কুহু মিষ্টি সুর। অম্রমুকুলের ম-ম গন্ধে দিশে হারা প্রাণ। রিক্ত শীতের শেষে প্রকৃতি সেজেছে এক নতুন সাজে। তবে কি প্রকৃতির গায়ে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া? লেগেছে কি আগুন শিমুলের শাখে? হ্যা। বাংলার প্রকৃতিতে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। বসন্ত আমাদের রূপসী বাংলার ষড় ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন আর চৈত্র এই দু’মাস বসন্তকাল হলেও মূলত বসন্তের পূর্ণ যৌবন পরিধি কিছুটা কম। তবে যে কয়েকদিন বসন্ত তার পূর্ণ যৌবনের ধূতি ছড়ায় প্রকৃতিতে, তাতেই প্রকৃতি ফিরে পায় প্রাণের সঞ্চারণ। বসন্তের আহবানে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি। অম্রমুকুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সাথে সাথে ভ্রমরের গুঞ্জনে মুখরিত হয়েছে কুঞ্জবন। শিমুল পলাশ আর কৃষ্ণচুড়ার বহ্নি শিখায় দিশেহারা বাংলার রূপ। সবুজ পাতার আড়ালে মিষ্টি সুরে ডাকদেয় বসন্তের কোকিল, যার সুরের মুর্ছনায় দিশেহারা প্রাণ। বসন্তের ছোঁয়ায় মাতুয়ারা কবি। তাইতো সুফিয়া কামাল লিখেছেন, “হে কবি নিরব কেন? ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে নাকি তব বন্দনায়?” প্রাচীন কাল থেকেই কবিরা তাদের বসন্ত বন্দনায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে আসছেন। রবিন্দ্রনাথের মতো বসন্তকে নিয়ে মেতেছিলেন নজরুল, ফররুখ, জসিম উদ্দীন, সুফিয়া কামাল সুকান্ত ভটাচার্য, আল মাহ্মুদ সহ অসংখ্য বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক। বসন্ত শুধু প্রকৃতির জন্যই গুরুত্ববহন করেনা বরং এর গুরুত্ব মানব জীবনেও উল্লেখ যোগ্য। বিশেষ করে বাঙালী জীবনে বসন্ত খুবই তাৎপর্যময়। কারণ এই ফাল্গুন মাসেই বাঙালী স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। বসন্ত যেন আমাদের এই-ই শিক্ষাদেয়। শিক্ষাদেয় প্রকৃতির সাথে ভালো আচরণ করতেও। বসন্ত যেমন করে প্রকৃতিতে নিয়ে আসে নব জীবনের উচ্ছ্বাস, তেমন করে বাঙালী জীবনে নিয়ে আসে আধিপত্যবাদী মোকাবেলার দূর্বার শক্তি। প্রকৃতির এই রূপমাধুর্য বিলিয়ে দেবার পরও যদি আমরা প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধ না দেখিয়ে নিষ্ঠুর হয়ে যাই, তাহলে প্রকৃতিও একদিন তার রূপ মাধুর্য গুটিয়ে নিবে।