মঙ্গলবার, মার্চ ০৫, ২০১৯

‘খালেদা জিয়া যেসব রোগে আক্রান্ত তা আরো খারাপ অবস্থা ধারণ করছে’

কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ (মঙ্গলবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে দেখা করবে বিএনপির নেতাদের একটি দল। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই দলটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলবে, তবে তার চিকিৎসার বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে।

এর আগে গত রোববার মি. আলমগীর অভিযোগ করেন যে খালেদা জিয়া তাকে বলেছেন যে তিনি কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করছে বলে এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মি. হোসেন বলেন, “অতীতেও তিনি (খালেদা জিয়া) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং বর্তমানে সেই রোগগুলো আরো খারাপ অবস্থা ধারণ করেছে।”

বিনেপির দাবি, খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে জামিনে মুক্তি দেয়া হোক যাতে তিনি পছন্দমতো হাসপাতালে তার চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পান। আর জামিন না দেয়া হলে সরকারি ববস্থাপনায় ঢাকাতেই তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয় – এমনটাই বলা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে।

মি. মোশাররফ হোসেন বলেন, “আদালতের নির্দেশে যে মেডিক্যাল টিমটি গঠন করা হয়েছে তারা খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুপারিশ করেছে যেন তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।”

“কিন্তু সরকার সেই চিকিৎসা শুরু করছে না, গড়িমসি করছে।”

সেজন্যই তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মি. মোশাররফ হোসেন।

আপাতত বিএনপির মূল দাবি: খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বাংলাদেশের ভেতরেই বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপি বুধবার ঢাকায় এক মানববন্ধনের কর্মসূচিও দিয়েছে।

‘আমি তার চেহারা দেখিনি, এমনকি তার নাম পর্যন্ত জানতাম না।’

চিঠি, ছোট্ট পাতায় কালির কয়েকটি আঁচড়। বিনা আঁচড়ের চিঠিও অনেক সময় হয় অর্থবোধক। গভীর তার ভাষা। প্রাপক মাত্রই বুঝতে পারেন।

উড়ে আসা চিঠিতে চোখ বুলিয়ে যেমন কারও ভিজে যায় নেত্র। হৃদয় মুচড়ে ওঠে। ভেঙে দেয় মন। তেমনি কোনো চিঠি হাতে পেয়ে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি, আনন্দের! চিকচিক পানিতে ঝিলিক দেয় খুশির বন্যা, ভাসিয়ে নিতে চায় চারপাশ, সবকিছু!

আহমাদ মাহরুস সাইয়্যেদ, মিশরের তরুণ। বিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রকৌশল বিভাগে পড়েন। আল্লাহর প্রেমে যার হৃদয় পাগলপারা। আল্লাহর দ্বীনের দাঈ-ই হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সংগঠনে জড়িত হন, মুসলিম ব্রাদারহুডে।

টগবগে তরুণ আহমাদ মাহরুসও একটি চিঠি লিখেছেন। পরিবার এবং মিশরের বিচার বিভাগের কাছে। তার চিঠি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এটি লেখা তার ফাঁসি কার্যকরের আগ মুহূর্তে।

মিশরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আরও ৮ তরুণের সঙ্গে আহমাদ মাহরুসের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে খুন করেছেন।

দীর্ঘদিন এই ৯ তরুণ কারাবন্দি থেকেছেন। যতবার আদালতে হাজির করা হয়েছে, তারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কিন্তু, তাদের আকুতি স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আজ্ঞাবহ বিচার প্রশাসনের কানে ঢোকেনি।

বিচারকরা তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রায় কার্যকর করেন। এরপর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা এটিকে রাষ্ট্রীয় মদতে ‘হত্যা’ বলে সরকারের নিন্দা করেছেন।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা আরবি অন্তিম মুহূর্তে লেখা এসব তরুণের চিঠি প্রকাশ করেছে, যা পড়ে কাঁদছে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ।

তেমনি জীবনের শেষ চিঠিতেও আহমাদ মাহরুস এই হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত নন, তা স্পষ্ট করে গেছেন। জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমি তার (অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাত) চেহারা, এমনকি তার নাম পর্যন্ত জানতাম না।’

মাহরুস চিঠিতে বিচার বিভাগের অস্বচ্ছতা তুলে ধরেছেন। সঙ্গে নিজের জান্নাতের প্রতি অদম্য আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘আমাকে এমন এক ব্যক্তিকে হত্যার অপবাদ দিয়ে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি— আমি তার নাম, চেহারা কিছুই জানি না।’

চিঠিতে মাহরুস বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদের দরজায় যেন আমি শাহাদাতের সুধা পান করতে পারি, এজন্য শিশুকাল থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে এসেছি। আমাদের রুহের মালিক আল্লাহ। তিনি তা যেভাবে চান, সেভাবেই কবজ করবেন। তার এই সিদ্ধান্ত আমি আনন্দচিত্তেই গ্রহণ করছি।’

চিঠির শেষ অংশে তিনি দুনিয়ায় চলার পথে কারও সঙ্গে মন্দ বা ভুল আচরণ করে থাকলে, তা ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

চিঠির ভাষায়, ‘আমি কামনা করছি— এমন কারও কাছে, যার সঙ্গে কোনো মন্দ আচরণ করেছি, তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।’

আহমাদ মাহরুস ছাড়াও যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তারা হলেন, আহমাদ ত্বহা ওয়াহদান, আবুল কাসিম আহমাদ, আহমাদ জামাল হিজাযী, মাহমুদ আল-আহমাদী, আবু বকর আস-সাইয়্যেদ, আব্দুর রহমান সুলাইমান, আহমাদ মুহাম্মাদ ও ইসলাম মুহাম্মাদ।

তারা প্রত্যেকেই আল-আযহারসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

টাঙ্গাইলে ১২ উপজেলায় ৫৩ চেয়ারম্যানসহ প্রার্থী ১৮২

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিনে উৎসব মুখর পরিবেশে টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলায় ৫৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১৮২জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ৭১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৫৮ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে।



সোমবার তারা জেলা নির্বাচন অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন অফিসার এইচ এম কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

ধনবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

গোপালপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

ভূঞাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

ঘাটাইল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

কালিহাতী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

দেলদুয়ার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

নাগরপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

মির্জাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

বাসাইল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সখীপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার এইচ এম কামরুল ইসলাম বলেন, উৎসব মুখর পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আশা করছি বিগত নির্বাচনের মতো এই সুষ্ঠু ও অবাধ হবে।

উল্লেখ্য, এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ।