বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

বাসাইল-সখীপুরে ১০জনের মনোনয়নপত্র দালিখ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিভিন্ন দলের ১০জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের কার্য়ালয়সহ নিজ এলাকায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এরা হলেন- কৃষকশ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতিক, আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের, জাতীয় পার্টি থেকে কাজী আশরাফ সিদ্দিকী ও রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল লতিফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে শফি সরকার।

আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করিনা চাই ভালোবাসার রাজনীতি

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) :  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসনে বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানার  পিতা আতাউর রহমান খান  কে বরন করে নিতে মানুষের ঢল নেমে আসে হাজার হাজার উৎসুক জনতা রাস্তার দুই ধারে দাড়িয়ে থাকে।

ঘাটাইল থেকে হামিদপুর পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ছিল চোখে পড়ার মত ।সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতা কর্মী জড়ো হয় জিবিজি কলেজ মাঠে এমনকি তিল ধারনের স্থান ছিল না কলেজ মোড় বিজয় একাত্তর চত্বরে। গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি নির্বাচনী এলাকা ঘাটাইল এসে পৌছালে হাজার হাজার নেতা কর্মী  ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরন করে নেন জন¯্রােত থামাতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হিমশীম খেতে হয়। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নেতা কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এ সময় তাদের প্রার্থীকে একনজর দেখার জন্য ময়মনশিংহ টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুপাশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার নেতা কর্মী দাড়িয়ে থাকে বাংলদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে  দেখার জন্য। যে হবেন সারে চার লক্ষ জনতার অভিভাবক যে আগামী দিনের ঘাটাইল কে বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল ঘাটাইল হিসেবে রুপান্তর করার জন্য।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থেকে আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি প্রফেসর ডঃ অধীর চন্দ্র সরকার বলেন আমি নৌকার টিকেট পাইনি তাতে আমার কোন দুঃখ নেই নেত্রী যাকে নৌকার জন্য নির্বাচিত করেছেনে আমি তার জন্য সর্বদাই কাজ করে যাবো।

এময় তার ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হেষ্টিংও মোতালেব হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা তানভীর রহমান,উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর  কাউন্সিলর শেখ মোঃ কবীর আহমেদ, যুবলীগ নেতা এস এম বাবলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুলাহ আল মামুন, সাধারন সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকার, প্রমুখ। 



সাঈদী পুত্র ধানের শীষের প্রার্থী হলেন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সাঈদীর ছোট ভাই ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী মনোননয়নপত্র জমার শেষ দিন বিকালে পিরোজপুর-১ আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ওই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে শামীম সাঈদীর প্রাথমিক মনোনয়নের একটি প্রত্যয়নপত্রের ছবিও মাসুদ সাঈদী তার ফেইসবুকে দিয়েছেন।
নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ দাবি করেছেন, তাদের প্রার্থীরা এবার জোট শরিক বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে।
বুধবার ঢাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে তাদেরকে ২৫টি আসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিরোজপুরে শামীম সাঈদী এবং সিলেটে জামায়াত নেতা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নামে ধানের শীষের প্রত্যয়নপত্রের ছবি ফেইসবুকে ঘুরলেও এ বিষয়ে বিএনপির নেতাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইগো বুস্ট করতে কেউ তেল চায়, কেউ সেক্স: শ্রীলেখা মিত্র

ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী এবার #মিটু নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরলেন লেখার মাধ্যমে। লেখাটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।



হ্যাশ ট্যাগ মিটু দেশ জুড়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। সৃষ্টি করেছিলই শুধু বলব না। আংশিক ভাবে সেটা কার্যকরীও হয়েছিল। প্রভাব ফেলেছিল বা ফেলেছে বৈকি। তবে এখন এই লেখাটা বিতর্কের খাতিরে লেখা নয় বলে আমি মনে করছি। হ্যাঁ লেখা শুরু করার আগেই। ঐ খানিক স্ট্যাটুটরি ওয়ার্নিংয়ের মতো বিষয়টা।

প্রথম সন্তান মেয়ে হলে অনেককেই বলতে শুনেছি, ঘরে লক্ষ্মী এল। সেই কারণেই কিনা জানি না, বাড়িতে সবারই আদরে বেড়ে ওঠা আমি বরাবরই গোঁয়ার এবং জেদি। পেট্রিয়ার্কির ফলআউটের শিকার খুব বেশি হতে হয়নি সেকালে। আর তখন পেট্রিয়ার্কি কী, খায় না মাথায় দেয় সেই বিষয়ে ভাববার মতো বা বোঝার মতো বোধবুদ্ধিও তৈরি হয়নি। তবে হ্যাঁ, মাকে দেখেছি চিরকাল বাবাকে এবং পরবর্তী কালে আমাদের সবাইকে খানিক সমঝে চলতেন। সরি মা। ভেরি সরি। বাবা আসছে টিভি বন্ধ কর। কলেজ থেকে তাড়াতাড়ি ফিরো। আড্ডা মারতে যেও না। বাবা ফিরে এসে কিন্তু খুব অশান্তি করবে। বাড়িতে ছেলে বন্ধু আবার কেন? বিশেষ দ্রষ্টব্য, তারা কিন্তু কেউ বয়ফ্রেন্ড নয়। এরকম টুকটাক চলতেই থাকত। বাবাকে ভয় পেতাম। মাকে নয় কেন?

টিনএজ হরমোন যখন ধিতাং ধিতাং বলে শরীরে নাচতে শুরু করল, তখন থেকেই লাগল বিরোধ। সব কিছুর সঙ্গে জড়িত হল একটি বিশেষ শব্দ। কেন? ভাগ্যিস। ইয়েস আই ডু হ্যাভ আ মাইন্ড অফ মাই ওন। অ্যান্ড ইটস ইন ওয়ার্কিং কন্ডিশন। ট্রাস্ট মি। এই অ্যাটিটিউড আর প্যাশন ফর দ্য আর্ট নিয়ে আমি যুদ্ধে নামলাম অনাত্মীয় এই ইন্ডাস্ট্রিতে। গড ফাদার নয়, শুধু নিজের ফাদারকে সঙ্গে নিয়ে আউটডোর শুটে গিয়ে অভিনয় যাত্রা শুরু।

না! কোনও তিমি মাছ, হাঙর গিলতে আসেনি আমায়। শুধু কিছু চারাপোনা একটু আধটু জ্বালিয়েছিল বইকি। কিন্তু আমি চারাপোনা খাই না বলে, আমায় তারা জ্বালায়নি। হ্যাঁ, খুব বেশি হলে তাদের ছবিতে আমায় নেয়নি। কিন্তু তাতে আমার আবার অনীকদার ভাষায়, কিস্যু যায় আসে না।

জনৈক প্রোডিউসার বাবাকে ডেকে এক পার্টিতে বলেছিলেন, মিত্র সাহেব আপনার মেয়েকে হয়ত বিশেষ কারণে আমার ছবিতে কখনওই নেব না। তবে ওকে আমি খুব রেসপেক্ট করি। উত্তরে বাবা স্মিত হেসে তাঁর হাত ধরে বলেছিলেন, “বাবা হয়ে এটা আমার দারুণ প্রাপ্তি। থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।” বিশেষ কারণটা সবিস্তারে বলতে হবে? জানি, আপনারা বুদ্ধিমান।

ফলপ্রসূ আমার বরাবরই ছবি কম। প্রচার কম। কাগজে বড় বড় ছবি ছাপা হয় কম। তাতে আবারও কিছু যায় আসে না। আসলে গোটা বিষয়টা আমার কাছে পাওয়ার স্ট্রাগল। যার যত ক্ষমতা, ক্ষমতা টাকার হোক বা কাজ দেওয়ার হোক, তার তত গর্জন। তোষামোদপ্রিয় মানুষ সর্বক্ষেত্রেই বিরাজমান। সে ইগো বুস্ট করতে কেউ তেল চায়। কেউ সেক্স। কেউ বা দুটোই। যাঁরা দেন, তাঁরা দেন। ভাল করেই দেন। যাঁরা দেন না, তাঁদের আমার মতো, কিচ্ছু যায় আসে না।

লেখিকা: শ্রীলেখা মিত্র (ভারতীয় অভিনেত্রী)

সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

রাজনীতির নতুন সমীকরণে মনির না রোমেল, কে নৌকার মাঝি?

শিক্ষা, সংস্কৃতি আর রাজনীতির খ্যাতি সম্পন্ন জেলা টাঙ্গাইলের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনই মহাজোটের দখলে থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই চলছে অংক কষাকষি।

পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্তিশালী হলেও অনেকটাই ঘরবন্দি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি। টাঙ্গাইলের বিগত সময়ে ঘরবন্দি রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে তেমন কোন কিছুই করতে পারেনি জেলা বিএনপি। এ জন্য জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা বিরোধ ও কোন্দলকেই দায়ী করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সরকারে থাকায় অনেকটাই নিবর-অলস সময়ই পাড় করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলীয় ছোট-খাটো কর্মসূচির বাইরে জেলা আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেই সরব সময় পার করেছে।

কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগমনি বার্তা থেকেই নড়ে চড়ে বসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের বিগত সময়ে উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আটঘাট বেধেই মাঠে নামে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নির্বাচনী আবেশে আওয়ামী লীগ ব্যস্ত সময় কাটালেও বিএনপি’র অবস্থান ছিল খুবই নাজুক।

কিন্তু বর্তমান সরকারের সর্বদলীয় নীতির কারণে পূর্বের অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয় বিএনপি। গঠন হয় ঐক্যজোট। ঐক্যজোটের হাত ধরেই ধীরে ধীরে নির্বাচনের মাঠে আসে বিএনপি।

টাঙ্গাইলে এখনো বিএনপি’র বড় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী চোখে না পড়লেও ভিতরে ভিতরে দল ও ভোটারদের গুছানোর কাজ চলছে। তবে রাজনীতির নতুন সমীকরণ চলছে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের প্রার্থীতা নিয়ে।

টাঙ্গাইলের প্রত্যেকটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আটটি আসনে আটজনকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে মনোনয়ন বঞ্চিতরা কিছুটা নাখোশ হলেও তা ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ার আশাই ছিল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) ব্যতিত অন্যসব আসনে মনোনিত ও মনোনয়নবঞ্চিতদের নেতাকর্মীরা কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ শুরু করলেও নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে টাঙ্গাইল-২ আসন নিয়ে।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অন্যতম আসামী আব্দুস সালাম পিন্টুর এই নির্বাচনী আসনটি বিএনপি’র ঘাটি খ্যাত হলেও বিগত দুই নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হবে এমন ইঙ্গিতেই নির্বাচনী মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে আটঘাট বেধেই নামে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জনসমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয় জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনির। অন্য প্রার্থী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ব্যতিক্রমধর্মী কাজের কারণে তৃণমূলে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। কিন্তু বাধ সাথে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল। প্রথম দিকে মাঠে তেমন একটা দেখা না গেলেও শেষ সময়ে এসে তিনিও মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। নির্বাচনী মাঠে দেখা দেয় নতুন সমীকরণের। দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই বিভক্ত থাকলেও শেষ দিকে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অধিকাংশই। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ সামনে আসে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনিরকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করা হয়। এসময় তার সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পুরোদমে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ নির্বাচনে বিএনপি’র ঘাটি খ্যাত এ আসনটির জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থীর বিকল্প নেই এমন ভাবনা থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনির পক্ষেই একাট্ট্রা হতে শুরু করে নেতাকর্মীরা। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনই ঘটে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কেন্দ্র থেকে এ আসনে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল কেও মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ খবরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আবারো বিভক্ত হয়ে যায় নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন নৌকার কান্ডারি এ বিষয়টি টক অব দা টাউনে পরিণত হয়।

জনসাধারণে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তানভির হাসান ছোট মনিরই কি নৌকার মাঝি? নাকি তাকে বাদ দিয়ে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে নৌকার মাঝি করা হয়েছে এ প্রশ্ন ঘুরপাকখায় দিনব্যাপি। কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা না থাকায় দুপক্ষই নিজেদের পক্ষে জোর অবস্থান নেয়। এনিয়েই শুরু হয় রাজনৈতিক নতুন সমীকরণ।

শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? এই প্রশ্নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে এই সমিকরণ দেখা দিয়েছে। তবে এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব।

তবে এই আসনটির বিজয় ধরে রাখতে শক্তিশালী প্রার্থীর বিকল্প নেই বলেও অভিমত প্রকাশ করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি জনসমর্থন ও মাঠে শক্ত অবস্থান আছে এমন প্রার্থী যদি বাছাইয়ে কোন প্রকার ভুল হয় তাহলে আসনটি আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের উপরই আসনটিতে নৌকার জয় পরাজয় নির্ভর করছে বলেও নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। যাকেই শেষ পর্যন্ত নৌকার মাঝি করা হোক না কেন দলীয় বিভেদ ও বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে না পারলেও নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন তারা।