বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৬

ঘাটাইল কলেজের ভিপি রুবেলকে কুপিয়ে আহত ॥ প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ



মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
 টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঘাটাইল জি.বি.জি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি আবু সাইদ রুবেল(২৮)।বুধবার রাত সাড়ে বারটার দিকে ঘাটাইল কলেজ মাঠের  ইসলামী মাহফিল শুনে বাড়ি ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে।বর্তমানে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্প্রতিবার দুপুরে এক ঘন্টা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা ছাত্রলীগ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বুধবার ঘাটাইল জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে এক ইসলামী জলসা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত বারটা পর্যন্ত চলে এ ইসলামী জলসা। জলসা শেষে রাত সাড়ে বারটার দিকে  ভিপি রুবেল মোটর সাইকেল যোগে তার নিজ  বাড়ি চান্দশী ফিরছিলেন।এ সময় একদল সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে অর্তকিত তার উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে  শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার  প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগ কলেজ মোড়ে এক ঘন্টা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করে। রবিউল ইসলাম তমালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মোঃ শহীদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র মোঃ শহীদুজ্জামান খান (ভিপি শহীদ) ও কলেজের এজিএস রজ্ঞু আহম্মেদ সহ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।কি কারনে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

ঘাটাইলে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আহত

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা আবু সাইদ রুবেল । গতকাল বুধবার রাত সাড়ে বারটার দিকে ঘাটাইল কলেজ মাঠের  ইসলামী মাহফিল শুনে বাড়ি ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। রুবেল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়  কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার ঘাটাইল জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে চান্দশি যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক ইসলামী সমাবেশের। বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত বারটা পর্যন্ত চলে এ সমাবেশ। সমাবেশ শেষে রাত সাড়ে বারটার দিকে ছাত্রলীগ নেতা আবু সাইদ রুবেল মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সামনে একদল সন্ত্রাসী তার গতিরোধ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় 

মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব হাইকোটের রায়কে অবমাননা

রবিউল আলম বাদল, নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কুলিয়া গ্রামের পুকুরের মালিকানা নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে ঘাটাইল ভূমি অফিসের চলছে লুকোচুরির খেলা। এ্যাসিলেন্ট উপজেলার বিচারক হয়েও তিনি নিজেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কোন আদেশ ছাড়াই মালিকের পুকুরে অনুপ্রবেশের নিষিদ্ধ নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন। হাইকোটের রায় জর্জ কোট দখল বুঝিয়ে দিলেও এ্যাসিলেন্ট সে আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মালিকের পুকুরের মাছ বাজারজাত প্রক্রিয়া থেকে জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ক্ষোভ। ন্যায় কাজে বাড়ছে ভোগান্তি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আইনের প্রতি আস্থা হারাবে অনেকেই।

মামলার বিবরন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিতর্কিত পুকুরটি বৃটিশ আমলে রাজশাহী জেলার পুখুরিয়ার জমিদার রানী হেমন্ত কুমারির নামে লিপিবদ্ধ ছিল। পরে জমিদার প্রথা উচ্ছেদ হলে পুকুরটি পাকিস্তান সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে অন্তভূক্ত হয়। ঐ সময় পাকিস্তান সরকার পত্তনের ঘোষনা দিলে প্রার্থী পক্ষ আব্দুল মান্নান ১৯৬৭ সালে ২১ এপ্রিল ১১৫(ঢওও) নং মোকদ্দমামূলে পত্তনপ্রাপ্ত হইয়া ভোগদখল করিতে থাকে। এতে গ্রামের কিছু সংখ্যক লোক পত্তনের বিপরীতে বাদী হয়ে ১৯৭৩ সালের ১৪ আগষ্ট ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রার্থীপক্ষ আঃ মান্নান দোতরফা সূত্রে ডিগ্রী প্রাপ্ত হয়। সেই সাথে ২৭-৯-১(১) নং মেমোমুলে মান্নান ফাইনাল ডিগ্রী লাভ করে সরেজমিনে কমিশন যোগে দখল প্রাপ্ত হয়। ঘাটাইল ভূমি অফিসে ৯১ সাল পর্যন্ত খাজনা খারিজ পরিশোধ করা থাকলেও পরবর্তীতে নালিশী ভূমি জলাশয় শ্রেণী দাবী করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, তৎপক্ষে উপজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক ইজারা প্রদান সাপেক্ষে দখল করিতে থাকে। সেই সাথে বর্তমান হাল জরিপে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে রেকর্ড হাসিল করে বলে জানা যায়। এখান থেকেই সরকার বনাম মালিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে।

জানা যায় ১৯৯৬ সালে প্রার্থী পক্ষ বাদী হয়ে ৫৭ নং অন্য প্রকার মামলা দায়ের করলে নি¤œ আদালত মামলাটি ডিসমিস করে দেয়। পূনরায় ১৯৯৯ সালে ৭৩ নং মামলা দায়ের করলে পূর্বের ন্যয় একই ফলাফল হওয়ায় ২০০১ সালে হাইকোর্টে ৩৫২০ নং সিভিল রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন। এতে প্রার্থীপক্ষ প্রাথমিক ডিগ্রী প্রাপ্ত হন। পরে ২০১৬ সালে ১নং ডিগ্রীজারী মোকদ্দমায় ফাইনাল ডিগ্রী লাভ করলে জজকোট চলতি বছরের ৩১মে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ঢাকঢোল বাজিয়ে উপজেলা এ্যাসিলেন্টের উপস্থিতিতে মালিক মান্নানকে দখল বুঝিয়ে দেয়।

বিরাহিমপুর গ্রামের আজাদ মিয়া বলেন, এতো কিছুর পরেও মান্নানের ডিগ্রীর বিপরীতে বাধ সাধে গ্রামে কিছু সংখ্যাক লোকের। তাদের মধ্য মোবিন খান বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে হাইকোর্ট ৩৫২০ নং  লিভটু আপিল দায়ের করলেও ঐ মামলার শুনানীর পূর্বেই বাদী তার নিজ ইচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।  এতে মালিক পক্ষের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে আইনের কোন বাধা না থাকায় মালিক পক্ষ পুকুরে প্রায় ৮/১০ লাখ টাকার মাছ চাষ শুরু করেন। তিনি আরও বলেন পুকুরে মাছ চাষ শুরুর পর হতেই ঘাটাইল ভূমি অফিসে চলে আইনের নামে বে-আইনীর খেলা।
এ বিষয়ে আন্দিপুর গ্রামের হাছান আলী  ও কুলিয়া গ্রামের আঃ হালিম জানান, সরকারের সকল নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান হায়দর আলী ও উপজেলা এ্যাসিলেন্ড প্রভাংশু সোম মহান হাইকোর্টের ৩৫২০/২০০১ নং মামলার ডিগ্রী এবং ১/২০১৬ নং মামলার ফাইনাল ডিগ্রী সেই সাথে চলতি বছরের ২৩ আগষ্ট স্থগিত আদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশনা থাকলেও মালীক পক্ষকে দখল পজিশন হতে বিতারিত করার অপচেষ্টায় কানামাছি খেলার নামান্তর। তিনি দুঃখ করে বলেন, এ্যাসিল্যান্ড আইনের লোক হয়ে বেআইনীভাবে পুকুরের মাছ বাজারজাত প্রক্রিয়া থেকে পুলিশ মারফত জব্দ করে থানা নির্বাহী অফিসারের আদেশ ঘোষনা দিয়ে উপজেলার ভিতরেই মাছ নিলামে বিক্রি করেন কিভাবে।

মালিকের পুকুরে নোটিশ টাঙ্গানোর বৈধতার বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রভাংশু সোম মহান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর না দিয়ে বলেন এটা ডিসি স্যারের বিষয় । আমি শুধু তার আদেশ পালন করেছি।