টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে ঘাটাইল উপজেলার হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৩০ বছর ধরে সপ্তাহে এক দিন গরু-ছাগলের হাট বসে। এই এক দিনের জের থাকে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইজারা নিয়ে এই হাট বসানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে আট লাখ টাকায় এর ইজারা নিয়েছেন উপজেলার গারট্র গ্রামের মো. ইস্তিয়াক। ইজারার টাকা মিলেমিশে ভাগ করে নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টি চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ও তোরণ নির্মাণ করে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজারের ওপরে। বিশাল মাঠ থাকলেও প্রতি সপ্তাহে রবিবার গরুর হাট বসায় শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে আসে না। নিয়মিত তারা শারীরিক শিক্ষার ক্লাস ও খেলাধুলা করতে পারে না। গরু-ছাগলের পয়োনিষ্কাশনের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, হাটবারের পরদিন পশুর মলমূত্র থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তখন শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা যায় না। দুগর্ন্ধের মধ্যেই ক্লাস করতে হয়।
গারট্র গ্রামের আব্দুছ ছামাদ বলেন, ‘একসময় মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল খেলা হতো। কিন্তু পশুর হাট বসার পর থেকে মাঠটি অসমতল হয়ে পড়েছে। আগের মতো আর খেলাধুলা হয় না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘১৯৮৬ সালে কদমতলী হাটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। হাট প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর থেকে বিদ্যালয় মাঠে নিয়মিতভাবে পশুর হাট বসছে। এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে হাট পরিচালনা করে। ২০১৫ সালের ৪ মার্চ হাট স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টির অগ্রগতি হয়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘হাট পরিচালিত হয় এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে। তাই এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় সুযোগ নেই।’
দিগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন বলেন, ‘হাট স্থানান্তর করার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘স্কুলে মাঠে হাট বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
