শনিবার, মার্চ ৩০, ২০১৯

ঘাটাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ী ভাংচুর, প্রতিবাদে এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ তুহিন আব্দুল্লাহর ছেলে সৈয়দ এহসান আব্দুল্লাহর গাড়ীতে হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার ধলাপাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের অফিসের সামনে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মাহাসড়কে জাকারিয়া এ্যাপারেলসের সামনে বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে।

অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘাটাইল থানা ওসি মাকছুদুল আলমের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা অবরোধ তুলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

মিতালী গ্রুপের এমডি স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসান আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার উপজেলার লক্ষিন্দর, সাগরদিঘী ও রসুলপুর ইউনিয়নে তার নির্বচনী অফিস ভাংচুর করে ও ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।

তিনি অভিযোগ করেন, তার কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উড়োজাহাজে নির্বাচন না করার হুমকি দেয়। খবর পেয়ে তিনি আজ শনিবার ভোরে উক্ত এলাকা পরিাদর্শনের জন্য রওনা দেন। যাওয়ার পথে ধলাপাড়া এলাকায় পৌছলে দুর্বত্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালায় ও তার গাড়ি ভাংচুর করে।

প্রবাস জীবনে কষ্টের মাঝেও সুখ

প্রবাসীদের জীবন কেমন কাটে? এ প্রশ্নটা অনেকেরই। কারও কারও রয়েছে বিশেষ কৌতূহল। অন্তত যাঁরা প্রবাসী নন। কৌতূহলটা তাঁদেরই বেশি যাঁদের স্বজনেরা প্রবাসী। আমজনতার আগ্রহ যে নেই, তা নয়। তা ক্ষেত্রবিশেষে। তাঁদেরও কৌতূহল হয়, যখন কোনো প্রবাসী হয়ে ওঠে সেলিব্রেটি।

আমরা বাঙালি প্রবাসীরা কেমন আছি? ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বললে কীভাবে কাটছে আমাদের জীবন? দেশের অস্থিতিশীল গুমোট রাজনৈতিক পরিবেশের বাইরে থেকে আমরা কী খুব ভালো আছি? দেশ ও স্বজনদের দূরে রেখে আমাদের প্রবাসজীবন কী খুব স্বস্তিতে কাটছে? নাকি সোনার হরিণের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরাও ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। এই প্রশ্নগুলো করার পেছনে অন্য কোনো অযাচিত উদ্দেশ্য নেই। সুখ-দুঃখ আর কষ্টের অনুভূতিগুলো বলার প্রয়াসমাত্র। কারণ, কারও কাছে যাপিত জীবন বড্ড বেশি অহংকারী। কারও কাছে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রবাস মানেই কি নিঃসঙ্গতা? একাকিত্ব? নাকি প্রবাস মানেই হাড়ভাঙা পরিশ্রম। কেমন কাটে প্রবাসজীবন? কেউ বলে মলিন নয়তো ফ্যাকাশে। কেউ বলে পানসে। কারও কাছে রোমাঞ্চকর, অতিমাত্রায় স্বাধীনতা। কারও কাছে জীবনের সোনালি অধ্যায়ের যাত্রা শুরু কেউ ভাবছে, এই তো চলছি সোনার হরিণের পেছনে। আবার কেউ ফেলে দীর্ঘনিঃশ্বাস। যেন কোনো এক নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত। এই ভিন্ন ভিন্ন ভাবনাগুলো তাদের, যারা প্রবাসী। আর যাঁরা প্রবাসী নন, তাঁদের ধারণাটা কেমন প্রবাসীদের সম্পর্কে? এটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল হলেও কিছুটা তো উপলব্ধি করতে পারি। তাই বলছি। যত দূর উপলব্ধি করেছি, প্রবাসী সম্পর্কে অপ্রবাসীদের ধারণা পুরোটাই অর্থকেন্দ্রিক। অর্থাৎ, প্রবাসী মানে অঢেল অর্থ উপার্জনের কারিগর। স্বজনেরা অন্তত ওই একটি বিষয়ে পরোপুরি সজাগ। প্রবাসী মানে, থাকবে অর্থিক সচ্ছলতা। এই ধারণাটা মোটেই ভুল নয়। কিংবা নতুন কিছু নয়। এটা তো ঠিক বাংলাদেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর চাবিকাঠি তো দীর্ঘকাল ধরেই প্রবাসীদের নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছর ঘুরে গুনছে হাজার কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা! তাই বুঝতে কারও কষ্ট হয় না, প্রবাসী মানে হাড়ভাঙা পরিশ্রমী একদল খেটে খাওয়া মানুষ।

মালয়েশিয়া প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকেই ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ এক রেমিটেন্স যোদ্ধা সেলিব্রেটিকে নিয়ে আজকের এই লেখা। পরিবারের সুখের আশায় গত দুই যুগেরও বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৭০ বছর বয়সী বাংলাদেশি আবু বকর। প্রবাস জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও দেশে যেতে পারেননি তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে একদিনের জন্যও কাজ থেকে ছুটি নেননি এই প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা।



সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক হিউম্যান অব কুয়ালালামপুর নামের একটি পেজে এই বাংলাদেশির প্রবাস জীবনের সংগ্রামের কথা লিখা হয়। দেশটিতে কর্মরত প্রবীণ এই প্রবাসী বলেছেন, ২৭ বছর তার পঞ্চম সন্তানকে মাত্র ৬ মাস বয়সে রেখে মালয়েশিয়া এসেছিলেন। তারপর আর দেশে যাওয়া হয়নি। আমার পরিবারকে মিস করি এবং তারাও আমাকে মিস করে। তবে আমার এই ত্যাগ তাদের জন্য এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য।

প্রবীণ এই রেমিটেন্স যোদ্ধা জানিয়েছে, বর্তমানে তার মেয়েদের একজন বিচারক, একসন্তান প্রকৌশলী এবং অন্য একজন ডাক্তার। সন্তানদের এই সফলতাকে প্রবাস জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সন্তানদের প্রতিও।

প্রবীণ এই প্রবাসী বলছিলেন, আমি মালয়েশিয়ায় অসার আগে শুনেছি এখানে প্রচুর কাজ। এমন কোনো কাজও যদি থাকে যা কেউ করতে চায় না, তা আমি করবো। আমি একবারের জন্যও অসুস্থতার ছুটি নেইনি, ইনশাআল্লাহ আমি এখনও শক্তিশালী।

তিনি আরও বলেছেন, তার প্রয়োজন খুব সামান্য। উপার্জনের বেশির ভাগ অংশই পরিবারের জন্য পাঠিয়ে দেন। সকালের নাস্তা করে কাজ করতে চলে যান, আবার ফিরে আসেন। পরিবারের সাথে প্রতিদিনি ফোনে কথা বলেন, বিশ্রাম নেন। পরের দিন আবার একই ভাবে দিন চলে যায় এই প্রবাসীর। দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ দেখিয়ে, এ বছরের ডিসেম্বর মাসে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পাওয়ার সাথে সাথে দুই নাতিকেও প্রথম দেখবেন।

রাত পোহালেই ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের উত্তাপের ভোট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামিকাল (৩১ মার্চ) রোববার। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা গ্রামগঞ্জে, অলিতে গলিতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যায় গোটা উপজেলা, প্রচারণা মাইকিংয়ের শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে, তথাপিও অনেকটাই সহিংসতা মুক্ত প্রচারণা শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ঘাটাইলবাসী। অপেক্ষা এখন ভোট গ্রহণের, রাত পোহালেই ভোট।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা ছিনিয়ে আনেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু। তাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখেন বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন (আনারস), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেস্টিংস (মোটরসাইকেল), জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি তুহিন আবদুল্লাহর ছেলে মিতালী গ্রুপের এমডি সৈয়দ এহসান আবদুল্লাহ (হেলিকপ্টার), আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম খান জনি (ঘোড়া) সহ জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান খান (গোলাপ ফুল)। এদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম হেস্টিংস (মোটরসাইকেল) নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপি এই নির্বাচনে কোন প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা রীতিমত এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আওয়ামী লীগেরই একাধিক প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে। শেষ পর্যন্ত কে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ের মালা গলায় পড়বেন সে জন্যে ঘাটাইলবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল রাত পর্যন্ত। এদিকে ঘাটাইলে এবারের উপজেলা নির্বাচনী উত্তাপ উত্তেজনা ইতোপূর্বের সকল উপজেলা নির্বাচনের উত্তাপকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

এই উপজেলা নির্বাচনে তিনটি পদের বিপরীতে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন চেয়ারম্যান, ৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৮ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী মাঠে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন প্রার্থী। তারা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন (টিউবওয়েল), যুবলীগ নেতা সুলতান মাহমুদ (চশমা), যুবলীগ নেতা সুমন খান বাবু (টিয়া), কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সহ সভাপতি সজীব সরকার (মাইক), শিল্পপতি কাজী আরজু (তালা)। এছাড়া এম এম সোয়েব এবং তুহীন খান তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট জন প্রার্থী। তারা হলেন, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা (হাঁস), উপজেলা মহিলা লীগের নেত্রী নুরজাহান সিদ্দিকা (ফুটবল), ঘাটাইল পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ কবির হোসেনের সহধর্মিণী শাহিনা আক্তার শিল্পী (সেলাইমেশিন), উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগে সিনিয়র সহ সভাপতি আবু মোঃ শোয়েব ডন এর সহধর্মিণী মীর আলেয়া পারভীন (বৈদ্যুতিক পাখা),  তাসলিমা জেসমিন (প্রজাপতি), মরিয়ম আক্তার (ফুলদানী), আফিয়া বেগম (পদ্মফুল) এবং ফাহিমা তালুকদার (কলসি)।

ঘাটাইল পৌরসভার ভোটার তুষার আহমেদ বলেন, আমরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই। প্রশাসন আমাদের সুষ্ঠু ভোট প্রদানের ব্যবস্থাটুকু করলে আমরা অবশ্যই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবো এবং আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে জয়যুক্ত করবো।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে এক লাখ ৫৮হাজার ৭৬৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো প্রকার অনিয়ম ও পেশিশক্তির অপব্যবহার এখানে সহ্য করা হবে না।

ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। মো. নুরুল ইসলাম নামের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

জানা যায়, ঘাটাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে মো. নুরুল ইসলাম ২০১৮ সালে অক্টোবর মাসে যোগদান করেন। যোগদানের পরই গত বছর সমাপনী পরীক্ষায় নিম্নমানের খাতা দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের তৈরি নিয়মে চলেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নীতিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদ শূন্য হলে সাত দিন আগেই তা নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে রাখতে হবে এবং শূন্য পদের বিপরিতে যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তাহলে জৈষ্ঠ্যজনকে বদলি করতে হবে। কিন্তু এই নীতিমালা অনুসরণ না করেই চলিত মাসে প্রায় চল্লিশ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে টাকার মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আর এ বদলির ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার ঘুষ নিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা দিলোয়ারা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, আমি তার কাছে আমার বদলির বিষয়ে সুপারিশ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ৪০ হাজার টাকা লাগবে বলে তিনি দাবি করেন।

ঝুনকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, আমি বদলির জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু টাকা দিতে পারিনি বলে অন্য শিক্ষককে টাকার মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, তার কাছে কোনো কাজ নিয়ে যাওয়া হলে তিনি টাকা চেয়ে বসেন। তার এই অনিয়ম, দুর্নীতির কথা প্রতিবাদ করলেই তিনি দূরে বদলি করানোর হুমকি দেন। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ এই দুর্নীতিবাজ অফিসারের হাত থেকে আমরা ঘাটাইলের সকল শিক্ষক পরিত্রাণ চাই।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটাইল প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নুরুল ইসলাম বলেন, এখানে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী চলছে।