বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৬

১৬ মাস পলাতক এমপি রানা বহিষ্কার দাবি আওয়ামী লীগের

আতিকুর রহমান, ঘাটাইল(টাঙ্গাইল), ২১ জানুয়ারি, আমাদের ঘাটাইল:টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যার তিন বছর পেরিয়ে গেল সোমবার। তার হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের দাবিতে জেলা ও থানা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ প্রতিবাদ সভা করেছে। ডিবি পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাসার কাছে এই প্রভাবশালীর নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহম্মেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিতে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এবং তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তত্কালীন মেয়র শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও ছাত্রলীগের তত্কালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন গ্রেফতার দুই আসামি। এর পর থেকে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই ১৬ মাস ধরে পলাতক। এমপি রানাকে গ্রেফতার করতে না পারায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনগুলো এমপি রানাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা আবু সাঈদ রুবেল বলেন, ‘এমপি রানা ১৬ মাস ধরে পলাতক। আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার দাবি করছি।’ উপজেলা যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এমপি রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করে ঘাটাইলবাসীকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম খান লেবু বলেন, ‘ফারুক হত্যায় জড়িত এমপি রানা ১৬ মাস ধরে এলাকাছাড়া। তার এই পলাতক থাকার কারণে ঘাটাইলবাসী যেমন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি ঘাটাইল আওয়ামী লীগে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে দল থেকে এমপি রানাকে বহিষ্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন করছি।’প্রকাশঃ ২১ জানুয়ারী ২০১৬, ০৮:২২:০০ অপরাহ্ন