ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ২০ কি.মি. দুরে প্রত্যন্ত পাহাড়িয়া এলাকার শালিয়াবহ গ্রাম।এই গ্রামরই অতিসাধারণ এক কৃষক আ. আজিজ। এলাকায় সে চাষা আজিজ কোম্পানী হিসাবে পরিচিত। প্রতি বছর মতো এবারও পহেলা বৈশাখে তার বাগান বাড়িতে ভিন্ন আমেজে ‘কাঠের লাঙল যার জমি তার,জ্ঞানের লাঙল যার আসমান ও জমিন তার’ স্লোগানে বাংলা নববর্ষ বরণের আয়োজন করা হয়। এলাকায় এই বর্ষবরন অনুষ্ঠানটি এখন আজিজ মেলা নামে পরিচিত। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলছে এ মেলা মেলাকে কেন্দ্র করে আজিজের এই বাগান বাড়িতে সমাগম ঘটে বিভিন্ন গুনীজন সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ অসংখ্য নারী-পুরুষ সকাল থেকেই আজিজের মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। ভোর বেলা থেকেই দুর দুরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে মেলায়। এবারের মেলায় আয়োজন করা হয় ভিন্নধর্মী নানা অনুষ্ঠানের। সকালে হাজারো জনতার কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শূরু হয় অনুষ্ঠানমালা। তার পরে শুরু হয় আগত অতিথি ও দশনার্থীদের পান্তাভাত দিয়ে আপ্যায়ন। ইলিশের পরিবর্তে পানতাতে দেয়া হয় কাঁঠাল, কাচা মরিচ,পিয়াজ ও বিচিকলা। এই আপ্যায়ন চলে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। বারোটার পর থেকে আগত অতিথি ও দশনার্থীদের খাওয়ানো হয় সবজি খিচুরি। সাথে সাথে চলে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য ছিল বিলুপ্তপ্রায় গ্রাম বাংলার লাঠি খেলা, ফ্যাশন শোর আদলে দেখানো হয় বিলুপ্ত প্রায় কৃষি উপকরণ লাঙল, জোয়াল, মই,মাথাল,কাস্তে, হাইলা লাঠি, হুক্কা গরুর ঢোনা ইত্যাদি। এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার জারি গান, সারি গান,ধূয়া গান,পুঁথি পাঠ,কবিতা পাঠ। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মধুপুরের বেদুরিয়া আদিবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় ঝুমনৃত্য। মেলায় আগত সকল অতিথি ও দর্শনার্থীকে বিনামূলে ফলজ চারা বিতরণ করেন আজিজ। দশ একর জায়গা জুড়ে অনুষ্ঠানের পাশা-পাশি মুড়ি-মুড়কি,হাতি-ঘোড়ার সন্দেস,পাপড় ভাজা,সাজকাটা চুলের ফিতা ও শিশুদের খেলনাসহ নানা প্রসরা নিয়ে বসে দোকানিরা। সন্ধ্যা অবদি চলে বেঁচাকেনা। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সাথে পরিচিত হতে দশর্নার্থী তার বাগান বাড়ি ঘুরে দেখেন এবং প্রকৃতি বিজ্ঞানী চাষা আজিজের কাছ থেকে পরামর্শ নেন।
এ মেলার আয়োজক প্রকৃতি বিজ্ঞানী চাষা আ.আজিজ কোম্পানী জানান, আমি একজন সাধারন কৃষক। কৃষকের প্রতি ভালবাসা থেকেই প্রতিবছর আমার এ আয়োজন। দীর্ঘ সতের বছর যাবৎ আমি এ মেলার আয়োজন করে যাচ্ছি। বিনোদনের পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার এবং কিটনাশক মুক্ত ফসল ফলানোতে উদ্ভুদ্ধ করাই আমার উদ্দেশ্য।
এ মেলার আয়োজক প্রকৃতি বিজ্ঞানী চাষা আ.আজিজ কোম্পানী জানান, আমি একজন সাধারন কৃষক। কৃষকের প্রতি ভালবাসা থেকেই প্রতিবছর আমার এ আয়োজন। দীর্ঘ সতের বছর যাবৎ আমি এ মেলার আয়োজন করে যাচ্ছি। বিনোদনের পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার এবং কিটনাশক মুক্ত ফসল ফলানোতে উদ্ভুদ্ধ করাই আমার উদ্দেশ্য।
