মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম নয়া সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক ছাত্র নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসন থেকে ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রয়ারি ও ১২ জুনের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন।

এদিকে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংলাপ সফল না হলে পরদিন রোডমার্চ : ফখরুল

আগামীকালের সংলাপ সফল না হলে এবং দাবি না মানলে পরদিন (৮ নভেম্বর) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ। এর পরদিন (৯ নভেম্বর) রাজশাহীতে জনসভা হবে। একে একে খুলনা ও বরিশাল অভিমুখেও রোডমার্চ হবে।

মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।


তিনি বলেন, সংলাপে দাবি না মেনে তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া জেলে যাবার সময় বলেছিলেন, কারাগার আমি ভয় পাই না। দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের নির্দেশনা তিনি (খালেদা) দিয়ে গেছেন। আজ আমরা জাতীয় নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়াতেই দুঃশাসন থেকে মুক্তি, জনগণের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

আগামীকাল আবার ছোট সংলাপ হবে। আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি। কিন্তু নাটক করলে চলবে না। আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) সরে যেতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। আমাদের দাবি দাওয়া মেনে নিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে- যোগ করেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র।

ফখরুল বলেন, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ হাজার ৩৭১টি মামলা হয়েছে। আমরা আর গ্রেফতার হতে চাই না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবো। জনগণের সরকার গঠন করতে চাই।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

এছাড়া সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফরুল্লাহ, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব, সুলতান মো. মনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আবদুল মালেক রতন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আবদুল মঈন খান।

এর আগে দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিএনপির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কর্মীদের সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্যান ঘিরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতাদের ছবিসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনও চোখে পড়ার মতো।

পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় যুবকের অভিমান

পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে নাঈম শিকদার (২২) নামে এক যুবক। সে উপজেলার কালিয়া পাড়া ঘোনারচালা গ্রামের আব্বাস শিকদারের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত নাঈম শিকদার ১ বছর পূর্বে স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়ন কালে কর্মের উদ্দেশ্যে সৌদি-আরব যায় এবং মাস খানেক পূর্বে ফেরত আসে। পরে নিহত নাঈম শিকদার তার পরিবারের কাছে একই গ্রামের মো. কাজিমুদ্দিনের মেয়ে কাঞ্চন (১৭) কে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এতে নিহতের পরিবার রাজি না হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় অভিমান করে নাঈম বিষপান করে।

পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌছালে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘাটাইলে ১২০৫ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে সার বীজ বিতরণ

রেজাউল করিম খান রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি : মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সকালে ঘাটাইল উপজেলার প্রান্তিক ১২ শত পাঁচ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে সার বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রনোদনা  কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর এসব সার বীজ বিতরণ করে। উপজেলা পরিষদ  চত্বরে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ। 

উপজেলার ৭ শত কৃষকের মাঝে সরিষা ৩ শত জন কৃষকের মাঝে বোরো ধানের বীজ ২ শত জনের মাঝে ভূট্টার বীজ এবং পাঁচ জন কৃষক সহ সর্বমোট ১২ শত পাঁচ কৃষকের মাঝে বিটি বেগুনের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। 

বিএনপির নেতৃত্ব হারাচ্ছেন খালেদা জিয়া ও তারেক

বিএনপির শীর্ষপদে থাকতে পারছেন না  চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে আদালতের দেয়া নির্দেশনায় শীর্ষ পদ হারাচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করণীয় কিছু নেই জানিয়ে দলটিকে পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সেখানে আদালতের নির্দেশনার বাইরে তাদের যাওয়ার সুযোগ নেই, এ বিষয়টি উল্লেখ করে আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে বিএনপিকে পত্র দিতে যাচ্ছে ইসি। ইতিমধ্যে কমিশন নথিতে অনুমোদন দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, হাইকোর্ট যেভাবে রায় দিয়েছে তা পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা হবে না। এই বিষয়টি দ্রুত রিট পিটিশনকারী, বিএনপির এবং হাউকোর্টকে অবগত করা হবে। ফলে দলটির পূর্বের গঠনতন্ত্রই বহাল থাকবে।

সম্প্রতি বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে আদালতে একটি রিট দায়ের হয়। গত ৩১ অক্টোবর বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মাদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার জন্য আদেশ দেন। কাউন্সিলে আনা ওই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে মোজাম্মেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে একটি আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে হাইকোর্ট। আর ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই রিটের আদেশে বলা হয়, গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা বাতিল করে সংশোধিত যে গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বিএনপি, সেটি গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে উচ্চ আদালত। ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী আদালতে দন্ডিত কারও দলের সদস্যপদ থাকার যোগ্যতা থাকবে না। আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন মেহেদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি। এ রায় নিয়ে ক্ষমতসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি স্ববিরোধী অবস্থান নেয়। এ রায়কে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানালেও বিএনপির দাবি এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আদালতের নির্দেশনা পেয়ে নড়েচড়ে বসে ইসি। কমিশনের আইন শাখা দীর্ঘ পর্যালোচনা করে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে। কিন্তু নির্দেশনার বিষয়ে আদালতের বিএনপি পক্ষ হয়ে নিষ্পত্তি না করলে কমিশনের করার কিছু নেই বলে তারা একমত হয়। ফলে ৭ নম্বর ধারাটি বাতিল না হলে এরই মধ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না বলে ইসি মনে করছে।

কারণ দলটির গঠনতন্ত্রে  বলা আছে,  দন্ডিতরা পদে থাকতে পারবেন না। এর আগে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনীতে বাদ দেয়া বিধান কেন বেআইনি ও সংবিধানের ৬৬ (ঘ)-এর পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবকে এক মাসের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। কারণ খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান দুইজনই একাধিক মামলায় দন্ডিত। দুইজনই দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর করে কারাদন্ড পেয়েছেন। এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান যাবজ্জীবন কারাদন্ড পেয়েছেন।

আদালতের নির্দেশনার আলোকে ইসি নথিতে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করেছে, মাননীয় হাইকোর্টের উক্ত আদেশটি প্রতিপালন করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই উক্ত বিষয়টি নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ অধিশাখা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। ৩(খ) অনুচ্ছেদে বর্নিত বিষয়টি বিএনপিকে জানিয়ে দেয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিলদের ভোটে কয়েকটি ধারা বাতিল হয়। কাউন্সিলে উত্থাপিত হওয়ার আগে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি ৭ ধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব করে। এ প্রস্তাব স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন পায়। পরে কাউন্সিলে সেটি পাস হয়। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেয় বিএনপি।ৃ

টার্নিং পয়েন্টে রাজনীতি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ আগামীকাল বুধবার। ছোট পরিসরে অনুষ্ঠেয় এই সংলাপের প্রস্তুতি সারছেন দুই জোটের শীর্ষ নেতারা। দুই পক্ষই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের পরামর্শ নিয়েছেন। অন্যদিকে সংবিধানের মধ্যে থেকে কতটুকু ছাড় দেওয়া যায়— সে বিষয়ে হোমওয়ার্ক করছেন ক্ষমতাসীনরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য সংবিধানের ভিতরে থেকে যতটা সম্ভব নমনীয়তা দেখাবে সরকার।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সবকিছু ছাপিয়ে গতকাল দিনভর আলোচনায় ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান। তাকে নিয়ে আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে ঐক্যফ্রন্ট। জনসভায় ব্যাপক লোক সমাগমের প্রস্তুতি চলছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অন্তত ৫ লাখ লোক সমাগম হবে। ঢাকার এই জনসভায় তারা সরকারকে একটি আলটিমেটামও দিতে চায়। সংলাপ ফলপ্রসূ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে জনসভা থেকে।  এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি নিয়ে এগোলেও শেষ পর্যন্ত তারাও ছাড় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার হলেও মেনে নিতে পারে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেক্ষেত্রে দু-একটি দাবি ছেড়েও দিতে পারে দলটি। সবাই এখন সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পথ খুঁজছে। তবে ভোটের তফসিল আরও কিছুদিন পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে এ অনুরোধ জানান।  

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী ৮ তারিখ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে কয়েক দিন রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। এই সময়ের মধ্যেই নির্ধারণ হবে রাজনীতির উত্তাপ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে নাকি রাজপথে? দুই পক্ষই চায় আলোচনার মাধ্যমে একটা সঠিক সমাধান। সরকারের কাছে দাবি আদায় এবং সারা দেশে জনসমর্থন আদায় করা— এ দুটি চ্যালেঞ্জ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সামনে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানায়, আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার পর ঢাকার বাইরে রাজশাহীতে ৯ নভেম্বর জনসভা করা হবে। এ ছাড়া বরিশাল, রংপুর ও খুলনায়ও জনসভা করার চিন্তাভাবনা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে সরকার সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শোডাউন আজ : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আজ ঢাকায় শেষ জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা করতে চায় তারা। জনসভার প্রস্তুতি নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দফায় দফায় মিটিং করেছে। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথি থাকবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এই জনসভায় জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। জনসভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল রাতে জোটের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। আজ (মঙ্গলবার) বেলা ২টা থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের চেম্বারে ওই ব্রিফ হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের বিষয়বস্তু কী হবে সে প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়টিও কাল চূড়ান্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সংলাপে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক মামলা হবে না। কিন্তু এখনো তা চলছে। নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, গত রাতে ৬০ ফুট বাই ৪০ ফুট মঞ্চ তৈরি করা হয়। রাতেই মঞ্চ পরিদর্শন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। এদিকে জনসভাকে ঘিরে নতুন করে গ্রেফতার-হয়রানি চলছে বলে ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করেছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানিয়েছেন, ২৪ শর্তে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনসভায় ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ২০-দলীয় জোটসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখবেন। জনসভায় গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, মানিকগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের জনসভায় যোগ দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জনসভা করা হলেও কার্যত বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঢল নামবে জনসভায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ জনসভা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জনসভা সফলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাতে জনসভা ভেন্যু পরিদর্শন শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, জনসভাকে জনসে াতে পরিণত করা হবে ইনশাআল্লাহ। এদিকে জনসভা সফল করতে গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী : গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানের ঘোষণা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। এ সময় তিনি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য আজ (সোমবার) এই মুহূর্ত থেকে আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলাম। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে থেকে ড. কামাল হোসেন আমাদের সব রকমের আইনি সহায়তা দেবেন। আর আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য যুদ্ধ করব।’ তিনি বলেন, ‘টিক্কা খানের সঙ্গে যদি আমরা জিততে পারি, তাহলে আজকের এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেও আমরা জিততে পারব ইনশাআল্লাহ।’ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ চালানোর কারণে দেশের আজ এ পরিস্থিতি হয়েছে। এরপরও তাকে ধন্যবাদ জানাই। অনেক দিন পর হলেও তিনি আলোচনায় বসেছেন। যে মুহূর্ত থেকে আলোচনায় বসেছেন, সে মুহূর্ত থেকে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।’ জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘ঐক্য গঠন করতে তার (বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী) যথেষ্ট অবদান রয়েছে। আমাদের এ লড়াই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে লড়াইয়ের মাত্রা বেড়ে গেল। আমরা এখন একসঙ্গে লড়াই করব।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার জন্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে মোবারকবাদ জানাই। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতি লাভ করবে।

ঐক্যফ্রন্টে কাদের সিদ্দিকীর যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তাকে ঐক্যফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রংপুরে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী মইনুল হোসেনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার ওপর যে হামলা হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট তার নিন্দা জানায়। ঐক্যফ্রন্ট তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। এ ছাড়া ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এ সময় বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ, ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন যদি ৮ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে তবে ১০ নভেম্বর ইসি অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ ছাড়া ৮ নভেম্বর সড়ক পথে রাজশাহী যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপরে ১১ নভেম্বর বরিশাল এবং পর্যায়ক্রমে খুলনা, ময়মনসিংহ জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

পাঁচ পদে ৫৮৬ জনকে নিয়োগ দেবে শক্তি ফাউন্ডেশন

ঢাকা : ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসএ্যাডভান্টেজড উইমেন’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ পদে ৫৮৬ জনকে নিয়োগ দেবে। আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলে আপনিও আবেদন করতে পারেন।

পদের নাম ও পদসংখ্যা :

১)এরিয়া সুপারভাইজার-২৫ টি

২)শাখা ব্যবস্থাপক-৬০ টি

৩)একাউন্টেন্ট-১৫০ টি

৪)ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার- ০১ টি

৫) ক্রেডিট অফিসার -৩৫০ টি

আবেদনের নিয়ম : আবেদনের নিয়ম, যোগ্যতা এবং বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে `দৈনিক প্রথম আলো, ২ নভেম্বর ২০১৮' নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
আবেদনের সময়সীমা : আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২ নভেম্বর ২০১৮)