মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯

ঘাটাইলে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরের যানজট নিরসন কল্পে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার (২৪ জুন) বিকালে এ অভিযান পরিচলনা করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

কলেজ মোড় চত্বর ও কলেজ রোডে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চা স্টলসহ বিভিন্ন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল দখলদাররা। এ কারনে কলেজ মোড় চত্বরে সব সময় যানজট লেগে থাকত। যানজট দুর করতেই এ উদ্যোগ গ্রহন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পনেরটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, শামীম খান, হেকমত সিকদার প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারীর পুকুর দখল করে লাল নিশান

ব্রিটিশ শাসনামলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কুলিয়া গ্রামে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর বিশাল আকারের একটি পুকুর খনন করেন পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী। স্থানীয়দের কাছে পুকুরটি আন্দাদীঘি নামেও পরিচিত। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, খাস জলাশয় হিসেবে এটি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ১৯৬২ সালে এবং হালনাগাদও হয়েছে সরকারের নামে। কিন্তু পুকুরটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা বহু পুরনো। বিরাহিমপুর গ্রামের মান্নান মিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে মাহফুজ আরিফ ও ফুয়াদ আরিফ গং দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের মালিকানা দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দখলে যেতে সালাম, আনছার আলী, সোহরাব হোসেনকে দিয়ে পুকুরে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছেন। মালিকানা নিয়ে সরকারের পক্ষে এলাকাবাসী ও অপর পক্ষের সঙ্গে প্রায় ৪৭ বছর ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা। ফলে তিন বছর ধরে বন্ধ আছে সরকারিভাবে প্রদান করা লিজের কার্যক্রম।

জানা যায়, সুপেয় পানির অভাব থাকায় প্রজাদের সুখের কথা ভেবে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী পুকুরটি খনন করেন। জনকল্যাণকর কাজের জন্য তিনি মহারানী খেতাব পেয়েছিলেন। সেই থেকে ওই এলাকার মানুষ পুকুরটি সুবিধা ভোগ করে আসছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালে পুকুরের মালিকানা দাবি করে বসেন আব্দুল মান্নান মিয়া। দখলে যেতে চাইলে এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। পরে পুকুরটি উদ্ধারে সরকারের পক্ষে মামলা করে এলাকাবাসী। মামলার বিবরণে জানা যায়, পাকিস্তান শাসনামলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোনায়েম খাঁর কাছ থেকে মান্নান মিয়া ভূমি বন্দোবস্ত করেন। পুকুরটি সেই সময় কৃষি জমি দেখিয়ে তারা এ কাজ করেন। বন্দোবস্ত গ্রহণ করলেও কোনো দিন ভোগদখলে যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রথমে নিম্ন আদালত ও পরে ২০০০ সালে হাইকোর্ট এলাকাবাসীর পক্ষে রায় দেন। ২০০০ সাল থেকে পুকুরটি সরকারি জলাশয় হিসেবে জেলে সমিতির মাধ্যমে লিজ দেওয়া হয়। পরে বিবাদী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। প্রায় ১৬ বছর পর ২০১৬ সালে আদালত আবার বিবাদীর পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার বাদী হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ওই সময়ই জেলা প্রশাসক পুকুরে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধজ্ঞা জারি করে দুই পাশে তিনটি সাইনবোর্ড দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই সেই সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে পুকুরপাড় থেকে উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় জিডি করেন ঘাটাইল ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা। এলাকাবাসী জানায়, পুকুর উদ্ধারে আমরা শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় তিন বছর ধরে লিজের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আবার দখলদাররা তাদের দখলে নিয়ে যেতে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় দু'পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বাধতে পারে।

পুকুরের দাবিদার মাহফুজ আরিফ বলেন, হাইকোর্ট থেকে রায় এনে আমরা পুকুর দখল নিয়ে লাল নিশান দিয়েছি। 

সরকারি রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখলে যেতে লাল নিশান টানানোর বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোছা. নুরনাহার বেগম বলেন, পুকুরটি খাস হিসেবে সব রেকর্ড সরকারের নামে। যদি কেউ দখল করে নিশান দিয়ে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। অতিদ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকানা নিয়ে সরকারের মামলা চলছে, আমরা সরকারের পক্ষে লড়ছি।