মঙ্গলবার, এপ্রিল ০২, ২০১৯

হয় বিয়ে, নয়তো বাংলাদেশের হয়ে খেলব

১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও। শুরুতে দেখা যাচ্ছে, পেনাল্টি শ্যুট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত কুসুম। শট নেওয়ার আগে এই নারী ফুটবলারের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমি মহিনুপুরের কুসুম। আমার জন্ম ও আমার বেড়ে ওঠা সবই এই গ্রামে। ভাগ্যের ফেরে আজ আমি এই মাঠে। কিন্তু আজকেই আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটা ঘটবে। হয় আমার বিয়ে হবে, নয়তো আমি বাংলাদেশের হয়ে অনূর্ধ্ব–১৯–এ খেলব। জানি না আমার কপালে কী আছে।’

এরপর দেখা যায় স্কুল ড্রেস পরিহিত কুসুমকে। যেখানে বাবার সামনে কানে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কুসুম। আর বলছেন, ‘কানে ধরলাম, আমি জীবনেও আর রাস্তাঘাটে খেলব না।’ এখানেই শেষ নয়। এরপর ভিডিওতে কুসুমকে ছোট ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। এমনকি বিয়ের শাড়িতেও দেখা যায় কুসুমকে। শেষের দিকে কুসুমের বাবাকে বলতে শোনা যায়, ‘ও আর ফুটবল খেলবে না।’

ফুটবলার চরিত্রে অভিনেত্রী ও মডেল নুশরাত ইমরোজ তিশা। ছবি: প্রোমোর স্ক্রিনশট
কুসুম নামের এই খেলোয়াড়টি আসলে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল নুসরাত ইমরোজ তিশা। আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট গোল্ড কাপ উপলক্ষে যে প্রচারণা ভিডিও (প্রোমো) তৈরি করা হয়েছে, সেখানেই দুর্দান্ত ফুটবলার চরিত্রে আবির্ভাব হয়েছে দেশের অন্যতম সেরা এ অভিনেত্রীর। ফুটবলার হতে হলে সামাজিক কত বাধা ডিঙাতে হয়, তিশার চরিত্রে সে অদম্য গল্পটাই ফুটে উঠেছে।

আগামী ২২ এপ্রিল পর্দা উঠবে অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের। স্বাগতিক বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে আরব আমিরাত, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও লাওস। গ্রুপ ‘বি’ তে বাংলাদেশের সঙ্গী আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তান। বাকি তিনটি দল ‘এ’ গ্রুপে। আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আরটিভি ও কে-স্পোর্টসের পক্ষ থেকে করা হয়েছে ভিন্ন রকম একটি আয়োজন। সাতজন নারী নির্মাতা নির্মাণ করেছেন ‘এগিয়ে যাওয়ার নেই মানা’ শিরোনামে সাতটি নাটক। নারীদের প্রেরণার গল্প নিয়ে বানানো এই নাটকগুলো প্রচারিত হচ্ছে ৭ এপ্রিল থেকে। ফুটবল নিয়ে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সায়েদ জামান শাওন- এর অভিনয়ে, শ্রাবনী ফেরদৌসের পরিচালনায় ‘কুসুমের গল্প’ দেখা যাবে আগামী ১৫ এপ্রিল রাত ৮টায়।

২২শে এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্ট এর প্রতিটি খেলা সরাসরি দেখা যাবে আরটিভিতে।

শর্তে রাজি থাকলে প্যারোলে মুক্তি পাবেন খালেদা!

সরকারের দেয়া কতিপয় শর্তে রাজি থাকলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন প্যারোলে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সদস্যর দেন-দরবার চলছে বলে জানা গেছে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় বিএনপির কোন স্তরের নেতা জড়িত নয়। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছুটা জানেন বলে ঘনিষ্ঠ ঐ সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। যদি খালেদা জিয়াকে সহসাই প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় তাহলে তাঁকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে। বিএনপির কোন স্তরের নেতা-কর্মীর সাথে কোন রকম সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না। এমনকি লন্ডনে পলাতক বড় ছেলে তারেক রহমানের সাথেও কোন রকম যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারে শর্ত থাকতে পারে। প্যারোলে মুক্ত হলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা’য় থাকতে হবে। তবে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যেতে পারবেন। এমন কিছু শর্ত নিয়ে সরকারের একটি ঘনিষ্ঠ মহলের সাথে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জিয়া পরিবারের কেউ মুখ খুলছে না।

এদিকে, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার জন্য বিএসএমএমইউ-তেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদার চিকিৎসায় যাতে কোন রকম গাফিলতি না হয় সে ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি। গত সোমবার বিএসএসইউর একদল চিকিৎসক গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভভাবেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ-খবর নেন। সেসময়ই তিনি চিকিৎসকদের খালেদা জিয়ার যাতে বিএসএমএমএইউতে সুচিকিৎসা হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেন।

শেষ পর্যন্ত যদি খালেদা জিয়া প্যারোলের শর্ত না মানেন তাহলে তাকে আবারো ফিরে যেতে হবে কারাগারে। তবে এবার তাঁকে নেয়া হবে কেরানীগঞ্জ হাই সিকিউরিটি কারাগারে। বর্তমানে পুরাতন ঢাকার কারাগারে যেখানে তিনি থাকছেন ইতোমধ্যেই সেটিকে যাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই যাদুঘরের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যে কোন সময় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

ঘাটাইলের অর্ধশত অবৈধ ‘স’ মিলে চলছে গাছ চিড়াইয়ের মহোৎসব!

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল : জেলার ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-জোড়দিঘী সহ বেশ কয়েকটি বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধশত অবৈধ ‘স’ মিল। ‘স’ মিল গুলোতে চলছে গাছ চিড়াইয়ের মহোৎসব।


সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার সাগরদিঘী এলাকার জামাল, ফজল, জাহাঙ্গীর সহ জোড়দিঘীর নান্নু হাজীর নেতৃত্বে এসব ‘স’ মিল পরিচালিত হচ্ছে। কেউ কেউ জানান, সাগরদিঘীর বিট কর্মকর্তা আঃ আজিজের ইন্ধনে রেঞ্জারকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই দিনে রাতে বন এলাকার ভেতরে এসকল অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বন এলাকার ভিতরে ‘স’ মিল স্থাপনের কোন নিয়ম না থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবেই বনদস্যু কাঠ চোরেরা বনের ভিতরে শাল, গজারী ও সরকারী প্লটের গাছ কেটে ওই ‘স’ মিল গুলোতে চেড়াই করছে।

এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও দেখার যেন কেউ নেই। ঘনবসতি প্লট ছাটাইয়ের নামে গাছের মোথা উফরে দিয়ে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজসে গাছ চুরি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। নিকটবর্তী ‘স’ মিল হওয়ায় পরিবেশ ধ্বংশ করে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নিকটবর্তী ‘স’ মিল গুলোতে চেড়াই করে দিনে রাতে বিভিন্ন ট্রাক যোগে পাচার করছে অহরহ। স্থানীয় লোকজন এ অবৈধ ‘স’ মিল গুলো গড়ে উঠার পিছনে বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন। রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, আমরা ওই সকল গড়ে ওঠা অবৈধ ‘স’ মিল থেকে কোন টাকা নেই না। ‘স’ মিল গুলো আইনের আওতায় আনার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে আমি জানি। বন এলাকার জায়গা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তার গড়িমসির কারণে ডিমার্গেশন বহির্ভূত জায়গা থেকে মাটি দস্যূরা বন এলাকা থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছে অবাধে। প্রতিউত্তরে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই।


সাগরদিঘী ও জোড়দিঘীর ১৯টি ‘স’ মিলের নেতৃত্বে থাকা জামাল, ফজল, জাহাঙ্গীর ও নান্নু হাজী (বর্তমান মেম্বার) জানান, আমরা প্রতিমাসে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী ফাঁড়ি ইনচার্জকে প্রতি মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা ঘুষ দেই। প্রতি মাসে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করেই আমরা আমাদের ‘স’ মিল গুলো পরিচালনা করছি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন অভিযান কিংবা মাথা ব্যথা নেই। আপনারা অযথা লেখালেখি করবেন কেন। আপনারাতো আর প্রশাসনের কেউ না। এরা যতদিন ঘুষ খাবে আমরা ততদিন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়েই যাবো। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম মুঠে ফোনে বলেন আমি এ উপজেলায় সবেমাত্র যোগদান করেছি। এ সংক্রান্ত একটি তালিকা আমার কাছে এসেছে খুব দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এটা বলতে তারা শিখিয়ে দিয়েছিল: নাঈম

নাঈম একটি ছোট্ট শিশু। এই বয়সেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সে। গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় মুহূর্তেই খ্যাতির চূড়ায় উঠে আসে নাঈম।

সে সময় আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র অংশ পলিথিন পেঁচিয়ে দুই হাতে চেপে ধরে আলোচনায় আসে নাঈম। তার ওই মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসায় ভাসতে থাকে সে। মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের সময় নাঈমের সেই অসাধারণ ভূমিকায় মুগ্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি তাকে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার কথাও জানান ওমর ফারুক সামি নামের ওই ব্যক্তি।
বিষয়টি আলোচনায় আসার পর টিভি উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় নাঈমের একান্ত সাক্ষাৎকার নেন। এ সময় নাঈমের সঙ্গে তার বাবা-মাও ছিলেন। নাঈম পুরস্কারের সেই টাকাগুলো নেবে কিনা? আর নিলেও সেই টাকা কিসে খরচ করবে? এমন প্রশ্ন করেন উপস্থাপক জয়।

জবাবে নাঈম জানায়, সেই টাকাগুলো সে এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য দান করে দিতে চায়। ছেলের এ জবাবে সায় দেন তার মা-বাবাও।

এতিমখানায় কেন টাকা দিতে চায় এমন প্রশ্নের উত্তরে নাইম জানায়, কয়েক বছর আগে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করে খেয়েছে। তাই এই টাকা সে এতিমদের দিতে চায়।

তবে শিশু নাঈমকে জয়ের এ ধরনের প্রশ্ন করাটাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ফেসবুকে সমালোচনা ঝড় বইতে থাকে।

নেটিজেনরা বলছেন, ওই শিশুটি নিজ থেকে এসব কথা বলেনি। উপস্থাপক জয় শিশু নাঈমকে কথাগুলো শিখিয়ে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে শিশুটির কথা বলার ধরনেই তা স্পষ্ট।

এরই মধ্যে গুঞ্জন শোনা যায় নাঈমকে সাহায্য দানের প্রতিশ্রুতি দেয়া সেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীও তার কথা ফিরিয়ে নিয়েছেন। তিনি ৫ হাজার ডলার নাঈমকে দেবেন না।

নাঈম রাজনীতির শিকার জানিয়ে ওমর ফারুক সামি ৫ হাজার ডলার দেবেন না এমন কথা সোমবার (১ এপ্রিল) ফেসবুকে ভাসতে থাকে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মী ও কণ্ঠশিল্পী আমিরুল মোমিনিন মানিক।

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

সেই ভিডিওতে আমিরুল মোমিনিন মানিক শিশু নাঈমকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার মা কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন, তোমার পড়াশোনার খরচ বহন করছেন, তোমার নিজেরই টাকা দরকার, তাহলে তুমি কেন সে টাকা নিজে না রেখে এতিমদের দিয়ে দিতে চাও? এটা কী তোমার মনের কথা?’

নাঈমের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘না, এটা বলতে তারা শিখিয়ে দিয়েছিল।’

এরপর প্রশ্নকর্তা বলেন, ‘যিনি তোমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন তিনি এখন বলেছেন আর টাকা দেবেন না। তুমি কী টাকাটা চাও?’

নাঈমের জবাব, ‘আমি ওই কথা না বুঝে বলেছি, আমি টাকা চাই, আমার পড়াশোনার জন্য টাকা চাই।’

একই প্রশ্ন করা হয় নাঈমের মাকে। তিনি বলেন, ‘নাঈম ছোট মানুষ, তাই না বুঝে এসব বলেছে। আমি গরীব মানুষ, টাকাটা আমারই দরকার। সে টাকা অন্যদের দিয়ে দিলে আমার নাঈমকে আমি কীভাবে মানুষ করব!’

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠে সাইফুরকে হত্যা করেন রুপা!


স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে রাতে সাইফুর রহমানকে নিয়ে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার হোটেল মেহেরপুরে ওঠেন নিশাত তাসনীম রুপা।হোটেলে ওঠার পর আগেই সাইফুরকে বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন রুপা। এরপর হোটেলের কক্ষে গিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

মৃত্যু নিশ্চিতের পর রুপা হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে (রিসিপশন) এসে জানান, তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, হাসপাতালে নিতে হবে। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রুপার প্রেমিক মোজাম্মিল হোসেন একটি অটোরিকশা নিয়ে হোটেলের সামনে আসেন। পরে ওটা অটোরিকশায় করে রুপা, মোজাম্মিল এবং চালক মিলে সাইফুরের লাশ দক্ষিণ সুরমায় সড়কের পাশে ফেলে আসেন।


সোমবার সিলেট মহানগর ৩য় আদালতের হাকিম সাইফুর রহমানের আদালতে এমনটি জবানবন্দি দেন নগরীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনীম রুপা (২০)। একই আদালতে রুপার কথিত প্রেমিক ছাতক উপজেলার আলমপুর গ্রামের মোজাম্মিল হোসেনও (২৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল।
জবানবন্দিতে তাসনিম রুপা জানান, তার মতের বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা, বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কের সময় ধারনকৃত ভিডিও, স্থির ছবি, মিথ্যে কাবিননামা প্রকাশসহ তার পরিবারের সদস্যদের হুমকী প্রদানের কারণে সে প্রতিশোধ পরায়ণ তিনি সাইফুরকে হত্যা করেন।

রুপা আদালতকে বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি সাইফুরের সাথে এম. সি কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা করেন এবং তাকে বিশ ও ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত সেমাই খেতে দেন। সেমাই খাওয়ার পর সাইফুর রহমানকে নিয়ে রুপা হোটেল মেহেরপুরের ২০৬ নং কক্ষে উঠেন। কক্ষে উঠার কিছুক্ষণ পর সাইফুর কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়লে নিশাত তাসনিম রুপা তাহার সাথে থাকা রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

রোববার ভোরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকার সড়কের পাশ থেকে নগরীর মদন মোহন কলেজের প্রভাষক সাইফুর রহমান (২৯)-এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর টিলাগড় থেকে মোজাম্মিল হোসেন (২৪) এবং নিজ বাড়ি থেকে নিশাত তাসনীম রুপা (২০) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার সকালে নিহতের মা রনিফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে দুপুরে দুপুরে আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

দু’জনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাসায় লজিং থেকে রুপাকে পড়াতেন সাইফুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি মোজাম্মিলের সাথে প্রেমে জড়ান রুপা। এতে বাঁধা দেন সাইফুর। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোজাম্মিল ও রুপা পরিকল্পনা করে সাইফুরকে হত্যা করেন।

কলেজ শিক্ষক সাইফুর হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, সাইফুরের লাশ উদ্ধারের পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এতে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে।


প্রসঙ্গত, মদন মোহন কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাইফুর রহমান গোয়াইনঘাট উপজেলার ফলতইল গ্রামের মো. ইউসুব আলীর ছেলে। গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে মেস থেকে বের হন সাইফুর রহমান। রাতে তিনি আর বাসায় ফিরেননি। রবিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় লোকজন।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে রোববার নগরীর লামাবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

গোপালপুরে রাতে কলেজছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষক ধরা

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক কলেজছাত্রীর বাড়িতে রাত্রিযাপনকালে মন্টু মিয়া নামে এক স্কুলশিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গত রোববার (৩১ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত মন্টু মিয়া উপজেলার ধোপাকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী যখন ধোপাকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণিতে পড়তো তখন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মন্টু মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। পরে ওই শিক্ষক টাঙ্গাইল শহরে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে মুখে মুখে বিয়ে করেন। বয়স হলে পরে কাবিন নামা করার আশ্বাসও দেন। এ আশ্বাসেই তিনি প্রায় এক বছর ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন।

গত শনিবার রাতে শিক্ষক মন্টু মিয়া গোপনে ওই ছাত্রীর বাড়িতে রাত্রিযাপনকালে গ্রামবাসী তাকে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে গাছে বেঁধে রাখে। রাতে এ খবর পেয়ে পুলিশ আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে আটক শিক্ষককের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরদিন রোববার আটক শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত।

এ বিষয়ে গোপালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, ওই ছাত্রীর বাড়িতে রাত্রিযাপনকালে আটক শিক্ষক মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতারণার শিকার ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনালের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মন্টু মিয়া দুই সন্তানের জনক। তিনি বিয়ের মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে আর প্রতারণার মাধ্যমে নাবালিকা ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।

ঘাটাইলে বাস খাদে ‘এক হাতে মোবাইল অন্য হাতে সিগারেট’

‘চালক এক হাতে মোবাইলে কথা কথা বলছিল, আরেক হাতে সিগারেট খাচ্ছিল- আমরা তাকে বারবার নিষেধ করার পরও সে মানেনি।’ কথাগুলো বলছিলেন দুর্ঘটনায় পতিত বাসযাত্রী মুক্তাগাছার হযরত আলী।

এ অবস্থায় সোমবার বিকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়িতে বিনিময় পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে যায়। এতে ৩০ যাত্রী আহত হন।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকছুদুল আলম জানান, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিনিময় পরিবহনের বাসটি ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়িতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গেলে নিয়ন্ত্রণ খাদে পড়ে  যায়। এতে ৩০ যাত্রী আহত হয়। আহতের ঘাটাইল ও মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।’

বাসযাত্রী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সাজ্জাদ জানান, ‘বাসে কোন দাঁড়ানো যাত্রী ছিল না। তবে সিটও খালি ছিল না।’

বুধবার প্রচারণা শুরু মোদি-মমতার

লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার প্রচারণা শুরু করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি।

অপরদিকে কোচ বিহারের দিনহাটায় সমাবেশ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে মাঠে প্রথম সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে দ্বিতীয় সভায় যোগ দেবেন তিনি।


দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী ৭ এবং ১০ এপ্রিল উত্তরবঙ্গে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, আগামী ৪ এপ্রিল প্রচারণা শুরু করার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে যেহেতু বুধবার বিজেপি রাজ্যে দুটি সভা করবে, সেই কারণেই প্রচারণা শুরুর দিন একদিন এগিয়ে এনেছেন মমতা।

তৃণমূল সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে অন্তত ২টি করে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত রাজ্যে ১০০টি সভা করতে পারেন তিনি।