টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে শতাধিক গবাদী পশু ‘ল্যাম্পি স্কিন’ নামক ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ রোগের সুনির্দ্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় গরুর মালিকরা আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পরেছেন। প্রতিদিন ঘাটাইল প্রানী সম্পদ হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন গরুর খামারিরা।
ঘাটাইল উপজেলা প্রানী সম্পদ হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলায় পৌর এলাকায়, রসুলপুর, জামুরিয়া, দিঘলকান্দি, দিগর, ঘাটাইল ইউনিয়ন, সংগ্রামপুর ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক গবাদিপশু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। এ রোগের সুনির্দ্দিষ্ট কোন চিকিৎসা না থাকার কারণে নিরাময় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রানী সম্পদ হাসাপাতালের চিকিৎসকরা।
জানা যায়, বর্ষার শুরুতে, শরতের শেষে এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। এ রোগ হলে গবাদী পশুর শরীরে ব্যাথা, জ্বর, লালা ক্ষরণ, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়ার গোলাকার পিন্ড ধারন করে। এছাড়া পশুর লোম উঠে যায়, পানি কম খায়। এর সঠিক প্রতিকার না থাকায় প্রতিরোধক হিসেবে মশারী, টিনচার, বায়োডিন ব্যাবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে ঘাটাইল প্রাণী সম্পদ অফিস।
এ রোগ মশা, মাছি, আটালি, আক্রান্ত পশুর লালা, নাক-চোখের ডিসচার্জ, ষাড়ের বীর্য, আক্রান্ত গরু-মহিষের দুধ এবং ব্যবহারিত ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মধ্যমে ছড়ায়। অনুকূল পরিবেশে এ ভাইরাস ছয় মাস পর্যন্ত জীবিত থাকে। ভাইরাস জনিত এ চর্মরোগে শুধুমাত্র গরু-মহিষ আক্রান্ত হয়।
ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু দুর্বল হয়ে ওজন কমে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাস পায় এবং চামড়ার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়। দিগর ইউনিয়নের মোঃ নাসিম জানান, আমার ৪টি গরুর একটিতে ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাকী গরুগুলো নিয়ে ভিষন চিন্তায় আছি। আরেক খামারি গোপালপুর উপজেলার মাছ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জানান, আমার গাভী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই ঘাটাইল প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল থেকে ঔষধ নিয়ে গেলাম।
গরু পালনকারীরা জানান, ‘ল্যাম্পি স্কিন’ আক্রান্ত গরুর প্রথমে পা ফুলে যায়। এরপর জ্বর হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে গোটা শরীর বসন্তের মতো ফোসকা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ঘায়ে পরিণত হচ্ছে।
‘ল্যাম্পি স্কিন’ রোগের প্রকোপ সম্পর্কে ঘাটাইল উপজেলা প্রানী সম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারী সার্জন বাহাউদ্দিন সরোয়ার রিজভী জানান, প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় সাধারনত এ রোগের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা আমরা এখন দিতে পারছি না। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ১৪টি ইউনিয়নে এলএসপি, সিল, এই টেশিয়ানদের নিয়ে সেমিনার করে সচেতনতা তৈরির ব্যবস্থা করবো। এখন পর্যন্ত এ রোগে কোথাও গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এই উপজেলায় কতগুলো গরু আক্রান্ত হয়েছে তা জরিপ করা হয়নি। তবে অনেক স্থান থেকেই গরু ‘ল্যাম্পি স্কিন’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায় প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা আরো বাড়ছে। তবে শঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।