শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭

রাসায়নিক সার প্রয়োগের সাশ্রয়ী পদ্ধতি আবিস্কারের দাবী চাষা আজিজের

 ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগে সাশ্রয়ী পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন আজিজ কোম্পানী নামে খ্যাত ঘাটাইলের প্রত্যন্ত গ্রামের চাষা আঃ আজিজ। তিনি এ পদ্ধতির নাম দিয়েছে দ্রবণ পদ্ধতি। তার এই পদ্ধতি এলাকায় আজিজ ফমূলা নামে পরিচিত। 
এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ইউরিয়া ও পটাশ সরাসরি ফসলে না ছিটিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে দ্রবণ তৈরি করে ফসলের পাতাতে ¯েপ্র পদ্ধতিতে ভিজিয়ে দিতে হয়। আঃ আজিজের দাবী এ পদ্ধতিতে সত্তুর শতাংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার সাশ্রয় হবে এবং ফলনও বৃদ্ধি পাবে বিঘা প্রতি ত্রিশ শতাংশ। তার ভাষ্যমতে এ পদ্ধতি প্রয়োগে  যেমন রাসায়নিক সার সাশ্রয় হবে তেমনি বেচে যাবে কৃষকের খরচ। অপরদিকে ফসলে পোকার আক্রমন কমে যাবে বিশেষ করে ধানের খোল পঁচা রোগ সহ নানা রোগ। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং বেচে যাবে আমাদের মাটি। আঃ আজিজের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রত্যন্ত শালিয়াবহ গ্রামে। 
ঘাটাইল, মধুপুর, জামালপুর ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রায় পাচ হাজার কৃষকের মাঝে ধান বীজ তলায় তার  ফর্মুলা প্র্রয়োগ করে ব্যপক সফলতা পেয়েছেন বলে জানান আঃ আজিজ। তিনি বলেন, ফসলে প্রচলিত নিয়মে সার প্রয়োগ করলে প্রায় ৭৫ শতাংশ সার অপচয় হয়। আর তার ফর্মুলায় সার প্রয়োগ করলে মাত্র ১০ শতাংশ সার অপচয় হয়। এক কেজি ইউরিয়া আজিজ ফর্মুলায় প্রয়োগ করলে মাটিতে পাঁচ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগের সমান কাজ করে। তার এ ফমৃুলা সকল ধরনের ফসলে প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিতে বৈপ¬বিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে দাবি করেন চাষা আব্দুল আজিজ। 
তিনি আরো জানান, কোন ধান বীজতলায় বীজ বপনের ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম বার ১৬ লিটার পানিতে ৭০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৩০০ গ্রাম পটাশ মিশিয়ে প্রতি ছয় শতাংশ জমিতে ¯েপ্র মেশিন দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। সাত দিন পর একই পরিমান ও নিয়মে ২য় বার প্রয়োগ করতে হবে। এতে ধান চারা সবল ও কুশি বেশি হবে। ইউরিয়া ও পটাশের দ্রবন কীটপতঙ্গ ও ছত্রাক নাশকে ভূমিকা রাখে। ধান ও গম চাষে রোপন ও বপনের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতি ১৬লিটার পানিতে এক কেজি ইউরিয়া ও ৫০০গ্রাম পটাশ প্রতি বিঘাতে ৪ মেশিন দ্রবন ¯েপ্র করতে হবে। ২য় ডোজ ১৫ দিন পর এবং ৩য় ডোজ ধান শীষ বের হবার ১০দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে। চাষা আজিজ বলেন, এতে ধানের খোলপঁচা রোগ কমে যাবে, এবং পোকার আক্রমণও কম হবে। ফলন বাড়বে ত্রিশ শতাংশ সারও সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সার সংকট মোকাবেলায় এ পদ্ধতি ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে। আনারস চাষে চারা রোপনের দুই মাস পর ১৬লিটার পানিতে এক কেজি ইউরিয়া ও ৪০০গ্রাম পটাশ দ্রবণ ৩০০ থেকে ৪০০ গাছের শুধু পাতা ভেজাতে হবে। এভাবে তিন মাস পর পর চলবে।কলা চাষে রোপনের দুই মাস পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ২০০গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০গ্রাম পটাশ দ্রবণ¯েপ্র করে পাতা,গাছ ও গোড়া সহ ভিজাতে হবে। আদা হলুদ চাষে,রোপনের দুই মাস পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ২০০গ্রাম ইউরিয়া ১০০গ্রাম পটাশ এক মাস পর পর চলবে। ভূট্টা ও ইক্ষু চাষে রোপনের ৪৫ দিন পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ৮০০গ্রাম ইউরিয়া ৪০০গ্রাম পটাশ । আলু চাষে,৫০০গ্রাম ইউরিয়া ও ২০০গ্রাম পটাশ রোপনের এক মাস পর থেকে ২ থেকে ৩ বার। চা চাষে দেড় মাস অন্তর ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০০গ্রাম পটাশ প্রয়োগে লাল মাকড় দমন হবে।
আজিজ দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমি নিশ্চিত যে হারে মাটিতে রাসায়নিক প্রযোগ হচ্ছে তাতে খুব অল্প সময়ে আমাদের কৃষি জমি পাথরে পরিনত হবে। এ থেকে মাটিকে বাচানোর এটাই একমাত্র  পদ্ধতি ।  শালিয়াবহ গ্রামের কৃষক মো.রুহুল আমীন  বলেন, আমার আনারস বাগানে এ ফর্মুলা প্রয়োগ করেছি এতে লাভবান হচ্ছি। মুরাইদ গ্রামের সফল চাষি মো.ছাইদুর রহমান বলেন,আমি এবার বীজতলায় আজিজের ফর্মুলা প্রয়োগে সফলতা পেয়েিেছ। মহিষমারা গ্রামের চাষি সিরাজুল ইসলাম,আব্দুল বারেক,আউশনারার আবুল হোসেন,জলছত্র গ্রামের আরফান আলী,মুরাইদ গ্রামের আরফান আলী তরফদার এরা সকলেই দীর্ঘদিন যাবৎ এ ফর্মুলায় কৃষি করছি সাথে সাথে অন্যকেও এ ফর্মুলায় কৃষি করার জন্য আহবান করছি। কৃষি অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের  ডিডি মো.আবুল হাসিম বলেন, চাষা আজিজের  ইউরিয়া সার প্রয়োগের সাশ্রয়ী পদ্ধতির বিষয়টি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখতে হবে। এটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা সে বিষয়ে গবেষনার প্রয়োজন।  

রাসায়নিক সার প্রয়োগের সাশ্রয়ী পদ্ধতি আবিস্কারের দাবী চাষা আজিজের

 ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগে সাশ্রয়ী পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন আজিজ কোম্পানী নামে খ্যাত ঘাটাইলের প্রত্যন্ত গ্রামের চাষা আঃ আজিজ। তিনি এ পদ্ধতির নাম দিয়েছে দ্রবণ পদ্ধতি। তার এই পদ্ধতি এলাকায় আজিজ ফমূলা নামে পরিচিত। 
এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ইউরিয়া ও পটাশ সরাসরি ফসলে না ছিটিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে দ্রবণ তৈরি করে ফসলের পাতাতে ¯েপ্র পদ্ধতিতে ভিজিয়ে দিতে হয়। আঃ আজিজের দাবী এ পদ্ধতিতে সত্তুর শতাংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার সাশ্রয় হবে এবং ফলনও বৃদ্ধি পাবে বিঘা প্রতি ত্রিশ শতাংশ। তার ভাষ্যমতে এ পদ্ধতি প্রয়োগে  যেমন রাসায়নিক সার সাশ্রয় হবে তেমনি বেচে যাবে কৃষকের খরচ। অপরদিকে ফসলে পোকার আক্রমন কমে যাবে বিশেষ করে ধানের খোল পঁচা রোগ সহ নানা রোগ। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং বেচে যাবে আমাদের মাটি। আঃ আজিজের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার প্রত্যন্ত শালিয়াবহ গ্রামে। 
ঘাটাইল, মধুপুর, জামালপুর ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রায় পাচ হাজার কৃষকের মাঝে ধান বীজ তলায় তার  ফর্মুলা প্র্রয়োগ করে ব্যপক সফলতা পেয়েছেন বলে জানান আঃ আজিজ। তিনি বলেন, ফসলে প্রচলিত নিয়মে সার প্রয়োগ করলে প্রায় ৭৫ শতাংশ সার অপচয় হয়। আর তার ফর্মুলায় সার প্রয়োগ করলে মাত্র ১০ শতাংশ সার অপচয় হয়। এক কেজি ইউরিয়া আজিজ ফর্মুলায় প্রয়োগ করলে মাটিতে পাঁচ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগের সমান কাজ করে। তার এ ফমৃুলা সকল ধরনের ফসলে প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিতে বৈপ¬বিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে দাবি করেন চাষা আব্দুল আজিজ। 
তিনি আরো জানান, কোন ধান বীজতলায় বীজ বপনের ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম বার ১৬ লিটার পানিতে ৭০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৩০০ গ্রাম পটাশ মিশিয়ে প্রতি ছয় শতাংশ জমিতে ¯েপ্র মেশিন দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। সাত দিন পর একই পরিমান ও নিয়মে ২য় বার প্রয়োগ করতে হবে। এতে ধান চারা সবল ও কুশি বেশি হবে। ইউরিয়া ও পটাশের দ্রবন কীটপতঙ্গ ও ছত্রাক নাশকে ভূমিকা রাখে। ধান ও গম চাষে রোপন ও বপনের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতি ১৬লিটার পানিতে এক কেজি ইউরিয়া ও ৫০০গ্রাম পটাশ প্রতি বিঘাতে ৪ মেশিন দ্রবন ¯েপ্র করতে হবে। ২য় ডোজ ১৫ দিন পর এবং ৩য় ডোজ ধান শীষ বের হবার ১০দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে। চাষা আজিজ বলেন, এতে ধানের খোলপঁচা রোগ কমে যাবে, এবং পোকার আক্রমণও কম হবে। ফলন বাড়বে ত্রিশ শতাংশ সারও সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সার সংকট মোকাবেলায় এ পদ্ধতি ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে। আনারস চাষে চারা রোপনের দুই মাস পর ১৬লিটার পানিতে এক কেজি ইউরিয়া ও ৪০০গ্রাম পটাশ দ্রবণ ৩০০ থেকে ৪০০ গাছের শুধু পাতা ভেজাতে হবে। এভাবে তিন মাস পর পর চলবে।কলা চাষে রোপনের দুই মাস পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ২০০গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০গ্রাম পটাশ দ্রবণ¯েপ্র করে পাতা,গাছ ও গোড়া সহ ভিজাতে হবে। আদা হলুদ চাষে,রোপনের দুই মাস পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ২০০গ্রাম ইউরিয়া ১০০গ্রাম পটাশ এক মাস পর পর চলবে। ভূট্টা ও ইক্ষু চাষে রোপনের ৪৫ দিন পর থেকে ১৬লিটার পানিতে ৮০০গ্রাম ইউরিয়া ৪০০গ্রাম পটাশ । আলু চাষে,৫০০গ্রাম ইউরিয়া ও ২০০গ্রাম পটাশ রোপনের এক মাস পর থেকে ২ থেকে ৩ বার। চা চাষে দেড় মাস অন্তর ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০০গ্রাম পটাশ প্রয়োগে লাল মাকড় দমন হবে।
আজিজ দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমি নিশ্চিত যে হারে মাটিতে রাসায়নিক প্রযোগ হচ্ছে তাতে খুব অল্প সময়ে আমাদের কৃষি জমি পাথরে পরিনত হবে। এ থেকে মাটিকে বাচানোর এটাই একমাত্র  পদ্ধতি ।  শালিয়াবহ গ্রামের কৃষক মো.রুহুল আমীন  বলেন, আমার আনারস বাগানে এ ফর্মুলা প্রয়োগ করেছি এতে লাভবান হচ্ছি। মুরাইদ গ্রামের সফল চাষি মো.ছাইদুর রহমান বলেন,আমি এবার বীজতলায় আজিজের ফর্মুলা প্রয়োগে সফলতা পেয়েিেছ। মহিষমারা গ্রামের চাষি সিরাজুল ইসলাম,আব্দুল বারেক,আউশনারার আবুল হোসেন,জলছত্র গ্রামের আরফান আলী,মুরাইদ গ্রামের আরফান আলী তরফদার এরা সকলেই দীর্ঘদিন যাবৎ এ ফর্মুলায় কৃষি করছি সাথে সাথে অন্যকেও এ ফর্মুলায় কৃষি করার জন্য আহবান করছি। কৃষি অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের  ডিডি মো.আবুল হাসিম বলেন, চাষা আজিজের  ইউরিয়া সার প্রয়োগের সাশ্রয়ী পদ্ধতির বিষয়টি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখতে হবে। এটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা সে বিষয়ে গবেষনার প্রয়োজন।  

প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব একামত আলী তালুকদার


১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র”য়ারীতে প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে সমগ্র দেশে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবীতে আন্দোলন বেগবান হয়। একজন বাংলা ভাষী মানুষ হিসেবে এ আন্দোলনে শরিক হওয়া উচিত এ ভাবনায় তৎকালিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আলহাজ একামত আলী তালুকদারকে দিবা রাত্রি তাড়িত করতে থাকে। তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠেন। একামত আলী তালুকদার ২০ ফেব্র”য়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক সভায় যোগদেন। সভাটি ছিল ২১ফেব্র”য়ারী সকল ছাত্র মিলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার পরার্মশ সভা। সভায় উপস্থিত ২/১জন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিপক্ষে মত দিলেও বাকী সবাই ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে। কিন্তু ২-১জনের দ্বিমতের কারণে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরের দিন আবার আমতলায় গাজিউল হক গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার ঘোষণা দেন। ঘোষণা মোতাবেক সকল ছাত্র একত্রি হলে আলহাজ একামত আলী তালুকদার সর্বপ্রথম পুলিশের বাধা অতিক্রম করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের এক জোতদ্দার কৃষক পরিবারের জন্ম একামত আলী তালুকদারের। তার বাবার নাম আহম্মদ আলী তালুকদার। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই তার প্রথম পড়া লেখার হাতে খড়ি। এরপর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর মাইনর স্কুল, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল মহারাণী হেমন্ত কুমারী হাই ইংলিশ স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে মেট্রিক পাস করেন। আই এ পাশ করেন ১৯৫১ জামালপুর এ.এম কলেজ থেকে। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম.এ পাস করেন। পড়ালেখা শেষে নারায়নগঞ্জ বার একাডেমী স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুর”। সেখানে চার বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি ভিলেইজ এইজড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের পিআরও হিসেবে ৩ বছর কর্মরত ছিলেন। এই ভাষা সৈনিকের জীবনের বেশী সময় কাটিয়েছেন শিক্ষকতা করে। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পযর্ন্ত ৩৪ বৎসর শিক্ষকতা করেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।
আলহাজ একামত আলী তালূকদার এখন বয়সের ভারে ন্যুজ। গত ২৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে তার সংগে কথা হয় তাঁর নিজ বাড়ীতে। স্মৃতির পাতা থেকে বায়ান্নের উত্তাল সেই সব দিনগুলোর কথা বলতে শুর” করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের ছাত্ররা সক্রিয় ছিল। আন্দোলনের সুতিকাগার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা। ১৯৫২ সালের ফেব্র”য়ারী মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আন্দোলন তুঙ্গে। ২১ফেব্র”য়ারী আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করলাম। সর্ব প্রথম আমি উন্মাদের মত দৌড় দিলাম ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে । পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলাম। আমার পিছে পিছে যারা এসেছিল সবাই গ্রেফতার হলো। আমাদের একটি গাড়ীতে করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হলো। ঢাকার অন্য এলাকা থেকেও ছাত্রদের গ্রেফতার করে আমাদের সাথে রাখা হলো। সন্ধ্যা পযর্ন্ত ১২১ জনকে বন্ধী করা হলো তেজগাঁও থানায়। ২২ ফেব্র”য়ারী সকালে আমাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ২ দিন আমরা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম সহপাঠীদের খবর জানার জন্য। কারণ আমাদের মনে আশংকা ছিল কেউ মরলো কিনা? অবশেষে কারাগারে গায়েবানা জানাজা পড়া হলো। শুনলাম ছাত্রদের উপর গুলি হয়েছে। অনেক ছাত্র নিহত ও আহত হয়েছেন। ২১ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর শুনলাম যে সব পরিবারে ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলে পড়তে ছিলেন তাদের পরিবার ও আত্বীয় স্বজনরা কান্নাকাটি করছে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে কি হয়েছে তখনও আমার পুরো পুরি ধারণা নেই। এ অবস্থায় বাড়ী চলে এলাম। বাড়ী এসে শুনি ভাষা আন্দোলনে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। শুনলাম আমাদের শিয়ালকোল হাট থেকেও এলাকার সচেতন মানুষ চাঁদা তুলেছে বন্দী ভাষা সৈনিকদের মুক্ত করার জন্য এবং কারাগারে তাদের জন্য খাদ্য পাঠাতে। জানতে পারলাম আমাদের এলাকাতেও ¯ে¬াগান হয়েছে, ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই, রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই।’
আলহাজ একামত আলী তালূকদার বলেন, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের জননী। ভাষা আন্দোলন না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। বাংলাদেশ নামে কোন রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। অথচ যে ২/১ জন ভাষা সৈনিক জীবত আছেন তাদের প্রাপ্য সম্মান থেকে তাঁরা বঞ্চিত। আমি প্রধান মন্ত্রীর নিকট দাবী রাখবো জীবত ভাষা সৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য । বিভিন্ন অঞ্চলের প্রয়াত ও জীবিত ভাষা সৈনিকদের নামে রাস্তা ঘাটের নাম করা হোক।

ঘাটাইলে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ পালিত

ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা ॥
“নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের প্রতিশ্রুতি সুস্থ সবল মেধাবী জাতি’’ এ শ্লোগান নিয়ে শনিবার সকালে সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জাকজমকপূর্নভাবে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এ উপলক্ষে খামারি সমাবেশ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খামারি সমাবেশ ও র‌্যালি শেষে উপজেলা হলরুমে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌরমেয়র মোঃ শহিদুজ্জামান খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া সুলতানা ও ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নাজিমুল ইসলাম, উপজেলা পোল্ট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন খান শামীম প্রমূখ।