বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মুরাইদ গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে খামার পর্যায়ে উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প এর আওতায় কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সৌর শক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাইলট প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এফ এফএসও ড্রিপ সেচ প্রদর্শণীর মাঠ দিবস উপজেলার মুরাইদ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথী ছিলেন, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো. আ: রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) মো. রওশন আলম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, শামীমা আক্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. মোস্তফা কামাল।

ঘাটাইলে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অডিও ফাঁস

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গালা গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অডিও রেকর্ড এবং লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগেই প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তাদের পছন্দের প্রার্থীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা চুক্তি করে প্রার্থীর পছন্দের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। চুক্তি অনুযায়ী ওই প্রার্থী ১ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন। পরে শিক্ষক চেয়ে দু’টি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক। পত্রিকা দু’টির উপজেলায় সার্কুলেশন আছে মাত্র পাঁচ কপি। যা ওই দিনের সব পত্রিকা প্রধান শিক্ষক নিজেই কিনে নেন।

নিয়োগের আগেই টাকা লেনদেন, বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চারজন প্রার্থীর আবেদন বৈধ হলেও তরিঘড়ি করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করে দেন। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে পুনঃ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

নিয়োগ না পেয়ে পরবর্তীতে ঘুষ প্রদানকারী ওই ব্যক্তি বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজারে প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা টাকা ফেরত চান।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোন সদস্যদের না জানিয়ে প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর পায়তারা করছে। বিষয়টি এলাকার ছাত্র, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের হিতৈষী ব্যক্তিগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। বিজ্ঞাপন হয়েছে প্রার্থীদের আবেদন পেয়েছি। যাচাই বাছাই চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের কোটিপতি এখন পথের ভিখারী!

ভিক্ষুক থেকে কোটিপতি হওয়ার গল্প অনেক রয়েছে। আবার উল্টোটাও দেখা গেছে। কোটিপতি থেকে পথের ভিখারী হয়েছেন কেউ কেউ।

এজন্যই বলা হয়ে থাকে বিধাতা চাইলে সকালে যিনি রাজা সন্ধ্যায় তিনি ভিক্ষুকে পরিণত হন।

তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ কক্সবাজারে রামুর অধিবাসী মহাম্মদ আজিম। স্থানীয়রা তাকে পাগল আজিম বলেই জানে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন এই ব্যক্তি।

কিন্তু কয়েক বছর আগেই তিনি ছিলেন রামু উপজেলার তেচ্ছিপুল এলাকার অন্যতম ধনী ও কোটিপতি। আর এখন উদ্দেশ্যহীন দ্বারে দ্বারে, পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ান তিনি।

ভিক্ষা করে ১০ টাকা পেলেই মহা খুশীতে নাচতে থাকেন। অথচ এই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে দুই হাতে টাকা ওড়াতেন। বিলাসবহুল জীবনে ছিলেন অভ্যস্ত। টাকা খরচ করতেন পানির মতো। তার বাড়িটিও ছিল দেখার মতো। চড়তেন বিদেশি গাড়িতে। হাতের মোবাইল ফোনটি সে সময়ের সেরাটি ব্যবহার করতেন।

গহনায় মুড়িয়ে রেখেছিলেন স্ত্রীকে। স্ত্রীকেও কিনে দিয়েছিলেন দামী মোবাইল। আর পাঁচটা ধনীর মতোই চাকচিক্যে ভরা ছিল তার জীবন।

পড়াশোনা ছেড়ে ১৭ বছর বয়সে ব্যবসায় নেমে পড়েন আজিম। কক্সবাজার থেকে পান, শুঁটকি ও কাঠ পাঠাতেন ঢাকায়। তরতর করে তার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। তিন বছরেই হয়ে যান কোটিপতি। এরপর ব্যবসার প্রসারিত হতে থাকে তার।

তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ভালো আয় করতে শুরু করেন। কিন্তু আজিম যেভাবে তরতর করে উঠেছিলেন সেভাবেই নেমে গেলেন। চোখের পলকে রাজা, ভিখারীতে পরিণত হলো।

বিশেষ একটি ঘটনায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হলো অনেক। এরপর আর দাঁড়াতে পারেননি।

একে একে গাড়ি, বাড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার সব কিছু বিক্রি করে আজ নিঃস্ব। তবুও যদি কর্ম করে খাওয়ার যোগ্যতা থাকে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে ক্ষমতাও হারিয়েছেন।

এখন রামু-কক্সবাজারের মহাসড়কের পাগল ও ভিখারী আজিমের দিন খুব ভালো হলে রোজগার হয় ২০ থেকে ৪০ টাকা। সেটা নিয়েই চলে যায় তার জীবন।

গত একবছর ধরে এভাবেই চলছে তার দিনকাল। পরিবারটি আর আগের মতন নেই তার। তারাও থাকছেন না আজিমের সঙ্গে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রামু তেচ্ছিপুলের একসময়ের কোটিপতি মহাম্মদ আজিম এখন ফুটপাতের পাগল। সূত্র: যুগান্তর।