বুধবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নৌকা প্রার্থীর মতবিনিময়

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল: বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গতিশীল করার জন্য নৌকা মনোনীত প্রার্থীর মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘাটাইল মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এর সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলিগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু,সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক,সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হাসান আলী, জেলা সহকারী কমান্ডার সোলায়মান, মোহাব্বত হোসেন খান, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হবিবর রহমান খান, জিবিজি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিং, মাসুদুর রহমান আজাদ,মোঃ মোতালেব হোসেন প্রমুখ।

হাসপাতালে ভর্তি লতিফ সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বুধবার চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন তিনি। অবস্থান ধর্মঘটে অসুস্থ হওয়ায় তাকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে লতিফ সিদ্দিকীর চিকিৎসা সেবায় ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। ওইদিন মেডিক্যাল টিম তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। শ্বাস কষ্টসহ নানা সমস্যায় ভূগছেন তিনি। পরে আজ সকালে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে আমরণ অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবারও অনশন অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁবুর ভিতর পানি পড়তে থাকে। পরে আমরণ অনশনরত লতিফ সিদ্দিকীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় নেওয়া হয়। সকালে সেখানে তিনি অসুস্থবোধ করেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দা থেকে তাকে পাশের একটি খোলা টিনসেডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান নির্দেশনা পেয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহাকে জানান। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোফাজ্জল হোসেনকে প্রধান করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ডা. মোফাজ্জল হোসেন জানান, মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টায় লতিফ সিদ্দিকীকে পরীক্ষার পর দুপুরে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তারা লতিফ সিদ্দিকীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ওষুধ দেওয়া হলেও তিনি কিছু খাচ্ছেন না। ফলে শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ সময় চিকিৎসকদের লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিকভাবে দুর্বল নই। আমার দাবি মেনে নেওয়া হোক, না হলে মরে গেলেও অনশন ভাঙব না।’

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিনী ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ উনার (লতিফ সিদ্দিকীর) ৮২তম জন্মদিন, জন্মদিনেও তিনি অনশন করছেন। উনার হার্টে আগেই দুইটা রিং পড়ানো আছে। উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসুখ রয়েছে। তিনি তিনবেলা খাবারের আগে-পরে নিয়মিত ওষুধ খান। অনশন করার পর থেকে কিছুই খাচ্ছেন না।’

লায়লা সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। তার গাড়িবহরে হামলা করায় তিনি ওসির অপসারণ চেয়ে তিন দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন-এটা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জার’

তার একদিন পরেই বুধবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সড়াতৈল এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা ও চারটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি কালিহাতী থানার ওসির প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ওইদিন দুপুর থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন।