বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯

‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশেই শায়িত হলো অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের বিচার চেয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নামাজের জানাজা। জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।


জানাজাতে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। লাশ পৌঁছানোর পরে নুসরাতের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। এদিন শোক স্তব্ধ ছিল নুসরাতের বাড়ির উঠানটি। উপস্থিত মানুষের চোখে-মুখে ছিল শোকের ছায়া।

এদিকে টানা কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থেকে নুসরাতের মৃত্যুর পর আজ সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তারানা হালিম নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়ে সমাজের কিছু মানুষের অমানবিকতার রূপ তুলে ধরেছেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া নুসরোতের পায়ের ‍অংশের একটি ছবি দিয়ে ‘নুসরাত তুমি নও, বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে’- শিরোনামে ফেসবুকে লিখেছেন তারানা হালিম।


তিনি লিখেছেন, নুসরাত, তোমার অগ্নিদগ্ধ শরীর, অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, ব্যান্ডেজে বাঁধা শরীরের মাঝে বেরিয়ে থাকা ফুটফুটে সুন্দর মুখ আর পা-জোড়া, তোমার ‘ডায়িং ডিক্লারেশন’- এর দৃপ্ত উচ্চারণ- ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’- আবারও এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করলো যে, সমাজের বিবেক এখন লাইফ সাপোর্টে, তুমি নও। তুমি বরং লাইফ সাপোর্ট থেকে এই অচল সমাজের অমানবিকতাকে প্রতিবাদ করতে বলে শান্তির জগতে চলে গেছো।

‘নারী-শিশু ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনা এখন সড়ক দুর্ঘটনার মতোই কেবল সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টার অভিযোগ করার জন্য তোমার ভাষ্যমতে, মিথ্যা কথা বলে কয়েকজন নারী তোমাকে ছাদে নিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিলে, তুমি তাতে রাজি না হয়ে ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো’ বললে, তোমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তুমি তাদের ‘নারী কন্ঠে’র কথা বলেছো।’

তারানা হালিম বলেছেন, দুঃখ এটাই, কাকের মাঝে ‘নারী কাক’ বা ‘পুরুষ কাক’- এমন লিঙ্গ বিভাজন করি না আমরা, কিন্তু মানুষ বিভাজিত হয়ে যায় নারী ও পুরুষে। একটি কাক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে, মারা গেলে অনেক কাক কোথা থেকে যে এসে জড়ো হয়! তাড়স্বরে আওয়াজ করে। ওরা কী চিৎকার করে, না কাঁদে, জানি না। কিন্তু কিছু একটা করে। আর আমরা? যখন তোমার ডায়িং ডিক্লারেশনে, কয়েকজন নারী তোমার গায়ে আগুন দিয়েছে বলো, তখন মনে হয় মানুষ কি কাকের মতো হতে পারে না? মানুষ না-ই হোক। কারণ আমরা মানুষতো নই-ই, কাকও নই। তুমি যখন তোমার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে, তখন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা তোমার পক্ষে লড়ে গেলে, তুমি শক্তি পেতে। কিন্তু তা হয়নি। যখন ফায়ার সার্ভিসের লড়াকু সোহেল জীবন বাঁচাতে জীবন দেয়, জসিম নামে মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি চারতলার গ্রিল বেয়ে উঠে আগুন থেকে নারীর জীবন বাঁচায়, তখনই একদল মানুষ আরেক নারীর গায়ে আগুন দেয়। এতো ছোট একটি জীবন কেবল মানুষের ভালো করার জন্যই বড় সংক্ষিপ্ত- সেই জীবনে এতো হিংসা, এতো লোভ, এতো প্রতিহিংসা, এতো অমানবিকতা, এতো পাষণ্ডতা!

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতির পরিচয় দিয়ে অ্যাডভোকেট তারানা হালিম আরও লিখেছেন, নুসরাত, তুমি বলেছো- প্রতিবাদ করে যাবে, তোমার কাজ তুমি করেছো। তোমার কাছ থেকে শিখে এবার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের প্রতিবাদ করার পালা। শেষ থেকে শুরু হোক, নতুন করে পুরানো প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদে তোমার সহযাত্রী হবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

অবৈধ অধ্যক্ষ: আটকে যাচ্ছ জিবিজি কলেজের পদসৃজন

চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত জি.বি.জি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম।  দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়,শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কয়েকদফা চিঠি  দেয়া হলেও তিনি তা আমলে নেননি। তাই আটকে যাচ্ছে পদসৃজনের কাজ 

অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমের বয়স এমপিও ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনবল কাঠামো-২১০৮ এর ১১.৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘‘বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবার সহকারী প্রধান,শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনা অবস্থাতেই পুন:নিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবে না।’’ জনবল কাঠামো অনুযায়ী,  মো. শামছুল আলমের  বয়স ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় অধ্যক্ষ পদে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।


জনবল কাঠামো-২০১৮ অনুযায়ী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের পারস্পারিক জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা তাদের সংশ্লিষ্ট পদে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে কার্যকর করা হবে। তবে এমপিওভুক্তি একই তারিখ হলে  জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখ বিবেচনা করা হবে। তবে  কোনো শিক্ষকের নিয়মিতকরণ হলে নিয়মতকরণের তারিখ থেকে  যোগদানের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে। যোগদানের তারিখ একই হলে জন্মতারিখের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে।

শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গতবছরের ১২ ডিসেম্বর অধ্যক্ষের দায়িত্বভার উপাধ্যক্ষ বা জেষ্ঠ্য কোনো শিক্ষকের কাছে হস্তান্তরের জন্য মো. শামছুল আলমকে চিঠি দেয়া হয়। অদ্যবধি তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।

 ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গত ১৩ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলমকে কারণ দর্শানো নেটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সঠিক ব্যাখাসহ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব না দেয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়,কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না পাওয়ায় কেন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির অনুমোদন বাতিল করা হবে না তার সঠিক ব্যাখাসহ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মো. শামছুল আলম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে পুন:নিয়োগ দিয়োগ দিয়েছে। অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছিল ঢাকা বোর্ড থেকে। সেটির জবাবও দিয়েছি।

তথ্যসূত্র : দৈনিক শিক্ষা।