উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছাব্বির হোসেনের (১৫) কানে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সেই ছাত্রর চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের আওতাভুক্ত করে সেগুলো ফেরত না দিয়ে চিকিৎসা বাধাগ্রস্থ করার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পিতা ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ছাব্বির ঘাটাইল পৌরর খরাবর গ্রামের কদ্দুস মিয়ার ছেলে। সে ঘাটাইল পৌরসভাস্থ আল ইসলাহ নূরানি ও ফিফজ মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ ও ছাব্বিরের পিতা কদ্দুছ থেকে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর উক্ত মাদ্রাসায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্লাশ শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ছাব্বিরের কানের উপর থাপ্পড় মারে। এতে সে তাৎক্ষণিক অজ্ঞান হয়ে যায় ও পরে দেখা যায় তার কান থেকে রক্ত গড়িয়ে পরছে। পরবর্তীতে ছাব্বিরের বাবা তাকে ঘাটাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ জানান, আহতর কানের পর্দা ফেটে গেছে এবং তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
ছাব্বিরের পিতা কদ্দুছ জানান, উক্ত ঘটনা কেন্দ্র করে একটি শালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে ছাব্বিরের চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বহন করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু কিছু দিন অতিবাহিত হলেই শিক্ষক আহতর চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও পরিচালক খলিলুর রহমান ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাব্বিরের চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন সহ সকল কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে সেগুলো আর পরবর্তীতে ফেরত দেননি। এতে করে ছাব্বিরের চিকিৎসা এবং শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আমার শিশুপুত্রর কষ্ট দেখে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কালবিলম্বে চিকিৎসা ব্যহত হওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র আমি কুক্ষিগত বা আমার কাছে রেখে দিতে চাইনি। দীর্ঘমেয়াদী সঠিক চিকিৎসার জন্য এগুলো আমার কাছে রেখে দিয়েছি।
লিখিত অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহমেদ জানান, অভিযোগটি আমি পেয়েছি এবং বিষয়টি এখন তদন্তানাধিন আছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।