শুক্রবার, জুলাই ০৫, ২০১৯

জিতেও বাংলাদেশের সাথে বিদায় নিলো পাকিস্তান

দু’দলের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ‘শুভ বিদায়’ নিলো পাকিস্তান। অন্য দিকে শেষটা ভালো হলো না টাইগারদের। তবে একসাথে ২০১৯ বিশ্বকাপ আসর শেষ করল দুই দল। পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৬৪) রান আসে সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে।

বিশ্বকাপের ৪৩তম ম্যাচটি ছিলো পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব এক গন্তব্যহীন স্বপ্নযাত্রার মতো। এই ম্যাচে বিস্ময়কর কিছু দেখিয়ে তাদের সামনে সুযোগ ছিলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়ারও। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কোনো মানসিকতা দেখা যায়নি পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের।



টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ইমাম উল হকের (১০০) ও বাবার আাজমের (৯৪) রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

প্রথমে ব্যাট করার পর পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে ৭ রানে অলআউট করতে হবে । ৮ রান করলেই শেষ সেমির স্বপ্ন। এটি যে নিঃসন্দেহে অসাধ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রথম উইকেট শিকার করে ২৬ রানে।  আর তাতে শেষ চারে ওঠা হলো না সারফরাজ বাহিনীর।

হোম অব ক্রিকেট খ্যাত লন্ডনের লর্ডসে (বাংলাদেশ সময়) বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রথম পর্বে দু’দলের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের অধিনায়ক সারফরাজ আহমেদ। বিশ্বকাপের মঞ্চে অধিনায়ক হিসেবে শেষ টস করেন মাশরাফির।



সেমিফা্‌ইনালের অসম্ভাবনীয় আশা ও দলের জয়ে বড় পুঁজি জমা করতে নেমে শুরুতেই স্কো্র বোর্ডে ২৩ রান জমা করতেই ফখর জামানের উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের তৃতীয় ওভারে অপ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ফুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দীতে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে ফেরেন ফখর।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বাবার আজম ও ইমাম উল হকের ১৫৭ রানের জুটি পাকিস্তানকে চালকের আসনে নিয়ে যায়। ইনিংসের ৩২তম ওভারে বাবর আজমকে দারুণ এক এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দ্বিতীয় শিকার করে দলকে ব্রেক থ্রো এনে দেন সাইফ। ৯৮ বলে ১১ চারে ৯৬ রানের সেঞ্চুরি বঞ্চিত ইনিংস খেলেন বাবর। তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন ইমাম।

দেখে শুনে খেলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে ওপেনার ইমাম উল হক তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ও বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কোনো পাকিস্তানি দু’টি সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে একটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন রমিজ রাজা ও আমির সোহেল। ২০১৯ বিশ্বকাপে একই কাজটি করেছেন বাবর আজম ও ইমাম। বাবর সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

২ উইকেটে ২৪৬ করে রানের পাহাড় গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমরা। এরপর মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সিঙ্গেল রান নেয়ার মধ্য দিয়ে ৯৯ বলে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন ইমাম -উল হক।  তার বিদায়ের ঠিক দুই রানের ব্যবধানে ফেরেন মোহাম্মদ হাফিজ। তিনি মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্পিনে বিভ্রান্ত হন। সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ২৭ রান করেন হাফিজ।

পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি হারিস সোহেল। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন হারিস। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৪৩.৫ ওভারে ২৫৫ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এরপর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। সাইফউদ্দিনের অসাধারণ ইয়র্কারে স্ট্যাম্প ভেঙে যায় ওয়াহাব রিয়াজের। মোস্তাফিজের বলে তার অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন শাদাব খান। ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই ইনিংনের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ইমাদ ওয়াসিম। তার ২৬ বলের ৪৩ রানের সুবাদে ৩১৫ রান করে পাকিস্তান।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৫টি সাইফউদ্দিন ৩টি ও মেহেদি হাসান একটি উইকেট শিকার করেন।

পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালেঅ হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় স্কোর বোর্ডে ২৬ রান জমা হাতেই ওপেনার মোহাম্মদ আমিরের বলে ফখর জামানের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। ২২ বলে ৪ চারে ২২ রান করেন সৌম্য।

ওয়ানডাউনে সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দেখে-শুনে দলের চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন ডিপেন্সিভ ব্যাট করা তামিম। কিন্তু দলের ৪৮ রানের মাথায় শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ২১ বলে ৮ রান করেন তামিম।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর ৭৮ রানের মাথায় মুশফিকুর রহিম ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলে আরো চাপে পড়ে যায় টাইগাররা।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে লিটন দাসকে নিয়ে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন সাকিব। দুজনে ছোট-খাটো একটি জুটিও গড়েন।

১৩৬ রানের মাথায় শাহিন আফ্রিদির স্লো বলে শর্ট খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ফিল্ডিং করা হারিস সোহেলের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন লিটন। ৪০ বলে ৩২ রান আসে লিটনের ব্যাট থেকে।

বিশ্বকাপে রানের ফুলকি ছুটানো সাকিব আল হাসান দেখে শুনে খেলে ৬২ বলে তুলে নেন আসরের পঞ্চম ফিফটি। ৯ ইনিংসের দুটিতে  করেছেন সেঞ্চুরি । এক বিশ্বকাপে এর আগে সাত ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান শুধু শচীন টেন্ডুলকারের ছিল। ফিফটি হাঁকিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি সাকিবও। ৭৭ বলে ৬ চারে ৬৪ রান করে আফ্রিদির বলে সরফরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

সাকিব ফিরে গেলে আর কোনো ব্যাটসম্যান ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানী বোলারদের সামনে। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ২৯, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ১৬ ও মাশরাফির ১৫ রানে শুধু হারের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেছে বাংলাদেশকে। সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৪.১ ওভারে ২২১ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।

পাকিস্তানী বোলারদের মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৬টি, শাদাব খান ২টি,  মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও একটি করে উইকেট শিকার করেন।

বল হাতে ৯.১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন পাকিস্তানী পেসার শাহিন আফ্রিদি।

অনেক আশার বিশ্বকাপের হতাশার সমাপ্তি

আশা নয়, বলা চলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাথমিক লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা। কিন্তু গত মঙ্গলবার ভারতের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায় সে সম্ভাবনা। সেমির স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর আশা ছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে অন্তত বিশ্বকাপের সমাপ্তিটা ইতিবাচকভাবে করা।

কিন্তু কিসের কি! ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত ঐতিহাসিক লর্ডসে পাকিস্তানের কাছে যেন পাত্তাই পেল না মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। পারলো না বিশ্বকাপের শেষটা মনের মতো করতে। হতাশাজনক বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংটাও আশানুরূপ না হওয়ায়, শেষ ম্যাচের ফলটাও এসেছে নেতিবাচক।

ওপেনার ইমাম উল হকের সেঞ্চুরি ও বাবর আজমের ৯৬ রানের ইনিংসে করা পাকিস্তানের ৩১৫ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে মাত্র ২২১ রানে। দলের ৯৪ রানের বড় জয়ে বল হাতে ৬ উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রায় ৫ বছর পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারাতে পারল পাকিস্তান।

তবে এত বড় জয়ের পরেও সেমিফাইনালে খেলার আশা পূরণ হচ্ছে না পাকিস্তানের। কেননা ৯ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট নিউজিল্যান্ডের সমান ১১ হলেও, নেট রানরেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারের টিকিট পেয়েছে কিউইরাই। সেমিফাইনালে তাদের খেলতে হবে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলের বিপক্ষে।

এর আগে মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ সময়ের বোলিং ঝলকের পরও ৯ উইকেটে ৩১৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায় পাকিস্তান। সেঞ্চুরি করেন দলটির ওপেনার ইমাম উল হক।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বেশ অস্বস্তিতেই ছিল তারা। স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে দিয়ে বোলিং উদ্বোধন করান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি।

প্রথম ওভার থেকে মাত্র ১ রান দেন মিরাজ। ৭ ওভারে আসে মাত্র ২৩ রান। ইনিংসের অষ্টম ওভারে নিজের চতুর্থ ওভার করতে এসে দ্বিতীয় বলেই পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফাখর জামানকে মিরাজের ক্যাচ বানান সাইফউদ্দীন।

কিন্তু এরপর দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়ে তুলেন ইমাম উল হক আর বাবর আজম। ১৫৭ রানের এই জুটিটি ভাঙেন সেই সাইফউদ্দীনই। সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া বাবর আজমকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন টাইগার পেসার। ৯৮ বলে ১১ বাউন্ডডারিতে বাবর তখন ৯৬ রানে।

তবে ১৮০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর আরও একটি জুটি পায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ইমাম আর মোহাম্মদ হাফিজ তুলেন ৬৬ রান। এই জুটি ভাঙার পরই বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

ইমাম উল হক সবেমাত্র সেঞ্চুরিটা তুলেছেন। এক বল পরই মোস্তাফিজের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে হিটউইকেট হন পাকিস্তানি ওপেনার। ১০০ বল মোকাবিলায় গড়া তার কাটায় কাটায় ১০০ রানের ইনিংসটিতে ছিল ৭টি বাউন্ডারির মার।

পরের ওভারে এসে মেহেদী মিরাজ তুলে নেন আরেক সেট ব্যাটসম্যান হাফিজকে (২৭)। সুইপ করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে সাকিবের সহজ ক্যাচ হন তিনি।

১০০তম ওয়ানডে উইকেট হাত দিয়ে ডাকছিল মোস্তাফিজকে। খুব বেশি দেরি করেননি কাটার মাস্টার। আগের ওভারে ইমামকে ফিরিয়েছেন, পরের ওভারে হারিস সোহেলকে (৬) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে মাইলফলক স্পর্শ করেন মোস্তাফিজ।

এর মধ্যে আবার সাউফউদ্দীনের ইয়র্কারে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানি অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ (২)। ওয়াহাব রিয়াজকেও (২) ফেরান এই পেসারই, দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে বোল্ড করে। তবে ইমাদ ওয়াসিম একটা প্রান্ত ধরে মেরে খেলছিলেন।

৪৮তম ওভারের প্রথম বলেই অসাধারণ ক্যাচ ধরেন মোস্তাফিজ। টাইগার পেসারকে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়েছিলেন শাদাব খান। এক হাতে দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

তবে পাকিস্তানের কাজের কাজটা করে দিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম। ২৬ বলে ৬ চার আর ১ ছক্কায় ৪৩ রানের এক ঝড় তুলে ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের শিকার হন তিনি।

এই মোস্তাফিজই ইনিংস শেষে টাইগারদের সেরা বোলার। ৭৫ রান খরচ করলেও তার নামের পাশে ৫টি উইকেট। ৩টি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন।

প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ি এত উঁচু কেন, প্রশ্ন সুমনের

কমলাপুর রেলস্টেশনের ঘাস নিয়ে লাইভ করার পর এবার ট্রেনে ওঠার সময় নারী ও বৃদ্ধাদের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফের ফেসবুক লাইভ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে যারা রেলে চলাফেরা করেন তাদের প্রতি কি একটু সহায় হবেন- এমন আহ্বান জানান তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি বউ-বাচ্চা, বৃদ্ধা মা-বাবাকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চান তা হলে বউ থাকবে কই আর মা-বাবা থাকবে কই। শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন।


লাইভে এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে ওঠার সিঁড়ির দূরত্ব দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এই ট্রেনটাকে মিটার গেজ (পরে সংশোধন করে বলেন ব্রডগেজ) বলা হয়। আমার প্রশ্ন হলো-প্ল্যাটফ্রম থেকে দূরত্ব বা উচ্চতা কত? ব্রিটিশ আমলের ট্রেনগুলো ছিল এমন। আপনারা (রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ) নতুন ট্রেন আনলেন কিন্তু প্ল্যাটফর্ম এখনো পুরনো।’

রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত লোকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন সবাই, প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের উচ্চতা দোতলার সমান। কোনো স্টেশনে ট্রেনটি তিন মিনিট থামে। তিন মিনিটে ৫০ জন মানুষ প্রায় দুই তলার সমান উচ্চতায় ওঠা কি সম্ভব?’

রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলমন্ত্রী, ট্রেন আপনি অনেক উঁচু বানিয়ে দিছেন। আর প্ল্যাটফর্ম এখানে বিট্রিশ আমলের। আমি কমলাপুর সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বলছি। আর গ্রামের স্টেশনগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ। সেখানে ট্রেনে উঠতে তো রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বউ বাচ্চা নিয়ে ওঠা একটা বে-ইজ্জতের কারবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়া এগোচ্ছে, সব কিছু এগোচ্ছে। রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে ব্রেইনে আনেন পরিবর্তন করার। আপনারা বউ-বাচ্চা লইয়া ট্রেনে যাতায়াত করবেন কি-না জানি না। তবে, এই প্ল্যাটফর্ম ট্রেনের সমান করতে কোটি কোটি টাকার দরকার পড়বে না। আশা করি রেলমন্ত্রীসহ সকলেই এর প্রতি সদয় হবেন।’

এর আগে (৩০ মে) ব্যারিস্টার সুমন স্টেশনের সামনে রেললাইনের ওপর বেড়ে ওঠা ঘাস কেটে পরিচ্ছন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ দেন। এর পরদিনই (শুক্রবার) সেসব ঘাস কেটে পরিষ্কার করে ফেলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য ট্রেনে তুলে দিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সেখানে তিনি দেখেন, রেললাইনের ওপর বড় বড় ঘাস জন্মেছে। যা কাটার জন্য কারো সময় নেই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘রেলের সময় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। মোটামুটি ভালোই চলতেছে। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’

ওই লাইভে তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন। এটা কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এ সময় তিনি এক হাত লম্বা লম্বা ঘাস দেখিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক লাগিয়ে ঘাসগুলো পরিষ্কার করলে স্টেশনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।’

সর্বকালের সেরা দশে স্থান পেতে ১৯ রান দূরে সাকিব

সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। ভারতের কাছে ২৮ রানে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে টাইগাররা। জয়-পরাজয় আর বৃষ্টির মাঝেও জ্বলে উঠেছেন টাইগার তারকা সাকিব আল হাসান। এখন পর্যন্ত ৫৪২ রান নিয়ে চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার পরেই তার অবস্থান। এছাড়া বল হাতেও ৭ ইনিংসে ১১ উইকেট ঝুলিতে পুরে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত তিনিই সেরা পারফর্মার।

আজ শুক্রবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগার শিবির। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টায়। এই ম্যাচের আগে অনন্য একটা ব্যক্তিগত মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসান। আর ১৯ রান করলেই যে সাকিব বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের মালিকের ১০ জনের তালিকায় ঢুকে যাবেন, যে তালিকায় আছেন শচীন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকার, ব্রায়ান লারার মতো তারকারা।

অবশ্য টেন্ডুলকার-পন্টিংরা অনেক দূরত্বে। ১৮ রান করলে বিশ্বকাপে সাকিবের মোট রান হবে ১‌১০০। সেক্ষেত্রে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে পেছনে ফেলবেন সাকিব।
শুধু তাই নয়, আরও একটি বিশ্বকাপ খেলতেই পারেন সাকিব। সেই বিশ্বকাপে এবারের মতো ফর্ম না থাকলেও বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা পাঁচে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল থাকবে সাকিবের।