রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

এমপি রানা নয়, ঘাটাইলে আ’লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন আতাউর রহমান খান

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হঠাৎ করে আলোচনায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বাবা আলহাজ আতাউর রহমান খান! তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন আলোচনা এখন ঘাটাইলের টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চুড়ান্ত না হলেও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত এমন আলোচনায় হঠাৎ সড়গরম হয়ে ওঠেছে নির্বাচনী মাঠ।

আতাউর রহমান খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন সংবাদটি মুহুর্তের মধ্যে ঘাটাইলে টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন আসতে থাকে। রানার বাবা নিশ্চিত মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। বিষয়টি আলোচিত হওয়ায় এমপি রানার অনুসারীদের মধ্যে উৎফুল্ল ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জামুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস বলেন, এটা সম্পূনই দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা আশা করছি জনসমর্থন বিবেচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিবেন।

দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বললে তারাও আতাউর রহমান খানের মনোনয়ন মোটামোটি নিশ্চিত মত প্রকাশ করলেও চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না বলে জানান।

আতাউর রহমান খান অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যাংকার। তাঁর বড় ভাই প্রয়াত এডভোকেট শামসুর রহমান খান শাহজাহান এ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন।

আলহাজ আতাউর রহমান খানের ছেলে আমানুর রহমান খান রানা ২০১২ সালে উপ নির্বাচনে এমপি এবং ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় এমপি হন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামী হয়ে কাশিমপুর কারাগারে অন্তরীন রয়েছেন।

গত শনিবার (১০ নভেম্বর) সকালে আমানুর রহমান খান রানার পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিং ও সংসদ সদস্যর এপিএস আসিফ সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আতোয়ার রহমান খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ রাজীব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুনসহ সমর্থকরা।

বিএনপির কাছে পঞ্চাশ আসন চায় জামায়াত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে মনোনয়নের প্রত্যাশায় ৫০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে জামায়াত।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের কাছে তালিকা পৌঁছে দেয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশে ৬০টি আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এই ৬০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫০ জনের নামের তালিকা দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রার্থী তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

 তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন প্রার্থীরা। এই তালিকা ধরেই একটি বাছাই তালিকা বিএনপির কাছে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি নিশ্চিত না, তালিকা দেওয়া হয়েছে কিনা।’
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সূত্র জানায়, ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছেন তাদের প্রার্থীরা। এই তালিকা থেকে ৫০টি আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নাম প্রস্তাব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটের হিসাব, জামায়াতের বিগত দিনে প্রাপ্ত ভোট, সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপির অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত নিতে যেন সুবিধা ও সহজ হয়, সেজন্যই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। দলের প্রভাবশালী দুই নেতার ভাষ্য, আমাদের প্রাথমিক প্রস্তাব ৫০টি। এরপর যাচাই-বাছাই করে জোটগত মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে। কোন- কোন আসনে বিএনপি জোটগত মনোনয়ন দিতে চায়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত তালিকায় বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার এই তালিকা দিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা। এরপর তার পরামর্শেই দলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের কাছে তালিকা হস্তান্তর করেন। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জামায়াতের ওই নেতাকে তিনি জানান, জোটগতভাবে মনোনয়নের বিষয়টি সমন্বয় করছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান।

তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির মূল নির্বাচনি জোট থাকায় তাদের এ বছর অনেক ছাড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপির তরফে অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৮-২০টি আসন পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও দরকষাকষি করবে জামায়াত। এক্ষেত্রে দলটির পছন্দ অন্তত ৩০-৩৫টি আসন।

জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র মার্কায় নির্বাচন করতে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন জামায়াত করবে কিনা, এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে। যদিও প্রকাশ্যেই জামায়াতের নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়েই একাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে তাদের প্রার্থীরা।

দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে ফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত হতে পারে ধানের শীষ প্রতীক নেওয়া হবে কিনা। এক্ষেত্রে আরপিও ধারাগুলো আবারও পর্যালোচনা করবে জামায়াত।’

এর আগে ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের ব্যানারে ৩১টি, এরমধ্যে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগত সমর্থন পেলেও চারটি থেকে দলীয়ভাবে নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রার্থীরা। দলটির তৃণমূলের অভিমতের ভিত্তিতে এবার তাদের দাবি ৬২টি। তবে চ‚ড়ান্তভাবে ৩০টি আসনে ন্যূনতম ছাড় চায় জামায়াত।

তরুণদের দখলে থাকবে ভোটের মাঠ

ভোটার, প্রার্থী ও প্রচারণা কর্মী— সব দিক থেকেই এবার নির্বাচনের মাঠ দখল করে রেখেছে তারুণ্য। ভোটারের হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটারই এবার বড় ফ্যাক্টর। তাদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তরুণ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহী রাজনৈতিক শক্তিগুলো। এ কারণে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহেও পিছিয়ে নেই তারুণ্য। তাদের কর্মী-সমর্থক সবই তরুণ। ইতিমধ্যেই তারা মাঠ গরম করে রেখেছেন নিজ নিজ মতের প্রার্থীর পক্ষে। অন্য যে বড়সংখ্যক তরুণের সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, তাদেরও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আগ্রহে যেন জোয়ার এনেছেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। তরুণরা এখন নির্বাচন নিয়ে চায়ের দোকানের পাশাপাশি অনলাইনে আলোচনায় সরব। ভোট দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চান সবাই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নবম সংসদ নির্বাচনের পর যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের আমরা তরুণ ভোটার হিসেবেই বিবেচনা করতে পারি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে ১০ বছরে দেশে ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৮ জন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। সে হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যোগ হন ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ জন নতুন ভোটার। এখন দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১। শুধু এবার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন নতুন ভোটার। নির্বাচন কমিশন জানায়, নতুন ভোটারদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৬ বছর বয়সের ভোটার রয়েছেন ৪৭ লাখ, ২৩ বছরের ৭০ লাখ, ২১-২২ বছরের ৩৭ লাখ, ১৯-২০ বছরের ২৭ লাখ ও ১৮ বছরের ৪৬ লাখ। আর ১ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন ভোটার একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথম ভোট দেবেন।

জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী তরুণ ভোটারের বড় একটি অংশই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির উদ্যোগ তাদের মোহিত করেছে। আওয়ামী লীগও তরুণদের এ আগ্রহকে মূল্য দেয় গুরুত্বের সঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণদেরই টার্গেট করেছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, এখনকার যেসব মন্ত্রী-এমপি মনোনয়ন পাবেন না সেসব স্থানে আসবে তরুণ প্রার্থীরা। এর বাইরে প্রচারণার সব ক্ষেত্রেই তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা আছে আওয়ামী লীগে। দলীয় সূত্রের খবর, দেশের তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরাসরি প্রচারণার কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই দলটির গবেষণা উইং— সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) সক্রিয় হয়েছে। টেলিভিশন মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। কারণ, দেশের অধিকাংশ তরুণই এই মাধ্যমে বেশি আকৃষ্ট। এই মাধ্যমে তারা বেশি সময় ব্যয় করেন। এ কারণে এই মাধ্যমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিসূত্রের খবর, দল হিসেবে বিএনপি এখনো প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না করলেও তরুণদের বিষয়ে তাদেরও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। এমনিতেই অনলাইনে বিএনপি-জামায়াতের একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিষয়ে তরুণদের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া অধিকার সচেতনতাকে সেই পুরনো নেটওয়ার্কেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে দলটি। কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নানা প্রসঙ্গ সামনে এনে তরুণদের নিজেদের পক্ষে আনবে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী জোট। পাশাপাশি এবারই প্রথম ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণ মুখকে একসঙ্গে মনোনয়ন দিয়ে মাঠে নামাতে চাইছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ভোট দিতে আগ্রহ তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের যোগ্যতা। অনেক ভোটার, বিশেষ করে তরুণরা প্রার্থীদের মধ্যে আদর্শিক ব্যক্তি খুঁজে না পেয়ে নির্বাচনে ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হন। তারা মনে করেন, প্রার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া হয়। তরুণ ভোটাররা প্রার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম আদর্শ খোঁজেন। কাজেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার  বলেন, ‘তরুণ ভোটারের প্রভাব পড়বে নির্বাচনে। ভূমিকা রাখবে যারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তারা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোয় সক্রিয় থাকা তরুণরা। ২০০৮ সালে দিন বদলের সনদ দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করেছিল আওয়ামী লীগ। এবারে দেখা যাক কোন দল কতটা তরুণদের টানতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘তরুণরা সাধারণত শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। এ ছাড়া বিদেশমুখী তরুণদের দেশে অবস্থানের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ ও সেজন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর পদক্ষেপ রাখতে পারে বড় ভূমিকা।’ সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘আগামীতে তরুণদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। তা না হলে ২০২৫ সালে বড় ধরনের জেনারেশন গ্যাপ দেখা দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব নতুন বার্তা ও নতুন আলো নিয়ে আসে। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রত্যেক নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশ তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা হয়। তাই আমাদের এখানেও তরুণ ভোটাররা যেন এক তৃতীয়াংশ নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ পায়, এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’

এবার ভোটে রঙ পাল্টাচ্ছে নেতাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চিরচেনা দৃশ্যপট। রাজনীতির ময়দানে এতদিন যাকে ‘নৌকা’র প্রার্থী হিসেবে দেখা গেছে সেই তিনিই এখন ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ‘ধানের শীষ’, আর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ‘কুলা’ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে পাল্টে যাচ্ছে সব হিসাব। হঠাৎ করে রাজনীতিতে এই পল্টি খাওয়া নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই রকমফেরে ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। এক কথায় নির্বাচনের আগেই প্রার্থী নিয়ে দেশে যে চমকের সৃষ্টি হয়েছে, এর কোনো ব্যাখ্যাই এখন পর্যন্ত কেউ দিতে পারছেন না। সবাই বলছেন, চোখ-কান খোলা রাখতে। সামনে আরো চমক আসছে।

তবে অনেকেই বলেছেন, ক্ষমতালোভী চরিত্রকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্যই মনোনয়ন মৌসুমে এসে রাজনীতিবিদরা ডিগবাজি দিচ্ছেন। তারা এও বলেছেন, দলবদল একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু ভোটের আগে নৌকার লোক ধানের শীষে, ধানের শীষের লোক কুলা প্রতীকে ছুটে যাওয়া নতুন রহস্য। এতে রাজনীতির চিরচেনা দৃশ্যপটই পাল্টে যাচ্ছে।

তবে শনিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুই এক দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের এবং এক সপ্তাহের মধ্যে শরিক দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য কাজ চলছে। ভালো প্রার্থী পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বেশ কয়েকজন নেতা নৌকা প্রতীকের পরিবর্তে ধানের শীষ নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় এমনিতেই ভোটের ময়দানে চমকের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া চন্দনাইশে কর্নেল অলির আসনে সুব্রত চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়েও লড়াই চলছে। মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের আসনে মাহী বি চৌধুরী মহাজোট থেকে নির্বাচন করতে চাওয়ায় সেখানেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। মেজর মাসুদ উদ্দিন ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন কিনেছিলেন। কিন্তু প্রার্থী হতে পারবেন না জেনে চলে যান জাতীয় পার্টিতে। সেখানে অতিদ্রুত পেয়ে যান পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ। হন এইচএম এরশাদের সামরিক উপদেষ্টা। পাশাপাশি ফেনী থেকে নির্বাচন করার জন্য তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন  কেনেন।

ফেনীতেই প্রয়াত জহুর হোসেন চৌধুরীর ছেলে সাঈদ হোসেন চৌধুরী ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করতে চান। আর ঢাকায় তার ভাই সাবের হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করছেন।  

এ ছাড়া চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনজুর আলম সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন কিনেছেন। তিনি বিএনপির হয়ে চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ রকম পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হওয়ার জন্য গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রার্থী হতে চান। এর আগে তিনি নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তিনি গণফোরামে যোগ দেন এবং প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে চান।  

তার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ২০০১ সালে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হওয়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০১৪, ২০০৮ সালেও তিনি এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। আর এবার না পেয়ে সোজা গণফোরামে। রেজা যে আসনে প্রার্থী হতে চান, সেই হবিগঞ্জ-১ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া এবারো ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।

কিবরিয়াপুত্রের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাননি জানিয়ে সুজাত বলেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার জন্য যে কেউ মনোনয়ন কিনতে পারেন। এতে আমার বলার কিছু নেই। ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলে আপনি কি মহাজোট তথা আওয়ামী লীগে ভিড়বেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমি স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করব। তবু নৌকা বা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করব না।

সিলেট-৬ আসনটি (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আসন। এতদিন ওই আসনে আওয়ামী লীগ তথা জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনিই নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার থেকে ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ভোটের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে শমসের মবিন চৌধুরীর নাম।

জানা গেছে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বিএনপি নেতা ২০১৪ সালের দিকে রাজনৈতিক কারণে কারাভোগের পর রাজনীতি ছেড়ে দেন। কিন্তু মাসখানেক আগে তিনি হঠাৎ করেই বিকল্পধারায় যোগ দেন। এরপর বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম মেম্বারও হন। যুক্তফ্রন্টের একজন হয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ শুরু হওয়ার আগে কিছু সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে আলাদা কথা বলেন। এরপর থেকেই ময়দানে কথার রঙ ছড়াতে থাকে।

এ রকম পরিস্থিতিতে গতকাল সিলেট-৬ আসনে শমসের মবিন চৌধুরীর প্রার্থিতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে এই আসনে শমসের মবিন চৌধুরীর প্রার্থিতার খবর শুনে বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগ গত বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর দলীয় প্যাডে লিখিতভাবে অনুরোধ করে চিঠিতে বলেছেন তারা আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে শিক্ষামন্ত্রীকে বিজয়ী করারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা আরো উল্লেখ করেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আচরণ ও উন্নয়নে দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট। এ অবস্থায় গুটিকয়েক ব্যক্তির হিংসাত্মক মনোভাব ও নানামুখী ষড়যন্ত্রে ভুল না বুঝে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর প্রাণের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড এতদঞ্চলের গণমানুষের প্রিয় নেতা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপিকে পুনরায় মনোনয়ন দেবেন বলেও তাদের শতভাগ বিশ্বাস রয়েছে।

জানতে চাইলে শমসের মবিন চৌধুরী শনিবার (১৭ নভেম্বর) জানান, কিছুদিন লাইনচ্যুত হয়েছিলাম। এখন আবার লাইনে চলে এসেছি। আপনি কি সিলেট-৬ থেকে নির্বাচন করছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি সেখান থেকেই নির্বাচন করছি। এতে কি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছি কোনো ঝামেলা হবে না।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন না যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে বিকল্পধারায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যুক্তফ্রন্টই বলেন আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট যেটাই হোক না কেন আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-জুড়ীর একাংশ) আসন এর আগে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আর ধানের শীষে একবার এবং স্বতন্ত্র একবার নির্বাচন করেছেন এমএম শাহীন। কিন্তু এবারের ভোটে আগের সবকিছু পাল্টে গেছে। নৌকার সুলতান চলে গেছে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষে। আর ধানের শীষের শাহীন চলে এসেছেন বিকল্পধারার কুলায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নৌকার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কুলা নির্বাচন করবে। এর ফলে কুলার প্রার্থীই নৌকার প্রার্থী হয়ে যাবেন, যা কুলাউড়া তথা মৌলভীবাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট সদর আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অথবা তার ভাই ড. একে মোমেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। এর বিপরীতে ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হচ্ছেন প্রাইভেটাইজেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী। এর ফলে সেখানেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী হতে চান পিন্টুরা ৩ ভাই

টাঙ্গাইলে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা ও তথ্য উপ-মন্ত্রী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুসহ তার দু’ভাই টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা ও রাজাধানীর রমনা থানার নাশকতার মামলায় কারাবন্দি জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে বিএনপির নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় থেকে নিজের ও তার কারাবন্দি দুই ভাইয়ের জন্য মোট তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা। তবে এখনও মনোনয়নপত্র জমা দেননি তারা।


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার ৮টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর)। এই দুইটি আসনের মধ্যে জেলা শহর টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের দলীয় প্রার্থিতার দাবিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়াও টাঙ্গাইল-২ ( গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন অপর দু’ভাই অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা জানান, দেশনেত্রী ও দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল মনোনিত প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থেকেই আমি ও আমার কারাবন্দি দুই ভাইয়ের জন্য মোট তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আশা রাখি দল আমাদের এ আসন দুটির মনোনয়ন দেবে।

উল্লেখ্য, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা ও তথ্য উপ-মন্ত্রী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাবন্দি রয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়া ১৯৯২-৯৩ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্বদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস থাকাকালীন ১৯৯৪-৯৫ সালে গুলি করে তিন ছাত্র শিবির কর্মী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারাভোগ ব্যতীত ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান বর্তমান টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা। অপরদিকে রাজধানীর রমনা থানার নাশকতার মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।