বুধবার, জুন ১২, ২০১৯

ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নষ্ট হলো গর্ভের সন্তান

শেরপুরের নকলা উপজেলার কায়দা এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডলি খানম নামে এক অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।  ফলে গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 



প্রায় এক মাস আগে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র ফাঁস হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 



নির্যাতনের শিকার ডলি খানম নকলা পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোণা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।



এ ঘটনায় অসহায় শফিউল্লাহ গত ৩ জুন শেরপুরের আমলি আদালতে তার ভাই আবু সালেহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা  করেছেন। 



আদালতের বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব (ডাক্তারি পরীক্ষার সনদ) সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর পিবিআইয়ের ওসি’র প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।



ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে পেছনে হাত রেখে বেঁধে দুই পা রশিতে বাঁধছেন বোরকা পরা দুই নারী। পরে ডলি খানমের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পাশে দাঁড়ানো গায়ে পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি চোখে চশমা পরিহিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। পাশে আরো কয়েকজন নারী এবং কয়েকজনকে দেখা যায়।



মঙ্গলবার বিকেলে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বড়ভাই নেছার উদ্দিনের ইন্ধনে তার স্ত্রী লাকি আক্তার এবং অপর দুই ভাই আবু সালেহ ও সলিমউল্লাহসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন আমার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া তার প্রভাবেই থানা পুলিশের এসআই ওমর ফারুক নারী কনস্টেবলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডলি খানমকে উদ্ধারের পরও কোনো প্রতিকার পাইনি।



তিনি বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটিও থানাতেই গায়েব করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক চেষ্টায় ঘটনার প্রায় এক মাস পর হলেও সেই ভিডিওর কিছু অংশ এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি।



তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, এমন বর্বর নির্যাতনের পরও তারা আজ বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। আর আমি অসহায়। এ জন্য আমি ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।



নকলা পৌর শহরের উপকণ্ঠ কায়দা গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে একখণ্ড জমি নিয়ে তার সহোদর বড় ভাই আবু সালেহ, নেছার উদ্দিন ও সলিমউল্লাহর বিরোধ ও দেওয়ানি মোকদ্দমা চলছিল। এর জের ধরে গত ১০ মে সকালে স্থানীয় গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর দখলীয় জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে কাটতে গেলে শফিউল্লাহ বাধা দেন। এতে তিনি প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পিছু হটে নকলা থানায় ছুটে যান। ততক্ষণে আবু সালেহর নেতৃত্বে একদল লোক ধান কাটতে শুরু করলে তার তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম বাধা দিতে গেলে আবু সালেহর হুকুমে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাইবউ লাকি আক্তারসহ অন্যান্যরা তাকে ঘেরাও করে ফেলে।



একপর্যায়ে তার চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে টানা-হেচড়া করে পাশের ক্ষেতের আইলের থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে পেছনে হাত রেখে বেঁধে ফেলে। সেইসঙ্গে পাশের অন্য গাছের সঙ্গে টানা দিয়ে বেঁধে ফেলে তার দুই পা। এরপর যৌনাঙ্গসহ পেটে, বুকে, পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথির আঘাতে তাকে নিস্তেজ করে ফেলে। এ দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীদের একজন শফিউল্লাহকে ওই নির্যাতনের খবর জানাতে ছুটে যায় থানায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ডলি খানমকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত আবু সালেহ ও তার ছোট ভাই বউ লাকি আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে ডলি খানমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর প্রভাবশালীদের তদবিরে ছাড়া পেয়ে যান আটক দুইজন।



অন্যদিকে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তাকে ১৬ মে পর্যন্ত সাতদিন চিকিৎসা দেয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও ২২ মে পর্যন্ত সাতদিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে।



নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমিজমার বিষয় নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে দুই পক্ষকেই শান্ত করা হয়েছিল। গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।



জামালপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা অ্যাডিশনাল এসপি সীমা রাণী সরকার বলেন, মামলাটি এখনও হাতে পাইনি। পেলে অবশ্যই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কি খুজছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন?

কলকাতার বাঙালি সুন্দরী বিশ্বসুন্দরী খেতাব জয় করে বলিউডের নায়িকা হিসেবে নাম লেখান সুস্মিতা সেন। তবে সিনেমার ক্যারিয়ারে বেশি সফল হননি তিনি। যদিও নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলোর জন্য সবসময়ই আলোচনার শিরোনামে থেকেছেন সুস্মিতা। বিগত কয়েকমাস ধরে প্রেমিক রহমান শোলের কারণে সুস্মিতা খবরে আসছেন নিয়মিত। নিজেদের প্রেমের সময়ের ছবি পোস্ট করে খবরের জন্ম দেয়া অভিনেত্রী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে বলিউড সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেন।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বোল্ড আইল্যাশ আর নুড মেকআপের কয়েকটি মোহময়ী ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা সেন লিখেছেন, মেকআপ, হেয়ার, লাইট আর আয়নার এই অ্যান্টিক কাচ। রাউন্ড ২... ক্লাসের কাছে আমার ফিরে আসার অপেক্ষা।



সুস্মিতার এই ছবির নিচে এক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, ৪৩ বছর বয়সে আবার নতুন করে শুরু! তার উত্তরে সুস্মিতা লিখেছেন, হ্যাঁ ৪৩, এই বয়সেই আমি আবার নতুন করে শুরু করতে চাই, শিখতে চাই। কাজ ও শেখা কখনোই শেষ হয় না, যতক্ষণ না আমরা নিজেরা বলি যে এটা শেষ হয়েছে।



যদিও এই পোস্টে সুস্মিতার অভিনয়ে ফেরার ব্যাপারটি খোলাসা হয়নি। তবু ভক্তরা ধরে নিয়েছেন, তিনি হিন্দি সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলিউড সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। 



সবশেষ ২০১৫ সালে বাংলা সিনেমা ‘নির্বাক’-এ সুস্মিতাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। আর বলিউডে তারও আগে ২০১০ সালে ‘দুলহা মিল গ্যায়া’ সিনেমাতে শেষ দেখা গিয়েছিল তাকে।

পরিবহন সংকটের ভয়ে টাঙ্গাইলে বাসভাড়া দ্বিগুণ!

টাঙ্গাইলে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, বাড়তি ভাড়া না নিলে পরিবহন সংকট দেখা দেবে।

যাত্রীরা জানান, ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী প্রতিটি বাস-মিনিবাস সার্ভিস দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। ঈদের দুদিন পর থেকে আবারও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে একই কায়দায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় শুরু হয়েছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফিরতে বাড়তি টাকা খরচ করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

মঙ্গলবার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিসে ২৫০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে নিরালা সিটিং সার্ভিসে ১৫০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সার্ভিসেও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া আদায়য়ের প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

ঢাকাগামী শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের যাত্রী শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার শামীমুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহব্যাপী বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। নিরালা সিটিং সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশে কি আইন বলে কিছু নেই। যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া নেবে।’

গাজীপুর এলাকার পোশাকশ্রমিক আয়শা বেগম বলেন, তিনি ঈদ শেষে কর্মস্থল ফিরবেন। গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় নামবেন। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে ধলেশ্বরী সার্ভিসে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনের যেতে দ্বিগুণ করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

শুধু টাঙ্গাইল থেকেই নয়, এ জেলার ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, ভূঞাপুরসহ সব উপজেলা থেকেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এ প্রসঙ্গে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন জানান, বর্ধিত ভাড়া না নিলে এ গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় রিজার্ভে চলে যাবে। এতে টাঙ্গাইলের যাত্রীরা পরিবহন সংকটে পড়বে। বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেই গাড়িগুলো এ রুটে রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।