রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

বিইউপিএফ-র সফল ও শ্রেষ্ট ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং বিভিন্ন মানদন্ডে সর্বোচ্চ স্কোর পেয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ০৭ নং দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে গোল্ড মেডেল পদক আর ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের আজীবন সদস্য পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিম উদ্দিন ভূইয়া রিপন স্বাক্ষরিত স্মারক নং বিইউপিএফ/প্রশাসন/ ২০৫৫/২০১৮ এক পত্রে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ২০১৮ এ খবর জানানো হয়। জানা যায়, দেশের ৪৫৫৩টি ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮টি বিভাগের কিছু সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ লোকাল গর্ভণ্যন্স সার্পোট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) এ দক্ষতা ভিত্তিক অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামে এ অসাধারণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এই অর্জন ইউনিয়ন পরিষদের অডিট রির্পোট, নিজস্ব উৎস হতে রাজস্ব বৃদ্ধি, হোল্ডিং ট্যাক্স, কর ও নিজস্ব আয়ের রেকর্ড, জনগণের সাথে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন মানদন্ডে সর্বোচ্চ স্কোরে টাঙ্গাইল জেলায় ঘাটাইল উপজেলায় ০৭ নং দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান’ মো.নজরুল ইসলাম কে গোল্ড ম্যাডেল পদক আর ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের আজীবন সদস্য পদে নির্বাচিত করা হয়।

এর আগে সামাজিক কর্মকান্ড ও উন্নয়নমূলক কাজের মূল্যায়ন হিসেবে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জন্য টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় মো. নজরুল ইসলাম। উল্লেখ্য: গত ২০১৬ সালের ৪ঠা জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

পেঁপে ও লেবু চাষে বাদলের ভাগ্য বদল

টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের শামছুল হকের ছেলে পেঁপে ও লেবু চাষে ভাগ্য বদল হয়েছে আশিক ইকবাল বাদলের (৩৫)। সে উপজেলার কালিদাশের খামার চালায় লেবু ও পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন। এখন সে এলাকার মানুষের অনুকরণীয় লেবু ও পেঁপে চাষীতে পরিণত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় তিনি লেবু চাষ করে কৃষি জীবন শুরু করলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন পেঁপে চাষ করে।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে জীবন বিভিন্ন পরাজয়ের গøানি পহাতে হয় আশিক বাদলকে। লজ্জা, গøানি ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য র্দীঘ দিন প্রবাসী জীবন কাটান। ইচ্ছে জাগে দেশেই কিছু করে খাবেন কিন্তুু কি করবেন এ প্রশ্নে সম্মুখে হন বারবার। অবশেষে স্থানীয় সফল কৃষক মোসলেম উদ্দিনের সহযোগিতায় লেবু বাগান করেন। নিজ এলাকায় ৪ একর জমি লিজ নেন প্রতি একর বছরে ২৫ হাজার টাকা করে। প্রথম বছরে তেমন কোন লাভবান না হলেও পরের বছর খরচ বাদে ২ লক্ষ টাকা লাভ হয়। এ লাভের টাকা দিয়ে একই মালিকের আরো ৫ একর জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন। ২০১৬ সালে পরিক্ষা মূলক ১৫০০ পেঁপে চাষ করেন। ফলন ভাল হলে এ বছর ফেব্রæয়ারিতে ৫ একর জমিতে ৫ হাজার শাহী জাতের পেঁপে চারা লাগিয়েছেন। ওই বাগানে পেঁপে ফলন ধরা হয়েছে ৫০ টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা। স্থানীয় কৃষকদের কাছে আশিক ইকবাল বাদল এখন রোল মডেল। পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন সবজি জাতীয় এ ফলকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করতে।

কৃষক আশিক ইকবাল বাদল বলেন, জমি লিজ, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক সহ নানা খরচ বাবদ এপর্যন্ত আমার ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এ মাসেই ৫০ টন পেঁপে বিক্রি করা যাবে।

খামারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, আশিক ইকবাল বাদলকে দেখে এলাকায় আরো বেকার যুবকদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভূইয়া ফাইজুল ইসলাম বলেন, পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ পেঁপের চাহিদা ব্যাপক। পেঁপে চাষে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটায় অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভাবেও সাবলম্বী হওয়া যায়। ৬ মাসের মধ্যে এজাতের পেঁপে বাজার জাত করা যায়। একটি গাছে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁপে আসে।

ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যালি ও সমাবেশ


টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মাদকের বিরুদ্ধে জনতার র‌্যালি ও সমাবেশ অনুঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কদমতলী ব্যবসায়ীর উদ্যোগে মাদক বিরোধী একটি র‌্যালি বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

পরে কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কদমতলী বণিক সমিতির সভাপতি শামছুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কদমতলী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতা খন্দকার, বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধী। যে পরিবারে একজন মাদকসেবী রয়েছে সেই পরিবারটির ধ্বংস অনিবার্য। এজন্য প্রত্যেক পরিবারকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনিয়মই যেখানে নিয়ম


মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের দিকটা দেখে মনে হবে বেশ ভালোই চলছে চিকিৎসা সেবা।  বিষয় অনেকটা মাকাল ফলের মতোই। ডাক্তারের পদ শূন্যতা, দায়িত্বে উদাসীনতা, সময়মতো না আসা,  অনিয়মিতভাবে ডিউটি করা, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকার কথা, সেখানে আসেন সকাল ১১-১২টায়, চলে যান ১টায়। আবার কেউ বছরের পর বছর প্রেষণে রয়েছেন, আর বেতন উত্তোলন করছেন এ হাসপাতাল থেকে। এ ছাড়া রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। ফলে হাসপাতালটিতে অনিয়মই যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত ডাক্তারের পদ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সহ শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। আর এখানে কাগজে কলমে ডাক্তার পোস্টিং রয়েছে ৯ জন। তার মধ্যে মেডিকেল অফিসার ডা. শাহানা পারভীন ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন গত ১২ই নভেম্বর, ২০১১ সালে।

যোগদানের পর তিনি গত ১৬ই মে ২০১২ তারিখ থেকে সাভার কোরিয়া মৈত্রি হাসপাতালে প্রেষণে চলে যান। কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই- অবস্থা এমন। ফলে গত ৫ বছর ধরে এ হাসপাতাল থেকে বেতন উত্তোলন করে দ্বৈত সুবিধা ভোগ করছেন চিকিৎসকরা। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রেষণে থাকার কথা স্বীকার করে ডা. শাহানা পারভীন বলেন- এটাও তো (কোরিয়া মৈত্রি) সরকারি হাসপাতাল এখানেও তো আমি সেবা দিচ্ছি। এছাড়া এটা (সাভার) আমার নিজের এলাকা। যার যার এলাকায় থাকতে কে না চায়। এখানে দালালের দৌরাত্ম্যও কম নয়।  স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা ফোরামের সভাপতি মাসুদুর রহমান আজাদ বলেন, ফোরামের মাসিক সভায় এ নিয়ে বার বার আলোচনা হয়। আমরা নিজেরাও দালালদের হাসপাতালে ঢুকতে নিষেধ করেছি। হাসপাতালে ডাক্তার স্বল্পতা নিয়েও কথা বলেছি। কোনো কাজ হচ্ছে না। হাজী ক্লিনিকের দালাল পারুল ও কহিনূরের সঙ্গে কথা হয়। জানতে চাইলে তারা বলেন-এমআরসি-সহ অন্যান্য রোগী দিতে পারলে  ২০ থেকে ৫০ টাকা করে পাই। এদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ,  নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ ও অর্থোপেডিক চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও সব পদই শূন্য রয়েছে বছরের পর বছর। ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জন ডা. শুভময় পাল জানান, আউটডোর ও ইনডোর মিলে যে কজন ডাক্তার রয়েছে আর রোগীর যে চাপ তাতে আরও ডাক্তার থাকলে চিকিৎসা সেবা ভাল হতো। তিনি আরও বলেন, ৩ জন ডা. থাকেন জরুরি বিভাগে। 

বাকি কয়জনকে আউটডোরে পর্যায়ক্রমে ডিউটি করতে হয়। অপর দিকে ঘাটাইলের ৫ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০০৬ সালের ৭ই জুন মাসে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণের বর্ধিত কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালের মধ্যে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন কাজ শেষ করতে না পারায় ২০১৩ সালের মে মাস থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যার কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। কাগজে কলমে ৫০ শয্যা থাকলেও ডাক্তার স্বল্পতার কারণে এলাকাবাসী এর কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগি পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কমিশনার রুবি বলেন, চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন গিয়েও ডাক্তার না পেয়ে ফিরে এসেছি। এ নিয়ে  জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গির আলম অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, পুরো উপজেলায়  ডাক্তার দরকার ৩২ জন, সেখানে রয়েছে মাত্র কয়েক জন। আবার জরুরি বিভাগে রাত দিন ডিউটি করতে দরকার ৪ জন ডাক্তারের, এ কয়জন ডাক্তার দিয়ে আমি কিভাবে চালাবো। তিনি আরও বলেন, চাহিদা অনুযায়ী অতিসম্প্রতি কুতুব উদ্দিন নামে এক ডাক্তারকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে কিন্তু তিনি যোগদান করছেন না।